09 Mar

উপযুক্ত সম্মান নেই অলংকরণ শিল্পীর : যুধাজিৎ সেনগুপ্ত

লিখেছেন:সাক্ষাৎকার যুধাজিৎ সেনগুপ্ত


[দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা প্রকাশনা জগতে অলংকরণ বা ইলাস্ট্রেটর হিসেবে যুক্ত যুধাজিৎ সেনগুপ্ত। ৬০-এর দশকে বসুমতী, সপ্তাহ পত্রিকা থেকে  শুরু করে  হাল  আমলের ‘জাগো বাংলা’র পুজো সংখ্যা সবেতেই  সমানতালে  এঁকে চলেছেন তিনি। একজন ইলাস্ট্রেটর হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার নানা  অভিজ্ঞতার কথা আমাদের শুনিয়েছেন যুধাজিৎবাবু। বসন্তের এক সকালে তাঁর বাড়িতে বসে শিল্পীর কর্মজীবনের নানা প্রাপ্তি নানা অভিযোগের কথা শুনলেন সমীর ঘোষ।

গল্পের সময় – আপনি এই সময়ের একজন বিখ্যাত ইলাসস্ট্রেটর। দীর্ঘ সময় ধরে এই কাজ করছেন। ঠিক কবে প্রথম পেশাগত ভাবে ইলাসস্ট্রেশনের কাজ শুরু করলেন ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – ঠিক কবে থেকে পেশাগতভাবে কাজ শুরু করলাম এই মুহুর্তে তা ঠিক অঙ্ক কষে বলা মুশকিল। আসলে আমি তখন আর্ট কলেজের ছাত্র বা সদ্য পাশ করে বেড়িয়েছি তখন থেকেই কাজ খুঁজছি। টুকটাক এটা ওটা করছি। কোনওটায় পয়সা পাচ্ছি, কোনওটায় পাচ্ছি না। এরকমটা চলছে। এই সময়কালেই আমি ‘সপ্তাহ’ পত্রিকায় একটা ছবি আঁকার কাজ করি। ওই পত্রিকায় তখন আমার ভাইয়ের (অভিজিৎ সেনগুপ্ত) সুন্দরবন নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখা প্রকাশ হচ্ছিল। তাতে আমি ছবি আঁকার কাজটা করি এবং তার জন্য পয়সা পাই। তবে হ্যাঁ, এবার মনে পড়ছে, এর আগে আমি সেই সময়ের বিখ্যাত বসুমতী পত্রিকায় প্রচ্ছদ আঁকার সু্যোগ পাই। সেটাও ছিল পয়সা( পারিশ্রমিক) পাওয়া কাজ।

গল্পের সময় – আপনি যে শেষ পর্যন্ত অলংকরণ বা ইলাস্ট্রেটর হয়ে গেলেন, এই ইচ্ছে বা ভাবনাটা কী আপনার ছোটোবেলা থেকেই ছিল ? কীভাবে এই পেশায় এলেন ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – হ্যাঁ, ছোটবেলা থেকেই আমার আঁকার নেশা ছিল। আমার বাবা বিজয়কুমার সেনগুপ্তও ছিলেন চিত্রশিল্পী। তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করতেন। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেও কাজ করেছেন। বাবার কাজ দেখেই অনুপ্রাণিত হই। সেই লক্ষ্যে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরই গর্ভমেন্ট আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে যাই।

গল্পের সময় – ইলাস্ট্রেশন করবেন, সেটাকে পেশা হিসেবে নেবেন –ভাবনাটা কীভাবে এল ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – আসলে আমি চিত্রশিল্পী হব আর্টিস্ট হব এমন ভাবনাটা প্রথম থেকেই ছিল। ছবি আঁকব, তা বিক্রি হবে এমন স্বপ্ন খুব স্বাভাবিক ভাবেই ছিল। পেইন্টিংটাই ছিল আমার মূল কাজ। পরবর্তীকালে ইলাস্ট্রেটর হিসেবে লোকে আমার নাম জানলেও আজও পেইন্টিং করি আমি। শুধু রুজি – রোজগারের জন্য ইলাস্ট্রেশনে একটু বেশি জোর পড়ে গেছে। পেইন্টিং করে, তা বিক্রি করে যে রোজগারের/জীবনধারণের পথ তা আর সেইভাবে জমে ওঠে নি। সত্তরের আগে আমি বসুমতী, সপ্তাহ পত্রিকার কাজ করতে শুরু করে দিয়েছি। সেই সময় কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে আমি ‘পরিচয়’ পত্রিকায় যাই। তখন পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীপেন বন্দোপাধ্যায়। আমি ওই পত্রিকার বেশ কয়েকটি প্রচ্ছদ আঁকার কাজ করি।

গল্পের সময় – আপনি তো বহু বিখ্যাত কাগজে ইলাস্ট্রেশন করেছেন, বহু পত্রিকার প্রচ্ছদ করেছেন – সে সম্পর্কে আমাদের একটু বলুন।

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – এই সব কাজ করতে করতেই আমি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের কিছু কাজ করি। তখন সেখানকার সম্পাদক ছিলেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওনার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিনি কাজ দিতেন আমি করতাম। ওই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসেরই কয়েকটি বইয়ের সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। আমার কাজ মহাশ্বেতাদির পছন্দ হয়। সেই সময় ন্যাশানাল বুক ট্রাস্ট থেকে মহাশ্বেতা দেবীর একটা বই প্রকাশ হওয়ার কথা। তিনি বললেন, তুমিই আমার বইয়ের ইলাস্ট্রেশন করে দাও। বইটার নাম ছিল ‘এককড়ির সাধ’। ইংরাজিতে হয় ‘এককড়ি’জ ড্রিম’। এবার সেই কাজের সূত্রেই ন্যাশানাল বুক ট্রাস্টের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়ে যায়। এনবিটির বহু বইয়ের ইলাস্ট্রেশন, প্রচ্ছদ করেছি আমি। সেই সময় ছোটদের বইয়ের ইলাস্ট্রেশনের জন্য ইউনেস্কোর আয়োজনে একটা প্রতিযোগিতা হত। এশিয়া, আফ্রিকা, লাটিন আমেরিকা জুড়ে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় আমি ‘এককড়ির সাধ’ বইয়ের সাদাকালো ছবিগুলোকে রঙিন করে পাঠিয়ে দিই। প্রথম দশজন শিল্পীর কাজের মধ্যে স্থান পেয়েছিল আমারটাও।

গল্পের সময়  – তাহলে আপনি তখন পুরোপুরি ফ্রিল্যান্সিং করেই জীবনধারন করছেন ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – না, না। আমি তখন চাকরিতে ঢুকে গেছি। আমি একটা বড় অ্যাড ফার্মে চাকরি করছি। আর পাশাপাশি এইসব বিভিন্ন জায়গায় ফ্রিল্যান্সিং কাজ করি। অ্যাড ফার্মের যে কাজ তা ছিল নির্দিষ্ট। একই ফ্রেমে বাঁধা। কিন্তু বাইরের এইসব নানান কাজে আমি নানা সৃষ্টির মজা পেতাম। মনের আনন্দ পেতাম। বহু মানুষের সঙ্গে মেলামেশা হত, যোগাযোগ হত। যেমন এইরকম কাজ করতে করতেই আমার যোগাযোগ হয়ে গেল প্রতিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি শেষ পর্যন্তই ছিলাম, প্রচুর কাজও করেছি। তখন প্রতিক্ষণের সঙ্গে ছিলেন অরুণ সেন। এছাড়াও আজকাল, বর্তমান, প্রতিদিন, আনন্দবাজার সর্বত্রই ইলাস্ট্রেশন করেছি। বহু আগে ‘দেশ’ পত্রিকার প্রচ্ছদ এঁকেছি। তখন নিউজপ্রিন্টে প্রকাশ হত। এছাড়া কলেজ স্ট্রিটের হাজারো প্রকাশন সংস্থার বইয়ের কাজ তো আছেই। এখনও কাজ করছি। তখনকার ‘বসুমতী’ থেকে এখনকার ‘জাগো বাংলা’ সবেতেই কাজ করেছি।

গল্পের সময় – গল্প বা উপন্যাসের ছবি কীভাবে আঁকেন ? আপনি কী পুরোটা পড়ে নেন ? নাকি সম্পাদক আপনাকে ব্রিফ করে দেন ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – গল্প আমি মোটামুটি পড়েই আঁকি। তবে উপন্যাসের ক্ষেত্রে সবসময় তা সম্ভব হয় না। তবে চোখ বুলিয়ে নিই। তারপর আঁকি। আর যদি একেবারেই সময় সংক্ষেপে তা সম্ভব না হয় তখন একটা ব্রিফ নিয়ে নিই। কোথায় কী রকম ছবি হতে পারে তা জেনে নিই। তবে সেটা খুবই কম। তবে এখানে একটা ব্যাপার আমি বলতে চাই যে ভাল গল্প বা উপন্যাস ভাল ছবি বা ইলাস্ট্রেশন আঁকিয়ে নেয়। অর্থাৎ ভাল গল্প হলে আঁকাটাও কেমন যেন ভাল হয়ে ওঠে। তার মধ্যে যান্ত্রিকতা থাকে না।

গল্পের সময় – একটা উপন্যাসে কত ছবি থাকবে তা কী ভাবে ঠিক হয় ? সম্পাদক বলে দেন নাকি আপনি সিদ্ধান্ত নেন ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – সেটা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকাশকদের একটা হিসেব থাকে। আমি এত পৃষ্ঠার, এত ফর্মার বই করব। এর মধ্যে এত পৃষ্ঠা ম্যাটার আছে, তাহলে এতগুলো ছবি হতে পারে। আমাকে বলা হল এত গুলো পাতার মধ্যে ফুল পেজ, হাফ পেজ ছবি কী ভাবে দেবেন তা আপনি ঠিক করে নিন।

গল্পের সময় – আর একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে, আপনি তো বহু পুজো সংখ্যার বহু উপন্যাসের ইলাস্ট্রেশন করেছেন। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় পাঠকদের আকর্ষন করতে গল্পের গোপনীয় সময়ের  বা ঘনিষ্ট দৃশ্যের ছবি এঁকে দেওয়া হয়েছে। এটার জন্য কী কোনও নির্দেশ থাকে ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – সম্পাদক নির্দেশ দিয়ে এধরনের ছবি আঁকিয়ে নিচ্ছেন, আমাকে এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় নি। তবে অনেক ম্যাগাজিনে আমাকেও প্রয়োজনে এরকম ছবি আঁকতে হয়েছে। গল্পের প্রয়োজনেই আঁকতে হয়েছে। ছবির একটা ভিসুয়াল অ্যাট্রাকশন থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার এমনটা হয়েছে যে গল্পের মধ্যে আর কিছুই নেই, তখন সে সেরকম ছবির দাবি করছে।

গল্পের সময় –  সারা বছর তো আপনি কাজ করেন। পুজোর সময় কী একটু বাড়তি চাপ এসে পড়ে ? কী ভাবে সামলান সেই সময়ের কাজ ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – পুজোর থেকেও কাজের চাপ বেশি হয় বইমেলার সময়। এক এক সময় চাপটা সাংঘাতিক বেড়ে যায়। এমন সময় আসে কী ভাবে কী করব বুঝে ওঠা যায় না। কিন্তু এর মধ্যেও করতে হয়। অনেক পরিচিতি, অনেক দাবি থাকে। তার মধ্যেই কাজ তুলে দিতে হয়।

গল্পের সময় – সব কাজই কী প্রকাশনা দপ্তরে গিয়ে করে দিতে হয় ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – না, না। এখন তো কমপিউটার হয়ে গেছে। অনেক সুবিধে হয়েছে। ইলাস্ট্রেশন বাড়িতে করে স্ক্যান করে পত্রিকা দপ্তর বা প্রকাশনা দপ্তরে পাঠিয়ে দিই। সেবার যেমন বাংলা দেশের একটি ছোটদের কাগজ এখান থেকে প্রকাশিত হল। ওনারা ছবির জন্য এসেছিলেন আমার কাছে। প্রথমে একবারই এসেছিলেন। তারপর থেকে আমি কমপিউটারে কাজ পাঠিয়ে দিই।

গল্পের সময় – প্রকাশন সংস্থা ছাড়া ব্যাক্তিগত কাজ কেমন করে দিতে হয় ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – প্রচুর। অনেকেই আছেন ব্যাক্তিগত ভাবে গল্পের বই, ছড়ার বই বের করেন। তার প্রচ্ছদ, ছবি করে দিতে হয়। অনেকেই কবিতার বই করেন। তার প্রচ্ছদ করে দিতে হয়।

গল্পের সময় – বিখ্যাত মানুষদের সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন। ছবি আঁকতে গিয়ে কখনও কী লেখকের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – সেরকমটা খুব একটা হয় নি। তবে দুএকটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। ‘বারোমাস’ পত্রিকার তখন অশোক সেন সম্পাদক। দেবেশ রায়ের একটা লেখার উপর আমি ইলাস্ট্রেশন করেছি। দেবেশ রায় তা দেখে বললেন বা, আমি তো এরকমটা ভেবেই লিখেছিলাম। এরপর দেবেশ রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। প্রথমে ‘তিস্তা পারের বৃতান্ত’র জন্য আমার ছবি ওনার মনে ধরেনি, এমনটাও হয়েছে। কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক তার মাস্টার মশাইয়ের স্মৃতিকথা লিখেছিলেন। আমি তার বর্ণনা পড়ে মাস্টার মশাইয়ের ছবি এঁকেছিলাম। উনি তো অবিভূত।  বললেন, এটা কী করে সম্ভব হল ?

গল্পের সময় – আপনি তো বড়দের পাশাপাশি ছোটোদের জন্যও ইলাস্ট্রেশন করেছেন। কাদের জন্য কাজ করে ভাল লেগেছে ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – বাচ্চাদের জন্যে আমি অনেক ছবি এঁকেছি। কিন্তু সত্যি বলতে কী এখানে ছোটোদের জন্য যে ধরনের কাজ হয় তা করে আমি কোনও আনন্দ পাইনি। বিদেশে কত ধরনের, কত রকমের কাজ হচ্ছে – ভাবলে অবাক হতে হয়। এখানে কলেজ স্ট্রিটে পাড়ায় সে সব ভাবনাই গড়ে ওঠে নি। শুধু বাচ্চাদের নয়, প্রকাশনা জগতে কাজ করে যদি আনন্দ পেয়ে থাকি, সে জায়গা হল ‘প্রতিক্ষণ’। তারা বিষয়টা বুঝতেন। ছবির ক্ষেত্রে কোনও হস্তক্ষেপও করতেন না। কলেজ স্ট্রিট পাড়ার ধারণা বাচ্চাদের জন্য বাস্তবধর্মী ছবি আঁকা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক নয়। ছোটোদের কল্পনা শক্তি প্রবল। তাদের ছবি তারা ঠিক বোঝে। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের ছোটোদের বইয়ের ছবি করেও খুব আনন্দ পেয়েছি। এমনিতে বাচ্ছাদের ছবি এঁকে আনন্দই পাই। অনেক রং অনেক ডিজাইন, বেশ ভাল লাগে।

গল্পের সময় – একটা গল্প বা উপন্যাসের জন্য ছবি কী খুব জরুরি ? একটা ছবি কী খুব জরুরি ? একটা ছবি কী পাঠককে তার কল্পনার জগতে বিচরণ ঘটাতে বাধা দেয় না ? লেখক যা ভেবে লিখছেন শিল্পী সঠিক সেই পথে ছবি নাও এঁকে উঠতে পারেন। ভিন্ন ভিন্ন পাঠকের কল্পনাও ভিন্ন হতে পারে। পাঠকের স্বাধীন চিন্তা কী ধাক্কা খায় না ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আপনাকে বলি সিরিয়াস সাহিত্যের ক্ষেত্রে ছবি বা ইলাস্ট্রেশন খুব বেশি আঁকা হয়নি। তবে কিছু কিছু প্রকাশক এখন এইসব সাহিত্যে ইলাস্ট্রেশন করছে। যেমন ‘শিশু কিশোর একাডেমি’ থেকে আমাকে রবীন্দ্রনাথের রাজর্ষির  জন্য ছবি আঁকতে বলা হল। আমিও একটা নতুন ভাবনার কাজ পেলাম। তবে আপনার প্রশ্নের সঙ্গে আমি ১০০ শতাংশ সহমত পোষন করছি। এজন্য গল্পের ছবি অ্যাবস্ট্রাক্ট হওয়া উচিত। বাস্তবধর্মী ছবি তার কল্পনাকে ধাক্কা দেয়। থামিয়ে দেয়। আমি রাজর্ষিতেও তাই করলাম। অ্যাবস্ট্রাক্ট ধর্মী ছবি আঁকলাম। এক্ষেত্রে একে লেখার ছবি না ধরে লেখার সমান্তরাল সহযোগী হিসেবে ধরা যায়।

গল্পের সময় – একজন ইলাস্ট্রেটর হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এখন কেমন লাগে ?

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুব বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। এখানে একজন ইলাস্ট্রেটর কী তার উপযুক্ত সম্মান পান ? একজন ইলাস্ট্রেটরকে পাতা ভরানোর লোক বলে ভাবা হয়। লেখকের নাম যে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়, ইলাস্ট্রেটর তার দশ শতাংশও পান না। তার নাম লেখা হয় শেষে। বাইরের দেশে একজন লেখকের সমান গুরুত্ব পান অলংকরণ শিল্পী। একটা শিশু ইলাস্ট্রেশনের মাধ্যমেই জগতের সঙ্গে পরিচিত হয়। ফটোগ্রাফি সে পরে দেখে। যে বইয়ের ছবি আকর্ষনীয় তা পড়ার আগ্রহ তৈরি হয় কোনও মধ্যে। কিন্তু এখানে তার কোনও গুরুত্বই নেই। সহজপাঠে রবীন্দ্রনাথের লেখা আর নন্দলাল বসুর ইলাস্ট্রেশন এক জমজমাট ব্যাপার। আবার দেখুন কলেজ স্ট্রিটের প্রকাশকরা বলেন বইয়ের ললাট হচ্ছে তার মলাট। অথচ মলাট শিল্পীর কোনও দাম নেই। এটাই দুঃখের। এটাই আশ্চর্যের।

গল্পের সময় – এতটা সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে গল্পের সময়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত – আপনাকেও ধন্যবাদ।

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ