16 Apr

অসভ্য

লিখেছেন:সোমজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়


তিনদিন হলো তনিমারা এ পাড়ায়  ভাড়া এসেছে । বেশ ভালো এলাকাটা, কোনো ঝুট ঝামেলা নেই ।

কিন্তু উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের ওই ছেলেটা এমন ড্যাব ড্যাব করে তাকায় বিরক্ত লাগে!!

এতো ছিঁচকে যে  রাগী চোখে তনিমা ওর দিকে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেও অসভ্যের মতো আরো বেশি করে যেন দেখে ..বোধহয় মিচকি হাসিটাও সংগে থাকে । এতটা নির্লজ্জ হতে পারে!

গা জ্বলে যায়! সুন্দর সৌম্যকান্তি এই চেহারা দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবেনা ছেলেটা এতটা চরিত্রহীন।

সেদিন ব্যাপারটা একটু বাড়াবাড়িই হলো   কলেজ যাওয়ার তাড়াহুড়োয় জামাকাপড় ছাড়ার সময় পর্দাটা টানতে ভুলে গিয়েছিলো তনিমা । খোলা শরীরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু সাজসজ্জা করার সময়েই খেয়াল হলো পেছনের পর্দাটা টানা হয়নি আর ওই অসভ্য ছেলেটা ফ্যালফ্যাল করে ওকে যেন গিলছে ।

দৌড়ে তোয়ালেটা কোনোরকমে আড়াল করে পর্দাটা টেনেই বিছানায় বসে ফুঁপিয়ে উঠলো তনিমা l ছি ছি , কি কান্ড ! শেষপর্যন্ত ছেলেটার চোখে ওর নগ্ন শরীরটা … আর ভাবতে পারলোনা তনিমা ।  রাগে ফুঁসে উঠলো শরীর । আজ এসপার নয়  ওসপার ।

কোনোরকমে জামাকাপড় পরেই বাড়ির গেট খুলে ছুটলো ওই অসভ্য ইতরটার বাড়ির দিকে । ওর মা  ছুটে এলো ওর পেছনে ।

আরে তোর আবার হটাৎ কি হলো ? হন্তদন্ত হয়ে  চললি কোথায়?

কে শোনে কার কথা ।

দিকবিদিক শূন্য তনিমার মাথায় তখন আগুন জ্বলছে । দরজায় দুটো জোরে ধাক্কা মারতেই এক  মধ্যবয়স্কা মহিলা দরজা খুলতেই তনিমা যেন  ঝাঁঝিয়ে উঠলো ।

– আপনার ছেলেকে একবার নিচে ডাকুন ।

– কি হয়েছে মা? ভদ্রমহিলা ওর উগ্রচণ্ডা মূর্তি দেখে ঘাবড়েই গেছেন ।

– কি হয়েছে?  রাগে দিশাহারা  তনিমা ।

– আগে আপনার নির্লজ্জ বেহায়া  ছেলেকে নিচে  ডাকুন ..তারপর বলছি কি হয়েছে ।

– শোনো মা ..তুমি ভেতরে এস আগে , তারপর না হয়…

– আপনার বাড়িতে আসার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই মাসিমা । আপনি ওনাকে ডাকুন । তনিমা সুর এতটুকু নরম করলোনা ।

চারিপাশে ততক্ষনে বেশ লোকজন ভীড় করেছে । ভদ্রমহিলা যেন আরও কুন্ঠিত বিচলিত।

– কি হয়েছে,  আমাকে বলবে মা ? মহিলা যেন আরো লজ্জিত ।

– আপনি জানেন , দিনের পর দিন আপনার ছেলে উপর ঘরের জানলা দিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে যায়! আমি ইশারায় প্রতিবাদ করেও ওনার দৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারিনি । আজ পোশাক বদলানোর সময় পর্যন্ত …

মাথা নিচু করে প্রবল ধিক্কারে  ভদ্রমহিলাকে আক্রমণ করতেই মহিলা কেঁদে ফেলেন ।

চারিপাশে একটা গুঞ্জন ।

নিস্তব্ধ দিশাহীন ভদ্রমহিলা চোখের জলটা মুছে তাকালেন তনিমার দিকে ।

– শোনো মা .. আমার ছেলে খুব ভালো । আমি গর্বিত ওর মতো ছেলের মা হয়ে । এমন কাজ ও করতেই পারেনা ।

ভদ্রমহিলার কথা শুনে রাগ যেন  আরো বেড়ে গেল তনিমার । আরো কিছু বলার আগেই ভদ্রমহিলা ওকে থামিয়ে বললেন .. ও দেখতে পায়না মা , দুর্ঘটনায় দুটো চোখ ই অন্ধ হয়ে গেছে ! এখন গানই ওর একমাত্র সম্বল ।

– কি !!

নিমেষের মধ্যে যেন চারিদিকে অন্ধকার হয়ে আসে তনিমার । ওর শ্বাস প্রশ্বাস যেন একমুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গেল!  একি শুনছে সে ! বাকরুদ্ধ তনিমা হাত দুটো জোড় করে শুধু  নিঃশব্দে ক্ষমা চেয়ে নেয় ।  তারপর এক ছুটে বাড়ি ।

হয়তো নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেনা কখনো ।  ভদ্রমহিলা পলকহীন চাহনিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে … চোখের জল চিকচিক করছে  রোদের আলোয় ।

Tags: , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ