05 Feb

ঠিকানা

লিখেছেন:কৌস্তভ পাল


বৈরাগীটি দৌড়ে এসে ট্রেনে উঠলেন । কম্পার্টমেন্ট ফাঁকা, দূরে দু একটা লোক দাঁড়িয়ে । ঠান্ডাও পড়েছে জব্বর , ডিসেম্বরের রাত বলে কথা।

ট্রেনের বগিও ফাঁকা । বৈরাগী একটা সিটে বসে হাঁফ ছাড়লেন। আজকে খুব খাটনি গেছে , পয়সা কামিয়েছেনও বেশী। হঠাৎ তিনি লক্ষ করলেন যে বগি পুরোপুরি খালি নয় । দুটো সিট পরে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক বসে আছেন । বৈরাগী উঠে গিয়ে তাঁর পাশে বসলেন ।

ভদ্রলোকের পরনে পাঞ্জাবী-ধুতি। এক হাতে লাঠি ,অন্য হাতে স্যুটকেশ । ভদ্রলোক বৈরাগীটিকে আড়চোখে একবার দেখলেন , কিছু বললেন না ।

ক্লান্তির মধ্যে বৈরাগী যে কখন গুন গুন করে গান গাইতে শুরু করেছিলেন নিজেই বুঝতে পারেননি । তাই হয়ত বৃদ্ধ ভদ্রলোক বললেন , “গাও না ভাই একটা গান , শুনি ।”

বৈরাগী বললেন , “গাইব ?” তারপর শুরু করলেন , ” বল মা তারা দাঁড়াই কোথা……….”

গান যখন শেষ হল তখন বৃদ্ধ ভদ্রলোকের মুখে হাসি ফুটেছে । বললেন ,”বাঃ! অপূ্ব।”

ভদ্রলোক বললেন ,” আমার বাড়ি একদিন এসো না , আমায় গান শোনাবে ।”

বৈরাগী আপত্তি করলেন না।

বৃদ্ধ একটা কাগজে কী একটা লিখে দিয়ে বললেন ,” এই আমার ঠিকানা । ”

বৈরাগী হাতে নিয়ে দেখলেন বালিগঞ্জের এক বাড়ির ঠিকানা ।

পরদিন সকালে দশটার মধ্যে বৈরাগী পৌঁছে গেলেন ওই ঠিকানায়। বাড়ির সামনে জটলা ।

ভিড়ের মধ্যে ঢুকে বৈরাগী দেখলেন একটা শবদেহ রাখা ।

বৈরাগী চমকে উঠলেন ।  এই মুখ তার চেনা । লোকের কাছে জানলেন গত কাল বিকেলে ভদ্রলোক হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা গেছেন ।

বৈরাগী ঝোলায় হাত ঢুকিয়ে ভদ্রলোকের দেওয়া কাগজটা বার করেই শিউরে উঠলেন । মনে করলেন , “এও কী সত্যি ! ”

কাগজের উপর লেখা পালটে গেছে, হয়ে গেছে , ” পরলোক । “

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ