পুরানো সংখ্যা: October 2019

  1. বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি সকাল

    ৭ এপ্রিল, ১৯৮৫। রবিবার। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। এবং একটু ভাল আছেন শুনে সকালবেলা গেলাম তাঁর কাছে। ইচ্ছে ছিল জেনে নেব কিছু কথা। সঙ্গে ছিলেন ‘এসময়’-এর সম্পাদক সুমিত চট্টোপাধ্যায় আর কল্লোল দাশগুপ্ত। কিছু পরে এলেন কবি সমীর রায়। পরিচ্ছন্ন ছোট ঘরটিতে বালিশে ভর দিয়ে বসেছিলেন তিনি। শীর্ণ শরীর — নিশ্চয়ই কষ্টও ছিল কিছু। […]

  2. ঋষি টলস্টয়

    ফিনল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি সম্মেলনে’ আমন্ত্রিত হয়ে আমরা কয়েকজন ভারতের প্রতিনিধি হেলসিঙ্কিতে আসি। সেখান থেকে আবার সোভিয়েট প্রতিনিধিগণের দ্বারা‍ আমন্ত্রিত হয়ে লৌহ যবনিকার দেশ সোভিয়েট রাশিয়ায় বেড়াতে এসেছি। দেখছি এখানকার অনেক কিছুই অদ্ভূত কীর্তি। প্রাক বিপ্লব যুগের জার-সাম্রাজ্যের চোখ-ঝলসানো অপরিমেয় ঐশ্বর্য, আর তারই পাশে পাশে বিপ্লবোত্তর সোভিয়েট রাশিয়ার গড়ে তোলা বিপুল গণসম্পদ। কিন্তু ‘মস্কৌ’ এসে পর্যন্ত […]

  3. একটি রূপকথা

    (মৃদুল দাশগুপ্তের এই পাঠ-প্রতিক্রিয়াটি ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮, শিশির মঞ্চে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ৭৯-তম জন্মদিনে পঠিত হয়েছিল) আজ এই সন্ধ্যায় কবি  বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঊনবিংশতম জন্মদিনে, কবির স্মরণসভায়, তাঁর কবিতা সম্পর্কে আমাকেও কিছু বলার প্রশ্রয় দিয়েছেন স্মরণ কমিটির উদ্যোক্তারা, এজন্য আমি তাঁদের প্রটি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলা কবিতার গতিপ্রকৃতি, কবিতার গভীর নানা তত্ত্ব, তার রূপ, কলা, বিভাব নানান ব্যাখ্যান […]

  4. নেয়ারের খাট, মেহ্গিনি-পালঙ্ক এবং একটি দুটি সন্ধ্যা

    ডিসেম্বর, ২ । ১৯৫৬ খাট থেকে ধরাধরি করে যখন নামানো হল, তখন দুটি চোখই খোলা। কপালের ওপর আর কানের পাশে কয়েকটা শিরা কুঁচকে উঠেছে। ডান হাতটা প্রতিবাদের ভঙ্গীতে একবার নাড়লেন। চাউনিতেও তীব্র প্রতিবাদ ছিল। গলায় অস্ফুট শব্দ, যার কোনো ভাষা নেই কিন্তু যন্ত্রণা আছে। ডাক্তারীশাস্ত্র আমি জানি না, মনোবিজ্ঞানেও পারদর্শী নই। তবু খাট থেকে সেই […]

  5. বিসর্জনের চিত্রকলা

    বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশ বাংলাদেশ । বন্যা, খরা, মড়ক, দুর্ভিক্ষ, বর্গীর আক্রমন, মগ, হার্মাদ এই ভয়ঙ্কর সব দুর্যোগ বুকে নিয়েও উৎসবের আনন্দ থেকে বাঙালিকে কেউ বিরত করতে পারে নি । আর সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে যেদিন ইউরোপীয়রা এসে জাহাজ থেকে নামলো এই বঙ্গদেশে, তার কিছুকালের মধ্যেই তারাও মজে গেল বাঙালীর বারো মাসের তেরো […]

  6. রবীন্দ্রনাথের রোগভাবনা

    ১৯৪১ সালের জুলাই মাস নাগাদ গুরুদেব খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন, শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন অবস্থায়। প্রস্রাবে জ্বালা, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া, বারে বারে বাথরুমে যাওয়া, সেই সঙ্গে ঘুসঘুসে  জ্বর, ক্ষুধামান্দ, গা-বমি ভাব ইত্যাদি। নিজের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি-বায়োকেমিকে যখন কোন ফল মিলছে না, গুরুদেব বাধ্য হলেন অ্যালোপাথিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে। পারিবারিক চিকিৎসক ডাঃ রাম অধিকারী প্রথমে দেখেন গুরুদেবকে। তাঁর […]

  7. নীলকুঠি

    জ্যোতির বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছনোর আগেই অন্যান্য দিনের মতো গাড়ি চালাতে চালাতেই রাজদীপ মোবাইল থেকে ফোন করল, নেমে আয়। কিন্তু ও প্রান্ত থেকে কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। রাজদীপ বলল, হ্যালো হ্যালোশুনতে পাচ্ছিস? আমরা এস‍ে গেছি। চলে আয়। তবু ফোনের ও প্রান্ত থেকে কোনও উত্তর ভেসে এল না। রাজদীপ একটু অবাকই হল। কারণ, এ সব […]

  8. মায়া দর্পণ

    ব্যালকনিতে রূপালী বালির মিহি স্তর জমেছে। হাওয়া বইলে রোদ ঝিকমিক করে, নাচতে থাকে অলস ধুলো। যুদ্ধের সময়ের ব্যারাকগুলো তুলে ফেলা হচ্ছে। বালি এবং আবর্জনার স্তূপ এমনভাবে জমেছে যেন ফোঁড়া হয়েছে কাঁচা রাস্তাটার মাথায়। জানলা দিয়ে সমস্তই দেখা যায়। সকাল থেকে সন্ধে অবধি নানা রঙের ছায়া টিলায় ফিচলাতে থাকে। দূর থেকে নিরন্তর কানে আসে পাথর ভাঙার […]

  9. বিপত্তারিণী

    ‘বিশুদা, ও বিশুদা, এবার তো মই থেকে নামো। নাইন আপ-এর সময় হয়ে গেছে…ঢুকবে পনেরো মিনিটের মধ্যে। তোমার কি খেয়াল নেই ?’ তরুণ সাহা ঠাকুরের মণ্ডপের ভেতর থেকে চিৎকার করে বললো । যাকে ডাকাডাকি করা হলো তিনি হচ্ছেন ঝুমরী তিলাইয়ার সর্বজনীন বিশুদা, মধ্যবয়সী বিশু চক্রবর্তী । এই মুহূর্তে সে বাইরের প্যান্ডেলের গেটে একটা মই লাগিয়ে আমপাতা […]

  10. আদিদেব রুদ্রর আবির্ভাব

    [১] জীবনের কোন ঘটনা যে কার সাথে দেখা করিয়ে দেয়, আর কোন দেখা-হওয়া যে কি বহন করে আনে — আগের থেকে তার কিছুই বলা যায় না। অনেকসময় বিস্তর প্ল্যান করেও গুরুত্বপূর্ণ লোকের সাথে দেখা করা হয় না, অথবা দেখা হলেও লাভের লাভ কিছুই ঘটে না। আবার পক্ষান্তরে, কোন অপরিকল্পিত মুহূর্ত কখনও কখনও এমন কিছু লোকের […]

  11. দিগন্ত-পরি

    প্লেনটা ছোট হলেও দেখতে ভাল। আগেকার দিন হলে বলত ‘হেলিপ্যাড’। এখন একটা গালভরা নাম হয়েছে ‘মিনিজেট’। মিনিস্কার্ট, মিনিবাস সব শুনেছে পরি কিন্তু আকাশযাত্রার এমন গাড়ির নামটা সেদিন নেটবুকের নেটকাগজে পড়ল সে। বেশ ভালই। তার ওপর পুরনো  বিদেশী। তাই বিশ্বাস করে বরকে বলল, ‘বুক করো’। সটাসট বুক। ঝটপট সার্ভিস। বাড়ির চিলেকোঠার ঘরটায় একটা এয়ারল্যান্ডিং গ্যারেজ করা […]

  12. লিখে লাখ টাকা

    খবরটা গিন্নিই দিল। বলল, মাঝেমাধ্যেই তো পেন বই খাতা নিয়ে কী সব ছাইপাঁশ লেখ। পাড়ার দুর্গাপুজোর স্যুভেনির বা শখের কবি বন্ধুদের লিটল ম্যাগাজিন ছাড়া আর কোথাও তো প্রকাশও হয় না সে সব। হাতে একটা খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন ধরিয়ে দিয়ে সে বলল যাও না এই সব জায়গায়। লিখলেই হাজার হাজার টাকা দেবে বলছে এরা। কোথাও যেতে […]

যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ