28 Feb

সীমন্তিনীর বিয়ে

লিখেছেন:সিদ্ধার্থ সান্যাল


সীমন্তিনী ছিল ফিজিক্স অনার্সের ক্লাসে আমার প্রিয় ছাত্র ছাত্রী দের মধ্যে একজন ! পড়াশোনায় মেধাবী, উজ্জ্বল বুদ্ধিদীপ্ত চোখ আর নরম স্বভাবের সুন্দরী মেয়েটাকে প্রথম থেকেই আমার ভালো লাগতো ! ফার্স্ট ক্লাস অনার্স নিয়ে সীমন্তিনী বি এসসি গ্রাজুয়েট হলো যে সপ্তাহে, সেই সপ্তাহেই আমি শ্রীরামপুরের কলেজ ছেড়ে মফস্বল বহরমপুরের কলেজে ফিজিক্সের প্রধান অধ্যাপক হয়ে  চলে গেলাম ! কয়েক সপ্তাহ পরে ফোনে ও খবর দিলো যে এম এস সি তে ভর্তি হয়ে গেছে ! বললাম, ‘ওখানেই থেমে থেকো না কিন্তু ! তোমাকে ডক্টরেট-ও করতে হবে’ ! গলায় অনেক উৎসাহ ঢেলে সীমন্তিনী বললো…..’নিশ্চয়ই স্যার, আশীর্বাদ করুন’ !

তারপর প্রায়  একবছরের ওপর সীমন্তিনীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই ! আমিও নতুন  জায়গায় থিতু হয়ে বসেছি ! হঠাৎ একদিন সীমন্তিনীর ফোন…..’স্যার কেমন আছেন’ ? জবাব দিতেই একটু লাজুক গলায় বললো……’স্যার এ মাসের সাতাশ তারিখে আমার বিয়ে…আপনাকে কিন্তু আসতেই হবে’ ! বললাম, ‘বিয়ে তো ভালো খবর ! কিন্তু তোমার পড়াশোনার কি হবে তাহলে’ ? সীমন্তিনী বললো…..’স্যার, আমার ভাবী বরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে….তার মত আছে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় …এম এস সির পর ডক্টরেট-ও করবো বলেছি…..বাবার শরীরটাতো একদম ভালো যাচ্ছে না….তাই বেঙ্গল ম্যাট্রিমনি থেকে বাবা…. ‘! বাধা দিয়ে বললাম…’সে বেশ ভালো কথা ! পড়াশোনাটা কিন্তু একদম ছাড়বে না ! দেখি, সাতাশ তারিখ তো…..আমি নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো তোমার বিয়েতে যাবার’ !

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিদর্শকের দল দুদিনের জন্য কলেজে এসে যাওয়াতে সীমন্তিনীর বিয়েতে শেষ অবধি আমার যাওয়া হয়নি ! নানা কাজের ভিড়ে ফোনটাও আর করা হয়ে ওঠেনি ! বেশ কয়েকমাস পরে কলকাতায় গেছি কলেজের কাজে ! ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিটের কাছে রাস্তা পেরোচ্ছি,  পেছন থেকে ডাক…’স্যার স্যার’ ! মহিলাকণ্ঠের ডাক শুনে পিছন ফিরে  দেখি…..সুদেষ্ণা……আমার ছাত্রী…..সীমন্তিনীর এক ছটফটে ক্লাসমেট ! দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে এসে সুদেষ্ণা হুড়মুড় করে বলতে লাগলো….’কেমন আছেন স্যার….কতদিন পরে আপনার সঙ্গে দেখা….নতুন কলেজ কেমন স্যার…ভেবেছিলাম সীমন্তিনীর  বিয়েতে আপনার সঙ্গে দেখা হবে……আপনি তো আসেননি…..না এসে ভালোই করেছেন স্যার…..পরে আপনার খুব খারাপ লাগতো…..!’  সুদেষ্ণা-র কথার জোয়ার থামলো কিন্তু আমি আটকে গেলাম ওর শেষ দুটো বাক্যে ! বেশ অবাক হয়ে ও কিছুটা সন্তর্পনে বললাম…..’সে কি…..এ কথা কেন বলছো সুদেষ্ণা…..কি হয়েছে সীমন্তিনীর….ওর বাবার কিছু ?’  আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে সুদেষ্ণা আবার চোখেমুখে শুরু করলো…..’ না না, ওর বাবা ভালোই  আছেন ! ওই তো স্যার…বেঙ্গল ম্যাট্রিমনিতে ওর বাবা তো সবকিছুই লিখেছিলেন……বোধহয় লেখেননি যে পাত্রী একজন কনসামেট পশুপ্রেমিক…..ওর সাতটা বেড়াল, দুটো কুকুর আর দুটো সাদা ইঁদুর-ও আছে….তো আমি যা শুনেছি ওর কাছে…….অষ্টমঙ্গলাতে ওর স্বামী ওদের বাড়ী এসে ঐসব দেখে তো একেবারে হতবাক…..তার নাকি সবরকম জন্তুজানোয়ারে এলার্জি…..তারপর সীমন্তিনী যখন বলেছিলো দুটো ভীষণ প্রিয় বেড়াল আর একটা কুকুর সঙ্গে নিয়ে ও শ্বশুরবাড়ী ফিরবে…..তখন তো ওর বর রেগে একদম ফায়ার……সঙ্গে সঙ্গে ওদের বাড়ী ছেড়ে চলে যায় ও ফোনে সীমন্তিনীকে জানায়….’বেছে নাও একটা…..সংসার না পশুপ্রেম….তোমরা এসব কথা চেপে গিয়ে, মিথ্যে বলে আমাদের পুরো ঠকিয়েছো…..’ ইত্যাদি ইত্যাদি’……ভাবতে পারেন স্যার আমার ওরকম ঠান্ডা স্বভাবের বন্ধু……সীমন্তিনী…. জবাবে সোজা জানিয়ে দেয় ও তার প্রিয় বেড়াল কুকুরদের ছাড়তে পারবেনা……ওকে মেনে নিতে হলে ওর পোষ্যদের-ও মেনে নিতে হবে…..’ একটানা এতটা বলে বোধহয় হাঁপিয়ে গিয়ে সুদেষ্ণা থামলো ! আমি তো এতক্ষন হতবাক হয়ে শুনছিলাম……জিজ্ঞাসা করলাম…..’ তারপর কি হলো সুদেষ্ণা ? সীমন্তিনীর স্বামী কি….’ ! ‘ডিভোর্স স্যুট ফাইল করেছিল স্যার…হেল্থ ইস্যু দেখিয়ে…. সীমন্তিনী কনটেস্ট করেনি…..অষ্টমঙ্গলার পরে আর শ্বশুরবাড়িতে ফেরেওনি…..বিয়ের তিন মাসের মধ্যে মিউচ্যুয়াল ডিভোর্স হয়ে গেলো স্যার…. এই তো গত সপ্তাহে…’!

সুদেষ্ণার সঙ্গে তারপর আর বিশেষ কথা এগোতে পারেনি ! বহরমপুরে ফেরার পথে ট্রেনে সীমন্তিনীর  কথা ভাবতে ভাবতে এলাম……কত বিচিত্র ঘটনাই না ঘটে এ সংসারে……সীমন্তিনীর মতো একটা ঠান্ডা স্বভাবের ভালো মেয়ের জীবনের  শুরুতেই  বিধাতা পুরুষের  এ কিরকম নির্মম  পরিহাস…… আর কিসের জোরেই বা অমন একটা নরম মনের মেয়ে তার নিজের সংসার গড়ার তাগিদও অগ্রাহ্য করতে পারে…… সেকি নিছক পশুপ্রেম….নাকি জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে আশাভঙ্গের অপরিসীম কষ্ট আর অভিমান ! বাড়ি ফিরে গৃহিণীকে সব ঘটনা বিস্তারিত জানালাম….আটদিনের মাথায় এই বিবাহবিভ্রাট…..ডিভোর্স……সীমন্তিনীর কথা তো তিনি আগে থেকেই জানতেন ……সেই  শ্রীরামপুর কলেজের  সময় থেকেই……দুঃখিত গলায় বললেন …..’এই সবই তো হচ্ছে আজকাল আকছার……কোনোদিন হয়তো রিসেপশনের নেমন্তন্ন খেয়ে আঁচানোর সময় শুনতে হবে বিয়েটা আজ সন্ধ্যায়-ই  ভেঙে গেছে’ !

বেশ কয়েক মাস বাদে হঠাৎ সীমন্তিনীর ফোন ! স্ক্রিনে নামটা ভেসে উঠতেই আমি একটু সন্তর্পনে বললাম…..’হ্যালো, কেমন আছো সীমন্তিনী ? কোথা থেকে বলছো ?’…..’বাড়ী থেকে……মানে শ্বশুরবাড়ী থেকে স্যার’ ! নাঃ …..গলায় তো ওর কোনো জড়তা পাচ্ছি না, বরং যেন একটু খুশীর ভাব ! তবুও সাবধানে বললাম, ‘তারপর বলো…..স্যারকে মনে পড়লো….হঠাৎ !’  এবার সত্যি সত্যি খুশীর গলায়  সীমন্তিনী বললো…..’কালকে স্যার পি এইচ ডি-র জন্য ইউনিভার্সিটিতে রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলো………আপনি তো বরাবর চাইতেন আমি ডক্টরেটটা করি…..তাই আপনার আশীর্বাদ চাইছি….একদিন আসুন না স্যার আমাদের বাড়ীতে…..কলকাতায় নিশ্চয়ই আপনার কাজ পড়ে….তাই না স্যার !’ প্রকৃতই খুশী হলাম সীমন্তিনীর কথা শুনে ! মনে তো হচ্ছে সীমন্তিনী বেশ ভালো আছে ! ওর মন ভালো আছে ! তাহলে কি আবার সব কিছু ভালোয় ভালোয় মিটে  গেছে ! সীমন্তিনী ‘স্যার, আসবেন তো’ বলতেই  চিন্তার সুতোটা কেটে গেলো আর সেই মুহূর্তে মনে পড়ে গেলো আগামী শনিবারই তো আমার হেড এক্জামিনারের বাড়ি গিয়ে বি এসসি পরীক্ষার খাতা জমা দেবার কথা ! বললাম….’ঠিক আছে…..আগামী শনিবার-ই তো আমি কলকাতায় যাচ্ছি…..যাবো তোমার বাড়ি সময় করে……তবে এই ধরো বেলা দুটো নাগাদ…সেসময় তোমার অসুবিধে হবে নাতো…আমাকে আবার চারটের লোকালটা ধরতেই  হবে !’  সীমন্তিনী বললো ‘একেবারেই অসুবিধা হবে না স্যার……তাহলে শনিবারে দুপুরে আপনি এখানেই লাঞ্চ করে নেবেন….আমি আপনার জন্যে অপেক্ষা করবো। অবশ্যই আসবেন কিন্তু স্যার……আমি এখন-ই ঠিকানা পাঠিয়ে দিচ্ছি !’

ফোনটা কেটে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যে টিং করে মেসেজ আসার আওয়াজ হলো ! ফোনটা তুলে দেখি ঠিকানা এসে গেছে…….সীমন্তিনী মিত্র, কেয়ার অফ শতদল মিত্র, ১সি, আরণ্যক, ১৪২ বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট ! প্রথমেই ভাবলাম, যাক বৌবাজার স্ট্রিট-এ সীমন্তিনীর বাড়ি হলে শেয়ালদা আসায় জন্য বেশী সময় লাগবে না ! কিন্তু তার পরেই মনের মধ্যে প্রশ্নের ঝড় উঠতে  লাগলো……গত বছরে আসা বিয়ের কার্ডটাতে তো মনে হচ্ছে দেখেছিলাম সীমন্তিনীর শ্বশুরবাড়ির ফ্যামিলি চট্ট্যোপাধ্যায়…….আর ওরা তো ছিল ব্যানার্জি ! তাহলে কি সীমন্তিনীর আবার বিয়ে হয়েছে ? কেমন হয়েছে এই দ্বিতীয় বিয়েটা ? প্রিয় সব পোষ্যগুলোকে নিয়ে তাহলে ও কি মনের আনন্দে শ্বশুরঘর করছে ? ডক্টরেটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে মানে বেশ ভালোভাবেই এম এস সি পাশ করেছে….স্বামী, শ্বশুরবাড়ি তাহলে ভালো সাপোর্ট করছে নিশ্চয়ই ! এই দ্বিতীয় বিয়েটা নিশ্চয়ই বেশী  ঘটাপটা করে হয়নি ! ইস….সুদেষ্ণার ফোন নাম্বারটা সেদিন যদি নিয়ে রাখতাম..”…… এটুকু ভাবতেই নিজের কাছে নিজেই বিব্রত হয়ে পড়লাম…..ছিঃ, এই প্রায়-প্রৌঢ় বয়েসে কন্যাসমা প্রাক্তন ছাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাপারে এতো কৌতূহল থাকা উচিত হচ্ছে না….শনিবার তো দেখা হবে…..যদি কিছু জানানোর মতো থাকে সীমন্তিনী নিজেই জানাবে নিশ্চয়ই !

গৃহিণীকে দূরভাষে পাওয়া সব সংবাদ জানাতে তিনি বললেন……’খুব ভাল….ডিভোর্সের খবর শুনে ইস্তক সেই শান্ত ধীর স্থির  মেয়েটার জন্য আমারও খুব খারাপ লাগছিলো……তোমার কথা শুনে তো মনে হচ্ছে আবার বিয়েটা হয়েছে…..এও আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ ভালোই হচ্ছে, দুজনেই বেশ মানিয়ে গুনিয়ে ভালো থাকছে !’ এইটুকু বলেই তাঁর উপদেশ….’শোনো….তোমরা পুরুষরা তো কিছু বোঝো না….যদি গিয়ে দ্যাখো সীমন্তিনীর সত্যিই দ্বিতীয় বার বিয়ে হয়েছে আর মেয়েটা বেশ সুখে, আনন্দে, ভালো মনে আছে, তুমি যেন আবার আগের বিয়ের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করে ওকে বিব্রত করো না…..খুব দুঃখ পাবে’ ! এ কথার কি আর উত্তর দেবো…..আমার তো একবারই বিয়ে হয়েছে…..এই দ্বিতীয় বিয়ে-টিয়ের  মানসিক অবস্থার ব্যাপারে কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা তো নেই….তাই চুপ করেই থাকলাম !

শনিবার দুপুরে ঠিকানা খুঁজে বৌবাজার স্ট্রিটে ‘আরণ্যক’-এর সামনে এসে যখন পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে প্রায় দেড়টা বাজে ! ছয়তলা ঝকঝকে আবাসনের গেটের কেতাদুরস্ত গার্ড জানালো ফার্স্ট ফ্লোরে লিফটের দরজার সামনেই শতদল মিত্র সাহেবের ফ্ল্যাট ! সাহেব নেই…বিদেশে গেছেন..তবে সাহেবের মা, বাবা আর মেমসাহেব আছেন ! বেল টেপার পর দরজা খুলতেই দেখলাম একমুখ হাসি নিয়ে সীমন্তিনীকে…..সত্যি বিয়ের পরে মেয়েদের বহিরঙ্গে যে কত বদল হয়ে যায়…….কপালে লাল টিপ্……সিঁথিতে খুব হালকা সিঁদুরের আভাস আর শাড়ী পড়া সুশ্রী সীমন্তিনীর  সঙ্গে চার বছর আগেকার কলেজের সেই বেণী-দোলানো সালোয়ার কামিজে মিষ্টি চেহারার অনার্স ছাত্রীটিকে  যেন মেলাতেই পারছিলাম না ! সীমন্তিনী দরজা হাট করে খুলে বললো ‘আসুন আসুন স্যার…..ভেতরে আসুন’ ! বিশাল লিভিং রুম…..বড়ো বড়ো পেন্টিং আর নানারকম এন্টিক ফার্নিচারে খুব-ই  রুচিসম্মত ভাবে সাজানো ! সোফাতে নিশ্চয়ই ওর শ্বশুরমশাই……সত্তরোর্ধ বয়স, সাদা পাজামা পাঞ্জাবী, চুল সব সাদা….. উঠে নমস্কার করলেন, আমি প্রতি-নমস্কার  করলাম ! বৃদ্ধ তারপর বললেন……’বৌমা তুমি তোমার স্যারের সঙ্গে কথা বলো…..আপনি প্লিজ বসুন, খাবার টেবিলে আপনার সঙ্গে কথা হবে’….দ্বিতীয় বাক্যটি আমার প্রতি বলে উনি ভেতরে চলে গেলেন !

চারিদিক বেশ নিস্তব্ধ…..বুঝলাম খুব বড়ো  ফ্ল্যাট আর বেশ উচ্চবিত্ত পরিবারে সীমন্তিনীর এই দ্বিতীয় বিয়েটা হয়েছে ! কিন্তু কই…..সীমন্তিনীর পোষ্যগুলোকে তো কোথাও দেখতে পাচ্ছিনা ! সীমন্তিনী বললো……’স্যার আমার স্বামী শতদল  এখন হপ্তাদুয়েকের জন্য আমেরিকা গেছে…..আপনার সঙ্গে দেখা হলো না …..ও মাইক্রোবায়োলোজিস্ট ….বিদেশে ছিল বেশ কিছু বছর…..এখন এখানে চাকরি নিয়ে এসেছে’…..তারপর চোখটা একটু নামিয়ে বললো…..’আমেরিকান স্ত্রী-র সঙ্গে ওর বনিবনা হলো না….আর আমারও তো….আপনি বোধহয় সব শুনেছেন সুদেষ্ণার কাছে’ ! আমি অপ্রীতিকর প্রসঙ্গটা ঘোরাবার জন্যে তাড়াতাড়ি  বললাম….’ওসব কথা থাক…..তুমি বলো তোমার ডক্টরেটের জন্য কি প্রব্লেম নিলে’ ! সীমন্তিনী গলায় উৎসাহ এনে বললো…..’এঁরা সবাই আমাকে খুব ভালোবাসেন স্যার…..কয়েকমাসেই একেবারে আপন করে নিয়েছেন ! শতদল তো আমাকে পড়াশোনায় খুব উৎসাহ দেয়…..ওর তাড়াতেই তো আমি এবছরেই ডক্টরেটের রেজিস্ট্রেশনটা করে  ফেললাম…..আপনার কথাও আমি ওকে বলেছি ! স্যার, এই ফ্ল্যাটে শতদল না আমার জন্য একটা সেপারেট স্টাডি-ও করে দিয়েছে…..আমার ডক্টরেটের পড়াশোনার জন্য…..চলুন খেতে বসার আগে আপনাকে আমার স্টাডিটা দেখাই…..’ আমার প্রাক্তন ছাত্রীটির কণ্ঠস্বরে উৎসাহ ঝরে ঝরে পড়ছিলো !

বিশাল হলঘরের পাশের একটা দরজা দিয়ে ঢুকে একটা গ্যালারি……তার শেষ প্রান্তে একটা ঘর…..যেতে যেতে সীমন্তিনী বললো ঐটাই ওর স্টাডি…..তার সঙ্গে একটা লাগোয়া ওয়াশরুম-ও আছে ! ডার্ক চকোলেট রঙের দরজা ঠেলে সীমন্তিনীর স্টাডি-তে ঢুকলাম……..দারুন ডিজাইনের কালো রঙের স্টাডি টেবিল, রিভলভিং চেয়ার, এডজাস্টেবল টেবিল ল্যাম্প, পাশে কম্পিউটার টেবিলে কম্পিউটার, মানানসই উঁচু বুককেস, একটা ছোট  ডিভান-এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ….আর চারপাশের  দেয়ালে…. ..চার দেয়ালে আটকানো আছে অজস্র প্রমান সাইজের সফট টয়…..দারুন ভঙ্গিমায় সুন্দর সুন্দর কুকুর আর বেড়াল…বেড়াল আর কুকুর…অন্ততঃ গোটা তিরিশেক তো হবেই….প্রায় ছাদের কাছে গিয়ে ঠেকেছে ! আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর তাকাতেই সীমন্তিনী লাজুক হেসে বললো…..’ওই শতদলের কাণ্ড স্যার….ও যখন জানতে পারলো আমি ভীষণ বেড়াল আর কুকুর ভালোবাসি তখন ওই-ই আমাজন থেকে কিনে কিনে…’ কথাটা আর শেষ করলোনা ও……হেসে চুপ করে থাকলো !

বুঝলাম, সীমন্তিনী এখন আর কলেজের সেই নবীনা তরুণীটি নেই…….পরিণত মনের যুবতী সীমন্তিনী তার নিজস্ব সুখের ঘরের চাবিটা পেয়ে গিয়েছে…কোনো মূল্যেই ও আর সেটা হারাতে চায় না !

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ