19 Nov

প্যারাসিটামল

লিখেছেন:মহেশ্বর মাজি


আরতি এই ছেলেটাকে একদম সহ্য করতে পারে না।অথচ সকাল হলে সবার আগে ওর মুখটাই দর্শন করতে হয়।ভোরের আলো ফুটলেই তাকে ধড়ফড় করে বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়।রাতের কাপড়টা ছেড়ে অন্য একটা শুদ্ধ কাপড় পরে ঘরে-বাইরে কয়েকটা জায়গায় গোবর জল বুলোতে হয়।আর তখনই ছেলেটা পেপার নিয়ে হাজির হয়।ছেলেটার চোখের নজরটা বড্ড খারাপ। আগে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ  তার দিকে চেয়ে থাকবে।তারপর পেপার কটা মুড়ে হাতে দেবে।এই সময় আরতির বুকটা উদোম থাকে।শুধু কাপড়টাই আটোসাটো জড়ান থাকে বুকটার উপর।ছেলেটার নজর যে ঠিক কী খোঁজে আরতি সেটাই যেন ভাল করে বুঝতে পারেনা।এক,দুদিন বিরক্ত ধরে যায়।আরতির মনে হয়।সে প্রশ্ন করে।
…”..কী দেখো ওভাবে রোজ রোজ?–তোমার লজ্জা করে না?..বেহায়া ছেলে কোথাকার?..কাল থেকে পেপার দিতে এস না।”
আরতি কথাগুলো মনে মনেই আওড়ে সাধ মিটিয়ে নিয়েছে।বলা আর হয়ে ওঠেনি।শুধুমাত্র তাকানোর দোষে একজনের আয়টুকু সে ছিনিয়ে নিতে পারে না। তাছাড়া বাড়িতে স্বামী এবং শ্বশুরমশাইকেও তো জবাব দিতে হবে।উত্তরে কী বলবে তখন?…ওই ছেলেকে রোজ পেপার হাতে দেওয়ার আগে তার দিকে এক নজর চেয়ে থাকে।এটা কী আদৌ কোন অপরাধ?..ছেলেটাকে আজ পাঁচ বছর ধরে দেখছে আরতি।এতদিনে ছেলেটার সম্বন্ধে কোন খারাপ কথা শোনেনি।আর কারু সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলে শোনা যায়নি।তাহলে শুধু শুধু একজনকে অপরাধী করে দেওয়া তো যায় না। আরতি তাই এখন আর ছেলেটার দিকে তাকায় না। যা খোঁজে খুঁজুক।তাতেই যদি আনন্দ পায়।পাক গে।তার তো কিছু হারায় নি।এই কথাটা সে রোজ ভাবে।
আজ ভাবতে গিয়ে চায়ের জলে কতটা চিনি ফেলল।সেই হিসেবটা গুলিয়ে গেল।আন্দাজে বোঝা যাচ্ছে না। একবার চিনি না গললে বোঝা মুশকিল।চা তৈরি হয়ে গেছে।নামিয়ে কিছুটা চা একটা ছোট বাটিতে ঢেলে রাখল।ওদিকে ছেলে বিছানা ছেড়ে উঠেই পটি করার জন্য মাকে ডেকে বেড়াচ্ছে।ওদিকে দেরি হলে চলবে না। আরতি দৌড়ে গিয়ে চার বছরের সত্যর পোশাক খুলে বাথরুমে বসিয়ে দিল।ছেলে যতক্ষণ ধরে পটি করবে মাকে মুখের আগে বসে থাকতে হবে।না হলে ওই নোংরা নিয়ে কোথায় যে ঢুকে পড়বে কেউ জানে না। তার শাশুড়ি আবার সেকেলে মানুষ।আচার,বিচারের বাতিকটা ভাল রকম রয়ে গেছে।সেই নিয়ে প্রথম কয়েক মাস শাশুড়ির সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।তারপর আরতি নিজেই এক সময় চুপ করে গেছে।আধুনিক শিক্ষার সমস্ত যুক্তিকে কৌটো বন্দি করে এক পাশে সরিয়ে রেখে,শাশুড়ির অন্ধ অনুকরণের ভক্ত হয়ে পড়ে।তাতে শাশুড়িও খুশি হন।এখন সব সময় অতি অতি বলে ডাক পাড়েন।আরতিকে ভালবেসে তার শাশুড়ি অতি বলেই ডাকেন।নামটা কানে আসতেই আরতি ব্যস্ত হয়ে পড়ল।এখন তার যাওয়ারও উপায় নেই। সত্যর পিছনটা জল দিয়ে পরিস্কার করছে।তাই আওয়াজ দিয়ে বলল
—আসছি মা।
ততক্ষণে শাশুড়ি চলে এসেছেন
—আজ চায়ে এত চিনি কী করে হল বৌমা?
আরতি এটাই আন্দাজ করেছিল।দুকাপ জল ঢেলে দিলেই সমস্যা মিটে যেত।কিন্তু সে পুরোপুরি সিওর হতে পারেনি।তাই এবার একটু মিথ্যে বলতেই হয়
—-চিনির দানাটা মোটা তাই ঠিক আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে না।
—-যাও একবার শ্বশুরের কাছ থেকে ঘুরে এস।..কী বলছে শুনে এস।আমি সত্য কে মুছে দিচ্ছি ।
আরতি ভিজে হাত কাপড়ে মুছে শ্বশুরের সামনে এসে দাঁড়াল।তার শ্বশুর এক সময় সরকারি অফিসে কাজ করতেন।আরতি এ বাড়িতে আসার অনেক আগেই শ্বশুর রিটায়ার হয়ে গেছিলেন।তারপর থেকে তিনি জীবনটা একটা অলিখিত নিয়মে বেঁধে রেখেছেন।এই যেমন সকালে উঠেই প্রথমে হাত,পায়ের কটা ব্যায়াম সেরে ইসবগুল ভেজা একগ্লাস জল খেয়ে বাথরুমে যাবেন।এসে গরম চায়ের কাপ হাতের কাছে যেন পায়।অবশ্য না পেলে সারা বাড়ি মাত করেন না। সেদিক দিয়ে অবিনাশবাবুকে নিয়ে আরতির একদম সমস্যা নেয়।..তবে অনিয়ম হলে নিজে নিজেই অপরাধবোধে ভুগতে থাকে।তাছাড়া অবিনাশবাবুরও তখন চোখে ঘন ঘন পলক পড়ে।এটা কীসের ইঙ্গিত আরতির বুঝতে এতটুকুও সময় লাগে না। আজ আবার কী হল?..মনের ভিতর একটু সংশয়ের ধোঁয়াশা নিয়ে দাঁড়াল।অবিনাশবাবু আরতির দিকে চাইলেন।আরতি পলকের ওঠা,নামাটা লক্ষ্য করল।ঠিক আছে।তাই আর সংশয়টা রইল না। আরতিই বলল
—ডেকেছিলেন বাবা?
—হ্যাঁ ।…ভাবছিলাম গতকাল রাতেই তোমাকে জিজ্ঞাসা করব।..খুব ব্যস্ত ছিলে দেখে আর বলা হল না।…তোমার বোনের নামটা কী যেন?
—মধুমিতা।আমরা সবাই মধু বলেই ডাকি।
—ওর তো এ বছর এম.এ শেষ হয়ে যাচ্ছে?
—হ্যাঁ ।
—ওর কী বিয়ে দেবে এখন?
—মধু এখন বিয়েতে রাজি হবে না মনে হয়..না হলে তো ওর বিয়ে কবেই চুকে যেত।ও একটা চাকরি করবে বলছিল।
—-একবার তোমার বাবার কাছ থেকে খবরটা নিয়ে আমায় দিতে পারবে?
—-চাইলে আপনি নিজেও জিজ্ঞেস করতে পারেন।..যতই হোক আপনিও তো বাবার একজন বড় খুটি।
—-আসলে কথা বলতে পারি।..তবে এক্ষেত্রে না বলাটাই ভাল।পাত্রের বাবাটি আমার পরিচিত নন।আমার এক বন্ধুর আত্বীয় হন।..তাই এইটুকু জানলেই হবে।বিয়ে এখন দিতে চায় কী না?…পরে তখন ছেলেটার খোঁজ,খবর নিয়ে ফোন করব।শুধু শুধু বিব্রত করটা উচিৎ হবে না। তার থেকে তুমিই বরং খবরটা নিয়ে আমাকে বিকেলে  জানাও।

ছেলেটা আজকেও সেই একি রকমভাবে আরতির দিকে চেয়ে আছে। আরতি আর কোন কিছু ভাবতে চাই না। গতকাল বেশ মাশুল গুনেছে।এক দু চামচ চিনির দামটা মাশুলরূপে নগন্য হলেও তার যে অনিয়মের দাগটা লেগেছে সেটার মুল্য কতখানি নিজেই টের পেয়েছে।ছেলেটা পেপারের বান্ডিলটা আরতির দুহাতের কোলে ছুড়ে দিয়ে বলল
—-বৌদি একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?
ছেলেটা এর আগে আরতির সঙ্গে শুধুমাত্র মাস কাবারির টাকাকটা পাওয়ার জন্যই কথা বলেছে।বাকি দিন চুপচাপ এক নজর তুলে আর হাওয়ার বেগে চলে যায়।মাসের টাকা ও কদিন আগেই পেয়ে গেছে।তারমানে আজ একটু অন্য কথা শোনাবে।আরতি ব্যস্ত দেখিয়ে বলে উঠল
—সময় নেই ভাই।..কালকে বল।
আরতির আর পিছন ফিরে তাকাবার সময়টুকুও নেয়। আজ আর সকাল সকাল মনটাকে বৃথা ভাবনায় একদম ডোবানোর ভুলটি করবে না।আজ তার অনেক বড় কাজের দিন।তার দেওর আসছে দিল্লি থেকে।স্টেশনে ভোরেই নেমে গেছে।গাড়ি ভাড়া করে আসছে।তার শ্বাশুড়ি মা সকালে পছন্দের জল খাবার তার ছোট ছেলেটিকে অনেকদিন পর খাওয়াতে চান।তোড়জোড়টা তাই আরতিরই বেশি।তাকেই তো মেশিনের মত হাত চালিয়ে পলাশের আসার আগেই অনেক আয়োজন মিটিয়ে ফেলতে হবে।ওর সাথে আবার একজন বন্ধু ও আসছে।বাঙালি নয়।তবে বাংলাকে দেখার খুব শখ।বিশেষ করে কবিগুরুকে চেনার খুব আগ্রহ।তাই পলাশকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিনিকেতন ঘুরে আসতে চায়।দিন কয়েক ঘুরেই ফিরে যাবে।
আজ আর সত্য নার্সারি স্কুলের গাড়িতে চাপবে না। গাড়ি এসে হর্ণ দিচ্ছে।লুচিগুলোকে কড়ায় ফেলেই দৌড়ে গেল।খবরটা দিতে।আরতি  এসে দেখল পলাশ আর ওর বন্ধুটি গাড়ি থেকে নামছে।পলাশের চেহারায় আমুল পরিবর্তন লক্ষ্য করল।কিন্তু সে কথা আরতি মুখ ফুটে বলতে পারল না সাথে ওই বন্ধু টির জন্য।আরতির কেন যেন মনে হলওর ওই বন্ধুটি যেভাবে তাকে দেখছে..ঠিক ওইভাবে পেপারের ছেলেটাও রোজ তাকে দেখে।আরতি নিজের অজান্তেই নিজের রোগে কাবু হয়ে গেল।আবার ভুলের মাশুল গুনল।প্রথমের দশটা লুচি পুড়ে কালো হয়ে গেল।সেই দেখে তার শাশুড়ি আবার এক প্রস্থ অভিযোগ করে উঠলেন
—-অতি..তোমাকে কত করে বললাম প্রথম ঝাঁকের আলোনা লুচি কটা আমার জন্য আলাদা তুলে রাখতে ।..আজ অমাবস্যা, তাই আর দুপুরে ঝামেলা বাড়বে না। এ তো দেখছি মুখে তোলায় যাবে না।
আরতির মাথা ঠুকতে ইচ্ছে হল।এ কেমন রোগ তাকে ধরল।যার দিকে তাকায় শুধু সকালের ওই ছেলেটার নজরটাকেই খুঁজে বেড়ায়।
পলাশের ওই বন্ধুটির নাম মার্টিন।কর্ণাটকের ছেলে।এখন দশ বছর ধরে দিল্লিতেই আছে।মা,বাবা দুজনেই বিদেশে থাকেন।মার্টিন অনেক ভাষা বলতে এবং লিখতেও পারে।বাংলা সেভাবে বলতে না পারলেও রবীন্দ্র সংগীতগুলো নিঁখুত গেয়ে দেয়।তবে সবার কথা বুঝতে পারে।ভারতীয় লোকসংগীত নিয়ে রিসার্চ করছে।মার্টিনের ব্যাপারে এত কথা শুনে আরতির ভেতরে একটা বদল এসেছে।সেটা বাড়ির কেউ জানে না। একমাত্র সে নিজে ছাড়া।আরতির স্বামী নৃপেনও আজ ট্রেনিং সেরে বাড়ি ফিরেছে।স্কুলের শিক্ষকদের তিনদিনের একটা ট্রেনিং ছিল।সব শিক্ষকদের নয়।তবে নৃপেনকে যেতে হয়েছিল।আজ তাই বাড়িটা একরকম গমগম করছে বলা চলে।তবে এখন একটু ফাঁকা হল।দুপুরের খাবার শেষে বাঙালি নারী, পুরুষদের একটু বিছানায় গড়াগড়ি না খেলে পেটের ভাত হজম হওয়া বোধ হয় দুষ্কর!..তবে সেটা আবার আরতির মত দশভুজা গৃহিনীর বেলায় ঠিক খাটে না। তাই আরতি উঠোনে বাসনের জল মুছতে গিয়ে আজ আবার নিজের মাধুর্যের আবেশে হারিয়ে গেল।..জানলার ফাঁক দিয়ে শোনা যাচ্ছে মার্টিনের মধুর গলার রবীন্দ্রসংগীত ।সেই গানের সুর, মুর্ছনায় আরতির মন আজ অতীতের জগতে ফিরে গেল।
সে তখন সদ্য কুঁড়িতে পা দেওয়া স্বপ্নময়ী এক যুবতি।যার দুচোখে সবে প্রেমের সদ্য ফোটা ফুলের এক পরম আবেশ একাকার হয়ে মিশে আছে।সেটার স্থায়িত্ব খুব বেশি দিন তবে ছিল না। বড় জোর এক মাসের মত।সাদা ধবধবে পা-জামা,পাঞ্জাবী পরা সৌগতদা।শিল্পী মানুষ ছিলেন।স্কুল হোক বা পাড়ার সবকটা সাংস্কৃতিক মঞ্চে সৌগতকে দেখতে পাওয়া যেত।কখনও কবিতার খাতা হাতে,কখনও হারমনিয়াম হাতে কখনও বা রবীন্দ্রসংগীত গাইত।একবার উদ্যোগ নিয়ে শুরু করল।গান শেখানোর ক্লাস।রবীন্দ্রসংগীত আর নজরুলগীতি দিয়ে শুরু করলো।আরতির স্পষ্ট মনে পড়ছে।প্রথমদিনেই সে ভর্তি হয়ে গেছিল।গানের টানে না। ওই সৌগতদার টানে।..কী সুন্দর সময়টা বৃষ্টির রাতের মত পার হয়ে যেত।..কী অদ্ভুত একটা উচ্ছ্ল রঙ তার প্রতিটা দিনকে রঙিন করে দিয়েছিল।ওই সৌগতদা নামের পুরুষটি।..একমাস পরেই সেই দীপ্তমান সাতরঙা সুর্য্যটা হঠাৎ করে হারিয়ে গেল।দিন…সপ্তাহ…মাস পেরিয়ে বছর পার হয়ে গেল আরতির স্বপ্ন পুরুষ টি আর ফিরে এল না।.. পরে শুনেছিল বোম্বে চলে গেছে।সিরিয়ালে চান্স পয়েছে।তারপর বিয়ে,সন্তান হল।আরতির জীবন থেকেও সেই স্মৃতি, দৈনন্দিন জীবনচর্চায় চাপা পড়ে গেছে।
.আজ সেই ফেলে আসা অতীত যেন আরতিকে আলিঙ্গন করার জন্য দুহাত প্রসারিত করে ডাকছে।..তাইতো আরতি বাসন ছেড়ে কখন কালিলাগা কড়াইটা মাজতে বসেছে সে নিজেই জানেনা।শাশুড়ির পান,সুপারির বায়না জেগেছে।তাই অতি অতি ডাক পাড়তে শুরু করেছেন।তখনি আরতির অতীতের ঘোর কাটল।নিজের অবস্থা দেখে নিজেই মাথা ঠুকছে।আজকাল একি হচ্ছে তার সাথে?.. হাতে,পায়ে এমনকি নতুন শাড়িতেও কালির দাগ পড়েছে।ছিঃ..ছিঃ।আরতি তাড়াতাডি করে কাপড়ের কালিটা ঢাকানোর জন্য একটা গামছা জড়িয়ে নিয়ে পান,সুপুরির ডিবেটা রান্না ঘর থেকে এনে শাশুড়ির হাতে ধরিয়ে দিল।শাশুড়ি একখানা আদুরে হাসি ছড়িয়ে বলে উঠলেন
—-এখনও বাসন মাজা শেষ হয়নি বুঝি?
—ওই একটু হাঁড়ি.কড়াগুলো হাত বুলিয়ে রাখছি।
—-খেয়াল করে একটু আলাদা রেখো যেন।কাল তো আবার লক্ষ্মীবার।আমিষের ছোঁয়া যেন না লাগে আমার হাঁড়িতে।..এবার যাও বাকি কাজটুকু শেষ করে আজ একটু মাথাটায় তেল ঘষে দেবে কেমন?
আরতি প্রথমে শাড়িটা পাল্টে ফেলল।তাড়াতাড়ি আসতে গিয়ে হঠাৎ আঙনের দিকে তাকাতেই চোখ আটকে গেল ।এ যেন তার সেই অতীতের সৌগতদা নতুন চেহারায় উপস্থিত হয়েছে!..সেই চলন…সেই পোশাক…সেই আকাশের দিকে চাওয়ার ভঙ্গি!!..মার্টিন টবের ফুল গাছগুলোকে আদর করছে। ফুলগুলোর পাপড়িগুলোকে হাত বুলিয়ে পরিস্কার করছে।…যেন এক একটা তার সন্তানের মত।…আরতি সেই দেখে আবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।..মার্টিন তার কাছে এসে আস্তে করে কাটা কাটা বাংলায় বলল
—এ ফুলের চারাগুলো আপনি দেখাশুনো করেন?
আরতি মার্টিনের কথায় সম্বিত ফিরে পেল।
—-ওই একটু শখ আর কী?…আপনার ভাল লেগেছে?
—-আপনাদের মত নারী বঙ্গ সমাজে আছে এবং ছিল।..তাই বঙ্গ সাহিত্য, এত উপরে স্থান পেয়েছে।…আপনারাই তো সাহিত্যের একমাত্র প্রেরণা।
আরতি একটু লজ্জা পেল।তাই যেতে যেতে মার্টিনের উদ্দেশ্যে বলল
—-আপনি রুমে গিয়ে বসুন আমি চা করে আনছি।
আরতির চোখে চঞ্চলতা,মুখে একটা অদ্ভুত ধরনের রঙ ফুটে উঠল।এ কোন বেহায়া রোগ তাকে ধরল?সে যে মরমে মরে যেতে বসেছে?…স্বামী, পুত্রের ভরা সংসারে একোন কাল বৈশাখির ইঙ্গিত সে দেখছে?…এ কোন ভ্রম সে সযত্নে সবার অন্তরালে বুকের মাঝে লালন করে বেড়াচ্ছে?…এতদিনে কী তাহলে তার মনে প্রেমের মারণ রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করল?

আরতি তার উত্তরটা খুঁজে পাওয়ার আগেই মধু তার মা,বাবার সাথে এ বাড়িতে প্রবেশ করল।সুর্য্য তখন শেষ আলোটা সরিয়ে একটা নীলাভ ছায়া চারিপাশে মেলে ধরেছে।..তাতে তো আরতির খুশি হওয়া দরকার। তবু কিন্তু হল না। কারণটা সে নিজেও জানে না।.. তবে এটা ঠিক একটা অমোঘ আকর্ষণ তার মধ্যে জেগে উঠেছে।..ওই উদাস চাউনি আর শুভ্র পোশাক পরিহিত ওই মার্টিনের প্রতি।আরতির চোখ বার বার ওই চেহারাটাকে খুঁজে বেড়ায়।আরতির কাজ অনেকটা কমে গেল।তার বাবা চিরকালের আমোদি মানুষ।এসেই বেয়াইমশায়কে নিয়ে বাইরে বেড়াতে গেলেন।দুজনের মধ্যে খুব ভালো টান তৈরি হয়ে গেছে। পলাশকে প্রায় তিন বছর দেখেননি। তাই সপরিবারে চলে এসেছেন পলাশকে দেখতে।তারসাথে মেয়েটাকেও এক নজর দেখে নেওয়া হবে।সেই আশাতেই দৌড়ে এসেছেন।মধু ঠিক যেন তার বাবার প্রতিলিপি।দুদন্ড সেও চুপচাপ বসে থাকার মেয়ে নয়।রান্নাঘরে আরতিকে সাহায্য করে সেও পাশের বাড়ির লিনার সঙ্গে ফুচকা খেতে বেরিয়ে গেল।পলাশ ল্যাপটপ নিয়ে ঘাঁটছে।ওদিকে মার্টিন ঘরের জানলার কাছে মৃদু কন্ঠে গাইছে রবীন্দ্রসংগীত
—আমি চিনি গো..চিনি গো..চিনি …..তোমা বিদেশিনী…
সেই সুর উত্তাল হাওয়ার মত আরতির হৃদয়টাকে তাল গোল পাঁকিয়ে ফেলছে।..মানুষের ঘুম আসতে চাইলে যখন তাকে জোর করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সেই রকম অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হল আরতির ভিতর।সংসারে পা রেখে এ কোন মোহটান তার হাতধরে টানছে!

…আরতি যন্ত্রের মত বাকি কাজগুলো গুটিয়ে নিল।সবার সব কটা প্রশ্নের উত্তর সে সঠিকভাবে দিয়ে গেল।কিন্তু এখন তার একটাও মনে নেয়।বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই রোগটার নাম কী..আরতি জানে না। মনটা এখন ব্যাকুল শুধু এই ভেবে যে কাল সারাদিন সে মার্টিন কে চোখের দেখা দেখতেও পাবে না। পলাশের সাথে শান্তিনিকেতন আর বোলপুর যাবে ঘুরতে।সাথে মধুও যাবে বলেছে।শুধু এইটুকুই কথা তার মনে এল।মধুর কথা ভেবে মনটা একটু হিংসার আগুন জ্বলে উঠল।মধু তো তার নিজের বোন।তাছাড়া ওর অপরাধটাই বা কী?…আরতি কারণ বিশ্লেষণ করতে বসল না। তবে মধু সাথে না গেলে আরতির মনটা এত পুড়ত না।…তাহলে কী মার্টিনের জন্য এমন হচ্ছে তার?..সে কৈফিয়ত আরতি নিজের মস্তিস্ককেও দিতে রাজি না।.. তার স্বামী একটা হাত তার খোলা শরীরে রেখেই ঘুমোবার চেষ্টা করছে।আরতির সেই স্পর্শটা স্নায়ুপথে এখন মাথা অব্দি কিছুতেই যেতে পারছে না।.. কয়েকটা প্রহর এমনিভাবে কেটে গেল।তারপর কখন মস্তিস্ক অবসন্ন হয়ে তার চোখে ঘুম ছড়িয়ে চলে গেছে সে জানেই না।

অনেক চেঁচামেচিতে আরতির প্রগাঢ় ঘুমটা ভেঙে গেল। উঠেই তার মনে হল এ জায়গাটার নাম কী?..কী করে সে এল?..জানলা দিয়ে সুর্য্যের মিহি আলো তার চোখে রামধনু আঁকছে।..ভাল করে তাকাতেই সে বুঝতে পারল জায়গাটা তার অচেনা নয়।এটা তারই ঘর।আজ প্রথম এত দেরি করে ঘুম থেকে উঠল বলেই এমন অচেনা ঠেকছে।সে এতকাল ঘুম ভাঙার সময় ঘরটার এত পরিস্কার রঙ দেখেনি। আজ তাই চোখে ধাঁধা লেগে গেল। উঠেই কিন্তু আজ তার পেপার আর রান্না ঘরের কথা মাথায় এল না।এমন কী শ্বশুরের চা,শাশুড়ির জর্দা সব ভুলে শুধু একটা শুন্যতা তার হৃদয়টাকে পঙ্গু করে দিতে লাগল।সেই সুবাসটা আজ আর পেল না। তারমানে মার্টিন আর পলাশ ভোরেই গাড়ি করে চলে গেছে।
..তা বলে সে কেন ভাবছে?.এইবার আরতি এই ঘরের বউ রূপে জেগে উঠল।সারা সংসারটা বাজের মত তার মাথায় যেন ভেঙে পড়ল।এতক্ষন ধরে তাহলে কী সে সবার অলক্ষ্যে কোন রোমান্টিক সিনেমা দেখছিল?
বাইরে বেরিয়ে এসে দেখল সেই পেপারের ছেলেটার সাথে মধু গল্প জুড়েছে।মধু তাহলে সাথে যায়নি?…কিন্তু কেন?আজকে আরতির আর ওই ছেলেটার নজর দেখে কিছু মনে হল না। কারণটা ভাবতে বসা এখন তার ঘোর বিলাসিতা।অবশ্য আজ তাকে এই ব্যবহারের জন্য কেউ একটা কথাও শোনাল না। শুধু মাত্র সংসারের হিসেব না জানা তার চার বছরের সুবোধ বালকটি জোর গলায় বলে উঠল
—মা আজ যে তুমি আমায় পটি করালে না। তোমার সাথে আড়ি, আড়ি।
আরতির মনটা মোচড় দিয়ে উঠল।মনে হল সে তার সন্তানকে কত দিন যেন দেখেনি।অথচ রাতেই সত্যর সারা শরীরে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়েছিল।সে কথা তার মনেই পডল না। তাই এতক্ষণে আরতি সবটুকু মমতা নিঙড়ে সত্যর অভিমান কঠোর মনটাকে নরম করার জন্য লেগে পড়ল।তারপর রান্না ঘরে পা রাখল।শাশুড়ি আজ নিজে হাতে সকালের সব কাজ একা সেরেছেন।অথচ মুখে ক্লেশের একটা রেখাও ফুটে উঠেনি।সব তার বাবার জন্য। অথবা নাও হতে পারে।এই কবছরে তার শাশুড়ি তাকে তো কোন মন্দ কথা শোনান নি।শুধু আদেশ করেন।সেটা কী এক ধরণের গালাগাল?
..আরতি রাতের ছাঁই কটা বের করতে বসল।এ বাড়িতে একটা কাঠ উনুন এখনও আছে।শাশুড়ির নিরামিষ রান্না মাঝে মাঝে ওখানেই করা হয়।গতকাল রাতে হয়েছিল।আরতি এখান থেকে মধু আর পেপারের ছেলেটার কথাগুলো পরিস্কার শুনতে পাচ্ছে।এটা মধুর গলা
—-পেপারটা নিতে গিয়ে তোর সঙ্গে দেখা হল বলেই আর ওই ভবঘুরে বাবুটির সাথে গেলাম না।… ওনার কান্ড দেখে তো এতক্ষণ আমি লাল মাটিতে গড়াগড়ি খেতাম।পলাশদার সঙ্গে ওনার যে কীভাবে বন্ধুত্ব হল সেটাই ভেবে পাই না।.. কেউ চা খেতে গিয়ে কাপ উল্টে ওর নকশা দেখে!!…গরম চায়ে ভিজে সকালেই বাবুটির চান সারা হয়ে গেল।
আরতির কথাটা শুনে বুকটা একটু টন টন করে উঠল। একটু সকালে উঠলে তার ওই বিপত্তিটা ঘটত না। মধুর আওয়াজ আবার এল
——হ্যাঁ রে দুলাল এখন তুই ওভাবে কাবাডি খেলতে পারিস।ক্লাস ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত আমরা একসাথে পড়েছিলাম।প্রতিবার তোর জন্য আমাদের দলটাই জিতত।..বুকটায় কত হাওয়া ভরে রাখতিস বল।আমি তো অবাক হয়ে যেতাম।…মাধ্যমিকটা দিয়ে পড়া ছেড়ে কেন দিলি?
—–মামারা সব আলাদা হয়ে গেল। কেউ আর একা ভাগ্নের দায়িত্ব নিতে চাইল না।.. আর তাছাড়া আমারও পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে গেছিল।..ঘরে মা আর বোন।এ বাড়ি, ও বাড়ি, কাজ করতে যেত।ভাল লাগত না। তাই রোজগার করতে নেমে পড়লাম।
—-হ্যাঁ রে বিয়ে করেছিস?
—-একবছর হল করেছি।একদিন আয় আমার বাড়িতে সবার সাথে পরিচয় করে নিবি।
—-এবারে সময় না পেলে পরে যাব।
—-আমি তোর দিদির দিকে রোজ চাইতাম।মুখের মিল তো অনেকটা আছেই।তাছাড়া তোর মত বৌদিরও কিন্তু ভুরুর উপরে ওই কাল মত দাগটা আছে।… তবু এতদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।এই তো সেদিন ভাবলাম জিজ্ঞেস করি।..ততদিনে তুই নিজেই চলে এলি।
—-যাক ভালই হল।তোর সঙ্গে এতদিন পর দেখা হয়ে।অনেক গল্প করা হল।আর তোর কাজের ক্ষতিও হল।
—সবকটাই বাঁধা খদ্দের।একদিন দেরী হলে কেউ কিচ্ছু বলবেন না।.. আমারও খুব ভালো লাগল।তুই কত পাল্টে গেছিস।কত পড়াশুনো করেছিস।তবু আমাকে ভুলিসনি!….সত্যি তোর মত বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে খুব ভাল লাগল।..আজ তাহলে উঠি?
আরতি ব্যাপার টা এতদিনে বুঝতে পারল।আসলে তার মুখের দিকে তাকিয়ে সে রোজ সকালে তার প্রিয় বন্ধুর মুখটাই খুঁজে বেড়াত।আর সে কত না ছেলেটাকে মনে মনে গালমন্দ দিয়েছে।এবার থেকে ছেলেটার সঙ্গে একটু করে কথা বলা দরকার।

গত দুদিন ধরে আরতি নিজের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করেছে।গতকাল তার মা,বাবা ফিরে গেছে।মধু মার্টিনকে অনেকবার বোকা বানিয়েছে।বেচারা মধুর চালবাজিটা একটুও ধরতে পারে নি। আরতি আড়াল থেকে সব দেখেছে।না পেরে মধুকে কবারই বকাঝকা করেছে।দিদির মুখে বকা খেয়ে অবাকভাবে তার দিকে অনেকবার চেয়েছে।আরতি ধরা পড়ার ভয়ে দাঁড়াতে পারেনি।চোখ ঘুরিয়ে পালিয়েছে।…কীসের ভয়?…কীসের অপরাধবোধ? সেটাই আরতি খুঁজে পায়নি।তার মন সবসময় একটা চোর চোর ভাব নিয়ে তার সাথে সবসময় লুকোচুরি খেলছে।…এটা যদি প্রেম হয়?…তাহলে স্বামীর কথা চিন্তা করে মনটা কাঁদে কেন?…ভাবনা,যুক্তি আর কল্পনার দোলাচলে সে সারাটা সময় বিভোর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।এই কদিন কাজেও কিছু ব্যাঘাত ঘটেছে।সবথেকে বড় ব্যাঘাতটা ঘটেছে তার নিজের।শরীরের।গা টা কখনো গরম হয়ে ওঠে।ঠিক যেন জ্বর এসেছে।আবার কিছু সময় পরে গা ঠান্ডা হয়ে গেছে।রাতে নৃপেন  আরতির গায়ে পুরনো অভ্যেস মত হাতটা রেখেই চমকে উঠে বলল
—একি তোমার তো ভীষণ জ্বর!…সারাদিনে একবারও বলোনি তো?
আরতি কী জবাব দেবে খুঁজে পেল না। তবু মিন মিন করে বলল
—কই না তো আমার শরীর তো ঠিক আছে।
কথাটা শুনে নৃপেন আরতির দিকে এক মুহূর্ত চাইল।
আরতি চোখ লুকিয়ে শুয়ে পড়েছিল।

আজ সকাল পর্যন্ত আরতি সংসারের ছন্দমত সব ঠিকঠাক করছিল।..বিপত্তিটা ঘটল মার্টিনের পাঞ্জাবিটা সাবনজলে ডুবোতে গিয়ে।ডান পকেটে কয়েকটা বাসি বেল ফুল পড়ে রয়েছে।..ঘ্রানটা নিতেই সে হারিয়ে গেল মার্টিনের হাত ধরে লাল পলাশের বনে।..এমন সময় সত্য মায়ের কাপড়টা টেনে বলা শুরু করল —-মা তুমি দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছ কেন?..তুমি কী ঘোড়া?..বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করতে বলল?
কথাটা শুনে আরতি ঝগড়ারত টিকটিকির মত ধপ করে বাস্তবের কঠিন মাটিতে আছাড় খেল।..শরীরের সমস্ত স্নায়ুগুলো এলেমেলো যুদ্ধ করতে করতে তার ভাবনা,চিন্তাগুলোকে কাহিল করে দিল।..তার ফল স্বরূপ শরীরটা পুনরায় গরম হয়ে পড়ল।এইবার সত্যি সত্যিই আরতির ভেতর জগতেও একটা আলোড়ন খেলে গেল।শুরু হল মাথা যন্ত্রণা,বমি বমি ভাব আর হাতে,পায়ে ব্যথা।সোজা কাউকে কিছু না বলে বিছানায় শুয়ে পড়ল।নৃপেন ঠিক লক্ষ্য রেখেছে।তাই পিছু পিছু এসে জিজ্ঞাসা করল —জ্বর টা বাড়ল নাকি?
গায়ে হাত দিয়ে কিছু না বলে চট করে বেরিয়ে পড়ল।
আরতি জ্বরের ঘোরে দিশেহারা হয়ে পড়ল।..কিছুক্ষণ পর একজন এল।তাকে দুহাতের পাঁজে তুলে ধরল।..একটা ডিঙি ডাকল।তাকে ডিঙিতে চাপিয়ে ঠেলা দিল।সে ভাসছে।..আকাশে ।ডিঙির নিচে পেঁজা মেঘ সরে সরে যাচ্ছে। কে যেন ডিঙির দুদিকে মাধবিলতা জড়িয়ে তাকে শূন্যে ঠেলা দিল। সে দুলছে।সে রামধনু ছুঁয়ে ছুঁয়ে আকাশের তারা জ্বলা দেখছে।..বুকভরে একটা ঘ্রাণ নিল।..এই ঘ্রাণটা তার বড় চেনা লাগছে।সৌগতদার না মার্টিনের ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।..এমন সময় একটা ঠান্ডা হাত তার কপাল ঠেকল।এই স্পর্শটাও তার চেনা।সেই চেনা হাতটা ধরেই আরতি ধীরে, ধীরে তার বিছানায় ফিরে এল।আরতির দুচোখে অশ্রু বইছে।তার দুচোখ আটকে আছে নৃপেনের চোখের তারায়।..এই চেনা,নির্মল সত্য ছেড়ে সে কোন খুশির নন্দন কাননে হারিয়ে গেছিল?..এই ভরসার পরম সোহাগটুকু ভুলে সে কোন মাতাল গন্ধে মত্তা হয়ে আকাশ কুসুমের বনে বনে দৌড়ে ফিরছিল?..আরতি শক্ত করে নৃপেনের হাতটা ধরল।নৃপেন অন্য হাত দিয়ে আরতির অশ্রু ধারাটা মুছে বলে উঠল —-পলাশ আর মার্টিন এসেছিল।তোমার পা ছুঁয়ে গেছে।চোখদুটো একটু খুলে চাইতে পারতে।বিদায় বেলায় ওদেরও ভাল লাগত।..ডাক্তার এসে কয়েকটা প্যরাসিটামল দিয়ে গেছেন।আবহাওয়ার হের-ফেরের জন্য বলল জ্বরটা এসেছে।..খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে।
আরতি নৃপেনকে অবাক করে দিয়ে তার গলাটা জড়িয়ে ধরে বলে উঠল —ট্যাবলেটগুলো তুমি  ফেরৎ দিয়ে এস। আমার প্যারাসিটামল তুমি।
নৃপেন আরতিকে জড়িয়ে ধরতেই আবার একবার চমকে উঠল —তোমার গা তো ঠান্ডা জলের মত!..তবে যে ডাক্তার বললেন।সারতে দুদিন লাগবে?
আরতির উত্তরটা শোনার আগেই পিছন থেকে সত্য জোর গলায় বলে উঠল —এখন রাত নয়।বাইরে রোদ উঠেছে।দাদু তোমাদের বলতে বললেন।
এরপর আরতি আর নৃপেন দুজনেই একসাথে নিজেদের জিভ কেটে কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করে ফেলল।

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ