তারিখ: 25 Sep

ভগীরথ মিশ্র’র লেখালিখি

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমীর ঘোষ


[ বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে  তাঁর  লেখা সুবৃহত উপন্যাস ‘ মৃগয়া’। একে কেউ বলেছেন মহাসাহিত্য আবার কেউ  বলেছেন ভারতীয় উপন্যাসের মডেল। তাঁর লেখালিখি হয়ে উঠেছে  বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গবেষনার বিষয়।  তিনি ভগীরথ মিশ্র। যাঁর লেখায় পাঠক খুঁজে পান মাটির টান।  তিনি মনে করেন গোটা ভারতবর্ষটাই কৃষিপ্রধান আধা সামন্ততান্ত্রিক দেশ। গোটা দেশটাই  একটা গ্রাম। যার ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে আছে অজস্র গল্প, অজস্র কাহিনী। পেয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কার সহ বহু সম্মান।প্রচারের আলো থেকে নিজেকে আড়ালে রেখেই নিরলস সাহিত্য সৃষ্টি করে চলা মানুষটির সাক্ষাৎকারে উঠে এল অনেক অজানা কথা। ‘গল্পের সময়’-এর পক্ষে  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমীর ঘোষ।]

গল্পের সময়ঃ    আপনি দীর্ঘ বছর ধরে গল্প লিখছেন। ৩১ বছর বয়সে আপনার প্রথম গল্প প্রকাশ হয় বালুরঘাট থেকে প্রকাশিত ‘মধুপর্ণী’ পত্রিকায়। গল্পের নাম ছিল ‘কদমডালির সাধু’। এই গল্প কী আপনি হঠাৎ লিখেছিলেন? নাকি গল্প লেখার কোনও প্রস্তুতি ছিল?

ভগীরথ মিশ্রঃ   এই গল্পটা লেখার কোনও প্রস্তুতি ছিল না ঠিকই, কিন্তু অনেক ছোটবেলা থেকেই আমি টুকটাক গল্প লিখতাম। আমি যখন ক্লাস সেভেন-এইট বা নাইনে পড়ি তখন একটা পাখির গল্প লিখেছিলাম পোয়েটিক জাস্টিসের ঢঙে। একজনের বাড়ির বাগানে, পুকুর পাড়ে একটা পাখি বাসা বেঁধেছিল। পাখি বাচ্চা দিলেও মালিক সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিশেষ কারণে গাছটা কেটে ফেলল। এতে বাচ্চাগুলো জলে পড়ে মারা গেল। এরপর ওই জমির মালিক যখন সপরিবারে গঙ্গাসাগর গেল তখন তার দুই শিশু সন্তানও জলে ডুবে মারা গেল। এই ছিল আমার গল্পের বিষয়। সেই গল্পের একজন মাত্র শ্রোতা ছিলেন, আমার মা। এই গল্প শুনে মা দু-বার কেঁদেছিলেন। একবার পাখির বাচ্চা মারা যাওয়ার সময়, আর একবার ওই জমির মালিকের বাচ্চা দুটো মারা যাওয়ার সময়। এরপর টুকটাক স্কুল ম্যাগাজিন বা এখানে ওখানে যা লিখেছি তা হারিয়ে-টারিয়ে গেছে। তখন আশুতোষ, যোগমায়া এবং শ্যামাপ্রসাদ এই তিন কলেজ নিয়ে গল্প কবিতা-প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা হত। ১৯৬৬ সালে আমি তখন আশুতোষ কলেজের ছাত্র। সে বছর আমার লেখা একটা গল্প দ্বিতীয় স্থান অধিকার করল এবং পরের বছর ম্যাগাজিনে তা ছাপা হল। সেই ম্যাগাজিন আজও আমার কাছে আছে। এরপর নবকল্লোল পত্রিকায় ‘মূলধন’ নামে আমার একটি গল্প প্রকাশ হয়। সেটি ছিল একটি   ট্যাঁস গল্প। এখন শুনলে হাসি পায়। এদিকে ১৯৭৪ সালে আমি বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসে যোগ দিই। বালুরঘাটে আমার পোস্টিং হয়। বিডিওর চাকরি করতে গিয়ে লেখালিখি লাটে ওঠে। আমার গল্পের খাতা বাড়িতেই থেকে যায়। চাকরিতে ঢুকে ৭৮ সাল পর্যন্ত আমি আর কিছুই লিখিনি। লেখার কথা ভাবিও নি। গল্প লিখে সাহিত্যিক হব সে কথা কল্পনাও করিনি।  তবে কোথাও বোধহয় তাগিদটা ছিল। তখন ‘মধুপর্ণী’ উত্তরবঙ্গের সেরা পত্রিকা।  অজিতেশ ভট্টাচার্য তার সম্পাদক। তার সঙ্গে পরিচয় হল, আলাপ হল। তার এক বিশেষ দিক ছিল। যার সঙ্গেই তার আলাপ হত (বিশেষ করে বহিরাগত সরকারি কর্মচারি) তাকেই কীভাবে ‘মধুপর্ণী’ পত্রিকার জন্য ব্যবহার করা যায় তা ভাবতেন। যার লেখালেখির ক্ষমতা নেই, কিন্তু শুনতে ভালবাসেন তাকে সাহিত্যপাঠের আসরে টেনে নিয়ে যেতেন। আমার সঙ্গে আলাপ হতে দু-চার কথায় তিনি বুঝে নিলেন আমি অল্পসল্প লেখালিখি করেছি। তিনিই আমার অফিসে বার তিরিশ ফোন করে এবং বাড়িতে বার কুড়ি এসে আমাকে দিয়ে গল্প লিখিয়ে নিলেন। সে গল্প লিখে মধুপর্ণী সাহিত্য সভায় পাঠ করা হল। সবাই মতামত দিলেন এবং তা ১৯৭৮ সালে ‘মধুপর্ণী’তে প্রকাশ হয়ে গেল। সেই গল্পটিই ‘কদমডালির সাধু’। প্রকাশ হওয়ার পর গল্পটি উচ্চ-প্রসংশিত হল। এমনকি মণি বাগচি গল্পটির সঙ্গে ডস্টয়েভস্কির গল্পের তুলনা করে বসলেন।

( সম্পাদনা চলছে। কিছু দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ  লেখাটি প্রকাশ হবে )

 

Tags: ,

 

 

 

  • কোটেশন ব্লগ

  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা

  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ।