19 Apr

প্রাক্তন

লিখেছেন:নাহার তৃণা


বৃষ্টিটা নামবার আগেই কোন একটা শেডের নীচে আশ্রয় নেবার চেষ্টায় দ্রুত পা চালিয়েও লাভ হলো না। হুড়মুড় করে আচমকা বৃষ্টি নেমে গেল। ভোকাট্টা ঘুড়ির মত গোত্তা খেয়ে একটা দোকানে  ঢুকে পড়লাম। দোকানে আশ্রয় নেয়া মানুষের জটলাটা আমাকে ঢুকতে দেখে যে যতটুকু পারলো সরে গেল দ্রুত। না, আমাকে জায়গা করে দেবার আন্তরিকতায় নয়। বরং আমার ভিজে যাওয়া শাড়ি কাপড়ের ছোঁয়ায় তাদেরটাও যেন ভিজে না ওঠে, সে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দূরত্ব তৈরির তাগিদ। কিছু বিরক্তি ধরা দৃষ্টি অগ্রাহ্য করে, ভিজে শাড়ি-আঁচল, যতটা সম্ভব শরীর বৃত্তে জড় করে ভিড়ের একদম কোণায় গিয়ে দাঁড়ালাম।

বৃষ্টি থেকে বাঁচতে কোথায় ঢুকে পড়েছি চোখ তুলে সেটা পর্যবেক্ষণে বোঝা গেল, এটি একটি কনফেকশনারি। নানা জাতীয় কেক, বিস্কুট, চানাচুর ইত্যাদিতে সুসজ্জিত ভদ্রস্হ পরিবেশ দোকানটির। মায়ের জন্য নোনতা কিছু বিস্কুট নিলে কেমন হয়? কিছু কেনাকাটা করলে হঠাৎ অনাহুতের মত ঢুকে পড়ায় বিরক্তমাখা মুখগুলোর উদ্দেশ্যে একটা জবাব দেয়া যাবে। কিন্তু সেটারই বা প্রয়োজন কেন! হঠাৎ বৃষ্টি থেকে তারা যেমন নিজেদের রক্ষায় এখানে জড় হয়েছেন, আমিও তাই। খামোখাই ভাবনা। আমার এই এক দোষ। নিজের মন গড়া ভাবনায় শুধু শুধু কাবু হই।

দোকানের লোকটার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যেই মাত্র হাত তুলতে যাবো খেয়াল করি হাতটা শূন্য। রিস্টওয়াচটা হাতে নেই! স্পষ্ট মনে আছে অফিস থেকে বের হবার মুখে রিস্টওয়াচটা হাতেই ছিল। আমি সময় দেখেছি। বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে ওঠে।

‘… হ্যালো, হ্যাঁ আটকা পড়েছি পাখি। এদিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি। না, না, গাড়ি পাঠানোর দরকার নেই। বৃষ্টি ধরে এলে কিছু একটা পেয়ে যাবো। গাড়িটা তুমিই রাখো। নইলে তোমাদের ফিরতে সমস্যা হবে। ওদিকে গাড়ি পাওয়া দুষ্কর। চিন্তা করো না পাখি..বাড়ি পৌঁছে যাবো ঠিকই, বাড়তি সময় লাগবে এই যা। কী…আজকেও নতুন পেশেন্ট দাঁত তোলা শেষে টুনটুন তোমাকে বিরক্ত করছে না দেখে প্রশংসা করে গেছেন! করবেনই তো! কার ছেলে বলো? আজও  বাবাই কে এঁকেছে টুনটুন! হা হা গোঁফওয়ালা বাবাই..হা হা হা…..’

ঠিক বুঝতে পারিনা প্রিয় বুলোভা ঘড়িটা হারিয়ে যাওয়ার শোক, নাকি মাত্র শোনা ফোনালাপের কণ্ঠস্বরটি আমার শরীরটা অবশ করে দিলো। চোখ দুটোও যেন পাথর হয়ে গেছে। নইলে কেন চোখ তুলে দেখে নিতে কষ্ট হচ্ছে এতক্ষণ ফোনে কথোপকথনে রত মানুষটিকে! এক মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের কণ্ঠস্বরে মিল থাকতেই পারে। কিন্তু এতটা মিল থাকে কী!

পাখি নিশ্চয়ই বউ। ওই নামেই তো ডাকার কথা। ছেলের নামও টুনটুন হবার কথা….

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ