16 Jul

আত্মজা

লিখেছেন:সিদ্ধার্থ সান্যাল


এ গল্পের সময়কাল গত শতাব্দীর চতুর্থ দশকের মধ্যভাগে ! কিন্তু গল্প কেন বলছি এ তো সত্য ঘটনা…..আমার মায়ের মুখ থেকে শোনা ! আর মা ছিল অবিশ্বাস্য এই ঘটনার কুশীলব তিনজনের মধ্যে একজন….তাই বিশেষ জল্পনা কল্পনারও অবকাশ নেই ! রহস্যময় তথা ব্যাখ্যার অতীত এই কাহিনীর উৎপত্তি  পরাধীন ভারতের বিহারপ্রদেশের হাজারীবাগ জেলার ঝুমরী তিলাইয়াতে…..যা এখন ঝাড়খন্ড প্রদেশের কোডার্মা জেলার অন্তর্গত ! এই সেই ঝুমরী তিলাইয়া……রেডিও সিলোন আর বিবিধ ভারতীর কল্যাণে যে নাম এককালে ভারতের প্রায় প্রতিটি রেডিও-অধ্যুষিত পরিবারে বহু-আলোচিত ছিল ! সেসময় অনেকেই  মনে করতো এ বোধহয় সাংগ্রিলা বা এল ডোরাডো-র মতো কোনো কল্পকাহিনীর শহর……গানের অনুরোধ-করা মানুষগুলো এই নামের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে !

এই ঝুমরী তিলাইয়া হচ্ছে আমার মামার বাড়ীর শহর ও বিশেষ করে আমার জন্মস্থানও বটে ! যদিও শুনেছি জন্মের একমাসের মধ্যেই মোটরপথে আমাকে আমাদের পৈতৃক বাড়ী কলকাতার উপকণ্ঠে শ্রীরামপুরে নিয়ে আসা হয় ! আমার মাতামহ সেই উনিশশো সালের প্রথমভাগ থেকে মাইকা খনি অধ্যুষিত জঙ্গল পাহাড় ঘেরা এই ছোট্ট পরিচ্ছন্ন শহরে বাস করতে শুরু করেন ! আমার সেই দাদু, স্বর্গত মাখনলাল মজুমদার, যিনি এই সত্যকাহিনীতে  এক প্রধান চরিত্র, প্রায় সবদিক থেকেই এক বর্ণময় মানুষ ছিলেন !  অধুনা বাংলাদেশের  বরেন্দ্রভূমি পাবনা জেলার নীতিনিষ্ঠ এই ব্রাহ্মণ রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজীর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন ! এমনকি সেই প্রথমদিকের শান্তিনিকেতনে তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে পড়তেও  পাঠিয়েছিলেন ! মিতবাক, ধীর স্থির প্রায় নির্মোহ মানুষটিকে দেখেছি স্নানের সময়ে কাঁধ থেকে মোটা পৈতের গোছ নামিয়ে সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে…..সেসময়টাতে মুখে কোনো কথা নেই….জিজ্ঞাসার কোনো উত্তর নেই ! কারণ পৈতেহীন ব্রাহ্মনের নাকি কথা বলা উচিত নয় !

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারিতে দাদুর প্রভূত নামযশজনিত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও দাদুকে কোনোদিন গরীব দেহাতী চিকিৎসাপ্রার্থীকে অবহেলা করতে দেখিনি ! সেকালের ‘ভারতবর্ষ’ ও ‘প্ৰবাসী’র নিয়মিত পাঠক এই মানুষটির একটি বিষয়ে যারপরনাই আসক্তি ছিল যেটা আমি অনেক পরে আমার তরুণ বয়সে পৌঁছে জানতে পারি……সেটা হচ্ছে প্ল্যানচেট করে মৃত আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ! কিশোর বয়সে দেখেছি…..যখন দাদু আমাদের শ্রীরামপুরের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন….রাত্রে ব্যবহারের জন্য বিছানার পাশে টেবিল ল্যাম্পের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দাদুর বিছানার পাশের ছোট টেবিলে পেতলের মোমবাতির স্ট্যান্ডে মোমবাতি আর পাশে দেশলাই বাক্স  রাখা থাকতো ! সেই বয়সে এ ব্যাপারে মা-কে প্রশ্ন করে কি উত্তর পেয়েছিলাম এই ষাট বছর পরে তা আর মনে পড়ে না ! তবে প্রায় প্রতি রাতেই ওইরকম একটি মোমবাতি যে দাদুর প্ল্যানচেট করার জন্য প্রয়োজন হতো সেটা আমার মা আমাকে জানান দাদুর মৃত্যুর বেশ কিছু বছর পরে, যখন আমাদের মধ্যে মামাবাড়ির নানা বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিলো ! এ ব্যাপারে যে তাঁর  অসাধারণ মনোসংযোগের দক্ষতা ছিলো তাতে সন্দেহ নেই কারণ দাদুর  প্ল্যানচেটের কোনো সহযোগী ছিল বলে জানা যায়নি ! আর পরিবারের মধ্যেও এ নিয়ে বিশেষ আলোচনা শুনিনি !

এবার মামাবাড়ি বলতে ঝুমরী তিলাইয়ার যে পুরোনো আমলের দোতলা বাড়িটা আমার স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে, আর যেটা এই কাহিনীর ঘটনাস্থলও বটে, সেই বাড়িটির সম্পর্কে এখন কয়েকটি কথা বলা জরুরী হয়ে পড়ছে  ! বোধহয় বিশ শতকের প্রথমদিকে তৈরী আমার এই জীর্ণ মাতুলালয় বাড়িটির একতলার দুদিকটাই চাপা থাকার কারণে নীচের তলার পরপর তিনটি ঘরেই দিনের বেলাতেই আলো অন্ধকারের খেলা ! একতলার ছোট ঢাকা উঠোনের পরে ঘরের মধ্য দিয়ে পরপর তিনটে ঘর ! উঠোনের একপাশ দিয়ে দোতলায় যাওয়ার সোজা কুড়ি-বাইশ ধাপের খাড়া সিঁড়ি উঠে গেছে যার দুপাশে নিশ্ছিদ্র দেওয়াল আর দিনের বেলায়-ই সেখানে জ্বলতে থাকে একটা টিমটিমে হলদেটে আলো ! দোতলায় আবার পরপর তিনটে ঘর আর একতলার ঢাকা উঠোনের ছাদের ওপর রান্নাঘর ! রান্নাঘর থেকে রাস্তার দিকে মুখ করা দুটো দরজা দিয়ে যাওয়া যায় একটা বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে থাকা একটা খোলা বারান্দায় ! দোতলা থেকে তিনতলার ছাদে যাওয়ার জন্য একই ব্যবস্থা…..খাড়াই সোজা সিঁড়ি, সিঁড়ির শেষে দরজা, দিনের বেলায় সেই দরজার ফাঁক দিয়ে সূর্য্যের আলোতে আলোকিত থাকে সেই সিঁড়ি ! বাড়ীর তিনতলার ছাদেরও একটু বর্ণনা দেওয়া দরকার…….কারণ যে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটার কারণে এই কাহিনীর উপস্থাপনা সেটা তো ঘটেছিলো এই ছাদেই ! উঁচু সাবেকী ধরণের চওড়া পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এই ছাদের চেহারা কিন্তু খুবই সাধারণ…..কয়েকটা ছোট ফুলগাছের গামলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে, একটা ছোট্ট পরিত্যক্ত কাঠের বেঞ্চি, তুলসীর টব একটা, দু-তিনটি শাড়ীর পাড়-ছেঁড়া গিঁট দিয়ে দিয়ে বাঁধা দড়ি  কাপড় শুকোতে দেওয়ার  জন্য এদিক থেকে ওদিক ঝুলে আছে ! এবাড়ীর  চারপাশে কোনো দোতলা বাড়ী নেই, সন্ধ্যার পরে পরেই বাড়ীর সামনের কাঁকরের অপ্রশস্ত রাস্তা রামপ্রসাদ রাজগড়িয়া রোড যানবাহনহীন হয়ে পড়ে, বাড়ীর পেছনে উঁচুনিচু খোলা মাঠের পরে হাওড়া মোগলসরাই গ্রান্ড কর্ড রেললাইন, তার ওপারে আবার দিগন্তবিস্তৃত ছোটোনাগপুরের ঝোপঝাড় জঙ্গলময় প্রত্যন্ত ভূমি, সূর্য্য ডুবে যাবার পরে পুরো বাড়িটিতে ছড়িয়ে থাকা  হলদেটে আলো আর নিঃশব্দ নির্জন ছাদের  এক আলো-আঁধারি পরিবেশ, যা এককথায় যেকোনো আধিভৌতিক রহস্যঘন ঘটনা ঘটানোর জন্য একেবারে আদর্শ ! তবুও সেকালে আমার কিশোরী মা, ছোটমাসী আর তাদের সমবয়সী মাসতুতো মামাতো বোনেদের,  দিনে রাতে, সময়ে অসময়ে, নিভৃতে একান্ত আলাপের সবথেকে প্রিয় জায়গা ছিলো তিনতলার ওই ছাদ !

উনিশশো আটচল্লিশের অক্টোবর মাসের সেই শনিবারের দিনটা আমার মামার বাড়ীতে এনেছিল এক ভয়াবহ দুঃখের সময় ! সেদিন সকালে, দীর্ঘ সময় ধরে রোগভোগের পর আমার যুবক ছোটমামা বিনিময় প্রসাদ মজুমদার, আমার মায়ের গভীর ভালোবাসার ছোড়দা, বাড়ীশুদ্ধ সকলের আদরের ভিকু, সকলকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে গেছেন ! আজ সত্তর বছর পরেও আমি মজুমদার পরিবারের সেদিনের সেই মর্মন্তুদ শোকাবহ পরিস্থিতি ঠিক অনুমান করতে পারি ! পাঁচ বছরের মধ্যে এই তৃতীয়বার বাড়িতে মৃত্যুর প্রবেশ ! প্রথমে চলে গেছেন বাড়ির কর্ত্রী, আমার দিদিমা ! তার দুবছর বাদেই বাড়ির তরুণী বড়োবউ, বিয়ের একবছর বাদেই ! এর পরে আজ বাড়ির ছোটছেলেও চলে গেলো !  সেই দুর্দিনের মর্মস্পর্শী বিবরণ আমি আমার মার কাছে বিস্তৃতভাবে শুনেছি……ঘরে ঘরে আত্মীয়পরিজন, বন্ধু …..তাদের নিঃশব্দ  চলাফেরা…….ঘরের মধ্য থেকে ভেসে আসা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ……বাড়ীর ছোটদের নীচুগলায় ফিসফাস করে কথাবার্তা……সারাদিন  মানুষজনের ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া নেই…….রান্নার ব্যবস্থা করার দিকে কারুর মনই  নেই…….বিহারী রাঁধুনি ধ্যানেশ্বর কি রান্না হবে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসা করে উত্তর না পেয়ে সামনে আর আসছে না ! এ সবকিছুর মধ্যে শুধু ধীর স্থির ভাবে রয়েছেন আমার দাদু….একতলার মাঝের ঘরে একাকী, পাথরের মূর্তির মতন, দৃষ্টি সামনে প্রসারিত ! বাইরের এই জাগতিক মর্মান্তিক ঘটনা তাঁকে বিচলিত করেছে বৈকি কিন্তু তাঁর মনের মধ্যে বোধহয় এক আপাত নিশ্চিন্ততা ! কারণ তিনি তো জানেন এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে যারা চলে যায় তারা তো তাঁকে ছেড়ে যায়না ! তাদের সঙ্গে মেলবার জন্য শুধু অপেক্ষা গভীর রাত্রির নির্জনতার…..তার জন্য চাই মোমবাতির অকম্প শিখার সামনে অচঞ্চল একাগ্র চিত্ত…..নশ্বর পৃথিবীর সঙ্গে অবিনশ্বর আত্মার অপরিহার্য যোগসূত্র….তিলাইয়ার মজুমদার বাড়িতে তাই মধ্যরাতে দাদুর প্রিয় আত্মাদের অবারিত আনাগোনা…….গভীর রাতে.সারা বাড়িতে কোৱা কাপড়ের মতো যেন একটা গন্ধ ছেয়ে থাকে !

সেই দুঃসহ দিনের সূর্য ও ধীরে ধীরে ডুবে গেলো…..যাবেই তো……নিয়মমাফিক সন্ধ্যা পেরিয়ে ঝুমরী তিলাইয়াতে গভীর, নির্জন নৈঃশব্দ্য-ঘেরা রাতও  নামলো ! পরিবারের সকলের যৎকিঞ্চিৎ রাতের খাওয়া শেষ……কিন্তু নীচুস্বরে স্মৃতিচারণ তো শেষ হওয়ার নয় ! এখন রাত বারোটা বাজে…… বাড়ির তিন সমবয়সী কনিষ্ঠা সদস্যা আমার  মা, ছোটমাসী আর তাদের মামাতো বোন মুক্তিমাসী, তিন বেণী-দোলানো কিশোরী তিনতলার ছাদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বড়ো শীতলপাটিতে  আধশোয়া হয়ে প্রিয় ছোড়দার অকালমৃত্যুর কথা আলোচনা করছে ! আকাশ মেঘে ঢাকা, চাঁদের  আলোর দেখা নেই ! তিনজনের  পিঠের পিছন দিয়ে আড়াআড়ি চলে গেছে  ঝুলে থাকা কাপড় শুকানোর দড়ি ! নানারকম কথা চলছে  ওদের মধ্যে …….আমার দিদিমা-র, মা-র বড়বৌদির আর এখন ছোড়দার অকালমৃত্যু……মৃত্যুর করাল ছায়ার এই  ঘন ঘন সম্পাতে তিনজনেই আচ্ছন্ন…..শোকের তীব্রতার সঙ্গে মিশে রয়েছে সমধিক বিমূঢ়তা !

মুক্তিমাসী বোধহয় দুলে দুলে কথা বলছে আর তাই পিঠের পিছনে ঝুলে থাকা কাপড় শুকানোর দড়িটা মার চুলের বেণীতে ধাক্কা লাগাচ্ছে বারবার……..অস্বস্তি আর বিরক্তি মা-র দুই-ই হচ্ছে ! বার তিন-চার এরকম হওয়ার পর মা বলে উঠলো, ‘আঃ কি হচ্ছে কি মেজদি !’ আর প্রায় একইসঙ্গে মুক্তিমাসী বলে উঠলো,’এই ইরা, কি করছিস কি !’ দুজনের মুখের কথা একসঙ্গে শেষ হতেই সবাই নিস্তব্ধ….চুপ ! হঠাৎ কোথায় যেন একটা রাতচিল তীক্ষ্ণ চিৎকার করে ডেকে উঠলো…..একটা ঠান্ডা হাওয়ার স্রোত ছাদের ওপর দিয়ে বয়ে গেলো……তিনজনের মধ্যে কেউই আর পিছনে ঘুরে দেখবার শক্তি পেলোনা ! কিন্তু না দেখলেও পিছনের দড়িটা যে কয়েকবার দুলে থেমে গেলো সেটা তিনজনেই বুঝতে পারলো ! শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের একটা হিমস্রোত নেমে যাচ্ছে সকলের ! সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে  আমার মা কোনোরকমে কষ্ট করে কথা বার করলো মুখ থেকে, ‘মেজদি…..দড়িটা…….তুই দোলাচ্ছিলি না ?’ মুক্তিমাসীর গলা কাঁপছে,’ না রে……তুই ও না  ?’ অন্ধকারে মা-র মাথানাড়াটা দেখাই গেলোনা ! পল পল সময় বয়ে যাচ্ছে……মধ্যরাতের সেই নৈশঃব্দে কান পেতে শুনলে সেইসময় বোধহয় ওদের  বুকের ধুকপুকানিও শোনা যাবে ! যেন অনন্তকাল পরে ছোটমাসীর কাঁপাকাঁপা নীচু গলা অন্ধকারে শোনা গেলো, ‘ছোড়দি, মেজদি, নীচে চলে যাই চল !’ মা, মুক্তিমাসী দুজনেই খুব আস্তে বললো, ‘হ্যাঁ, তাই চল !’ উঠতে গিয়ে তিনজনের পা যেন ছাদের মেঝেতে পুঁতে গেছে, পায়ের পাতা যেন দশসেরী ভারী বোঝা ! পেছনদিকে না তাকিয়ে খুব ধীরে ধীরে ছাদের সিঁড়ির দরজা পর্যন্ত যেন একমাইল রাস্তা পেরিয়ে এলো তিনজনে ! তারপরে সিঁড়ির দরজা বন্ধ করে কিভাবে দুদ্দাড় করে তিনজনের  দোতলায় নেমে আসা আর নিজেদের বিছানায় শুয়ে পড়া এসব কিছুই আর মা-র সঠিকভাবে মনে ছিল না !

পরদিন বাড়ীর বড়োদের কাছে মধ্যরাতের ওই অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলাতে তিন কিশোরীর ভাগ্যে জুটেছিল বেশ জোরালো বকুনি ! কেউ বললো ‘খোলা চুলে তোদের অতো রাতে ছাদে যাওয়া খুব ভুল হয়েছে’ ; আবার অন্য একজন অবিশ্বাসী সুরে বললো,’তোদের কোথাও ভুল হয়েছিল……ঝুলে থাকা দড়ি হাওয়ায় তো দুলতেই পারে !’ ঘটনার বিবরণ নিশ্চয়ই ঘুরেফিরে আমার দাদুর কাছে তাঁর একতলার ঘরে পৌঁছেছিল কারণ দিন দুই পরে সন্ধ্যাবেলায় আমার মার ডাক পড়লো একতলায়, তার বাবার ঘরে ! দাদু বসে আছেন তাঁর  চেয়ারে, সেই ঋজু ভঙ্গী, ঘাড় সোজা, শান্তস্বরে মা-কে বললেন, ‘অত গভীর রাত্রে তোমাদের ছাদে যাওয়া অত্যন্ত অন্যায় কাজ হয়েছিল ! শুধু তাই নয় তোমরা সেখানে বসে মৃত মানুষদের নিয়ে কথা বলছিলে ! জানবে অতো রাত্রে অনেক অতৃপ্ত আত্মা নিরালম্ব বায়ুভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায়, বিশেষ করে আমাদের এই বাড়ীর চারপাশে, তাদের অনেকেরই বিনাশী ক্ষতিকারক শক্তি থাকে, তারা তোমাদের বিশেষ ক্ষতি করতে পারতো ! তাই তোমাদের মা তোমাদের তিনজনকে ভয় দেখিয়ে ছাদ থেকে নীচে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ! কাল রাতে এ কথা আমাকে জানিয়েছেন তোমাদের মা ! মুক্তিকে জানিয়ে দিও আর ভবিষ্যতে এরকম ভুল আর কখনো কোরো না ! তুমি এখন যাও !

সে রাতে, একতলা থেকে দোতলা যাওয়ার ওই বিশ-বাইশটা সিঁড়ি উঠতে এভারেস্টে ওঠার সাহস আর মনোসংযোগ দরকার হয়েছিল……..আমার মা আমাকে বলেছিলো !

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ