18 Mar

বসন্ত.com

লিখেছেন:অনিলেশ গোস্বামী


 যেদিন ‘গুগল’ সার্চ করতে করতে বসন্তকালেই যেন আক্ষরিক অর্থে ডুবে গেলাম। অজস্র মণিমুক্তোর ভেতর  থেকে তুলে আনলাম টমাস হার্ডির কয়েকটি লাইন। “New cares may claim me / New lovers inflame me / She will not blame me / But suffer it so.” মন একটু উদাস হল কি? নতুন কোনো সম্ভাবনা নেই। জানি কোনো কোনো বিরল মুহূর্তে দ্বিতীয় বসন্তের আবির্ভাবেও ‘New loves inflame me’ অনুচ্চারিত থাকবে। তবু সেদিন বসন্ত রাতে নক্ষত্রের রূপালী আলোয় ভরা আকাশের নীচে অতীতে অবগাহন করতে ভালো লাগলো আর অবচেতনে  কোনো ভেজা স্বপ্নে ছুঁয়ে গেলাম এক মধুর স্মৃতিকে। কোনো ফুল ফোটার কল্পনায় বিশেষ একজনের কথা মনে পড়ে গেলো। সেই শব্দিত স্মৃতির সরণী ধরে আমার প্রেমিক মন লঘুপক্ষ গাংচিলের মতো নীল হাওয়ার সমুদ্রে ভাসতে লাগলো।

মনে পড়ে গেলো অনেকবছর আগে কোনো একদিন বোলপুর ষ্টেশনে বিকেলের দিকে পৌঁছেছিলাম। হঠাৎ তার সঙ্গে দেখা। অপ্রত্যাশিত। তারপর দুজনেই একসাথে হাঁটতে লাগলাম । ভুবনডাঙা পেরিয়ে কখন যে চলে এলাম রতনপল্লী খেয়াল করিনি। কালোর দোকানে বসে গল্প করতে করতে সময় কাটলো। তারপর চলে এলাম শ্যামবাটির দিকে। কথা যেন ফুরোতেই চায়না। একসময় সন্ধ্যা নামলো। ঝিঁ ঝিঁ’র ডাক, দুপাশে জোনাকীর আলো দেখতে দেখতে যে যার গন্তব্যে চলে গেলাম।

এই প্রবীন বয়সেও স্মৃতির অবগুন্ঠন সরিয়ে হৃদয় খুঁড়ে উঁকি মারলো হারিয়ে যাওয়া অতীত। কিছুদিন আগে তার এক বান্ধবীর কাছে শুনেছিলাম সে নাকি আজকাল ‘ফেসবুক’ দেখে সময় কাটায়। তাই কোনো এক তীব্র আশায় বাড়িতে আমার নিজের ঘরে কমপিউটার খুলে ফেসবুক সার্ফ করতে লাগলাম। ভাগ্যটা ভালো ছিলো! একটু পরেই একটি বিশেষ নামে চোখটা আটকে গেলো। তার ‘প্রোফাইল’ ডাউনলোড করতেই চমকে উঠলাম। সময়ের পলি সরাতেই চেনা মুখটি সামনে চলে এলো। এই তো সে। মন বলে উঠলো “দূয়ার বাহিরে, যেমনি চাহিবে, মনে হলো যেন চিনি। কবে নিরূপমা, ওগো প্রিয়তমা, ছিলে লীলাসঙ্গিনী”।

ফ্রেন্ডস রিকোয়েস্টের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বেশি অপেক্ষা করতে হলোনা। এরপর ঘনঘন “চ্যাট” শুরু। রাতের দিকে সবার চোখের আড়ালে। প্রায় প্রতিদিন। একদিন ও আমার মোবাইলে একটা মেসেজ পাঠালো। মাত্র দুটি লাইন, একটু আবেগাপ্লুত। আবার সেই ‘ডাউন মেমরি লেন’। কতদিনের কত কথাই না ভিড় করে আসতে লাগলো। মন চাইলো ওকে কিছু লিখতে। না ‘মোবাইলে’ কোনো মেসেজ নয়। সেখানে তো ক্যারেকটার সীমাবদ্ধ। এইসব ভাবতে ভাবতে একটা সাদা কাগজে অনেক কিছু লিখে ফেললাম। শেষ কয়টা লাইন ছিলো – “জীবনে অনেক সময় কিছু অতীত অনুভূতির নতুন করে জন্ম হয় যা নিঃশব্দে ফুল ফোটার মতো। তার গন্ধে ভরে ওঠে মন। সময়ের ব্যবধান তুচ্ছ করে সেই মন আবিষ্কার করে পাতার আড়ালে বসে থাকা কোনো রঙ্গীন পাখি, সময়ের শ্যাওলার নীচে ঘ্রাণ পায় জলজ প্রাণের। অবুঝমন শুনতে পায় গোধূলিবেলায় কোনো পাখির বিরতিহীন ডাক। বুঝতে পারি আমরা আবার নতুন করে ভালবাসলাম।

আমার মনের কথা তাকে জানাতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। ইতিমধ্যে আমরা পরস্পরের ই-মেল আইডি জেনেছি। বাংলা সফটওয়ার “অভ্র” কিছুদিন আগে লাগিয়েছি। তাই আমার কমপিউটারে বসে পড়লাম সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে…

আমার উনিশ ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিনে মায়াবী নীল আলো ‘উইন্ডোজ’ লোড করেই লিখলো – ‘ওয়েলকাম”।

Tags: , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ