29 Sep

ঘা

লিখেছেন:সৌগত বালী


তোমার জিভের দুপাশে ঘা ঘা ভরে গেছে শান্তাপমা।
এসো আরো নিকটস্থ দেখি উহ তোমার শ্লেষা
ধারালো দ্বিপাক্ষিয় ।।
আমরা বরং ফেবিকুইক এনে আমাদের জিভ গুলো জুড়ে ফেলি ।।।
এখন আমাদের জিভেদের জুড়ে গেছে । শান্তাপমা আর আমি তাজমহল মাঝে মাঝেই দুপাশ সংক্রান্ত হাঁটছি। আমাদের মধ্যে দিয়ে বিধানসভা রাষ্ট্রীয়শোক সংবিধানসভা পেরিয়ে যাচ্ছেন সুরঞ্জিত ।। শান্তাপমা এই জিভ জুড়ে ফেলে আমি আসলে তোমার ব্যাকআপ নিয়ে রাখছি আর তোমার ধারালো ঘাগুলো আমার ফ্লুইডে এইমাত্র মিশে গেলো । অথবা এই শ্লেষা অন্তর্ভুক্ত মোট লেনদেন আমি এন্ড্রোয়েড সম্ভাবনা টুকে রাখছি অতিরঞ্জিত তথ্য বিনিয়োগকারীদের ।
এই বাড়ন্ত চর্মরোগগুলি গোড়ালি পেরিয়ে কার্পেটে ডিভানে ছড়িয়ে গেছে কয়েকদিন আগে।

দুহাজার আঠেরো এগারো দিন এগারো মাস
আমি এইমুহূর্তে ট্রেনে। ওদিকে শান্তাপমা তার ঘা গুলি পেচ্ছাবের তাড়নায় বাথরুমে ছেড়ে রাখে।রেখে ছিলো । আমার কার্পেটের ঘা গুলো শান্তাপমার টয়লেটের সংঘে জয়েন করে নেবে তখন অনেক রাত্রি।
এবং সে শঙ্কিত হয় ।ভোর রাতে একবার এসেছিলো কানের কাছে ফিস ফিস করছিলো । ভয় পাবে না হয় তবু কানাঘুষো শুনে থাকবে হাজার টাকারনোট বন্দি হচ্ছে । আর আয়নার সামনে দেখছিলে শান্তাপমা তোমার হাজার টাকার জিভ আর আমি আনন্দে আছি কতকাল দেখেছি আমার প্রলম্বিত অর্গানটি দুহজারের।

দুহাজার বছর আগে আমি একটা বোয়েমের মধ্যে মাছ ছেড়ে দেখেছিলাম মৎসাবতারে চলে যাচ্ছে শান্তাপমা ।আঁশালো কী ধর্তব্যের মধ্যে রাত । অবশেষে আঁশ ছাড়িয়ে রন্ধনশালার তীব্র শীতে হাত পা জমে যাচ্ছিল তোমার।।। অনন্তর নেয়ে ধুয়ে ঝকঝকে ঘরদোর ডিভানের নিচুতলা ঘাড়ের নিচে হাত রেখে বলেছিলে এসব নিদারুণ চর্মরোগ হেলাফেলা করো না কখনো আর খুঁটতে খুঁটতে দগদগে ।একটা ফ্লেশ মাছি কখন যে ঘাটায় বসেছিলো টের পাইনি। মাংসের ঘাড়ের ভেতর পচা গন্ধ ছাড়ছিলো আমি বুঝিনি ।
শান্তাপমা ঐ দগদগেটায় হাত রেখে বলেছিলে সম্পর্কের জন্য অনেক ধৈর্য ও মনোবলের কখন এসে শরীরে প্রতিরোধ কমিয়ে আনে ।তারপর বেশরাতে আমি একা একা সেইসব চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হাওয়ায় সস্প্যানে স্ফুটনাঙ্কের কাছাকাছি ঘা ঘা মাংস গুলো মশলাদার খেতে থাকি কেননা আমি চাইনি আমাদের মধ্যে এইসমস্ত মাইগ্রেন ক্রোনিক প্রভৃতি প্রতীক উঠে আসুক তোমার আত্মরক্ষার কারণে। শেষমেশ তুমি চলে যাচ্ছিলে আরো পাঁচ হাজার বছরের পুরানো সভ্যতার খোঁজে ।আমার কিছু করার ছিলো না টেকনোলজির বাড়বাড়ন্ত ছিলো না ফলত আরো মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে হয়। আরো অপেক্ষা দিন মাস বছর গুলো অর্থাৎ আমি জানতাম শান্তাপমা তোমার ফিরে যাওয়াটাই ধ্রুব কারণ তোমার কোনো আসা ছিলো না সুতরাং তুমি আসবে না কোনোদিনই ।

তবেতো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ইতিহাস সিরিজ খাটের পায়া থেকে সিলিংফ্যানের গুলো ঘা ঘা ঘুরছে আর নিদারুণ হাওয়া।।। শীত লাগছে চাদরটা টেনে নি। ওহ সেইতো দশ রকমের দ্বীপ আমিবা শান্তাপমা অক্টোবর মোশাররফের হাতের তালু ছাড়িয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেন তাহলে আমি ঘুরিয়ে দি ।
অনেক অনেক দিনভর তোমার এখন ঝগড়া তুমি কথা বলোনি অথবা তুমি চলে গেছো অর্থাৎ এখনো এসে ওঠেনি আমাদের বাড়ীতে । এইতো একা একা রীঢ় রীঢ় বেঁচে আছি।শান্তাপমা বহু বছর মাস দিন যখন ক্লাসরুমে আমাকে চিনতো না বা এখন যেমন চেনে না । একদা পাতার ভিতর পাতা জমাতো সেইসব পাতাদের ক্লোরোফিল ।।।লুকিয়ে বানানো অক্সিজেন যাসব ছড়িয়েছিলো ও বাড়িয়েছিলো প্রশাখাদের শানানো আঙুল মনে পড়ে শান্তাপমা !
আমি ভেবেছিলাম তুমি অনন্তকাল বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবে এবং ভাবতে থাকবে সে সমস্ত ঘোড়াগুলি যারা বিনাকথনে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিলো ও কিভাবে সমুদ্র ঘোড়াগুলি আর কখনো উঠে আসেনি। শান্তাপমা হেসে ওঠে , ধরা যাক আমি কখনো তোমাকে চিনতাম না দেখিও নি দুজনে দুজনকে বা নাম ও শুনিনি অথচ এই কাটানো কয়েকটা বছর ও সেই সুদীর্ঘতম চুমু গুলো যা থেকে তুমি ব্যাকআপ অক্টোবর পর্যন্ত ধরে রেখেছো এবং ভাবতে থাকছো যদিও বা আমি ছিলাম না তবু আমি চলে যেতে পারি।। ও আমার এপিডেমিক চর্মরোগ গুলো আমার মেজাজহীনতা যেসব তুমি বহন করছো বা আমাকে করতে হবে এসবের প্রতিকার কী।
আমি কোনো উত্তর করিনি কেননা শান্তাপমাকে আমি চিনি না এতএব ও আমাকে কোনো প্রশ্ন করতে পারেনি।।আমি সারারাত কষ্ট পাই মাইগ্রেনের যা এতকাল শান্তাপমার ছিলো কোলভাগ সংক্রান্ত দাদ গুলি ডাক্তার প্রেস্ক্রিপসনের পাতার ভেতর পাতা জমিয়ে রাখে সেইসব পাতাদের ক্লোরোফিল এই তাপমান সুর্যটা আমি একা একা পথ হাঁটি ডাক্তার আমার বুকটা বহুক্ষণ টিপে টিপে দেখেছিলো বলেছিলো একটা লাম্ফ ।ম্যামগ্রাম এ খারাপ খারাপ কথা ।।। শান্তাপমা তুমি ছিলে না কখনো এবং তোমাকে পূর্ণাঙ্গ ভুলে আছি আর ম্যামগ্রামের খারাপ রিপোর্ট সমানভাবে তোমাকেও ভোগাচ্ছে আমাদের আয়ুষ্কাল একই।আমরা একইসাথে চলে যাবো ।। আমাদের কি একবার দেখা হতে পারে শান্তাপমা ।আমরা একটা লম্বা চুমু খাবো। জিভে ফেবিকুইক লাগাবো । আমাদের বিরলতম গুলোর ব্যাকআপ নেব যদিও তুমি চলে গেছো বহুকাল অথবা আসোই নি কখনো এ বাড়িতে কিম্বা ছিলেই না কোনোদিন শান্তাপমা।

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ