28 Feb

অমৃতরস

লিখেছেন:সায়ন্বিতা সরকার শেঠ


“দিন রজনী কত অমৃতরস…”

পরিচিত ধীর পায়ের চলনে নীলাদ্রির গুনগুনানিতে ছেদ পড়ে। শব্দটা যেন ইতস্তত করেও শেষমেশ ওর পিঠ ঘেঁষে দাঁড়ালো,আস…..আসবো?

– এসেই তো পড়েছো।

ঘাড় না ফিরিয়েই জবাব দেয় নীলাদ্রি।

– দাদা।

আগন্তুকের স্বরটা কেমন কাঁদো কাঁদো ঠেকলো।।

এবার খানিকটা বাধ্য হয়েই নীলাদ্রিকে মুখ ফেরাতে হলো….

না এতো তার পরিচিত কেউ নয়।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অল্পবয়সী এক মহিলা। মেয়েটির বয়স যদিও নীলাদ্রির মতো অবিবাহিত ছেলের পক্ষে আন্দাজ করা মুশকিল। তবে মনে হচ্ছে পঁচিশের আশেপাশে হবে। পরনে হলুদ রঙের একটি ঢাকাই জামদানি শাড়ি। মাথায় সিঁদুর ও হাতে শাখা পলা বলছে যে মেয়েটি বিবাহিত। দেখতেও বেশ সুন্দর। নীলাদ্রি মনে করতে পারেনা এই মহিলাকে কোথাও দেখেছে বলে।

খানিকটা বিস্ময়ে প্রশ্ন করে, হ্যাঁ, কি ব্যাপার বলুন তো। আপনি কি আমার সাথেই দেখা করতে এসেছেন? আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।

 

মহিলা বলল, না না দাদা তুমি আমাকে চিনবে না। আমি তোমাকে তুমিই বললাম। সম্পর্কে আমি তোমার মামাতো বোন হই। তোমার মায়ের এক পাতানো দাদা থাকতেন বনগাঁর দেশের বাড়িতে। পল্টু মামা। মনে পড়ছে নিশ্চই। আমি তাঁরই বড় মেয়ে মিতালি। সবাই মিতু বলে ডাকে। তুমি অনেক ছোটবেলায় আমাকে দেখেছিলে। তোমার আমাকে মনে না থাকাই স্বাভাবিক। আমার মা মাসির সাথে মানে তোমার মায়ের সাথে কথা বলে তোমার বাড়ির ঠিকানা আমাকে দিয়েছে। বড় বিপদে পড়ে তোমার কাছে এসেছি দাদা। এই বোনকে যদি দুঃসময়ে একটু সাহায্য করো।

নীলাদ্রি মাথার মেমোরি কার্ড হাতড়ে অনেক কষ্টে মনে করে যে তাঁর দেশের বাড়িতে পল্টু নামক এক দূর সম্পর্কের মামা ছিল বটে। কিন্তু বাবা মারা যাবার পর থেকে আর ও বাড়ির কারুর সাথে মারও বিশেষ যোগাযোগ নেই। তা এই কমবয়সী মহিলা আবার হটাৎ করে ওর এই নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে কি ঝামেলা আনতে চলেছে কে জানে। তাছাড়া নীলাদ্রি এমনিতেও আত্মীয়দের থেকে পারতপক্ষে একটু দূরেই থাকতে চায়। এরা শুধু আনন্দের সময় আছে, খারাপ সময় এলে কারু টিকিটি খুঁজে পাওয়া যায় না।

-আপনি ভেতরে এসে বসুন।

বলার প্রায় সাথে সাথেই মহিলা ভিতরে এসে সোফায় গা এলিয়ে বলেন, পাখাটা একটু চালিয়ে দেবে, রাস্তায় যা গরম…

আর একটু জল খাওয়াবে দাদা।

নীলাদ্রি একটু ইতস্তত করে ভেতরে গিয়ে একটা জলের বোতল নিয়ে আসে। পাখাও চালিয়ে দেয়।

জল খাওয়া হলে নীলাদ্রি বলে, না…মানে ….এবার যদি বলেন যে আপনাকে ঠিক কি সাহায্য করতে পারি তাহলে ভালো হয়।

-এই দেখো কি কান্ড। তুমি না হয় অনেকদিন আমাকে দেখোনি তা হতে পারে, কিন্তু তা বলে আপনি বলে কথা বলবে এ কেমন কথা।

-আচ্ছা মা তো আমাকে কিছু জানালো না  আপনার মানে ইয়ে তোমার ব্যাপারে। তোমার যে এখানে আসার কথা আছে ….

-মাসিকে তো তুমি বৃদ্ধাশ্রম পাঠিয়ে দিয়েছ শুনলাম।

ওরে বাবা ইনি তো দেখছি সব জেনে বসে আছে। নীলাদ্রির অদ্ভুত লাগে।

-না মানে আসলে আমি একা মানুষ । নিজের লেখালিখি, গান ও অন্যান্য কাজ এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকি। রাস্তাতেই অধিকাংশ সময় কাটে। মাকে ঠিক দেখে ওঠা হয় না। মায়ের বয়স হয়েছে। ঠিক সময় খাওয়া দাওয়া করে না। আমার জন্য বসে থাকে , নানা অনিয়ম করে। প্লাস একা একা সারাদিন বাড়িতে থাকে ….. এসব ভাবনা চিন্তা করেই মাকে পাঠানো। ওই আশ্রমটি আমার বাবার পরিচিত এক বন্ধুর। তাছাড়া ওখানে মা বেশ যত্নে আছে। অনেক বন্ধুও হয়েছে। আমিতো যাই কয়েকদিন পর পরই।

-আর তোমার নিজের দেখাশুনা?

এবার সজোরে হেসে ফেলে নীলাদ্রি ওরফে নিলু। বলে, আমি বোন দিব্য আছি। নিজের মতো রাঁধি বাড়ি, খাই, কাজ করি, স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াই। এর থেকে ভালো জীবন আর কিই বা হতে পারে।

যাইহোক তুমি কি সাহায্য চাও বলো এই অধমের কাছে?

আসল কথা চেপে যায় মিতালি। মুখে বলে, এখানে আমি কিছুই চিনি না। আমার বর আমাকে ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে ঘর বেঁধেছে। বাড়ির সবাই জোর করে কলকাতায় কলেজে আবার নতুন করে পড়াশুনা করতে পাঠালো। আমিতো বিদ্যাসাগরে বাংলা অনার্স এ ভর্তি হয়েছি। এখানে এসে এক জায়গায় ভাড়া থাকার কথা ছিল। কিন্তু এসে দেখছি সেখানকার পরিবেশ ভালো নয়। একা আর এখন কোথায় গিয়ে উঠি। তাই মা আমাকে এখানেই আসতে বললো। বললো দাদা ঠিক কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেবে। তা এখানে তো দেখছি তুমি একাই থাকো। আমি যদি দিন কয়েক এখানে থেকে নতুন বাড়ির খোঁজ করি তাহলে নিশ্চই তোমার কোনো আপত্তি থাকবে না। আমার ব্যাগটা বাইরেই পড়ে আছে। দাঁড়াও নিয়ে আসি। বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল মিতালি।

নীলাদ্রি এবার পড়লো মহা ফাঁপরে। তার এই সুখের সংসারে এ কি উপদ্রব। প্লাস মনেও করতে পারছে না ঠিক করে। অথচ এ তো সহজে যাবার পাত্রী নয়। নিজে নিজেই একপ্রকার ঠিক করে নিয়েছে এখানে থাকবে বলে। যেন বাড়িটা ওরই। মাকে একবার ফোন করে দেখবে….।

ভাবতে ভাবতেই সশব্দে বেজে ওঠে মুঠোফোনটি।

“আনন্দধারা বহিছে ভুবনে….”। নীলাদ্রির পছন্দের রবীন্দ্রসংগীতের রিংটোন। কিন্তু এখন মোটেই আনন্দ করার পরিস্থিতি নেই।

হুম যা ভেবেছে ঠিক তাই। আশ্রমের ল্যান্ড ফোন থেকে মাতাজির ফোন।

— বলো…। ফোন ধরে ভারী গলায় বলে নীলাদ্রি।

-বলছি নিলু, বাড়িতে কি কেউ এসেছে?

-মা, জানোই যখন সবটা তখন ঝেড়েই কাশো। শুধু এসেছে নয়, নিজে নিজেই একেবারে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। বসার ঘর লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে ফিসফিস করে বলে নীলাদ্রি যাতে ওই মেয়েটি শুনতে না পায়।

-দেখ বাবা আমার তরফের আত্মীয় হয়। অনেক বড় মুখ করে আমি বলেছি, দু চারদিন তোর ওখানে থাকলে অসুবিধা নেই। একটু মানিয়ে নে না বাবা। নাহলে যে আমার মান থাকবে না।

-মা, তোমার মান রাখার চোটে আমার মান নিয়ে তো টানাটানি পরে যাবে। আমি একটি ব্যাচেলর ছেলে। কথা নেই বার্তা নেই । এভাবে যদি একটি কমবয়সী মেয়েকে থাকতে দিয়ে দি, পাড়ার লোকজন কি বলবে। না না এসব হচ্ছে না। তুমি অন্য কিছু ভাবো।

-আরে পাড়ার লোক কি বলবে তার পরোয়া তুই কোনোদিন করেছিস নীলু? মায়ের গলায় রাগ।

আজ তাহলে কেন করছিস।

তাছাড়া কেউ কিছু বললে বলবি ও তোর বোন হয়। তাছাড়া ও বিবাহিত। কি আর সমস্যা।

মা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ইতিমধ্যে মালপত্র নিয়ে মহারানী ঘরে প্রবেশ করে ফেলায় আর কিছুই বলা হয় না নীলাদ্রির। ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসতে থাকে শুধু।

 

-চলো, তোমাকে আমি তোমার থাকার ঘর দেখিয়ে দিচ্ছি।

 

 

এর পরের দুদিনের ঘটনা একেবারেই চমকপ্রদ। নীলাদ্রির মতো বাউন্ডুলে ছেলেও তার না চেনা বোনের প্রসংশা না করে পারে না। কলেজ ও টিউশন সামলে সে মেয়ে বাড়ি ঘর সব টিপটপ করে গুছিয়ে ফেলেছে। উপরন্তু সকাল থেকে রাত অবধি নীলাদ্রি তার পছন্দের যত খাবার আছে সব পাচ্ছে এবং রান্নাও চমৎকার। আলুসেদ্ধ ভাত খাওয়া নীলাদ্রির মুখ ছেড়ে যায়। প্রথম দুদিন নীলাদ্রির খুব বিরক্ত লাগলেও এখন মোটামুটি সয়ে গেছে। বরং ভালোই লাগছে। তার পড়ার ঘরটিও বেশ পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখে মিতালি। আবার ভালো গানও গায় সে।

এতদিন মা নীলাদ্রির বিয়ে দেওয়া নিয়ে মাথা পাগলা করে দিচ্ছিল। কেউ জানুক আর না জানুক নীলাদ্রি  জানে যে মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর আসল কারণ ওটাই।

যাক এই মেয়ে যদি বাড়িতে থাকে তাহলে মায়ের সুবিধাই হবে। ভালো সময় কাটবে। মনে মনে ভাবে নীলাদ্রি। মেয়েটির তরফেও অবশ্য বাড়ি খোঁজার কোনো উৎসাহ দেখতে পায় না নীলাদ্রি। সেও তাই আর তাগাদা দেয় না।

দিন যায়। বাউন্ডুলে নীলাদ্রি, যার কিনা ঘরে কোনো মন ছিল না, শুধু লেখা আর গান নিয়েই বাইরের জগতে মেতে থাকতো সে যেন আদরে যত্নে ক্রমশ ঘরকুনো হয়ে পরে। আজ তনুশ্রীর কথা খুব মনে আসে। নীলাদ্রির ভালোবাসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে নিঃস্ব করে ধোঁকা দিয়ে যখন অন্যত্র বিয়ে করে ফেললো তখনই ও ঠিক করেছিল, জীবনে কোনো মেয়েকে আর বিশ্বাস করে ঠকবে না। ভালোও বাসবে না। বিয়েও করবে না। মাও অনেকবার বুঝিয়েছিল তারপর, লাভ হয়নি। কিন্তু এখন কেন জানিনা এই মেয়েটিকে দেখে নীলাদ্রির মনে হয় সব মেয়েই খারাপ হয় না। কিন্তু মনে খটকা লাগে এটাই যে মেয়েটির স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়া স্বত্বেও ও কেন শাখা সিঁদুর সব পরে থাকে আজকালকার যুগের মেয়ে হয়েও । হয়ত মন থেকে এখনো আগের স্বামীকেই মানে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কি আর এত তাড়াতাড়ি মুছে ফেলা যায়!

এই কদিনে কেমন যেন মায়া আর ভালোবাসা জন্মেছে মেয়েটার ওপরে। তাই বাড়ি খোঁজার ব্যাপারে তাড়া দেয় না নীলাদ্রি। বরং ঠিক করে কাল মাকে নিয়ে আসবে আশ্রম থেকে।

 

 

মা আসতেই আরেক সমস্যা। সারাদিন পড়া গান সব ছেড়ে সে মেয়ে নীলাদ্রির মায়ের পিছনেই ঘুরঘুর করে। মারও তাকে খুব পছন্দ। কে জানে বোনের মেয়ে বলে হয়তো।

মাকে নিয়ে এসে নীলাদ্রি আবার নিজের কাজে মন দেয়। মাঝে তার জীবনটা একেবারে ছন্নছাড়া হয়ে গেছিলো। এখন আবার ইচ্ছা করে নতুন করে বাঁচতে। লেখার কাজ আবার শুরু করে। গানের ক্লাসও আবার শুরু হয়। বাড়িতে ছাত্র ছাত্রীরা আসতে শুরু করে।

এভাবেই দিব্য চলতে থাকে সব। কিন্তু ঘটনা হঠাৎই অন্য দিকে মোড় নেয়।

আজ গানের ক্লাস করিয়ে উঠেছে নীলাদ্রি… ছাত্র ছাত্রীরা সবে গেছে…. মা ঘরে ঢুকে বলে, তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে নিলু। বলছি যে তুই এবার মিতুর জন্য একটা বাড়ির ব্যবস্থা কর। মিতু চলে যেতে চাইছে। কিন্তু ও একা মেয়ে মানুষ কোথায় ঘর ঠিক করবে। তোরতো অনেক জানাশুনা আছে। দেখ না চেষ্টা করে।

–কি দরকার। এখানে তো ভালোই আছে , থাক না।

মানে মিতালির যদি অসুবিধা না হয় তাহলে আমাদের আর কিসের অসুবিধা।

–কতদিনই বা ও এখানে থাকবে। তুইও একটা অবিবাহিত ছেলে। আর ও একটা মেয়ে । এভাবে হয় না কি… না, না, তুই বাড়ি দেখ নিলু।

–সে কি মা। তুমি এ সব কি বলছো। তাছাড়াও সম্পর্কে আমার বোন হয়। তুমিই তো বলেছিলে কোনো অসুবিধা নেই। আজ তোমার কি হল হটাৎ..।

–কে বলেছে ও তোর বোন?

–মানে? আকাশ থেকে পরে নীলাদ্রি।

–দেখ আমি আজ তোকে সব খুলে বলছি। সব দোষ আমারই। পারলে মাকে ক্ষমা করিস। মিতালি আসলে আমার দেশের বাড়িরই এক প্রিয় বান্ধবীর মেয়ে। আমিই বলেছিলাম কলকাতায় এসে এখানে উঠতে আর তোকে দাদা বলে পরিচয় দিতে। পল্টুদার বড় মেয়ে দিব্য তার বরের সাথেই গুছিয়ে সংসার করছে। ওরা সবকিছু জানে। তোরতো আর মুখ মনে নেই তাই একে তোর বোন সাজাতে অসুবিধা হয়নি। তাছাড়া বোন না বললে তুই থাকতে দিবি কেন বল। আর শাখা সিঁদুর ওসব মিছিমিছি। বিবাহিত আর বোন না সাজলে তোর এখানে থাকার ব্যবস্থা করা মুশকিল হতো তাই। ওর আসলে বিয়ে টিয়ে হয়নি। যাইহোক….. এসবই আমার সাজানো। তোর মতো বাউন্ডুলেকে ঘরে মন বসানোর সাধ্য আমার ছিল না। কিন্তু মা হয়ে তোর এই ছন্নছাড়া জীবন আর মানতে পারছিলাম না। তাই এই মিথ্যার আশ্রয়…। তবে মেয়েটি বড় ভালো।

নীলাদ্রি বুঝতে পারে না যে হাসবে না কাঁদবে। তার মা ও মিতালি যে স্টার জলসার সিরিয়ালের নায়িকাদের চাইতেইও ভালো অভিনয় করে সে বুঝবে কি করে!

মুখ দিয়ে কিছু কথা বার হয় না নীলাদ্রির। ক্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

রাতে সারারাত ঘুম আসে না। কেন জানি না বারবার খালি মিতালির মুখটা ঘুমাতে গেলেই চোখের সামনে ভাসছে। তবে কি সে প্রেমে পড়লো?

বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে পড়েছিল নীলাদ্রি। টুক করে টেবিল চায়ের কাপ রাখার আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে।

তোমার চা, বলেই এক ছুটে ঘর থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছিল মিতালি। খপ করে হাতটা চেপে ধরে নীলাদ্রি।

লজ্জায় মুখ লাখ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে মিতালি। নীলাদ্রি বলে, আমাকে বিয়ে করবে মিতালি?

ঘরে ছুঁচ পড়লে শব্দ পাওয়া যাবে এমন পরিস্থিতি।

নীলাদ্রি আবার বলে ওঠে, নীরবতা কিন্তু সম্মতির লক্ষণ মিতু। তবে হ্যাঁ, একটা শর্ত আছে। যেরকম আছো তুমি ঠিক সেরকমই থাকতে হবে। গান, লেখাপড়া, শখের রান্না, ঘর গুছানো এসব নিয়ে। অন্যরকম হয়ে গেলে চলবে না। আর আমাকে একটু ভালো ভালো রান্না করে খাওয়াতে হবে। পারবে না?

এরপরের ঘটনা গল্পের মতোই। সম্পর্কের জটিল সমীকরণের ইতি ঘটে, বলা ভালো নাটকের যবনিকা পতন হয়। বিয়ে হয় মিতালি ও নীলাদ্রির। নীলাদ্রির মায়েরও অনেকদিনের শখ মেটে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সামনে মধুরেন সমাপয়েতের পর নীলাদ্রি ও মিতালি সবার অনুরোধে গান ধরে…..

“আনন্দধারা বহিছে ভুবনে, দিন রজনী কত অমৃতরস…..।”

Tags: ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2021 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ