গল্পঘর

বাংলা গল্পের ভান্ডারে বৈচিত্রের শেষ নেই। দিকপাল সব লেখকেরা সেখানে অকাতরে দান করে গেছেন হাজারো মণি-মুক্তো। সমকালীন সময়ে এক একটি গল্প, বড় গল্প বা উপন্যাস যেমন আলোচনার ঝড় তুলেছে তেমনই কখনও কখনও কালের নিরিখে তা হয়ে উঠেছে অবশ্যপাঠ্য। এরমধ্যে বিখ্যাত সাহিত্যিক বা ঔপন্যাসিকের যেমন বিখ্যাত সৃষ্টি আছে তেমনই রয়েছে অখ্যাত লেখকের বিখ্যাত গল্পটিও। সময় যত এগোচ্ছে ততই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে মানুষ। লাইব্রেরিতে গিয়ে দু-মলাটের মধ্যে থাকা সেসব মণি মুক্তোর স্বাদ গ্রহনের সময় কোথায়? ইচ্ছে থাকলেও বই বাজারে গিয়ে বা প্রকাশকের ঘরে গিয়েও অনেক পেয়ে উঠতে পারেন না সেই কাক্ষিত গল্পটিকে। শুধুমাত্র পাঠকের কথা ভেবে, ভাল গল্প পড়ার আনন্দে আমরা গল্প ঘরে তুলে আনছি সেই রকমই কিছু গল্প। ফেলে আসা সময়ে লেখা কোনও ভাল গল্পের খোঁজ পেলে তার প্রকাশ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে ই-মেলে তা পাঠিয়েও দিতে পারেন আমাদের। আমরা তা রেখে দেব গল্পঘরে। গল্প ঘর হয়ে উঠুক ভাল গল্পের সিন্দুক।


  • লাল জুতো

    গৌরীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার দরুন কিছু ভাল লাগছিল না। মনটা বড় খারাপ,–নীতীশ ভাবতেই পারছে না, দোষটা সত্যিই কার। অহরহ মনে হচ্ছে–আমার কি দোষ? জীবনে অমন মেয়ের সঙ্গে সে কখনই কথা বলবে না। দক্ষিণ দিককার বারান্দা দিয়ে যতবার যায় ততবারই দেখে, গৌরী পর্দ্দা সরিয়ে এদিক পানে চেয়ে আছে, ওকে দেখলেই পলকে পর্দ্দা ফেলে দেয়। এ চিন্তা […]


  • একটি তুলসীগাছের কাহিনী

    ধনুকের মতো বাঁকা কংক্রিটের পুলটার পরেই বাড়িটা। দোতলা, উঁচু এবং প্রকাণ্ড বাড়ি। তবে রাস্তা থেকেই সরাসরি দণ্ডায়মান। এদেশে ফুটপাত নাই বলে বাড়িটারও একটু জমি ছাড়ার ভদ্রতার বালাই নাই। তবে সেটা কিন্তু বাইরের চেহারা। কারণ, পেছনে অনেক জায়গা। প্রথমত প্রশস্ত উঠান। তারপর পায়খানা-গোসলখানার পরে আম-জাম-কাঁঠালগাছে ভরা জঙ্গলের মতো জায়গা। সেখানে কড়া সূর্যালোকেও সূর্যাস্তের ম্লান অন্ধকার এবং […]


  • জননী

    আমরা ভাইবোন মিলে মায়ের পাঁচটি সন্তান। বাবা বলত, মায়ের হাতের পাঁচটি আঙুল। সবার বড় ছিল বড়দা, মায়ের ১৯ বছর বয়সের ফল। প্রথম বলে বড়দা মায়ের সেই বয়সের রূপ যতটা পেয়েছিল পুঁটলি বেঁধে নিয়ে জগতে এসেছিল। শুনেছি, ঠাকুরমা বলত, অত রং অমন চোখ নিয়ে যদি এলি, তবে দাদু, মেয়ে হয়ে এলি না কেন? ঠাকুরমার ক্ষোভ বছর […]


  • যদু ডাক্তারের পেশেন্ট

    ক্যালকাটা ফিজিসার্জিক ক্লাবের সাপ্তাহিক সান্ধ্য বৈঠক বসেছে। আজ বক্তৃতা দিলেন ডাক্তার হরিশ চাকলাদার, এম ডি, এল আর সি পি, এম এম আর সি এস। মৃত্যুর লক্ষণ সম্বন্ধে তিনি অনেকক্ষণ ধরে অনেক কথা বললেন। চার পাঁচ ঘণ্টা শ্বাস রোধের পরেও আবার নিশ্বাস পড়ে, ফাঁসির পরেও কিছুক্ষণ হৃৎস্পন্দন চলতে থাকে, দুই হাত দুই পা কাটা গেলেও এবং […]


  • লাভের বেলায় ঘন্টা!

    ঘাটশিলার শান্তিঠাকুর বলেছিলেন আমায় গল্পটা… ভারি মজার গল্প। দারুণ এক দুরন্ত ছেলের কাহিনী… যত রাজ্যের দুষ্টবুদ্ধি খেলত ওর মাথায়। মুক্তিপদ ছিল তার নাম, আর দুষ্টুমিরাও যেন পদে-পদে মুক্তি পেত ওর থেকে। আর হাতে-হাতে ঘটত যত অঘটন! এই রকম অযথা হস্তক্ষেপ আর পদক্ষেপের ফলে একদিন যা একটা কান্ড ঘটল… গাঁয়ের শিবমন্দিরের ঘণ্টাটার ওপর ওর লোভ ছিল […]


  • বেদেনী

      শম্ভু বাজিকর এ মেলায় প্রতি বৎসর আসে। তাহার বসিবার স্থানটা মা কঙ্কালীর এস্টেটের খাতায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো কায়েমি হইয়া গিয়াছে। লোকে বলে, বাজি; কিন্তু শম্ভু বলে ‘ভোজবাজি-ছারকাছ’। ছোট তাঁবুটার প্রবেশপথের মাথার উপরেই কাপড়ে আঁকা একটা সাইনবোর্ডেও লেখা আছে ‘ভোজবাজি-সার্কাস’। লেখাটার একপাশে একটা বাঘের ছবি, অপরদিকে একটা মানুষ, তাহার এক হাতে রক্তাক্ত তরবারি, অপর হাতে […]


  • বনফুলের দুটি গল্প

    বনফুলের দুটি গল্প বেচারামবাবু হরিশ মুদী সন্ধ্যাবেলা হিসাব বুঝাইয়া গেল যে গত মাসের পাওনা ২৭.৭০ পঃ হইয়াছে এবং তাহা অবিলম্বে দেওয়া দরকার। সদ্য-অফিস-প্রত্যাগত বেচারামবাবু বলিলেন–“আচ্ছা মাইনেটা পেলেই–!” অতঃপর কাপড়-চোপড় ছাড়িয়া বেচারামবাবু বাহুরের রোয়াকটিতে বসিয়া হাঁক দিলেন–“অরে চা আন্‌–।” চা আসিল। চা আসিবার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার হরিবাবু, নবীন রায়, বিধু ক্লার্ক প্রভৃতি চার পাঁচজন ভদ্রলোকও সমাগত […]


  • চিত্রকর

    ময়মনসিংহ ইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আমাদের গোবিন্দ এল কলকাতায় । বিধবা মায়ের অল্প কিছু সম্বল ছিল । কিন্তু , সব চেয়ে তার বড়ো সম্বল ছিল নিজের অবিচলিত সংকল্পের মধ্যে । সে ঠিক করেছিল , ‘ পয়সা’ করবই সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে । সর্বদাই তার ভাষায় ধনকে সে উল্লেখ করত ‘ পয়সা ‘ বলে […]


  • অতৃপ্ত কামনা

    সাঁঝের আঁধারে পথ চলতে চলতে আমার মনে হল, এই দিনশেষে যে হতভাগার ঘরে একটি প্রিয় তরুণ মুখ তার ‘কালো চোখের করুণ কামনা’ নিয়ে সন্ধ্যাদীপটি জ্বেলে পথের পানে চেয়ে থাকে না, তার মতো অভিশপ্ত বিড়ম্বিত জীবন আর নেই! আমারই বেদনা-রাগে রঞ্জিত হয়ে গগনের পশ্চিম দুয়ারে জ্বালা সন্ধ্যা-তারা আমার মুখে তার অশ্রু-ভরা ছল-ছল চোখ নিয়ে চেয়ে ওই […]


  • অনধিকার প্রবেশ

    একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল, “পারিব”, আর-একটি বালক বলিল, “কখনোই পারিবে না।” কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক। পরলোকগত মাধবচন্দ্র […]


  • বাতাসী

    বাতাসী জেলের মেয়ে। বাপ নাই, মা নাই, ভাই নাই – থাকিবার মধ্যে আছে এক বুড়ি ঠাকুরমা। সকলে মরিয়া গেল ; যাহাদের পরে মরিবার কথা, তাহার আগে চলিয়া গেল ; বুড়ি রহিল, আর রহিল তাহার বুড়া বয়সের একমাত্র অবলম্বন বাতাসী। বাতাসী নামটার একটু ইতিহাস আছে। বাতাসীর বাপ মার অনেক দিন সন্তান হয় নাই। তাহারা কত দেবতার […]


  • জেলফেরত

    নাম ছিল রমেশচন্দ্র সেন। কিন্তু লোকে তাকে রমেশ বলে জানত আর রাজ্যসুদ্ধ ছেলেমেয়ে সকলেই তাকে ঐ নামেই ডাকত। ছেলেবেলা মারপিট করে স্কুল থেকে তাড়িত হয়ে জিমন্যাস্‌টিক আর গুন্ডামি করে বেড়াচ্ছিল, একটু – আধটু ছবি আঁকার দিকে ঝোঁক থাকায় বাড়ির লোকে তাকে আর্টস্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলে কিন্তু সেখানেও তার কিছু হল না। লতা–পাতা–ফুল আঁকার ক্লাস থেকেই […]


  • পেনে প্রীতি

    আমরা এখন টুরে ফিরিতেছি ; অর্থাৎ ঘুরে বেড়াইতেছি, বেদিয়া জাতির জীবন যাপন করিতেছি। আজ কোনো এক গ্রামপ্রান্তের বৃক্ষ ছায়া সঙ্কুল নিস্তব্ধ বিজন ক্ষেত্রস্থল আমাদিগের বস্ত্রাবাস মন্ডলী এবং সিপাই সান্ত্রী ভৃত্যাদিবর্গে পরিবৃত হইয়া জাগ্রত যমালয় হইয়া উঠিল, সেখানে আবেদন পত্রধারী গ্রাম্যলোকের দলে দলে সমাগম চলিল ; শুষ্ক বিবর্ণ চিন্তা–পীড়িত আসামী নীরব বেদনায়, ফরিয়াদীর ক্রোধ ও ঈর্ষাজনিত […]


  • ওঁ জয়দুর্গা

    [রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্র সিরিজের নবম খন্ডের অন্তর্গত বিচিত্র বিষয়ের চিঠিগুলির (২৬৪ টি) প্রাপক হেমন্তবালা দেবী, কিছু রবীন্দ্র অনুরাগীর পরিচিত হলেও সাধারণ বাঙালি পাঠকের কাছে অপরিচিতই। ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত কবির শেষ জীবনের অধ্যায়ে তিনি পত্রলেখার মাধ্যমে তাঁর স্নেহ সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। বহুবার তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। হেমন্তবালা দেবী সম্পর্কে তাই আজও কৌতূহল রয়েছে বিদগ্ধ সমাজে। […]


  • নয়নচারা

    [সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের স্তম্ভপ্রতিম কথা সাহিত্যিক হিসেবে মানা হয়। সংখ্যার বিচারে তিনি লিখেছেন সামান্যই। দুটো গল্প গ্রন্থ, তিনটে উপন্যাস, তিনটে নাটক, অনুবাদ ও কিছু অগ্রন্থিত প্রবন্ধ– সমালোচনা–কবিতা–গল্পের মধেই সীমাবদ্ধ তাঁর সাহিত্যকীর্তি। কিন্তু নিজস্ব লেখনী। মানুষের ভেতরের মানুষকে তুলে আনার দক্ষতা ও ঐশ্বর্যই তাঁকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী কৃতীপুরুষ করেছে। ১৯৪৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ […]


  • সিঁদুরচরণ

    [ রবীন্দ্র উত্তরকালে বাংলা কথাসাহিত্যে তিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জন্ম ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর  হালিশহর-কাঁচড়াপাড়ার কাছাকাছি ঘোষপাড়া গ্রামে। প্রকৃত অর্থেই প্রকৃতি প্রেমিক ছিলেন বিভূতিভূষণ। জীবনে অসংখ্য ছোটোগল্প লিখেছেন পথের পাঁচালী,আরন্যক,ইছামতী ইত্যাদির স্রষ্টা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প গ্রন্থ গুলির মধ্যে রয়েছে মেঘমল্লার,মৌরিফুল, জন্ম ও মৃত্যু ,বিধু মাস্টার, অসাধারণ, অনুসন্ধান, ছায়াছবি প্রভৃতি। সিঁদুরচরণ গল্পে এক গ্রাম্য […]


  • ডোমের চিতা

      রমেশ চন্দ্র সেন রমেশচন্দ্র সেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার পিঞ্জরী গ্রামে। পেশা হিসেবে পূর্বপুরুষের আয়ুর্বেদ চিকিৎসাকেই বেছে নিয়েছিলেন। প্রথম লেখা উপন্যাস ‘শতাব্দী’ প্রসঙ্গে লেখক জানিয়েছেন ‘উপন্যাসখানির  পান্ডুলিপি নিয়ে প্রথম প্রথম প্রকাশকের দরবারে উপস্থিত হয়েছিলাম। কেউ পড়ে আবার কেউ না পড়েই তা ফিরিয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বহুদিন বই প্রকাশের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু […]


  • চতুর্থ পানিপথের যুদ্ধ

      সুবোধ ঘোষ বাংলাভাষার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের অন্যতম বলে অভিহিত করা হয় তাঁকে। মোট ছোটগল্পের সংখ্যা ১৫৭। প্রথম গল্প ‘অযান্তিক’ প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। অর্থের প্রয়োজনে জীবনে বিভিন্ন ধরনের পেশায় নিযুক্ত হতে হয়েছিল তাঁকে। ভবিষ্যতের সাহিত্যজীবনে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লিখেছেন বহু গল্প – উপন্যাস। আত্মকথায় তিনি বলেছেন ‘আমার গল্প লেখার কৃতিত্বটা বিশুদ্ধ আকস্মিকতার একটা ইন্দ্রজাল নয়। […]


যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ।