06 Sep

আশ্রম ছিল রবীন্দ্র আলোয় আলোকময় – মঞ্জুলা দত্ত

লিখেছেন:সাক্ষাৎকার–প্রতিভা দাস


[তিনি যখন সাত বছর বয়সে শান্তিনিকেতনে পৌঁছোলেন তখন গুরুদেব নেই। তিনি ঠিক সাতমাস আগে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তবে গোটা আশ্রম জুড়ে তিনি বিরাজমান।যেন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যেই রয়েছেন – এমনটাই অভিজ্ঞতা নৃত্যশিল্পী ও  আশ্রমিক মঞ্জুলা দত্তের। কেমন ছিল শান্তিনিকেতনের সেইসব দিন। কেমন করে অভিনয় হত ‘ডাকঘর’ নাটকের? কারা শেখাতেন রবীন্দ্রনৃত্যের নানা আঙ্গিক?  দীর্ঘ আলাপচারিতায় এসব কথাই শুনলেন নৃত্যশিল্পী প্রতিভা দাস।]

প্রতিভা দাস – আপনি নৃত্য জগতের মানুষ। আশ্রমিক হিসেবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন শান্তিনিকেতনে। জীবনের এই পথ চলায় নৃত্য বা নাচকে সঙ্গী করে নিলেন কী ভাবে ?

কলকাতায় নিজের বাড়িতে মঞ্জুলা দত্ত

মঞ্জুলা দত্ত – আমার মনে হয় আমি যবে থেকে দাঁড়াতে শিখেছি তবে থেকে বোধহয় নাচতেও শিখেছি। আসলে বাড়িতে গানের রেওয়াজ ছিল খুব। আমার ঠাকুমা, বাবা, কাকা, মা, পিসি সকলের গানের গলা ছিল দারুণ। আমি ওই সব গান শুনে নাচতাম। আমার যখন সাত বছর বয়স তখন আমার শান্তিনিকেতনে পৌঁছোনোর সৌভাগ্য হল। কিন্তু তখন গুরুদেব নেই। তিনি ঠিক সাতমাস আগে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তবে গোটা শান্তিনিকেতন জুড়ে তিনি বিরাজমান। রবি অস্তমিত, কিন্তু তার আলোয় সবকিছু আলোকময়। আশ্রমে যারা ছিলেন তারা বললেন রবীঠাকুর এটা ভালবাসতেন, এটা এইভাবে করতে চাইতেন, নাচটাকে তিনি এইরকম ভাবে ভাবতেন। তখন গুরুদেব না থাকলেও তাঁর সম্পূর্ণ প্রভাব আমি অনুভব করলাম। তা আমার নাচের মধ্যেও পড়ল। তার শারীরিক অনুপস্থিতি কোনও প্রভাব ফেলতে পারল না। আমার মনে হল আমি যেন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যেই রয়েছি।

প্রতিভা দাস – শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে অনেকেই নাচ শেখেন। কিন্তু আপনি নাচকে জীবনের অঙ্গ করে নিয়েছিলেন। নৃত্যকে ভালবেসে ফেললেন কীভাবে ?

মঞ্জুলা দত্ত – ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল গান করার, নাচ করার। ভাবতাম যদি সর্বক্ষণ এসব নিয়েই থাকতে পারি কেমন হয় ? শান্তিনিকেতনে এসে দেখলাম এ যেন আমার জন্যে স্বর্গের দ্বার খুলে দিয়েছে। এখানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এত স্নেহপ্রবণ ছিলেন ও আমাদের সকলকে এত ভালবাসতেন যে তা অন্যত্র দুর্লভ ছিল। শান্তিনিকেতনে আমি ভর্তি হয়েছিলাম পাঠভবনে। তখন ক্লাস ফোর বোধহয়। তবে সঙ্গীত ভবনের ছাত্রী আমি কোনওদিনই ছিলাম না। কিন্তু ওই যে বললাম, সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকারা এমনই ছিলেন যে তারা কারোর মধ্যে কোনওরকম সম্ভাবনা, আগ্রহ লক্ষ্য করলেই তাকে সুযোগ করে দিতেন। মাত্র সাত বছর বয়সে সেখানে গিয়ে আমি সব অনুষ্ঠানে যোগ্য ভূমিকাতেই অংশ নিয়েছি। তা নাটক হোক বা নাচ। যেমন নাটক বলতে মনে পড়ে গেল ‘ডাকঘর’-এর কথা। কোন ছোটবেলায় তাতে ‘সুধা’ চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমাদের গাছকোমর দিয়ে শাড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিমা দেবী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্রবধূ,রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী)। তাঁকে আমরা বলতাম বৌঠান। ‘উদয়ন’-এর বারান্দায় সে অভিনয় হয়েছিল। অমলের মৃত্যুর এত ভাল অভিনয় হয়েছিল যে মহড়া দেওয়ার সময় আমি রোজ কেঁদে ফেলতাম। যখন আমি ফুল নিয়ে এসেছি অর্থাৎ সুধা ফুল নিয়ে এসেছে আর অমল ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন সে বলছে – তুমি বোলো অমলকে যে সুধা তাকে ভোলে নি – এই কথাটুকু বলতে গিয়ে আমি নিজেই যেন কেঁদে ফেলতাম।

প্রতিভা দাস – এই সময়ে বসে খুব জানতে ইচ্ছে করছে যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ডাকঘর’ নাটকের মঞ্চসজ্জা কেমন করে ভেবেছিলেন ?

কন্যা ও পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ। ছবি সৌজন্য- উইকিপিডিয়া

মঞ্জুলা দত্ত – সে ছিল এক দারুণ ব্যাপার। সে ছবি এখনও দেখতে পাওয়া যায়। ঘরের চাল নেমে এসেছে স্টেজের সামনের দিকে আর জানলা ছিল পেছনের দিকে। অমল কখনও কখনও জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামনের জায়গাটুকুই পথ হয়ে যেত। সেখানে ছেলেপুলের দল খেলা করছে। অমল তো তা পারে না, কারণ তার যে অসুখ। কবিরাজের কথা শুনে তাকে ঘরেই থাকতে হয়। এই নাটকের সাজ-পোশাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা মেনেই হত। আর তা রূপায়ণ করতেন প্রতিমা দেবী। তখন আমার আট বছর। আমি তখনও আকারে ছোট। মনে আছে একটা লাল তাঁতের শাড়িকে ভাঁজ করে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে অনেক কসরত করে বৌঠান আমায় শাড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন। একটা মল পরতে হত। কারণ অমল আমায় জিজ্ঞাসা করত – কে তুমি মল ঝমঝম করতে করতে চলেছো, একটু দাঁড়াও না। সত্যি বলতে কী ওই মলটা পরতে আমার খুব ভাল লাগত।

প্রতিভা দাস – আপনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পান নি। কিন্তু অনেকটা কাছের করে পেয়েছিলেন প্রতিমা দেবীকে। এই সময়টা কেমন ছিল ?

মঞ্জুলা দত্ত – আমরা বলতাম বৌঠান। আমাদের কাছে অত্যন্ত আন্তরিক একজন মানুষ। কত আবদার করেছি, কত স্নেহ পেয়েছি। তিনি আমাদের ওঠা, বসা, পা-ফেলা নানা অনুশীলনীর মাধ্যমে চমৎকার ভাবে শিখিয়ে দিতেন। সে অনুভূতি, সেই প্রাপ্তি ভোলার নয়। তিনি খুব বড় মাপের মানুষ ছিলেন, প্রয়োজনে একটু আধটু শাসনও করতেন। এটা করা ভাল নয়, এইভাবে বসো না। কিন্তু ওইটুকুই, এরপরই তিনি মাটির মানুষ। সকলকে কাছে টেনে নিতেন।

প্রতিভা দাস – শিক্ষক হিসেবে আপনি শান্তিনিকেতনে কাদের কাদের পেয়েছেন ?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মঞ্জুলা দত্ত – আগেই বলেছি আমি শান্তিনিকেতনে যখন গেছি তখন রবি অস্তমিত। কিন্তু তাঁর রক্তিম আভায় গোটা আশ্রম ছিল বর্ণময়, উজ্জ্বল। সবার মনন জুড়ে কেবল তিনি। এমন পরিবেশে গিয়ে পড়লাম আমি। শিক্ষক হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে পাইনি। কিন্তু যাঁদের পেয়েছি তাঁরাও ছিলেন এক একজন পণ্ডিত মানুষ। যেমন পেয়েছি পরম প্রণম্য, গুরুদেবের স্নেহধন্য আমার নাচের শিক্ষাগুরু শান্তিদেব ঘোষকে। এছাড়াও শান্তিনিকেতনে বহু বিশিষ্ট মানুষ ছিলেন যাঁদের কাছ থেকে নানাভাবে সমৃদ্ধ হয়েছি। ১৯৪০ এর দশকে (সালটা মনে নেই) কালমৃগয়াতে বনদেবীর দলে প্রথম অংশ নিয়েছিলাম। উত্তরায়নে ‘উদয়ন’ বাড়ির হল ঘরে মহড়া হত। ওর পরই হল ‘চণ্ডালিকা’। প্রকৃতির ভূমিকায় নন্দিতা কৃপালনী। মা হলেন অনুদি। বুড়িদি (নন্দিতা কৃপালনীর ডাকনাম) আমাদের কী চমৎকার কোরিওগ্রাফি শেখালেন। সারা স্টেজ যেন আনন্দের হাট। প্রকৃতির প্রবেশ মাত্র সব স্তব্ধ। ‘ওকে ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছি, ও যে চণ্ডালিনীর ঝি’- আট-ন বছর বয়সে কী ভীষণ অভিজ্ঞতা। নিজেকে নিষ্ঠুর মনে হত। পরে ‘চণ্ডালিকা’ দেখেছি অনেকবার। কিন্তু এমন অনুভূতি হয়নি কখনও। আবার বুড়িদি শেখালেন ‘নব বসন্তের দানের ডালি এনেছি তোমার দ্বারে’ –অসাধারণ নৃত্যভঙ্গি। এভাবেই পড়াশুনোর ফাঁকে ফাঁকে চলত নাচ, গানের তালিম। গানের দলে, নাচের দলে ঢুকে পড়াতো বটেই, মুখ্য ভূমিকাতেও এক-আধবার অংশ নিয়েছি। নতুন নাচ কম্পোজ করতে উৎসাহ দেন কখনও শান্তিদা (শান্তিদেব ঘোষ) কখনও শৈলজাদা(শৈলজা রঞ্জন মজুমদার) । একবার বিনোবা ভাবের ডাকে সর্বোদয় সম্মেলনে যেতে ‘নটীর পুজো’ পরিবেশন করতে হল মাদ্রাজে। শান্তিদা একটা বিশেষ নাচ তুলে নিতে পাঠালেন গৌরীদির কাছে (নন্দলাল বসুর বড় মেয়ে)। গানটি ছিল ‘আমায় ক্ষম হে ক্ষম, নম হে নম’। রাজ আদেশ অমান্য করে বুদ্ধের আরাধনা এবং তার পরিণতি প্রাণত্যাগ – গৌরীদি অনন্য নৃত্যভঙ্গির মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তোলালেন। গুরুদেব স্বয়ং এর সৃষ্টিকর্তা হলেও মঞ্চে তার রূপ দিয়েছিলেন গৌরীদি। শিখে এসে শান্তিদার কাছে নাচটা করলাম। কোনও কথা বললেন না। চুপ করে রইলেন। আমি বুঝলাম আমার গুরুর আশীর্বাদ পেয়েছি। এই আমার পরম প্রাপ্তি।

প্রতিভা দাস – সত্যি শুনেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে আমার। আরও কিছু গল্প বলুননা শুনি।

নন্দলাল বসু

মঞ্জুলা দত্ত – একবার বসন্ত উৎসবের আগে বৌঠান আমাকে আর প্রীতি ঘোষকে (পরে প্রীতি সামার দিবাকর) ডেকে বললেন যাও ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ এই গানটার নাচ যমুনার কাছ থেকে শিখে এসো। যমুনাদি ছিলেন নন্দলাল বসুর ছোট মেয়ে। তখন আশ্রমে ছবি আঁকার পাশাপাশি আলপনা, সেলাই সব কিছুতেই অগ্রনী ভূমিকা ছিল গৌরী ও যমুনাদির। এই যে আজকের কাঁথাশাড়ি – তার কিন্তু সূচনা হয়েছিল ওঁদের হাতেই। অথচ কাগজে সামলি জুদেজার নাম করা হয়। এর সত্যি মিথ্যে জানি না, তবে শান্তিনিকেতনে আমরা এর প্রচলন করতে দেখেছি ওদের দুজনকেই। তো যমুনাদির কাছে আমরা নাচ তুললাম। সে বছরই প্রথম বসন্ত উৎসবের সকালে আম্রকুঞ্জের অনুষ্ঠানে গান ও আবৃত্তির সঙ্গে নাচও হল। যমুনাদি আমাকে  বাউল ঢঙে ‘এবেলা ডাক পড়েছে’ গানটি তুলিয়ে দিলেন। সন্ধেবেলা জড়ুয়া শাড়ি পরে হাতে একতারা নিয়ে প্রাণভরে নাচ করলাম। কারোর কোনও মতামতের অপেক্ষা না করেই বুঝলাম নাচ ভাল হয়েছে। শান্তিনিকেতনে নাচ নিয়ে এরকম কত অভিজ্ঞতা। যেমন আশ্রমে মমতা ভট্টাচার্য (পরে উনি আমার মামিমা হন) এমন নাচ করতেন যেন হাওয়ায় ভাসছেন। তিনি নুপূর পরে নাচতেন। কী অসাধারণ লাগত। এইরকম ভাবে অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি দীর্ঘ আশ্রমিক জীবনে। যেমন আমরা যখন সখীর দলে বা সমবেত নৃত্যে অংশ নিতাম তখন মুখ্য ভূমিকায় থাকতেন সেবা মাইতি। পরে সেবা মিত্র হন। কী অপরূপ ভঙ্গী ছিল তাঁর নাচের। সে সময় কোনও অনুষ্ঠান হলে দিনের পর দিন তার মহড়া চলত। সেখানে আমরা নিজেদের অংশ তো বটেই অন্য সকলের পাঠও আয়ত্ব করে ফেলতুম। এই সময় নৃত্যগুরু হিসেবে মুগ্ধ হয়ে যেতাম সেবাদির ভূমিকায়। মুগ্ধ হতাম নৃত্য পরিবেশনায় তাঁর পরিমিতি বোধ-এ। আসলে আমি নাচ শিখেছি বা করেছি আনন্দে। কখনও এটাকে পেশা হিসেবে নিই নি। আমার ছাত্রছাত্রীদেরও আমি সেই আনন্দের সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

প্রতিভা দাস – আপনি ক্ল্যাসিক্যাল নৃত্য শিখেছেন আবার আশ্রমে রবীন্দ্রনৃত্যের পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন। এই দুই ধারাকে মেলাতেন কী করে ?

মঞ্জুলা দত্ত – আসলে আশ্রমের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ধ্রুপদী নৃত্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বারবার অনুভব করেছেন রবীন্দ্রনাথ। তাই শান্তিনিকেতনে শুধু মণিপুরী নৃত্যের আয়োজন করেই থেমে থাকেন নি তিনি। তিনি শান্তিদেব ঘোষকে কেরালায় পাঠিয়েছিলেন সেখানকার নাচ শিখে আসার জন্য। তখন সেখানকার নাচকে বলা হত ‘দক্ষিণী নাচ’। তার মধ্যে কথাকলি, মোহিনীআট্যম এবং দক্ষিণ ভারতে প্রচলিত কিছু লোকনৃত্যের ভঙ্গিমাও ছিল। তারপরে যথাযথ কথাকলি নৃত্যের গুরু হিসেবে আমরা পেয়েছি শ্রী কেলু নায়ার, শ্রী বালকৃষ্ণ মেনন ও শ্রী হরিদাস নায়ারকে। রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যে পুরুষ চরিত্রগুলোতে এ নাচের ছায়া দেখা যেত। গুরুদেবের উৎসাহে বালি ও জাভায় গিয়ে নাচ শিখে এসেছিলেন শান্তিদেব ঘোষ। এই ভঙ্গিমার প্রকাশ আমরা দেখি যখন চিত্রাঙ্গদার রূপ বদল হয়ে গেছে। পুকুরের জলে সুরূপা নিজেকে দেখে অবাক।

প্রতিভা দাস – তখন সে বলছে ‘এ কে এল মোর দেহে ……..’

মঞ্জুলা দত্ত – ‘এ কে এল মোর দেহে, পূর্ব ইতিহাস হারা’ নিজেকে দেখে অবাক হওয়ার ভঙ্গিটি অপূর্ব। ‘তাসের দেশ’-এ রাজপুত্রের ভূমিকায় শান্তিদা (শান্তিদেব ঘোষ) স্বয়ং অনুসরণ করতেন ওই ভঙ্গিমা। গুরুদেবের মৃত্যুর পর বিভিন্ন নৃত্যগুরুর সহায়তায় বিভিন্ন চিত্রনাট্যে নাচের বিভিন্ন ভঙ্গি ফুটিয়ে তুলতেন শান্তিদা। নাচ মানেই তো কেবলমাত্র নরম পেলব ভঙ্গিমা তা তো নয়। এর মধ্যে থাকে রুদ্ররসও। গুরুদেবের চিন্তাধারা, পরিমিতি বোধের কথা ভেবে তার রূপ দেওয়ার মুখ্য জায়গায় ছিলেন কেবল শান্তিদেব ঘোষই।

প্রতিভা দাস –   একটা বিষয় জানার খুব ইচ্ছে করছে, চিত্রাঙ্গদায় যখন কুরূপা নিজেকে সুরূপা হিসেবে পুষ্করিনীর জলে দেখল – সেই মুহূর্তটিকে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে ভেবেছিলেন ? আপনারা কেমনভাবে নাচের ভঙ্গী করতেন ?

মঞ্জুলা দত্ত –    ব্যাপারটা ছিল এইরকম।সেই সন্ধিক্ষণে চিত্রাঙ্গদা তার মাথার উপর থেকে আবরণটি উঠিয়ে নিল। আবরণটি ছিল খুবই সাধারণ একটি ওড়না। আর এর মধ্যে দিয়েই দর্শকরা তাকে নতুনরূপে দেখতে পেল। সুরূপা নিজেও তো ভীষণ অবাক। এই দৃশ্যটি শান্তিদা (শান্তিদেব ঘোষ) আমাদের কীভাবে করতে হবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রতিভা দাস –    নৃত্যনাট্যে পোশাক কী ধরণের হবে এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন বা বিধি তৈরি করে রেখেছিলেন কী ?

নৃত্যের ছন্দে- মঞ্জুলা দত্ত ও প্রতিভা দাস

মঞ্জুলা দত্ত –     সাজগোজ যেন কোনওমতেই নাচের যে ভঙ্গী তাকে ছাপিয়ে না যায় – শান্তিনিকেতনে আমরা এমনটাই শিখেছি। রবীন্দ্রনাথ যখন নেই তখন বিভিন্ন রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যে পোশাক পরিকল্পনার সাজের দায়িত্বে ছিলেন নন্দলাল বসুর দুই কন্যা। যেমন ‘নটীর পূজা’য় শ্রীমতি যখন ভিক্ষুণী হয়ে উঠল তখন তাঁর দীন পোশাক ফুটিয়ে তোলার জন্য শ্রীমতির যেটুকু উজ্জ্বল সাজের প্রয়োজন সেটুকুই করা হত। বিনা কারণে সাজের ঘটা ছিল না। আমরা জড়ি বা সিল্কের শাড়ি প্রায় কোনও অনুষ্ঠানেই পরিনি। সবসময় সুতির শাড়ি। জরির কাজ থাকলেও তা চোখ ছাপিয়ে যাওয়ার মত থাকত না। আর ফুল-পাতা দিয়ে সাজানোটাই ছিল আসল সাজ। কপালে, কখনও কানের কাছে সাদা চন্দনের ফোঁটা, তুলি দিয়ে একটু আঁকিবুকি। এটা এখন অনেকে জানেন না সেই সময় আমরা কাঁঠাল পাতা দিয়ে তৈরি গহনা ব্যবহার করতাম। সোনা-রূপোর গহনার চেয়ে ওটা যেন বেশী ফুটে উঠত। কোমরে একটা বাঁধন সবসময়ই থাকত। এখনও শান্তিনিকেতনে সাজের বাহার এমন হয় না যা ভঙ্গিকে ছাপিয়ে যায়। এখন অনেককে দেখেছি পায়ে ঘুঙুর পরেন না। অনেকে বলেন রবীন্দ্রনৃত্যের সঙ্গে ঘুঙুর চলে না। আমার মনে হয় এই চিন্তাটা ঠিক নয়। কথকের মত ঘুঙুরের কাজ দেখানো কিন্তু রবীন্দ্রনৃত্যের উদ্দেশ্য নয়। পরিস্থিতি বোধ বজায় রেখে রবীন্দ্রনৃত্যে ঘুঙুর ব্যবহারে বাধা কোথায় ? তবে পোশাক, গহনা বা ঘুঙুরের ব্যবহারে যেন নৃত্যশৈলী বা নৃত্যভঙ্গীর সৃষ্টি বঞ্চিত হবে এমনটা কোনওভাবেই কাম্য নয়।

প্রতিভা দাস  –   এতদিন ধরে গুরুদেবের রবীন্দ্র নৃত্যধারাকে টিঁকিয়ে রাখা সম্ভব হল কীভাবে ?

মঞ্জুলা দত্ত –     এ ব্যাপারে একটা কথা বলি। বছর কয়েক আগে আমি নাট্যকর্মী উষা গাঙ্গুলীর করা ‘চণ্ডালিকা’ দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে তারা ভাবনাটাকে অন্যরূপ দিল। সেখানে আদিবাসীরা জল খুঁজছে, কিন্তু জলের দেখা নেই। এর মধ্যে চণ্ডালিকার মা, যে মন্ত্র জানত, সে মন্ত্রবলে মাটির নীচ থেকে জলের সন্ধান পেল। তবে জল পাওয়ার পর সেই জলের উপর তাদের কোনও অধিকার রইল না। সমাজের উঁচুস্তরের লোকেরা বলল, তোমরা নিম্ন জাতের অতএব এই জলে তোমাদের কোনও অধিকার নেই। শেষে দেখা গেল চণ্ডালিকার কাছে সুস্নাত আনন্দ যখন জল চাইল তখন একটি গন্ডুষ জল দিতে পেরে তার মনে সমুদ্রের ঢেউ উঠে গেল। রবীন্দ্রনাথের সেই ভাবনা আজকের সমাজের প্রেক্ষাপটেও কী সুন্দরভাবে তুলে ধরা হল তা ভেবে অবাক হলাম। হয়ত রবীন্দ্রনাথ এমনটা ভাবেন নি। এইরকম নানা ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে বলেই আজও টিঁকে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর ভাবনা, তাঁর নৃত্যধারা।

প্রতিভা দাস  –   প্রতিটি নৃত্যনাট্যের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমাজকে বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন? নৃত্যাভিনয়ের মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে সেই বার্তা পৌঁছানো কতটা সম্ভব হয় বলে আপনার মনে হয় ?

মঞ্জুলা দত্ত –     মানুষের মনে কতটা প্রভাব পড়ে বা পড়েছে সে বিষয়ে আমার চর্চা তেমন নেই, তবে এ বিষয়ে একটা ঘটনার কথা বলতে পারি। একবার দক্ষিণভারতে আমরা ‘নটীর পুজো’ করতে গিয়েছি।  কথা হয়েছিল হিন্দিতে, কিন্তু গান হয়েছিল বাংলায়। গেয়েছিলেন মোহরদি। মুখ্য ভূমিকায় আমি। নটী যখন রাজ আদেশ অমান্য করে, প্রহরীদের আবেদন, হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে বৌদ্ধস্তূপে বুদ্ধদেবের আরাধনা করলেন তখন ঘটে গেল সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড। প্রহরীদের ছুরির আঘাতে মৃত্যু হল শ্রীমতির। প্রহরীরা ক্ষমা চাইলেন। কারণ তারা তো তাকে হত্যা করতে চায় নি। এমনটা না করতে নিষেধও করেছিল। কিন্তু রাজ আদেশ তো মানতেই হয়। গোটা ব্যাপারটা আর আমাদের নৃত্যাভিনয় খুবই স্পর্শ করেছিল দর্শকদের।অনুষ্ঠান শেষে তারা আমাকে এসে সেকথা জানিয়েওছিলেন।

আম্রকুঞ্জ – শান্তিনিকেতন

প্রতিভা দাস –    সেই কোন শৈশবে আপনি শান্তিনিকেতন গেছেন। সেই সময়কার পৌষ মেলা, দোল উৎসব কেমন ছিল ? আপনারা কীভাবে তাতে অংশ নিতেন ?

মঞ্জুলা দত্ত –     শান্তিনিকেতনে গোটা বছর ধরেই নানা উৎসব অনুষ্ঠান চলত। যেমন বর্ষাকালে বর্ষামঙ্গল, বসন্তকালে বসন্তোৎসব ইত্যাদি। বর্ষার শুরুতেই বৃক্ষরোপণ এবং শ্রীনিকেতনে হলকর্ষণ তাদের মধ্যে অন্যতম। বৃক্ষরোপণে একটা চারাগাছকে সযত্নে একটা চৌদোলায় চড়িয়ে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয় সুন্দর করে আলপনা দেওয়া একটা জায়গায়। তারপর চারাগাছ মাটিতে পুঁতে প্রার্থনা করা হয় সে যেন বড় হয়ে সকলকে আশ্রয় দেয়। ছায়া দেয়।বাতাস দেয়। আশ্রমের সকলকে নিয়ে হত নাচ ও গানের অনুষ্ঠান। একটা সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে যেমন আনন্দ উদ্দীপনা দেখা দেয়, চারাগাছ রোপণ অনুষ্ঠানও সেইরকমই। সে যেন পরিবারেরই একজন। ভাবলে অবাক লাগে আমাদের ছোটবেলায় যেমন হত, আজও চলছে সেই একই ধারা। এই একই সময়ে শ্রীনিকেতনে হত হলকর্ষণ। তাতে কাঁচা মাটিতে (বাঁধানো বা নিকোনো নয়) ডাল, চাল, মশলাপাতি দিয়ে আলপনা দেওয়া হত। এই রঙিন আলপনার উপর দিয়েই হলকর্ষণ করা হত। গাওয়া হত ‘ফিরে চল মাটির টানে’ এই গানটা।

প্রতিভা দাস –    আর বসন্তোৎসব?

বসন্তোৎসব, শান্তিনিকেতন

 

মঞ্জুলা দত্ত –     তবে এই দুই উৎসব শান্তিনিকেতনে একই ধারায় চললেও অনেকটাই বদলে গেছে দোল উৎসব বা বসন্তোৎসব। এর আসল কারণ হল এর অসম্ভব জনপ্রিয়তা এবং সে কারণে বহু মানুষের আগমন। এত মানুষকে জায়গা দেওয়ার ক্ষমতা শান্তিনিকেতনের থাকে না। তাই আশ্রমের আম্রকুঞ্জে যে বসন্তোৎসবটি হত তা এখন হয় খেলার মাঠে। এখন কাঠি নিয়ে গরবা  নাচের মত সমবেত ভাবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ‘ওরে গৃহবাসী’ গানটি গাওয়া হয়। আমাদের সময় আম্রকুঞ্জে গাছ ঘিরে ঘিরে নাচ করতাম মণিপুরে প্রচলিত রাস নৃত্যের ভঙ্গিতে। তারপর সবাই গোল হয়ে বসতাম। নাচের সময় একজনের হাতে থাকত মঞ্জিরা। একজনের হাতে থাকত শঙ্খ আর বাকিদের হাতে ডালিতে করে থাকত ফুল আর আবির। রবীন্দ্রনাথের অবর্তমানে তখন ক্ষিতিমোহন দাদু (সেন) হতেন আচার্য। একক ও সমবেত গাত হত। রবীন্দ্রনাথ যখন বেঁচেছিলেন তখন আম্রকুঞ্জের সকালের অনুষ্ঠানে গান হত, আবৃত্তি হত কিন্তু নাচ হত না। এটা প্রথম সূচনা করেন প্রতিমা বৌঠান। তিনিই প্রীতি (ঘোষ) ও আমাকে যমুনাদির কাছে পাঠান নাচ তুলতে। সেবার ‘যদি তারে নাই চিনি গো, সে কী আমায় নেবে চিনে, এই নব ফাল্গুনের দিনে’ –  এই গানের সঙ্গে নেচেছিল প্রীতি।

বসন্তোৎসব, শান্তিনিকেতন

এই প্রসঙ্গে আর একটা কথা বলতে পারি, তা হল ভানুসিংহ বিষয়ে। ‘ভানু সিংহের পদাবলী’ গুরুদেব মজা করে লিখেছিলেন। কেউ কেউ ভেবেছিলেন যে বিদ্যাপতি চণ্ডিদাসের মত ভানুসিংহ বোধহয় একজন কবি, সত্যিকারের মানুষ। কিন্তু তা তো নয়। এইরকম ভেবে কেউ একজন এই নিয়ে রিসার্চ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আর ডক্টরেট হওয়া হয় নি। কারণ গুরুদেব তা জেনে নিজেই আসল তথ্য প্রকাশ করে দেন। তো যাই হোক ভানুসিংহের পদাবলী ছিল গুরুদেবের খেলার ছলে রচনা করা ব্রজবুলিতে কয়েকটি গান। গানগুলো কিন্তু কোনও ধারাবাহিকভাবে নাটক বা নৃত্যনাট্যরূপে সাজানো ছিল না। সেটা সম্ভবত ৫০-এর দশক। সেই সময় বিবি দিদি (ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী) এবং শৈলজা রঞ্জন মজুমদার, এঁরা দুজনে মিলে ভানুসিংহের পদাবলীর গানগুলো সাজিয়েছিলেন। এতে নাচ ও অভিনয় করেছিলেন অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারী কৃষ্ণ মাইতি। সঙ্গীত শিল্পী নীলিমা সেন। আর আমি তখন ছোট। ছিলাম সখীর দলে। এতে গুরুদেবের সুর দেওয়া কিন্তু রচনা নয় এমন দুটি গান ব্যবহার করা হয়।

প্রতিভা দাস –    গানগুলোর কথা একটু বলুন না,আমরা শুনি …

মঞ্জুলা দত্ত –     একটা গান ছিল বিদ্যাপতির রচনা ‘– এ ধারা ভাদর, মহাভাদর…..’। অন্যটি ছিল ‘শুনতেহি রাধা আগে বাড়হি….’। এই গানটি কার রচনা জানি না। এই দুটো গানের সুর দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যখন এসব গান-নাচের রিহার্সাল হত আমরা ছোটরা ভিড় করে বসে থাকতাম। ওখান থেকেই কত কিছু যে শিখেছি।

প্রতিভা দাস –    শান্তিনিকেতনের বাইরে অনেক রবীন্দ্রনৃত্য শিক্ষার কেন্দ্র আছে। সেখানে রবীন্দ্রনৃত্যের শিক্ষা কতটা ব্যাকরণ মেনে হয়/হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন ?

মঞ্জুলা দত্ত –     নাচের মুদ্রা বলতে আমাদের মনে যা আসে তা হল ভরতের নাট্যশাস্ত্র। সেই নাট্যশাস্ত্র লেখা হয়েছিল নাচের পরে। নাচগুলোর মধ্যে যে ধরণ আছে তা লিখিত ভাবে প্রকাশিত হয় তাতে। কিন্তু রবীন্দ্রনৃত্য হল মনের আনন্দে, প্রাণের আবেগে গান নির্ভর একটি নাচ। সেখানে কিন্তু কোনও ব্যাকরণ নেই। রয়েছে পরিমিতি বোধ। তুমি আনন্দে হাত-পা ছুঁড়ে লাফাতে লাগলে আর সেটাই নাচ হল তা কিন্তু নয়। ‘ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে, তারে আজ থামায় কে রে’ – এই গানে যেমন মনের আনন্দ ফুটে উঠেছে তেমনই এই নাচের মধ্যে আছে একটা শোভন অঙ্গভঙ্গিও। দুঃখ, বেদনা, আনন্দ, অবাক হওয়া সবকিছু নিয়ে নাচ। ভরতের নাট্যশাস্ত্রে আছে ‘নবরসে’র কথা। এই প্রেক্ষিতে একটা অভিজ্ঞতা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। নাচের সুত্রেই তখন আমি দিল্লিতে। সেই সময় নন্দিতা কৃপালিনীর আমন্ত্রণে তাঁর বাড়িতে গেলাম। সেখানে এসেছেন বালাসরস্বতী। চেহারা কিন্তু মোটেই সুন্দর নয়, তখন অনেক বয়স হয়ে গেছে। কারোর সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। কিন্তু আসনপিঁড়ি করে বসে হাতের মুদ্রা আর চোখ-মুখের ভাব দিয়ে যেভাবে ‘নবরস’ দেখালেন আমরা অবিভূত হয়ে গেলাম। মানুষকে ভাসিয়ে দেওয়ার মত তাঁর ভঙ্গি। সেই অভিজ্ঞতা আজও আমার মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল।

প্রতিভা দাস –    এখন তো ফিউশনের যুগ। রবীন্দ্রনৃত্য সহ নানা কিছুর সংমিশ্রণে তৈরি করা হচ্ছে নানা আইটেম। এসবের ভবিষ্যৎ কেমন বলে আপনার মনে হয় ?

মঞ্জুলা দত্ত –     আমি একটা জিনিস বুঝেছি যে গুরুদেব কখনও পুরোনো জিনিসকে আঁকড়ে ধরে থাকতে ভালবাসতেন না। নাচ এক জায়গায় থেমে থাকুক এটা গুরুদেব কখনও চাইতেন না। মণিপুরী ছেলেদের রাখাল নৃত্য দেখে প্রথম ভাল লেগেছিল। চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে তার চর্চা হোক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-ছাত্রী পাঠিয়ে বা শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে এসে বিভিন্ন ধারার নৃত্য চর্চার কেন্দ্র গড়েছেন। নতুন কিছুর প্রতি রবীন্দ্রনাথ চিরকালই আগ্রহী ছিলেন। নিজের সৃষ্টির বেলাতেও তাই। এখন কেরালার মার্শাল আর্ট এসেছে, যোগা নৃত্য সহ নানা আঙ্গিক এসেছে। আমার মনে হয় পরিমিতি বোধ যদি থাকে আর গানের ভাবধারা যদি ব্যাহত না হয় তাহলে গুরুদেব নিশ্চই তাঁর গানে নতুন ভঙ্গিমা, নতুন পদক্ষেপকে আহ্বান করতেন। তবে ভাবধারার বিচ্যুতি তিনি সহ্য করতেন বলে আমার মনে হয় না।

এখন ব্যাপারটা হল নতুন জিনিসেরর একটা আবেদন থাকেই। কিন্তু সেই জিনিসটাই থেকে যায় যখন নতুনের মোহটা কেটে যাওয়ার পর খাঁটি হিসেবে থেকে যায়। সেটাই হয়ে ওঠে ক্লাসিক। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এটা আমরা দেখি। সাময়িকভাবে কিছু লেখা খুব জন সমর্থন পায়। কিন্তু থাকে সেটাই যেটার মধ্যে গভীরতা আছে।

প্রতিভা দাস –    অসাধারণ। আমরা অনেক কথা শুনলাম, অনেক কিছু জানলাম। ‘গল্পের সময়’-এর পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মঞ্জুলা দত্ত –     ‘গল্পের সময়’ ই-ম্যাগাজিন এবং তোমাকে ধন্যবাদ। আমার মনে হয় ‘গল্পের সময়’ ম্যাগাজিনের যে মাধ্যম (ওয়েব) তা এই সময়ে অনেকের (বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম) কাছে পৌঁছোনোর একটা ভাল ক্ষেত্র বা প্ল্যাটফর্ম। আমি এর সাফল্য কামনা করি।

প্রতিভা দাস – কথক ও সৃজনশীল নৃত্যশিল্পী। শান্তি বসু ও ড. মালবিকা মিত্রর সুযোগ্য ছাত্রী।

Tags: , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ