19 Mar

ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু ও কয়েকটি বিতর্কিত প্রসঙ্গ

লিখেছেন:দেবাশিস মজুমদার


১৯৩৬ সালের ১৮ জুন মস্কো রেডিও ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করে। মস্কো রেডিও শোকবার্তায়  তাঁকে  ‘শ্রমিকের বন্ধু’ আর কমিউনিজমের বিজয়পথের একজন যোদ্ধা হিসাবে বর্ননা করেছিল। তাঁর মৃত্যু লেনিনের মৃত্যুর পর রাশিয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর শববাহী শকট নিয়ে মস্কোর কেন্দ্রস্থলে কয়েক লক্ষ মানুষের শোকমিছিল বেশ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে স্ট্যালিন ও তাঁর সতীর্থরা  তাঁর দেহাবশেষ বাহিত ভস্মাধার একটি সুসজ্জিত স্ট্রেচারে বসিয়ে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে রেড স্কোয়ারে যান। লেনিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েতে কোন সাহিত্যিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের আবেগপূর্ণ মন্তব্য এবং প্রায় লক্ষাধিক লোকের জমায়েত অবশ্যই সোভিয়েত তথা কমিউনিজমের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

ম্যাক্সিম গোর্কির জনপ্রিয়তা, গুরুত্ব ও সর্বোপরি তাঁর মৃত্যু-সবই কালোত্তীর্ণ সত্য। কিন্তু লেনিন পরবর্তী সোভিয়েতের লেখক শিল্পীদের অবস্থা বা আরও ভালভাবে বললে স্ট্যালিন জমানায় লেখক শিল্পীদের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ নিয়ে নানা বিতর্কিত কাহিনীর উপস্থিতি আজও সারা পৃথিবীর আলোচিত একটি অধ্যায়। এ নিয়ে নানা গালগল্প, লোকশ্রুতি ও রটনার হাত ধরে প্রায় ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু ও মৃত্যু পূর্ববর্তী কয়েকটি ঘটনা এমন কিছু বিতর্কিত  প্রসঙ্গকেই উসকে দিয়ে যায়।

গোর্কির মৃত্যু নিঃসন্দেহে সারা পৃথিবীর কাছে একটি দুঃসংবাদ পৌঁছে দিয়েছিল। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে এসেছিল নানা স্মৃতিচারণা। এরমধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল ম্যাক্সিম গোর্কির ব্যক্তিগত বন্ধু ফরাসি লেখক আঁন্দ্রে জিদ-এর মন্তব্য, যিনি তৎকালীন ইন্টারন্যাশানাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রাইটার্সের তরফ থেকে শোকপ্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন – সেখানে উঠে এসেছিল লেখকের শেষ ইচ্ছাকে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রসঙ্গটি। গোর্কির শেষ ইচ্ছা ছিল – শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের পর ভস্মাধার সমাধিস্থ হবে ‘সোভোদেভিকি সিমেট্রি’তে, সেখানে তিনি তাঁর মৃত পুত্রের পাশেই শায়িত থাকতে চান। কিন্তু আশ্চজর্যনক ভাবে তাঁর ভস্মাধার সমাধিস্থ করা হইয়েছিল ক্রেমলিন ওয়াল, নেড্রোপলিসে অর্থাৎ কিনা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের শেষ ইচ্ছার মৃত্যু ঘটনো হল রাষ্ট্রনেতার ইচ্ছায়।

সাহিত্যিক হিসাবে গোর্কির খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা ছড়িয়েছিল বিপ্লবের আগেই। তাঁর লেখালিখি চেকভ বা তলস্তয়ের সাথে তুলনীয় হয়ে ওঠে সেই সময়। অর্থাৎ, বিপ্লবের অনেক আগেই। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই ম্যাক্সিম গোর্কি হয়ে উঠেছিলেন সারা পৃথিবীর আলোচিত সাহিত্যক। তিনি নানা সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইটালী ও আমেরিকার মতন নানা দেশে গিয়েছেন, নানা বিখ্যাত মানুষের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। এদের মধ্যে জর্জ বার্নার্ড শ বা এইচ ডি ওয়েলশ-এর নাম করা যায়। গোর্কির মৃত্যুর পর বার্নার্ড ‘শ-এর মন্তব্যটি মনে রাখার মতন। নিউইয়র্ক টাইমস ১৯৩৬ সালের ১৯ জুন তাদের সংবাদপত্রে গোর্কির মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করে- ‘Maxim Gorky dies at Moscow Villa’ শিরোনামে। সেখানে একটি জায়গায় লেখা হয়েছিল –  “His fame, at the turn of the century, was international. In later years he has been more of a semi-political figure in Soviet Russia.” আর অ্যাসোসিয়েটস প্রেস বা এ পি-কে উদ্ধৃত করে লন্ডন টাইমস জর্জ বার্নার্ড শ’-এর একটি মন্তব্য প্রকাশ করেছিল- “I dare say it’s time for all of us nineteenth century writers to clear out. You’d better prepare my obituary. You never know.”

এই রকম যাঁর জনপ্রিয়তা, তাঁর সাথে কিভাবে দূরত্ব  হচ্ছিল তৎকালীন রাশিয়ার কর্ণধার জোসেফ স্ট্যালিন-এর? গোপনে, সঙ্গোপনে সেই শিকড় কি প্রোথিত হয়েছিল লেনিনের মৃত্যুর পর? যখন তিনি সোভিয়েতের বাইরে। এ প্রসঙ্গে একটি বইয়ের নাম উল্লেখ করা যায়-Arkady Vaskberg- এর  ‘The Murder of Maxim Gorky;  লেখক সাইবেরিয়ার ১৯২২ সালে জন্মগ্রহন করেছিলেন এবং সাংবাদিকতার ডিগ্রি নিয়ে ‘ম্যাগাজিন লিটারেচারামিয়া গেজেট’ –এর প্যারিস করপসনডেন্ট-এর কাজ করেছিলেন দীর্ঘদিন। ২০০৬ সালে ‘এনিগমা বুকস’ প্রকাশিত ৪২৫ পৃষ্ঠার এই বইটি অনেক বিতর্কিত প্রসঙ্গ উসকে দেয়। উসকে সেয় স্ট্যালিন সাম্রাজ্যের দাপুটে কার্যকলাপকে। যার সঙ্গে লেনিন জমানার মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। লেনিনের মৃত্যুর পর স্ট্যালিনের ক্ষমতা দখল ও তাঁর পরবর্তী সময়ে নানা দাপুটে পদ্ধতির শিকার সেখানকার বহু শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী। এ প্রসঙ্গে বইটির  প্রচারপত্রে উদ্ধৃতির উল্লেখ করা যায়- “A fascinating view of the Soviet System at the beginning of the Stalin Terror among intellectuals.” এই একই বক্তব্যকে সমর্থন করে লেখা তাঁর আর একটি বইয়ের নাম করা যায় Palgrave Mackmillan প্রকাশিত  Maureen Perrie-র লেখা- “ The cult of Ivan the terrible  in Stalin’s Russia’. যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় কিছু কিছু লেখা হয়েছিল স্ট্যালিনের বিরোধিতা করানোর জন্য কিংবা স্ট্যালিন-এর উপস্থিতি তৎকালীন যুগে ‘সময়ের ফসল’ হিসাবে কিংবা স্ট্যালিন গণতন্ত্রের বিশেষত শিল্পী সাহিত্যিকারদের কণ্ঠরোধ যাই করে থাকুক না কেন, তিনি তো আর হিটলারের সমতুল্য নন, কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতিতে স্ট্যালিনের উপস্থিতির গুরুত্বটা ভাবা দরকার ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এসব সত্ত্বেও তো একটা কথা স্বীকার করতেই হবে স্ট্যালিনের মতের সরাসরি বিরোধিতা করা বুদ্ধিজীবীরা খুব বেশী প্রশ্রয় না পেয়েও নীরবে কাজ করে যেতে পেরেছেন সোভিয়েতে- এমন উদাহরণ ছিল। গোর্কির মৃত্যু বা পরবর্তী প্রসঙ্গ আজ সবচেয়ে বেশী আলোচিত হয় এই কারনে যে, খ্যাতির শীর্ষে থাকা মানুষটির সঙ্গে লেনিনের বন্ধুত্বের বা মতবিরোধের অনেক ঘটনাই আছে। এক অর্থে মেনশেভিক ঘেঁষা গোর্কির সঙ্গে বলশেভিক পার্টির লেনিনের শতকরা একশ ভাগ বন্ধুত্ব ছিল এমন ঘটনা নিশ্চয় নয়। আর সর্বোপরি সার্থক সাহিত্যিকের খোলা মনের বিচিত্র প্রকাশ নিশ্চয়ই রাষ্ট্রনৈতিক কর্নধারের মনের বিচিত্র প্রকাশ নিশ্চয়ই রাষ্ট্রনৈতিক কর্ণধারের মনের হিসেবি গতির সঙ্গে গরমিল হতেই পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক অভিমুখকে স্বীকার করে তাঁকে মর্যাদাদান করা সাধারণ গণতান্ত্রিক পর্যায় বলে মেনে নেওয়া হয় সব রাষ্ট্রে। এই উদারতার বিচ্যুতটিকেই ধরা হয় স্ট্যালিন জামানার শাসনকালের বৈশিষ্ট হিসেবে। গোর্কির মৃত্যু পূর্ববর্তী কিছু ঘটনা তার আলোচনায় উঠে আসে। ঘটনাগুলির বিশ্লেষন জরুরি।

১৯৩০ সালের পরবর্তী সময়ে ‘White sea canal campaign’ কে কেন্দ্র করে গোর্কির সাথে স্ট্যালিনের মতপার্থক্য তৈরি হয়। আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন রচিত ‘The Gulag Archipelago’ বইটির কথা উল্লেখ করা যায়। যেখানে, সলঝেনিৎসিন এই সময়কালে গোর্কির নানা ভূমিকার চিত্রায়ন করেছেন।

১৯২১ সালে লেনিনের পরামর্শেই গোর্কি স্বাস্থ্য উদ্ধারের কারণে রাশিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দেন পরিবার সহ। অবশেষে ইটালির শহর সোরেন্টোতে স্থায়ী ভাবে বাস করেছিলেন। কারন, সেই সময়ে তিনি যক্ষারোগাক্রান্ত ছিলেন। সেই সময় স্বাস্থ্য উদ্ধারই একমাত্র চিকিৎসা ছিল এই রোগের। এর মধ্যে লেনিনের মৃত্যু হয়। গোর্কি তখন সোভিয়েতের বাইরে। নতুন রাশিয়ার কর্নর্ধার স্ট্যালিন কিন্তু সমাজ রূপান্তরের পথে শৈল্পিক সত্ত্বার  অস্তিত্বকে মেনে নিয়েছিলেন এবং নিজের নীতির বাস্তবায়নের পথে নেতৃত্ব দিতে দিয়েছিলেন গোর্কিকেই। সোভিয়েত রাইটার্স ইউনিয়নের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন গোর্কি। তাঁর জন্মস্থান নিজনি নোভোগর্ড-এর প্রাচীন নাম বদলে গোর্কির নামানুসারে করা হয়েছিল। এগুলি সবই ঠিক। কিন্তু ঐ কতকগুলি বিতর্ক এসেই যায় স্ট্যালিনের জামানার ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে তাই একটি যার মৃত্যু যার রহস্য আজও প্রশ্ন চিহ্ন নিয়ে ঝুলে আছে। গোর্কির মৃত্যুর মধ্যে সেই প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। গোর্কির পুত্র ম্যাক্সিম পেশকভ-এর মৃত্যু হয় ১৯৩৪ সালের মে মাসে তৎকালীন সোভিয়েত ইন্টেরিয়ার মিনিস্টার গেনরিস ইয়াগোডার সাথে একটি ‘পান-আসর’ থেকে ফেরার পরে । এ রহস্য অমীমাংসীত । অথচ সেই গরমেই সোভিয়েত রাইটার্স ইউনিয়নের কংগ্রেসের উদ্ধোধনী ভাষণ দেওয়ার জন্য ডাকা হয়ছে গোর্কিকেই। নিন্দুকরা রটিয়েছিল, পুত্রকে হত্যা করাইয়া আগ্রাসী স্ট্যালিন পিতার অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালাময়ী মতামত নিয়ন্ত্রন করতেই তাঁর খোলাখুলি মতামত রাইটার্স কংগ্রেসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে ভেবে রাইটার্স কংগ্রেসের অধিবেশন সে বছর আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। গোর্কির মানসিক বিভ্রান্তির যুক্তিতে যার কোন প্রয়োজনই ছিল না। আর সেই অধিবেশনে গোর্কি সোভিয়েত সাহিত্যের ভবিষ্যত নিয়ে মাত্র দু’চার কথা বলেছিলেন। ঘটনার এখানেই শেষ নয় – নিন্দুকেরা বলেন, ১৯৩৫ সালে গোর্কি-স্ট্যালিন সম্পর্কের অবনতি হয়। যার ফসল ১৯৩৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রাইটার্স কংগ্রেসের অধিবেশনে স্বাস্থ্যের কারনে – গোর্কির যোগদান না করা। সমালোচকরা বলেন, গোর্কি ওই সময় অসুস্থ ছিলেন সত্যি, কিন্তু ছিলেন স্ট্যালিন নিয়ন্ত্রিত চূড়ান্ত রাষ্ট্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রনে। জীবিত মিথ হয়ে যাওয়া গোর্কিকে আন্তর্জাতিক লেখক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের উদ্দেশ্যেই নাকি এই অলিখিত ফতোয়া ছিল স্ট্যালিনের। সত্যাসত্য বিচার করা মুশকিল। কিন্তু স্ট্যালিনের এই আচরন তো বহুবার প্রমানিত হয়েছে- আলেকজান্ডার সলঝেনিতসিন, বুলাগাকভ কে না আছেন?

এর পরের নিন্দাটি আরও মারাত্মক, রাশিয়ান ঐতিহাসিক আরকেডি ভ্যাক্সবার্গ দাবি করেছিলেন – গোর্কির মৃত্যু হৃদযন্ত্রের গোলযোগের কারনে নয়, স্ট্যালিনের নির্দেশে বিষক্রিয়া ঘটানোর মধ্যে দিয়ে। এই ঘটনার প্রমান নিশ্চয় নেই; অথবা হয়ত আছে ওই ঐতিহাসিকের কাছে। কিন্তু গোলমেলে গোর্কি প্রেমিক মানুষ তো স্বাভাবিক ভাবেই গনতন্ত্রপ্রেমী মানুষ। তাঁরা তো স্ট্যালিনের এই আচরণের বহু নমুনা এর আগে বা পরে পেয়েছেন যা এই ঘটনাকে সত্য অসত্যর সীমারেখায় এনে দাঁড় করায় আর একটি ঘটনার সূত্রকে সঙ্গী করে। শেষ জীবনে গোর্কিকে প্রচুর রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়েছিলেন স্ট্যালিন। বিনিময়ে ঐকান্তিক অনুরোধ করেছিলেন তাঁর নিজের জীবনী লিখে দেওয়ার জন্য। অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন গোর্কি। তারই ফসল কি এই সম্পর্কের অবনতি?  আসলে ঐতিহাসিক বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান সূত্র পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় না বিতর্কিত ঘটনার রহস্য উদ্বোধনের নমুনা। কারন ঐ একটা রাষ্ট্রশক্তির স্বার্থ, সেখানে মুক্তমনা শিল্পী সাহিত্যিকের ব্যক্তিস্বার্থ চুপসে যাওয়া বেলুনের রূপ নেয়। উঠে আসে কর্তাভজার দল। ‘সত্য’ প্রশ্ন চিহ্নকে মুখোশ করে পথে হাঁটে। যে পথে যাওয়া সবার বারণ।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সোভিয়েত, বিশেষত ‘কমিউনিস্ট সোভিয়েত’ এর রহস্য উন্মোচন একটি বড় পণ্য। কত সাইটে কত দাবি, কত যুক্তি। CPI(ML)-এর মুখপত্র ‘Red Flag’ দাবি করে বসেছে, প্রলেতারিয়ান লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি সহ অন্যান্য লেখকদের হত্যা করিয়েছিলেন ট্রটস্কি। ভয়ঙ্কর দাবি, পাঠককে বিভ্রান্ত করার নানা কৌশল ছড়িয়ে আছে নেটওয়ার্ল্ডে। তবে এটা সত্য যে ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যুর পর তাঁর মহামূল্যবান মস্তিস্ক কোষ সংরক্ষণ করা হয়েছিল মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই। শল্য চিকিৎসকের সাহায্যে। এটি এখন সংরক্ষণ করা আছে  মস্কো নিউরোলজিক্যাল  ইনস্টিটিউটে লেনিন ও মায়াকোভস্কির মস্তিস্ক কোষের পাশেই।  এই কাজটিও তো হয়েছিল রাষ্ট্রশক্তির নির্দেশেই, তাই না?

জানা নেই, হয়ত রাষ্ট্রশক্তি তখন ‘ডি, এন এ গবেষণা সম্পর্কে এতটা অবহিত ছিল না, অথবা ছিল না’ ভবিষ্যতের ক্লোনিং’ সম্বন্ধে, সেটাই বাঁচোয়া । ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কোন রাষ্ট্রনায়ক যদি সেই গোর্কিকে ফিরে পেতে চান – তাহলে কোষ ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন গোর্কিকে ফিরে পেতেই পারেন। তিনি তাঁর জীবনদাতা ‘মার্তা (মাদার) কে জানিয়ে দেবেন তাঁর দেখা অতীত  সত্যকে। যে সত্য হয়ে উঠবে পৃথিবীর পথে হেঁটে যাওয়া মানুষের পৃথিবীর পাঠশালার প্রকৃত পাঠ। হতে থাকবে ট্রটস্কির- ‘দ্য রেভোলিউশন বিট্রেড’।

লেখাটি শারদীয় গণবার্তা ১৪২৪  সংখ্যায় প্রকাশিত।  লেখকের অনুমতিতে ‘গল্পের সময়’-এ ফের প্রকাশিত হল ।

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ