01 Jan

দু প্রস্থ আকাশ

লিখেছেন:কিন্নর রায়


শেষ কার্তিকের জ্যোৎস্না ডোবা রাতে বাড়ি ফিরছেন হরিপ্রসন্ন।

রাত দশটার এদিক–ওদিক। উত্তর চব্বিশ পরগণার এ অঞ্চলের প্রায় সবাই ঘুমের তলায়। রাস্তায় এখনও লাইট আসে নি। বাজার ছাড়ানোর পর দুপাশে শুধু শাল খুঁটি। কলকাতা যাওয়া শেষ বাসের লাল আলো মিলিয়ে যেতে দেখেছেন একঘণ্টা আগে। তখনও নিমের চায়ের দোকানে উনুন নিভু আঁচ, হাঁড়িতে ফুটন্ত জল।

হাওয়ায় ফিকে হিম। একটা বাঁক নিতেই ঝুপসি মতন অন্ধকার। অনেকগুলো গাছ সার্কাসের খেলা দেখানো মানুষ হয়ে অদ্ভুত কায়দায় দাঁড়িয়ে। তাদের মাথায় টিপ টিপ জোনাকি। ডান দিকে মরে আসা ডোবার বুকের ওপর সবুজ পানার সঙ্গে ময়ূর – পেখম কচুরি ফুল। অন্ধকার সাঁতারে আসা জোৎস্নার ছিটে তাদের গায়ে। ওখান থেকেই আবার উড়ে এল চাঁদের আলো, মিশল অন্ধকারে। হরিপ্রসন্ন দেখলেন একটা বক চলে গেল ডানা ঝাপ্টে।

চলতে চলতে চোখে পড়ল আকাশ এখানে দু প্রস্থ। গাছের ছায়ালো অন্ধকারের নিচে জোনাকির যে কারুকাজ, তাকে হঠাৎ দেখলে মনে হবে নক্ষত্রমালা। গাছের মাথায় চাঁদের আলোয় ফিনফিনে মশারি। তারপর আশ্চর্য জ্যোৎস্নামাখা উধাও আকাশ। দুপ্রস্থ আকাশ দেখে নিজের মধ্যেই হাসলেন হরিপ্রসন্ন। অবাকও একটু।

অনেক বাড়ির ছাদেই এখন আকাশপ্রদীপ। তেলের প্রদীপের চল এখন বলতে গেলে নিরুদ্দেশ। লাল নীল ইলেকট্রিক ডুম তাকিয়ে আকাশের দিকে। পৌঁছে দিচ্ছে পূর্বপুরুষের কাছে গত জন্মের রাস্তায় খবর। এমনই সংস্কার। চলতে চলতে হরিপ্রসন্ন আবার মুচকি হাসলেন।

ঠান্ডা হাওয়ার পাঁজরে খোঁচা। পুরনো অ্যাজমা পোষা বুকের তলায়। ওষুধ খেতে হয় নিয়মিত। শীতে আরও সাবধানী। রোজ রাতে গরম জলে বেনাড্রিল। অ্যাজমাপ্যাক্স, অ্যাভিল কখনও। বুঝলেন কাল থেকে মোটা সুতির চাদর রাখতে হবে কাঁধে। জামার তলায় পোকার দাঁত লাগা বেশ কবছর আগে পুলিসী সোয়েটার।

হাঁটতে হাঁটতে টের পেলেন শ্বাসের সঙ্গে এক সূচি–তীক্ষ্ণ শব্দ। এ আওয়াজই আরও গাঢ় শোয়ার পর। চিত হয়ে শুলে কষ্ট। কাত ফিরলে একটু আরাম। ঘুমের গভীরে বা আধোঘুমে নিশ্বাসের সঙ্গে ঝড়ের বয়ে যাওয়া কিংবা নিশীথে একাকী কোনো নাগিনীর রাগী শিস।

আর কদিন পরই খুলবে স্কুল।

মিউনিসিপ্যাল স্কুলের মাস্টারমশাই সবে পঞ্চান্ন পেরনো হরিপ্রসন্ন হিসেব করলেন আর তিন দিন পর স্কুল। ভাইফোঁটা রবিবার। সোমবার থেকেই সাড়ে দশটার পর নাকে – মুখে।

একটা মোড় পেরলেই সোজা বাড়ির রাস্তা। ছাড়া মাঠ অনেকখানি। শোনা যায় নবাব সিরাজ–উদ্দৌল্লা নাকি পালিয়েছিলেন এখান দিয়েই। তখন ছিল সোনাই নদী। নদী মরে এখন পুকুর। পর পর অনেকগুলো। মাঝখানে জমির দেয়াল, ধান মাঠ, বাড়ি।

মাঠে একটি একক তালগাছ। ঝিরঝিরে চাঁদের আলো তার ওপর। হঠাৎ দেখলে মনে হয় কোনো পাল ওড়ানো প্রাচীন জাহাজের মাস্তুল। ভাঙা জাহাজ কবেই ডুবছে চোরা স্রোতে, বসে গেছে কাদা – বালিতে তার কঙ্কাল। জেগে আছে মাস্তুল। হাত নাড়ছে। তারই দীর্ঘ ছায়া আদিম গুহামানবের আঁকা পশু শিকারীর বল্লম হয়ে বিদ্ধ করেছে সমস্ত চরাচর। অন্তত এ মুহূর্তে তিনি আকাশ–পৃথিবীর যে ভাঙা টুকরোটুকু দেখতে পাচ্ছেন, তাকে।

বাড়ির সামনে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল নেই। পিচের রাস্তা থেকে ঢালু হয়ে নেমে আসা পায়ে – চলা পথ। দুপাশে শীতের ফ্যাকাশে ঘাস। বাঁশ–রাংচিতার বেড়ার স্মৃতিচিহ্ন কয়েকটা এলোমেলো রাংচিতা গাছ আর কিছু ঘূণ লাগা বাঁখারিতে। জমির চার কোণে ইটের চারটে বেঁটে পিলার। মাটি থেকে হাত খানেক উচু। তার মাথায় জমানো সিমেন্ট – বালির মাথায় ইংরেজির দুটি অক্ষর এস. এম. – শশাঙ্ক মুখার্জ্জির শর্ট ফর্ম, রাজমিস্ত্রির কর্নিকের কারিকুরি।

শশাঙ্ক হরিপ্রসন্নর ভাগ্নে। বয়েসে ছোট বছর পাঁচ। ভাগ্নের সংসারেই তিনি শাকের আঁটি। ১৯৪৮, মানে দেশভাগের পর থেকেই।

জ্যোৎস্না মেখে প্লাস্টার ছাড়া সিঁড়ি পেরিয়ে হরিপ্রসন্ন বাইরের ঘরে। একটি সোফা। সিঙ্গল বেড খাট। মেঝেয় মাদুর। সোফায় খাটে মাদুরে বসা অনেকগুলো চোখ স্থির টি. ভি-র পরদায়। এ পরিবার, পাড়ার মানুষজনও। সোফায় হৈমবতী। হরিপ্রসন্নর এগারো বছরের বড় দিদি। বাঁ চোখের চশমায় বাথরুমের ঘষা কাচের এফেক্ট। গালে কপালে চোখের পাশে ফেলে আসা বয়সের ছেঁড়া তার। ভোর চারটেয় ঘুম থেকে ওঠেন নিয়মিত। শুতে শুতে একটা। বাড়িতে আসা তিনটে বাংলা দৈনিক পড়েন খুঁটিয়ে, প্রির্ণ্টাস লাইন পর্যন্ত।

হৈমবতীর পাশে শশাঙ্ক, ওর স্ত্রী পুষ্পময়ী। পুষ্পময়ীর কোলে অলয়, শশাঙ্কর বড় ছেলে নব্যেন্দুর আত্মজ।

টি. ভি-র সামনে দাঁড়ালেন না হরিপ্রসন্ন। গোটা ব্যাপারটাই কি রকম যেন মনে হয় ন্যাকা ন্যাকা, বোকা বোকা। বাইরের ঘর পেছনে ফেলে মাঝের ঘর। দেয়ালে বিবেকানন্দ, ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিজে দেয়ালের নীলচে মেঘ। পাশে শশাঙ্কর গুরুদেব, পুষ্পময়ী হৈমবতীরও। মাথা কামানো, দাড়ি–গোঁফ চাঁচা মুখ। এর আগেই বোধহয় ‘স্বর্গীয়’ বিশেষণ বসিয়ে অনেক আনন্দ পান।

দেয়ালে সিলিং-এ ড্যাম্পের চিত্রকলা। কেমন সব ফ্যাকাশে নীল নীল অদ্ভুত ফিগার। তার ওপর আলোর মায়া।

সিমেন্ট বাঁধানো দাওয়ায় এলেন। তারপর নিচু জমি। চৌকো সিমেন্টের দ্বীপের ওপর টিউবওয়েল। বর্ষার দিনে এখনও জোড়া ইটে পা রেখে যেতে হয় সাবধানে। সেই ইটের ওপর কালচে–সবুজ শুকনো শ্যাওলা। এবছরের বর্ষার শেষ স্মৃতিরেখা।

ধুতি প্রায় হাঁটুর কাছে তুলে টিউবওয়েল পাম্প করতে করতে দেখলেন জ্যোৎস্না আয়েসী গর্ভিনী নারী হয়ে পড়ে আছে, যতটা দেখা যায়। হয়ত তার বাইরেও। খেজুর–নারকেলের পাতায় তার ক্লান্ত শয্যা। নিজে পাম্প করে টিউবওয়েলের জলে পা ধুতে ধুতে হরিপ্রসন্ন দেখলেন ক’দিন আগে যে জমি নব্যেন্দুরা বেচে দিয়েছে সেখানে নতুন ইটের পাঁচিল, সিমেন্টের গাঁথুনি। পাঁচিলের মাথায় ভাঙা কাচের বর্শা–ফলক চুম্বক হয়ে টেনে ধরেছে আকাশ–আলো।

উঠোন পেরিয়ে অন্ধকার মাঝের ঘরে খাটের ওপর বসলেন। ও ঘরে টি. ভি শেষ। টুকরো সংলাপ হেঁটে যাচ্ছে দূরে। শশঙ্ক পুষ্পময়ী হৈমবতী অলয় এ ঘরে। নব্যেন্দু এখানে নেই। বৌ নিয়ে শ্বশুরবাড়ি। কালই ফিরবে হয়ত। ওই তো দিব্যেন্দু ফিরল। শশাঙ্কর ছোট ছেলে। টাটায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। এখানে থাকলে অনেক রাত অব্দি পার্টি অফিসে। লম্বা ফর্সা চব্বিশ ছোঁয়া দিব্যেন্দু বাইরের ঘর থেকে বারান্দায় নামিয়ে রাখল সাইকেল। রাতে তুলে রাখবে ঘরে।

খাওয়াটা এখনও এক সঙ্গেই হয়। রাতে খান তিনেক রুটি খান হরিপ্রসন্ন। শেষ রুটিটা দুধ আর গুড় দিয়ে। একটা পাকা কলা বা আমের টুকরো থাকলে তো কথাই নেই। জমে গেল। দেশের ভাষা আর এই অভ্যেসটুকু এখনও …।

শুতে শুতে রোজই বেশ রাত। আজও তাই। দোতলায় নতুন দুখানা ঘর। এখনও মেঝে দেয়াল প্লাস্টার হয়নি। পুরনো চৌকিতে বিছানা পাতা। মশারি। দিব্যেন্দু বিয়ের পর হয়ত চলে আসবে ওপরে। বিছানার মাথার কাছে তিনটে বাংলা কাগজ। শূন্যে ঝোলা তারের সঙ্গে লাগানো সুইচ ছুঁয়ে ঘরে আলো আনলেন। এখনও অয়ারিং হয়নি। ঠিকে তারে কাজ চলছে।

বিছানায় পা মুড়ে বসতে বসতে তিনটের একটা  বাংলা কাগজ টেনে নিলেন। এটি সকালে বেরয়, পার্টি পেপার। তবে নিচেরটি সন্ধেয়, সেটিও পার্টির। চৌষট্টি সালে পার্টি ভাগ। তারপর দুই অফিস, দুই কাগজ। আলাদা স্লোগান, আলাদা নেতা।

ভাবতে গেলে বুকের মধ্যে পুরনো কষ্ট টের পান। ক্ষোভ, ব্যথা। কোনো নৌকাতেই ওঠা হলো না শেষ পর্যন্ত। অফিসের ভেতরেও আর না। বাজারে পুরনো পার্টি অফিসের উল্টোদিকে নিমের চায়ের দোকান। সেখানেই কেটে যায় প্রতিটি সন্ধে। দেখতে দেখতে বেড়ার ঘর পাল্টে পাকা। মাথায় টালির বদলে ঢেউ খেলানো টিন। সিমেন্টের মেঝে। লোহার আলমারি, ঝকঝকে চেয়ার – টেবিল।

নতুন সাইনবোর্ডে পার্টির নামের পাশে ফার্স্ট ব্রাকেট। দেয়ালে মার্কস এঙ্গেলস লেনিন স্তালিন। উল্টোদিকের দেয়ালে মুজাফফর আহমেদ, হরেকৃষ্ণ কোঙার। স্তালিনের পাশে বছর পাঁচেক আগেও ছিলেন মাও– সে–তুং। সে ছবির জায়গায় একটা চৌকো খোপ, একটু বেশি শাদা। আর একবার হোয়াইট ওয়াশ করলেই ফারাকটুকু মিশে যাবে দেয়ালে। পাঁচ আর চারের পার্থক্য ধরা যাবে না।

পার্টি অফিস বন্ধ হয় ঠিক সাড়ে নটা, প্রদীপই শেষ ব্যাটসম্যান। রোজ চাবি খোলা আর বন্ধ–এই কাজ। মিটিং মিছিল যাই থাক না কেন, সবেতেই ওর ছুটি। নিমের দোকানের কেঠো বেঞ্চি থেকে সোজা নজরে আসে পার্টি আফিসের অন্দরমহল। সেখানকার ব্যস্ততা ভীড় লোকজন আসা যাওয়া।

স্কুল ছুটির পর বাড়িতে এক কাপ চা খেয়েই নিমের দোকান। সেখানেই দেখা হয় পুরনো অনেকের সঙ্গে।

হেডলাইন এডিটোরিয়াল, বড় খবরের মাথা থেকে ল্যাজ অব্দি পড়তে পড়তে চোখে ঘুমের কুয়াশা। সাবধানে মশারি অল্প তুলে শূন্যে ঝোলা সুইচ টিপে অন্ধকারের সঙ্গে বন্ধুতা। তারপর চোখ খুলতেই ঘরের মধ্যে সেই রাস্তায় দেখা আকাশ। নক্ষত্রমালা হয়ে ফুটে আছে জোনাকির এলোমেলো বিন্দু। নতুন গ্রিল ছোঁয়া আমগাছের পাতায় অনেক জোনাকির বসে থাকা।

অনেক সকালে ঘুমে চিড় খেল হরিপ্রসন্নর। জানলা থেকে যতটুকু উঠোন দেখা যায় সেখানে দেখলেন হেঁটে বেড়ানো হ্যারিকেন। নিশ্চয় ফুল তুলছে হৈমবতী, দেশের বাড়ির অভ্যেস।

ঘুণ ধরা বাঁশের বেড়ার মধ্যে দিয়ে হাওয়া গেলে যেমন ফিকে শব্দ তেমনি আওয়াজ আসছে নিঃশ্বাসের সঙ্গে। কাত ফিরে শোয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশি। কাশি। মাথার কাছে ঘটি থেকে জল গড়িয়ে খেতে খেতে হরিপ্রসন্নর মনে হলো দিন দিন তিনি বড্ড একলা হয়ে যাচ্ছেন।

স্কুল না থাকলে সেভাবে কিছুই করার থাকে না হরিপ্রসন্নর। বাজারে শশাঙ্কই যায়। তিনি কখনও ঘুরে আসার পথে একবোঝা লাউ শাক, একটা লাউ একখন্ড থোড় কিংবা একটা বিবি কুমড়ো নিয়ে ঢোকেন হৈমবতীর জন্যে। খুঁজে খুঁজে কখনও কাঁকরোল, কখনও বা সুশুনি, গিমে। পাতায় মুড়ে পুঁটি, মৌরলা, কখনও বা দাঁড়া ভাঙা বড় কাঁকড়া পুষ্পময়ীর জন্যে। তবে কোনোটাই রুটিনের মধ্যে নয়। যদি মন চায়, তখনই।

সকালে আলগা পায়ে হাঁটতে হাঁটতে বাজারের দিকে। আজ গায়ে ন্যাপথলিনের ঘ্রানমাখা শীতের চাদর, সুতির। ট্রাঙ্ক থেকে নামিয়ে দিয়েছে হৈম। গায়ে জড়ানোর পরও ভাঁজের দাগ। জমজমাট ভীড়। সাইকেলের ক্রিং ক্রিং। ধাক্কাধাক্কি।

লম্বা এক মানুষ উচু দেয়ালের গায়ে দুজন যত্নে লিখে যাচ্ছে স্বৈরতন্ত্র। নিপাত যাক শব্দটি কাঠ–কয়লার আঁচড়ে স্কেচ হয়ে শুয়ে। শিরীষ আঠার গন্ধ হাওয়ায়। কালো রং চওড়া ফ্ল্যাট ব্রাশে টেনে গড়া হচ্ছে স্বৈরতন্ত্রের শরীর। কাঁচা চুনকাম দেখে গেছলেন কালকে। পাশে ছোট হরফে লেখা এস. এফ …… ৮৩–৮৬। সাইট ফর – এর সংক্ষিপ্ত চেহারা।

উবু হয়ে দেয়ালের পায়ের কাছে একজন। একজন দাঁড়িয়ে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরও দু চারজন। চারপাশে রঙের টিন, তুলি। সকালের রোদ উবু হয়ে বসে থাকা ছেলেটির পিঠে, দাঁড়ানো ছেলেটির উরুর ওপর। বড় দেয়ালের পাশে কাঠ–কয়লায় আলগা আলগা করে লেখা মার্কস – মৃত্যু শতবর্ষ উৎসবের ঘোষনা।

ইদানীং হাতে লেখা পোস্টার আর চোখে পড়ে না হরিপ্রসন্নর। সেই সব বাহারি অক্ষরের ছাঁদ, রঙের কারিকুরি কোথায় যে গেল। এখন ছাপানো পোস্টারই চারপাশে। অথচ এই তো সেদিন, ষাটের দশকের শেষ, সত্তর দশকের প্রথম একটি বছরেও হাতে লেখা পোস্টারের হৈ – চৈ।

কেমন যেন বদলাচ্ছে সব কিছু খুব তাড়াতাড়ি। মনে আছে এক রাতে তিন জন মিলে শেষ করেছিলেন লেনিনের স্টেট অ্যান্ড রেভলিউশানের বাংলা অনুবাদ। সেটা ১৯৪৯ হবে। ঘরের ভেতর কাঁপা মোমের আলো। কিছু বোঝা, না বোঝা। রোমাঞ্চ, বিপ্লবের আহ্বান।

আর এখন বাড়িতে বইয়ের ছড়াছড়ি। পুজোর সময় পাড়ার প্যান্ডেলের কাছের স্টল থেকেই একগাদা বই কিনে ফিরল দিব্যেন্দু। লিউ শাও চির ‘হাউ টু বি এ গুড কমিউনিস্ট’ –এর বাংলা। সুধাংশু দাশগুপ্তর ‘কমরেড সময় কোথায় ?’ রেবতী বর্মণের লেখা একটি বই। খাটের ওপর ছড়ানো সে সব বই প্রায়ই। কতটুকু পড়া হয় হরিপ্রসন্ন বুঝতে পারেন না।

তাঁদের যৌবনে এভাবে দিনের আলোয় পোস্টার মারা বা ওয়ালিং দুঃস্বপ্ন প্রায়। কংগ্রেসী গুন্ডা, ইনফরমার, পুলিসের ভয়। হয়ত পার্টির গণ ভিত্তি–মাস বেস এখন অনেক স্ট্রং। লোকজন সমর্থন, অর্থ বেশি। প্রশাসন পক্ষে। তাই এ পরিবর্তন। তবু কোথায় যেন ঠেকে হরিপ্রসন্ন। মনে পড়ে কাকদ্বীপ তেভাগার পর তেলেঙ্গানার ঐতিহাসিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছে তখন পার্টি। তাঁর পার্টি এখনই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দরকার বলে ডাক দিয়েছে দমদম – বসিরহাট সংগ্রামের। কলকাতা আর আশেপাশে হয়ে গেছে বেশ কয়েকটা ডাকাতি। পান্নালাল দাশগুপ্ত, হেনা গাঙ্গুলী, বিন্ধ্যা সিং আগুন হয়ে ঘুরছেন চারপাশে। কিছু আগে দল ছেড়ে চলে গেছেন সৌমেন ঠাকুর।

কথা ছিল দমদম এয়ারপোর্ট দখল করা হবে, সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দেবে জেসপ–এর শ্রমিকরা। তারপর অস্ত্র আর মুক্তিবাহিনী পৌছে যাবে দক্ষিন বঙ্গে। কৃষকদের হাতে দিয়ে দেয়া হবে রাইফেল। তারপর ঘিরে ফেল শহর।

হয়নি। হয়নি। আসামের জঙ্গলে বসে থাকা কমরেডদের ঘিরে ফেলেছে মিলিটারি। লরি ঠাসা রাইফেল আর অ্যামুনেশন ফেলে দিতে হয়েছে পথে। রোগা শরীরে দু দুটো রাইফেল কাঁধে হেঁটেছেন হরিপ্রসন্ন।

পুলিস, মিলিটারি, ইনফরমার, কংগ্রেসী গুন্ডা – সকলের চোখ এড়িয়ে হাঁটা, লুকিয়ে থাকা। হঠাৎ হঠাৎ এনকাউন্টার। পাশের কমরেড গুলি খেয়ে ঘাড়ভাঙা বালিহাঁস। ঠোঁটের কষে রক্ত। চোখে মরা মাছের চাউনি। তাকে ছেঁচড়ে টেনে আরও জঙ্গলের ভেতর দৌড়নো। খাবার নেই। জল নেই। যোগাযোগ নেই।

ঠা ঠা রোদ, কোনো নদীর শুকনো খাড়িতে দাঁড়িয়ে একটু জিরিয়ে নেয়া। তারপর হাত দিয়ে বালি তুলে তুলে শুইয়ে দেয়া নিহত সহযোদ্ধাকে।

আকাশে তখন বিদায়ী আলো। তার টুকরো মৃত সাথীর খাকি শার্টে, জমাট কালচে রঙে, হরিপ্রসন্নর বুটের ডগায়। ফুল সমেত একটা ভাঙা ডাল পুঁতেছিলেন সেই বালির কবরে। দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ হাত উঠেছিল লালচে আকাশের দিকে। কোত্থেকে একটা পাখি উড়ে এসেছিল সেই ডালে। তারপর সমস্ত নিস্তব্ধতা চিরে মিলিয়ে গেল আকাশে। হু হু করে কেঁদে ফেলেছিলেন হরিপ্রসন্ন।

ধরা পড়েছিলেন এরও বেশ কিছুদিন পর। ১৯৫১ সালে জেল থেকে বেরিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে। তখন থেকে সেই চৌষট্টি সাল পর্যন্ত …।

‘নিপাত যাক’ লেখা হয়ে গেছে লাল রঙে। নতুন অক্ষর রোদে আরও জ্বলজ্বলে। চাদর আলগা হয়ে এসেছিল গা থেকে। ভালো ভাবে জড়ালেন।

নিমের দোকানে এখন তেমন ভীড় নেই। ওর বাবা মিত্যুন মারা যাওয়ার পর নিমই দোকানের টপ বস। সেই পঞ্চাশ সাল থেকেই প্রায় দোকান। পার্টির যত ছেলেপুলে, জেলা, প্রদেশের নেতা – সবাই একবার না একবার ছুঁয়ে গেছেন। এমনিতে কোনো নাম ছিল না। চালু নাম একটা হয়ে গেছিল মুখে মুখে – ‘রেড স্কোয়ার কেবিন’।

নিমের দোকানে পেছনের দিকে বেঞ্চির একটি কোণ হরিপ্রসন্নর। সকাল–বিকেল বাঁধা। কেউ বসে থাকলেও ছেড়ে দেয়। এই দীর্ঘ সময়ে তার কোনো ব্যতিক্রম হয় নি।

চা দে, চিনি কম দিবি। খালি লিকার। বেঞ্চিতে গুছিয়ে বসার আগেই নিমে অর্ডার দিয়ে ফেলেছে ওর দোকানের ছেলেটিকে। এই প্রায় দশটা বেলার রোদ ঢুকেছে দোকানে। দেয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড় করানো পাড়ার বারোয়ারির শোলার চালচিত্রে তার দু একটা কুচি লেগেছে বেড়ার ফাঁক দিয়ে এসে। নিমের দোকানের চা তৈরি করে যে ছেলেটা, খোকন, তারই আনা দুর্গা ঠাকুরের এই ব্যাকগ্রাউন্ড।

উনোনে উলসে ওঠা আঁচের আলো, জল ফোটা হাঁড়ির পাতলা ধোঁয়া, নিমের সাতাশ বছরের রোগা– সোগা চেহারা, সব কিছুই চালচিত্রের ওপর এক সঙ্গে জড়ামরি। আশ্চর্য আলোছায়ার খেলা।

দোকানের কোণে, যেখানে নিয়মিত বসেন হরিপ্রসন্ন তার পেছনে বাঁশের খুঁটির গায়ে মসলিন বুনেছে মাকড়সা। সেখানেও চোরা রদ্দুরের রং। কম চিনির শুধু লিকার দুচুমুক দিতে দিতে হরিপ্রসন্ন আবার অ্যাজমার কষ্ট। গরম চা গলা দিয়ে নামতে একটু আরাম।

দুই

স্টেশনে বিভুর সঙ্গে এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবতে পারেন নি হরিপ্রসন্ন। বিকেলে স্টেশনে এসেছিলেন অলয়কে গাড়ি দেখাতে। তখন প্রায় মুখ থুবড়নো বিকেল। ট্রেনের বাঁশি, লোকজনের আসা – যাওয়া। ছুটির কদিন অলয়কে নিয়ে বিকালে ট্রেন দেখানও একটা কাজ।

প্ল্যাটফর্মের কোণে লোহার রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বিভু। সাতাত্তরে জেল থেকে ছাড়ার পর মাস ছয়েক এলাকায়। তারপরেই গা ঢাকা।

হরিপ্রসন্ন ঠিক বুঝতে পারছিলেন না। অলয়ই ডেকে উঠেছিল বিভুকাকা, বিভুকাকা !

দিব্যেন্দুর বয়েসী বিভু একটু নড়েছিল। এগিয়েছিলেন হরিপ্রসন্ন। তারপর অন্ধকারে দুজনের কিছু সংলাপ।

হরিদা কি ভাবছেন ?

ভাবুম আবার কি ? আছস কেমন ক ?

আসুন, একদিন বসি। আপনার মতো মানুষ, নর্থ চব্বিশ পরগণায় এখনও যাকে নাম বললেই চেনে লোকে, এ অঞ্চলের অনেক কৃষক পরিবারে আপনার ইনফ্লুয়েন্স আমি জানি। একটা কথায় জীবন দিতে পারে, আছে এমন লোক।

থাউক ! ওই সব কথা ছাড় !

আপনার মতো একটা জ্বলজ্বলে মানুষ … দুজন রেলওয়ে পুলিশ রাইফেল কাঁধে ক্লান্ত পায়ে হেঁটে যায়। বিভুর বাকি কথাটুকু মুখে। তারপরেই স্টেশন গমগমিয়ে ঢোকে ট্রেন। নামতে দিন, উঠতে দাও – এই সব শব্দে বিভুর কথা গুঁড়ো গুঁড়ো।

অলয়ের হাত শক্ত করে চেপে ধরেন হরিপ্রসন্ন। ভিড় না টেনে নিয়ে যায় ওকে।

অন্ধকার এবং লোডশেডিং একই সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

নিটোল আঁধারে বিভুর হাত নিজের বুকের কাছে টেনে এনে হরিপ্রসন্ন বলেন, ভালো থাকিস। সাবধানে। তাঁর শেষ স্বরমালা সেতারের বিস্তার হয়ে ছড়িয়ে পড়ে হাওয়ায়। দরবারী কানাড়া। আকাশে একটি মাত্র নক্ষত্র, রাখীর ওপরে চুমকি বসানো নকল মুক্তো হয়ে জ্বলে।

হরিদা, আপনার ওপর এখনও, আমাদের অনেক আশা। আপনার ওল্ড কনট্যাক্টস। আসুন না, বসি

একদিন। আপনার কথা আপনি বলবেন আমাদের কথা আমরা…।

না রে ! আমার ভিতরটা ফাঁপা। বন্দুকে বারুদ নাই ! ফায়ারিং হইব কি কইরা ! তাছাড়া শরীরডাও…।

কেন কি হয়েছে ?

কি হয় নাই ! পুরান অ্যাজমা। লো প্রেসার।

আপনি নিশ্চয়ই চে গেভেরার কথা জানেন। বুকে অ্যাজমা নিয়ে মানুষটি হাজির হয়েছিলেন বলিভিয়ায়, মন্ত্রিত্ব ছেড়ে।

অরা হইলেন অন্য রকম। আমাগো দম বড় তাড়াতাড়ি ফুরায়। ফুরাইবও না ক্যান কও। ধুমধাম কইরা মার্কসের মৃত্যুর শতবর্ষ হইতাছে, আর উসুরি নদীর তীরে দুই সমাজতান্ত্রিক দেশের সৈন্য, আইবল টু আইবল। বলো আমরা আউগাতাছি না পিছাইতাছি ? জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব না জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব – এই দুইটা কথা মাথার মইধ্যে ঢুইক্যা একটা পার্টি দুইখান। অখন কেডায় বিপ্লবের স্লোগান ল্যাখে কও তো ? সবটাই মক ফাইট মনে হইতাছে না ?

একদমে কথাগুলো শেষ করে হরিপ্রসন্ন হাঁপান। অ্যাজমার সূক্ষ্ম টান দাপিয়ে বেড়ায় বুকে। অলয় হাত ধরে টান দেয়, বাড়ি চলো।

স্টেশনের টিনের শেডের কপালে একটা লন্ঠন ঝুলিয়ে দিয়ে যায় কেউ। তার চাপা ঝাপসা মতন আলো বিভুর ডান দিকের চোখের কোলে, নাকের একপাশে, মোটা গোঁফের প্রান্তে লেপ্টে থাকে। বাঁদিকটা একদম অন্ধকার। খালি চোখের অংশ বেশ উজ্জ্বল।

নৈহাটি লোকাল ঢোকে। বিভু সাইড ব্যাগ সামলে ট্রেনের জন্যে দৌড়ায়। উঠতে উঠতে বলে, যাই। আবার দেখা হবে।

হরিপ্রসন্ন বলেন, যাওন নাই, আস গিয়া।

বিভুর সঙ্গে তাঁর এই একান্ত সংলাপ কি ভাবে যেন ছড়িয়ে যায় সমস্ত অঞ্চলে। এর জন্যে প্রথম দায়ী অলয়। সে-ই বাড়িতে এসে দিব্যেন্দুকে খবর দেয় – বিভুকাকাকে দেখলাম স্টেশনে।

একটু চমকে ওঠা দিব্যেন্দু খবর নেয় কতক্ষণ ছিল, কতটা সময় কথা হয়েছে হরিপ্রসন্নর সঙ্গে। তারপরই নিত্য সরব দিব্যেন্দু হঠাৎ কেমন গম্ভীর। বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভুর সঙ্গে ঝাড়খন্ডীদেরও যোগাযোগ, তার সঙ্গে এত কথা কিসের।

সোজাসুজি হরিপ্রসন্নকে জিগ্যেস না করলেও ঠারেঠোরে একধরনের কথাই বলে দিব্যেন্দু। তাছাড়া স্টেশন থেকে বাড়ি আসা দু এক জনও বিভু এবং হরিপ্রসন্নকে দেখেছে। এত সামান্য ঘটনা, তবু বাতাস হয়ে ওঠে ভারী।

তিন

আজই স্কুল খুলল হরিপ্রসন্নর।

প্রথম দিনে কিছুই তেমন হয় না। তাছাড়া শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। বাড়ি ফিরে কাঁধের ঝোলা নামিয়ে কথা বলছিলেন হৈমর সঙ্গে।

এ সংসারে হৈমবতীই এখনও সকলের মাথার ওপর। অ্যাজমার টান বাড়লে এখনও বাসক পাতা শিলে বেটে রস করে দেন হৈমবতী। মধু দিয়ে সকালে খালি পেটে খাওয়া।

স্কুলের বেড়া থেকে এক গোছা বাসক পাতা এনেছিলেন হরিপ্রসন্ন। ধুয়ে যত্ন করে ভিজে ন্যাকড়া মুড়ে তাদের রাখছিলেন হৈম। কাল সকালে রস হবে। তাঁর নিরামিষ আখশাল – রান্নাঘরে কলাইয়ের ভাঙা কাঁসির ওপর তৈরি করে ছোট উনোনের ঝাঁটার কাঠি ছাড়িয়ে নেয়া নাড়কেল পাতা পুড়িয়ে চায়ের জল গরম হচ্ছে। ভাই বোনের বৈকালিক চায়ের আসর রোজই এখানে। এ উনোনে কোনো শিক নেই।

পেতলের পাতলা চাদরের গেলাসে দুধ মেশানো ছাঁকা চা ঢাললেন হৈম। গায়ের সুতির চাদরে হাত মুড়ে ওই গ্লাস ধরবেন হরিপ্রসন্ন। তারপর আস্তে আস্তে ছোঁয়াবেন ঠোঁটে। গরম আরাম নামবে গলা দিয়ে। কালো পাথরের গেলাসে হৈমর চা। কাশী থেকে আনানো গেলাস। বয়েস প্রায় চল্লিশ। এ আসরে মাঝে মাঝে ভাগ বসায় অলয়। তার গেলাসে ছোঁয়া বাঁচিয়ে অনেকটা বেশি দুধ মেশানো চা ঢালেন হৈম।

রোদ গড়িয়ে গেল। হৈম বললেন, তরে কতবার কইসি না ধুত্‌রার বিসি মালসায় পোড়াইয়া ধুয়া টান। আরাম পাবি। কথা শোনস না।

একটু বেশি গরম চা চলে গেছিল মুখের ভেতর। উস্‌ – আস করলেন হরিপ্রসন্ন। এ শব্দ তাঁর কথার প্রতিবাদে, এমন মনে করে কপাল কোঁচকালেন হৈম। তাঁর গায়ের তসর তসর চামড়া উঠল কেঁপে। বোধহয় শীত –হাওয়ার। চশমার কাচে ঝলসে উঠল বেলা শেষের রোদ।

হরিপ্রসন্ন হাসলেন। হৈমও।

তারপর চাদর জড়িয়ে এলেন বাইরে।

সন্ধের অন্ধকার ঘন হয়েছে। পায়ে পায়ে নিমের চায়ের দোকানে।

দোকানে বোঝাই ভীড়। বাইরে অজস্র ফেস্টুন, ব্যানার। শান্তির সমর্থনে আণবিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে মিছিল ছিল এলাকায়।

বেঞ্চির প্রতিটি কোনা ভর্তি। হরিপ্রসন্ন বাইরেই দাঁড়িয়ে।

সময় এগিয়ে যায়।

আকাশে চাঁদ উঠে আসে।

নিমে ব্যস্ত চা ঘুগনি পাউরুটি আলুর দম নিয়ে। এরই ফাঁকে একবার বলল, একটা চা, চিনি কম। শুধু লিকার।

গত কাল পর্যন্ত তাঁর নির্দিষ্ট কোণে যে কেউ বসে থাকলে উঠে আসত। দোকান তৈরি হওয়ার পর থেকে এর ব্যাতিক্রম হয় নি। এই প্রথম তাঁকে জায়গা করে দেয়ার জন্যে উঠে এলো না কেউ।

অনেকটা সময় চলে গেল।

হরিপ্রসন্ন চা খেলেন না। অভিমানী বালকের মতো সরু পিচের রাস্তা পেরিয়ে ওপারে এলেন।

নিমে ডাকল, হরিদা, আপনার চা।

না থাউক। গলা বুজে আসছে।

ফিকে জ্যোৎস্নার ছিটে পৃথিবীর মুখে, শরীরে।

পার্টি অফিসের মাথায় ঘাড় গোঁজা লাল পতাকায় মাখামাখি চাঁদের বিষন্ন আলো। চারপাশে কোথাও এতটুকু হাওয়া নেই। শব্দও না।

বহু বছর আগে মজে আসা কোনো নদীর চওড়া বেলাভূমির ওপর গুলিবিদ্ধ কমরেডকে শেষ বেলায় যেমন মুঠো করা ডান হাত তুলে বিদায় জানিয়েছিলেন হরিপ্রসন্ন, আজও তাই–ই করলেন। সেইদিনের ঘাড়ভাঙা বালিহাসের চেহারা নেয়া সহযোদ্ধার মতোই এখন মনে হচ্ছে পতাকাকে।

হরিপ্রসন্ন কাঁদছেন। আজও তাঁর কান্নার কোনো সাক্ষী নেই।

 

……………………………

গল্পটির প্রথম প্রকাশ- প্রতিক্ষণ,জানুয়ারি,১৯৮৪।লেখকের আনুমতিতে গল্পের সময়ে প্রকাশ করা হল। 

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ