পুরানো সংখ্যা: April 2020

  1. কাগজের নৌকো

    মাঝে মাঝে লক্-আউট , লে অফ্ , সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক – এইসব নিয়েই এখানে বেশিরভাগ চটকল চলে অথবা চলেনা । দেখলেই বোঝা যায় । শ্রমিকদের কোয়ার্টারগুলো নোনাধরা , দেয়ালে কোথাও কোথাও ইঁট বেরিয়ে গেছে । এখানেই শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস । তার অদূরে লম্বা ড্রেনটা পেরোলেই একটা বিরাট বটগাছ । তার একদিকে মুদির দোকান আর অন্যদিকে […]

  2. বিশেষ গল্প সংখ্যা

    নভেল করোনাভাইরাসের হানা মানবসভ্যতাকে এক বিশাল সঙ্কটের মধ্যে ফেলেছে। গোটা পৃথিবী জুড়ে এমন সঙ্কট এর আগে আসে নি। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ছবিটা কেমন হবে তার দিশা পাওয়াটাও সহজ হচ্ছে না আজ। এমন এক অন্ধকার সময়ে আগামীদিনে ঝড় থেমে যাবে এমন আশা বুকে বেঁধে রেখেই এগোতে চাইছি আমরা। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমফানের ক্ষত। মৃত্যু আর ধারাবাহিক […]

  3. অণুগল্প সংখ্যা

    করোনাভাইরাসের হানা মানবসভ্যতাকে এক বিশাল সঙ্কটের মধ্যে ফেলেছে। গোটা পৃথিবী জুড়ে এমন সঙ্কট এর আগে আসে নি। ভারত সহ অধিকাংশ দেশেই আজ লকডাউন। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ছবিটা কেমন হবে তার দিশা পাওয়াটাও সহজ হচ্ছে না আজ। এমন এক অন্ধকার সময়ে আগামীদিনে  ঝড় থেমে যাবে এমন আশা বুকে বেঁধে রেখেই ঘরবন্দি আমরা। মৃত্যু আর ধারাবাহিক আতঙ্কের বিবরণ […]

  4. মেরুদন্ড ও অন্য গল্প

    মেরুদন্ড     গান্ধীজীকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন আমার দাদু ! আমাকে বললেন, ‘দ্যাখ, সেই পরাধীন যুগে, অত্যাচারী ব্রিটিশের সামনে আমাদের সকলকে, সব ভারতবাসীকে,  মেরুদন্ড সোজা করে চলতে শিখিয়েছেন !’ আমার দুষ্টুবুদ্ধির বয়েস ! তর্কের গলায় বললাম , ‘কোথায় দাদু, ছবিতে দেখেছি, হাতে লম্বা লাঠি নিয়ে সামনে একটু ঝুঁকে হাঁটছেন ! বরং পেছনের লাইনের লোকগুলো ঘাড়  মাথা সোজা করে ফলো করছে !’ বিচলিত না হয়ে দাদু উত্তর দিলেন, ‘ওঃ, ওই […]

  5. বানপ্রস্থ

    অবসর মুহূর্তে অরিত্র ভাবে জীবনটা অন্য খাতে বইত কি? কৈশোরের চৌকাঠ পেরিয়ে যৌবনে ভাবতো কাকে জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নেবে?  স্নাতকোত্তর পর্বে অরিত্রর চারজন সুন্দরীকে দুই অক্ষরী নাম ও ব্যাবহারের জন্য পছন্দ।  তাদের নিয়েই কল্পনা ভবিষ্যতে জীবন কাটাবার … নিভা, প্রিয়া, প্রীতি, নাকি লিপি। নিভার বিয়েতে গায়ে গতরে খেটেও ছিল ওর বাবার অনুরোধে। গায়েহলুদের আগের […]

  6. দুটি অণু গল্প

    পোড়ামুখ দোলের দিনে শ্যামসুন্দর-শ্রীরাধিকাকে ফাগ মাখাতে আজ সকলের সাথে চন্দ্রিমাও হাজির হয়েছে দোলমন্দিরে।  চাতরার দোলমন্দির পাঁচশত বছরের পুরানো। ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের পবিত্র পাদস্পর্শ পড়েছিল  ওই দোলমন্দিরে। নবদ্বীপ থেকে পুরিতে যাওয়ার পথে চাতরার  দোলমন্দিরে এক রাত কাটিয়ে গিয়েছিলেন।  সেই থেকে ভক্তরা দোলউৎসবের দিনে শ্যামসুন্দরের সঙ্গে  রঙের খেলায় মাতোয়ারা হন। শ্যামসুন্দর তাঁর শ্রীরাধিকা সনে ভক্তদের নিয়ে সকাল থেকে […]

  7. সাগর মেলার কিশোর ও অন্য গল্প

    সাগর মেলার কিশোর   সাগর মেলায় লক্ষ মানুষের ভীড়।বেশীর ভাগেরই উদ্দেশ্য পূণ্যস্নান, কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেওয়া।তার মধ্যে বহু মানুষ হাজির রোজগারের তাড়নায়।দোকানী, ফেরিওয়ালা, মালিশ ওয়ালা, জ্যোতিষী, টোটকা ওষুধ বিক্রেতা, আরও কত পেশার মানুষ হাজির মেলাপ্রাঙ্গনে কিছু রোজগারের আশায়।ভিখারীরাও সার দিয়ে বসে থাকে  প্রাপ্তির আশায়।মানুষ পূণ্য সঞ্চয় করে সাগরে স্নান ক’রে, মন্দিরে পুজো দিয়ে, ভিখারীকে ভিক্ষে […]

  8. ঘরে ফেরা

    বুড়ো বাড়িতে অশান্তি করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন এই প্রতিজ্ঞা করে যে তিনি আর ঘরে ফিরবেন না।হাঁটছেন তো হাঁটছেন। মাথার উপর খর সূর্য। চেনা রাস্তা শেষ হল। সঙ্গে আনা শুকনো চিড়ে শেষ হল। সূর্য পশ্চিমে ঢলে ঘরে ফেরার বার্তা দিল। পশ্চিমের লাল অনুরাগ গায় মেখে পাখিরা কলকাকলিতে দিনকে বিদায় দিয়ে নীড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। জলাশয়ে তাদের […]

  9. চিলেকোঠা

    চিলেকোঠার এই ঘরটা পুকাইয়ের সাম্রাজ্য ৷ এখানে সে এলোমেলো থাকার স্বাধীনতা পায় ৷ তা নইলে নীচের তিনখানা ঘরই যা সাজানো গোছানো,  তাতে পান থেকে চুন খসবার জো নেই ৷ এই চিলেকোঠার ঘরে এলে পুকাই যেন নতুন করে অক্সিজেন পায় ৷ ঘরে মেসির  বিরাট বড়ো পোষ্টার ৷ জানালা খুলে দিলেই সামনের রাস্তা দিয়ে লোকেদের চলাচল নজরে […]

  10. স্টাইল

    কি হল পেলে? – স্ত্রীর উত্তেজিত  কন্ঠের প্রশ্নের উত্তরে নীরব রইলেন  ধূর্জটিবাবু। ” না”,বলছে- “অল দি রুট্স ইন দিস লাইনস আর বিজি,প্লিজ  ডায়াল  আফটার  সামটাইমস।” ইস্- এই এক ঢং এর কথা – কত মানুষ নিরুপায়  হয়ে আর একটা  মানুষকে খোঁজে, সেটা  একদলের কোন হুঁশ  থাকলে  হয়।- স্ত্রীর অকাট্য  যুক্তি আর ধীরাজকে না পাওয়ার উত্তেজনা  এবং […]

  11. ফ্ল্যাশব্যাক ও অন্যান্য গল্প

    ফ্ল্যাশব্যাক   ইনটলারেবল! এভাবে আর থাকা যায় না। আস্তে! কেন, আস্তে কেন! সবাই জানুক। তোমার গুণধর বোনের কথা! কেন, কী হয়েছে! আচ্ছা, আমি কী দোষ করেছি বল তো! সবের মধ্যেই দোষ ধরে আমার। হ্যাঁ, দোষের মধ্যে বিয়ে করেছি তোমায়। আস্তে। সেদিন বাড়িতে ঢোকামাত্র জেরা! এত দেরি কেন? কোথায় গেছিলে? ওকে কৈফিয়ত দিতে যাবো কেন! চুপচাপ […]

  12. লকডাউনের গল্প

    লকডাউনের গল্প – এক  করোনার জন্য লকডাউনে ঘরের অনেকগুলো পড়ে থাকা কাজ সামলে নিচ্ছে অনুমিতা। আজ রান্নাঘরের র‍্যাকগুলো ঝেড়েমুছে পরিস্কার করে নেওয়ার দিন।  তাকের ময়লা কাগজগুলো ফেলে দিয়ে নতুন কাগজ পাততে গিয়ে হঠাতই ওর হাতে উঠে এল সেই কাগজটা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত খবরের কাগজে বের হয়েছিল চিনের এক অসহায় বাবা ও তাঁর […]

  13. কয়েকটি গল্প

    হাত শরীর মানেই কি আড়াল-আবডাল? শরীর মানেই কি অন্ধকার গলি-ঘুঁজি? শরীর মানেই কি ঘরের জানলায় ফুটো? শরীর মানেই কি কাপড়ের ফাঁক-ফোকর? পুকুরে ডুব দিতে গিয়ে বাসন্তী পুকুরের জলে নিজের শরীর দেখে। শরীর তো নয়, যেন একটা ভাঙা নৌকো। তবুও দেখে। পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখে। বাসন্তী আজ আর নিজেকে আড়াল করে রাখে না। না, লজ্জা হয় […]

  14. অসভ্য

    তিনদিন হলো তনিমারা এ পাড়ায়  ভাড়া এসেছে । বেশ ভালো এলাকাটা, কোনো ঝুট ঝামেলা নেই । কিন্তু উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের ওই ছেলেটা এমন ড্যাব ড্যাব করে তাকায় বিরক্ত লাগে!! এতো ছিঁচকে যে  রাগী চোখে তনিমা ওর দিকে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেও অসভ্যের মতো আরো বেশি করে যেন দেখে ..বোধহয় মিচকি হাসিটাও সংগে থাকে । এতটা […]

  15. মনের ডায়েরি ও অন্য গল্প

    মনের ডায়েরি মনের কথা প্রকাশ করার দুটো জায়গা ছিল তিন্নির।মা আর ডায়েরি।মাকে মুখে বলতে হতো না।মনখারাপে হাসি মুখে থাকলেও জাদুবলে ঠিক ধরা পড়তো অভিনয়। আর ডায়েরি লেখাটাও মার থেকেই পাওয়া। আজ তিন্নিও মা। মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ডায়েরিটা পড়ে কতবার কেঁদেছেও। কত কষ্ট করেছে মা সংসারে সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে।হাসিমুখে নিজের সব ইচ্ছা জলাঞ্জলি দিয়েছে, […]

  16. শর্ট-সার্কিট

    চি চি চি। লোডশেডিং না  শর্ট সার্কিট ? এমন অন্ধকার হয়ে গেল কেন? আগেও একদিন হয়েছিল। কিন্তু আজকের অন্ধকারটা খুব অন্যরকম। পাখিগুলো অমন চিৎকার করেই বা উঠল কেন? গত চারমাস ধ’রে ঝকঝকে ফ্ল্যাটের সুন্দর জানালাটা দিয়ে ঈশান সবসময় পাখির বাসাটাকে দেখে। ইলেকট্রিক তারে ছোট্ট পাখির নিপুন চঞ্চুতে বোনা বাসা। দিন পনেরো হল আরও দুটো ক্ষুদে […]

যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ