08 Mar

দুই অকিঞ্চিতের গল্প

লিখেছেন:তপন মোদক


 

…………

হরিপদদা

হরিপদদাদার কথা বলতে গেলে মানসিক ভারসাম্যহীনতার অনেক দৃশ্য আর তার পরেই আমার কিশোর বয়সের অনেক টুকরো টুকরো ঘটনা চোখের সামনে ভেসে আসে – আর তখনই চৈতালির কথা মনে পড়বেই, আর চৈতালির কথা মনে পরার অর্থই হল একরাশ মনখারাপের মেঘ মনের মধ্যে থম মেরে থাকা, রজত জয়ন্তী অতিক্রম করা বউ’এর সঙ্গে অহেতুক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া – তবু হরিপদদার কথা আমাকে বলতেই হবে।

কিছু কথা বোতলের মুখে আটকে থেকে অন্যকে রাস্তা দেয় না, অনেকটা কোষ্ঠকাঠিন্যের মত – সারাদিন মেজাজ আধখেঁচরা যেন আধপোড়া বেগুন – বাপ বললে – থাক। সোজা গল্পে আসি।

আমাদের এক পরিচিত বাড়ির গৃহকর্ত্রীর বাপের বাড়ির তরফের কাজের লোক হরিপদ। বাড়ির গৃহকর্ত্রী যাকে আমি মাসিমা বলি তাঁর মার কাছে হরিপদর বাবা, এই পাগল – ছাগল ছেলেটাকে রাখবে মা, একে নিয়ে আমি কি করব – বলে রেখে গেছলেন। অর্থাৎ দশ – বারো বছর থেকে হরিপদ তাঁর বা তাঁদের পুষ্যি। এই বাড়ির ছেলের (!) মত হরিপদদাকে দিয়ে ভোর বেলায় জল তোলা থেকে শুরু করে রাতে শেষ লোকের খাওয়ার বাসন মাজা পর্যন্ত কাজ করানোর পর তার পুষ্যি – মা’র পা টিপে দিয়ে নিজের ঘর অর্থাৎ গোয়াল ঘরের পাশে একটা একচালায় শোয়ার ছাড়পত্র পেত। হরিপদ শুয়ে শুয়ে আগামী কালের তার জন্য বরাদ্দ কাজগুলো গানের সুর করে গাইতে গাইতে ঘুমিয়ে পড়ত। যেমন, গরুর জাবনা কাটতে হবে গো -/ সাবি দিদির কাপড় – জামা কাচতে হবে গো -/ ছবি দিদির চানের জল গরম করতে হবে গো -/ পবন দাদার সঙ্গে বাজার যেতে হবে গো -/ কাল আলুর বস্তা বইতে বড্ড কষ্ট হবে গো – ইত্যাদি ইত্যাদি। আর শেষে, আমার বড্ড খিদে পাচ্ছে গো – ভাতের খিদে নয় গো মা, রুটির খিদে গো – শেষ লাইন দুটো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেকবার গাইতে গাইতে ঘুমিয়ে পড়ত। হ্যাঁ, হরিপদদার সবসময় খুব খিদে পেত আর খিদে পেলেই দুহাত তুলে নাচতে নাচতে সুর করে গান গাইত – সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ওর ভাতের খিদে পেত আর মাঝ রাত পর্যন্ত রুটির খিদে। ধমক না খেলে এ গান চলতেই থাকত।

এই সব আমার শোনা কথা। আমি হরিপদকে প্রথম দেখি তার বৃদ্ধ বয়সে – অসংলগ্ন হাঁটা, ন্যুব্জ মুখে আদিম অকৃত্রিম হাসি। মাসিমার মার সঙ্গে একরাশ ব্যাগ মাথায় পিঠে নিয়ে পিছন পিছন আসতো। আলাপ হবার পর থেকে সেই একমুখ হাসি নিয়ে বলতো, কেমন আছো গো নতুনবাবু – হরিপদর কাছে দু – চার জন ছাড়া সবাই নতুনবাবু বা নতুন দিদিমণি। মাসিমার বাড়িতে সবার খুব পুলক, হরিপদ এসে গেছে – কদিন বিশ্রাম – হইহই আড্ডা – গানের আসর। সেই গানের আসরেই চৈতালি -। হরিপদদা অনেক রাতে ছাদে নাচতে নাচতে গাইতো – বড্ড খিদে পেয়েছে গো মা ইত্যাদি ইত্যাদি। নীচে তখনও আসর সরগরম – হঠাৎ সম্বিত ফিরতো কারো – হরিপদ কোথায় – তারপর ডেকে তাকে খেতে দেওয়া হত। একদিন আমার চোখে পড়েছিল হরিপদ’র খাওয়া – যেন দীর্ঘদিনের একটা অভুক্ত কুকুর গোগ্রাসে পরম তৃপ্তি করে খাচ্ছে। আর খাদ্য সম্পর্কে না বলাই বোধ হয় সংস্কৃতি। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। একদিন ওই বাড়ি থেকে একটা চেঁচামেচির শব্দ আমাদের কানে আসছিল। পুরানো পাড়া হলে যা হয়, সবাই কান খাঁড়া করে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম, ব্যাপারটা কি। তখন অন্যের ব্যাপারে প্রত্যক্ষ নাক না গলানোর অভ্যাস আমরা শুরু করে দিয়েছি। চিৎকার থেকে মোটামুটি বোঝা গেল, মূল অভিযুক্ত হরিপদদা। সবাই চীৎকার করছে আর হরিপদদা কাঁদতে কাঁদতে কিছু একটা বলছে। হরিপদদা অন্যায় করেছে এ ব্যাপারে মোটামুটি একমত হওয়া গেল। আমাদের পাশের বাড়িতে এক কাজের দিদি ছিল। তাকে সবাই বলত, রেডিও। পাড়ার সব বাড়ির হাঁড়ির খবর পরিবেশনা করায় তার জুড়ি ছিল না। তার বলার নিজস্ব একটা ঢং ছিল। আর তাতে থাকতো কল্পনার মিশেল। অতি সাধারণ ঘটনা অতি সুস্বাদু হয়ে উঠতো তার পরিবেশনার কায়দায়। তার কাছে কদিন বাদেই সেদিনকার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পাওয়া গেল। সেদিন হরিপদদাকে খেতে দিতে সবাই ভুলে গেছে। আগেই বলেছি হরিপদদা খিদে একদম সহ্য করতে পারতো না। বিকালে সবাই যখন দিবাঘুমে মগ্ন, তখন হরিপদদা একটা ঢাকা দেওয়া পাত্রে নিজের খাবার ভেবে সব ভাতটাই খেয়ে নেয়। এটাই হল অপরাধ। আসলে ওই খাবারে বাড়ির পোষা কুকুরেরও ভাগ ছিল। এত বড় অকৃতজ্ঞ হরিপদদা যে কুকুরটার কথা না ভেবে নিজেই সবটা সাঁটিয়াছে। এখানেই শেষ নয়, শাস্তি হিসাবে হরিপদদাকে তিন দিন কিছু খেতে দেওয়া হয় নি।

মাসিমার ছোট বোনের এখানে থেকেই বিয়ে হয়েছিল। বিয়ে বৌভাত মিটে যাবার এক দিন পর দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর তুমুল হইচই। আমিও চৈতালির টানে টানে হাজির। মজার উৎস হিসাবে হরিপদদাকে খেপানো হচ্ছে। মাসিমার চার বোন। প্রথমে দু-বোনের এবং ছোট বোনের বিয়ে সামাজিক ভাবেই বাড়িতে হয়েছে – তৃতীয় বোন যার নাম রুনু – বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বর্তমানে যে যার মত করে বোঝানোর চেষ্টা করছে – রুনুর তো কবেই বিয়ে হয়ে গেছে – ওই দেখো ওর বর – ওই তো ওর দুটো ছেলে। হরিপদর সাফ জবাব, না ওর বিয়ে হতেই পারে না। সবাই বলল কেন কেন কেন ? হরিপদর সাফ উত্তর, রুনু দিদির বিয়েতে জল তুলে আমার গায়ে ব্যাথা হল কই ? টুলু দিদির বিয়ের পর আমার একমাস লেগেছিল গায়ের ব্যাথা সারতে – সাবিদিদির বিয়ের দিন পা’টা যে বেঁকে গেলো সোজা করে হাঁটতেই পারছি না এখোনো – এবার বল দেখি রুনু দিদির বিয়েটা হলো কি করে – হরিপদদাকে বোকা বানানো অত সহজ নয় – রুনু দিদির বিয়ে হবে আর আমি জানবো না। এর পরেও ক্যাওড়াপার্টির অধিকাংশই বেশ জমিয়ে হাসতে লাগলো – হ্যাঁ, চৈতালিও।

…………………

ভ্যাবলা

অমানুষ সেদিন রিলিজ করছে। শুক্রবার। তার আগে বিবিধ ভারতী শ্যামল মিত্রের অনেক দিন বাদে সুর দেওয়া গানগুলি বাজিয়ে বাজিয়ে হিট করে ছেড়েছে। উত্তমকুমারের সঙ্গে শর্মিলা। সেও অনেকদিন পর। প্রথম দিনে প্রথম শো না দেখলে কেন যে বেঁচে থাকা। তখন টিকিটের নিম্নতম দাম পঁয়তাল্লিশ পয়সা। কাছাকাছি সিনেমা হল গুলিতে ব্ল্যাকারদের তখন রমরমা। সবই নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। কারও বাবা হয়তো সরকারি অফিসে চাকরি করে বা ব্যবসা। এখনকার মত রিক্সাওয়ালা বা বাড়ির কাজের লোকের বা হরিজন পল্লীর পরিবারের ছেলেরা এখানে ঢুকতে পারতো না। একটা অলিখিত সীমারেখা ছিল। ব্লাকারদের প্রায় সবাই হাতখরচের জন্য সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করতো। কেউ কেউ ফুচকা বা চটপট খাইয়ে আমাদের কাছে জনপ্রিয় থাকতে চাইতো। এখন তারা প্রসিদ্ধ ফটোগ্রাফার বা কমপিউটার ব্যবসায়ী, ছেলেমেয়ে নামী স্কুলে পড়ে বা চাকরি করছে, তাদেরকে আমি সেই সময় টিকিট ব্ল্যাক করতে দেখেছি। আমার তখন ক্লাস এইট। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বলেছিল আজ দুটাকার নীচে টিকিট পাবার কোনও সম্ভাবনাই নেই। মা’র একটা পয়সা জমানোর কৌটো ছিল। সম্ভবত পন্ডস পাউডারের। মুখটা একটা একটাকার কয়েন ঢুকতে পারে এভাবে ফুটো করা। কিন্তু সেই কৌটো কখনোই ভর্তি হতে পারতো না। আমার সিনেমা দেখা বা হাতখরচের একমাত্র উৎস ছিল মার ওই ভান্ডার। এক বিচিত্র কায়দায় আমি একটাকা দুটাকা বার করে নিতাম।

হাবু ছিল আমার সিনেমা দেখার সঙ্গী। দুজনে এগারোটা নাগাদ স্কুলে যাবার নাম করে দেবেনদার দোকানে বই খাতা রেখে বিনা টিকিটে শ্রীরামপুরে মানসী হলের সামনে। দেবেনদার কথা মনে পড়লেই আমার মনে হয়, ওই ভদ্রলোক দুই পরিচিত বালকের স্কুল পালানোতে প্রত্যক্ষ মদত কেন যে দিতেন – তা আমার কাছে রহস্য। এই পরিণত বয়সে মনে হয় যে সমস্ত মানুষ বয়ে গিয়ে নিজের জীবনকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে সারাটা জীবন এবং কপর্দকহীন অবস্থায় শেষ হয়ে যায় তাদের এই দেবেনদার মত লোকেরা অন্তরালে মদত যুগিয়ে যান দিনের পর দিন কি এক অজানা কারণে। দেবেনদার কথা এখন থাক।

সেবার আমি আর হাবু মানসীর সামনে গিয়ে দেখি সে এক মারমার কাটকাট অবস্থা। হাবুর চোখ রাঙানি শুরু হয়ে গেল, আজ স্কুল গেলেই ভালো হত। হরেনবাবুর ক্লাস আছে। আর হাবু সেই সমস্ত ব্যারিকেড ভেঙে যেভাবে আমাদের সঙ্গ দিত তা নিয়ে শরৎবাবু লালু সিরিজের পর হাবু সিরিজ লিখে আরও স্মরণীয় হতে পারতেন। মানসীর টিকিট কাউন্টারের সামনের দিকে রেলিং দিয়ে ঘেরা ছিল। অনেকটা নিউ এম্পায়ার হলের মত। লাইনে একজনের বেশি দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব ছিল। মোটামুটি কুড়িজন দাঁড়াতে পারতো ওই খাঁচায়। সেদিন ওইখানে জনা পঞ্চাশেক ব্ল্যাকার ঘেঁষাঘেঁষি করে অশ্লীল চিৎকারে তাদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার বাইরে লাইনে প্রায় শ’তিনেক লোক। তখনো টিকিট দিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি। আমি ওই খাঁচার কাছে গিয়ে পরিচিত মুখ খোঁজার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দ্বিতীয় স্থানের দাবিদার যাকে পাশাপাশি ছেলেরা ভ্যাবলা নামে ডাকছিল তাকে দেখে আমার বালক মন আস্থাবান বলে চিহ্নিত করেছিল। হাবুর কাছ থেকে দুটাকা নিয়ে আমার দুটাকা সমেত তাকে বললাম, দাদা – আমার দুটো টিকিট দিতে হবে। ভ্যাবলা তো দাঁতমুখ খিঁচিয়ে জমিদার তনয় সম্বোধন করে গোটা চারেক চোখা শব্দ ছুড়ে দিল। যথারীতি হাবুরও চোখরাঙানি শুরু হয়ে গেল। হাবুকে নিবৃত্ত করে সরিয়ে দিয়ে আমি ভ্যাবলার দিকে তাকিয়ে কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। মিনিট পনেরো বাদে ভ্যাবলা হঠাৎ বলল, দে টাকা – এখান থেকে ফোট, ঠিক সময়ে টিকিট পেয়ে যাবি। আমি সঙ্গে সঙ্গে টাকা দিয়ে সরে গেলাম ওখান থেকে।

তারপর আরও কিছু ব্ল্যাকার ওই খাঁচায় ঢোকার চেষ্টা করতেই মারপিট শুরু হয়ে গেল – আমরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে নিজেদের ভাগ্যকে দুষতে লাগলাম। আমাদের মফস্বলের সিনেমা হলগুলির ম্যানেজারদের খুব দাপট ছিল তখন। আমি তো স্বপ্ন দেখতাম, বড় হয়ে হল ম্যানেজার হব। মানসীর হল ম্যানেজার পুলিশ ডেকে আনল। তারা লাঠি চার্জ করে লাইন থেকে সবাইকে হটিয়ে দিল। পুলিশ ভদ্রচেহারা দেখে দেখে নতুন লাইন তৈরি করে দিল। ব্ল্যাকারদের কোনও চিহ্ন রইল না। আমরাও ওই লাইনে দাঁড়াতে পারতাম। পয়সাও কম লাগত। কিন্তু আমাদের কাছে আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না। হাবু তো শুধু মারতে বাকি রাখলো। হবু আর আমি নখ খুঁটতে খুঁটতে পায়ে পা ঘষতে ঘষতে হলের সামনে দাঁড়িয়ে ভাগ্যবানদের দেখতে লাগলাম। সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেল। হাউসফুল বোর্ড লাগানো হলো। ফাস্ট বেল পড়লো – সেকেন্ড বেল পড়লো – আমার চোখে জল আসব আসব করেও আসছিল না। একটা কান্না আছড়ে পড়তে চাইছিল হলের সামনে। হাবু আমার চেয়ে অনেক প্রাকটিক্যাল তখন থেকেই। সে আমার অবস্থা দেখে গালমন্দ করতে লাগলো। ওখান থেকে চলে যেতে চাইল। আমার তখনও ক্ষীণ আশা, আসবে সে আসবে – হাবুকে বলতেই, আবার গালাগাল। আমি ক্ষীণস্বরে বললাম, থার্ড বেল পর্যন্ত থাকতে দে প্লিজ। থার্ড বেল বাজবো বাজবো করছে হঠাৎ দেখি গোটা চারেক পুলিশ লাঠি উচিয়ে একটা ব্ল্যাকারকে তাড়া করেছে। কাছে আসতেই দেখি ভ্যাবলা। এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে ছুটছে। পিছনে পুলিশ, আমাকে দেখে, আমার হাতে দুটো টিকিট গুঁজে দিয়ে ছুটতে ছুটতে আমার জীবনদর্শনকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়ে চলে গেল। থার্ড বলে তখনই বাজলো।

পরে মানসীতে আরও অনেকবার সিনেমা দেখতে গেছি। ভ্যাবলাকে খুঁজে পাই নি।

 

Tags:

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ