05 Mar

নানা পাঠ,নানা রঙের বই

লিখেছেন:অরিন্দম চক্রবর্তী


বাবলি…

শেষ কৈশোরের মুখচোরা লাজুক অভিমানী রঙ কেমন? পড়ন্তবেলার অরণ্যে যখন অস্তমিত সূর্যের ছায়াকে ম্লান করে জ্যোৎস্না ফুটে ওঠে সেই রঙ ধরতে পারা বড় কঠিন। গনগনে দুপুরের আঁচে যখন বইতে থাকে আগুন বাতাস আর কুবোপাখির ডাকে যে ছটফটানি ডুবতে ডুবতেও ভেসে ওঠে – সেই ছবি আঁকতে পারাও কি কম কঠিন কোনও চিত্রকরের কাছে? কিন্তু এই কঠিনকেও সম্ভব যিনি করতে পারেন, করতে পেরেছেন – তিনি বুদ্ধদেব গুহ। যাঁর জাদুকরী কলমে ছবির মতো ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, প্রেম আর নর-নারীর একে অপরের প্রতি আকর্ষণের প্রতিচ্ছবি। বুদ্ধদেব গুহ-এর অজস্র উপন্যাসের মধ্যে জলছবির মতো আর একটি টানাপোড়েনের কোলাজ ‘বাবলি’।

মিতায়তন এই উপন্যাসের পাতায় পাতায় পাঠক খুঁজে পাবেন শেষ কৈশোরের জলপাইরঙা প্রেমকে। সেই প্রেম যা অপ্রতিরোধ্য। যা আগল ভাঙা অভিমানের মতোই।

 

‘পাল্টাহাওয়া’ স্মরণজিৎ  চক্রবর্তী-এর মাইলস্টোন

অন্তরীপ, পুষ্পল, শাক্য এবং আয়ান – এই চার বন্ধুকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে ‘পাল্টাহাওয়া’। এদের চারজনকে ঘিরে একের পর এক চরিত্রের আসা যাওয়া এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়। মৌনিকা, তিথি, পুলু, বাটু, সিমোন পেটেল, গৈরিক এবং রাই ছাড়াও আরও অজস্র জন। মাত্র চোদ্দমাসের সময়সীমা এই কাহিনির। একজনের সঙ্গে অন্যজনের জীবনের গল্প এমন মিলেমিশে যেতে থাকে যে পাঠক একাত্ম হয়ে উঠতে বাধ্য হন প্রত্যেকটি চরিত্রের সমস্যা, যন্ত্রণা, হতাশা, অপ্রেমের সঙ্গে।

 

অপরদিকে এই উপন্যাসের কাহিনি, উপকাহিনির সুতো বেঁধে রাখে আশ্চর্য একটি চরিত্র, অন্ধ বাঁশিওয়ালা এক। দিন যায়, ঋতু বদল হয়, আর উপন্যাসের প্রত্যেকের পাওয়া- না পাওয়াতে ভরা জীবনে হাওয়াবদলের খবর আসে সেই অন্ধ বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুরে।

 

ভাঙিলে দ্বার কোন সে ক্ষণ অপরাজিত ওহে

এসেছ প্রেম, এসেছ আজ কি মহাসমারোহে…

বাংলা সাহিত্যের দশটি কালজয়ী প্রেমের উপন্যাসের তালিকা যদি তৈরি করা যায়, ‘ন হন্যতে’ সেই তালিকার শীর্ষস্থানে থাকবে বলাই বাহুল্য। দশকের পর দশক পেরিয়েও আকাডেমী পুরস্কারে সম্মানিত ‘ন হন্যতে’ উপন্যাসটি নিয়ে পাঠকদের আগ্রহে ভাঁটা পড়েনি আজও। বাংলা ভাষাতে কতই না প্রেমের উপন্যাস রয়েছে যা পাঠকের ভালবাসাতে জনপ্রিয়। কিন্তু ‘ন হন্যতে’ উপন্যাসের যে করিশ্মা তা চিরায়ত সাহিত্যের পর্যায়ভুক্ত হয়ে গিয়েছে।

‘ন হন্যতে’-এর কেন্দ্রে যেমন প্রেম, তেমনই এই উপন্যাসের চরিত্রদের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বিখ্যাত কয়েকজন জ্যোতিষ্কও, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথও।

যাঁরা এই উপন্যাস পড়েননি, তাঁদের কাছে ‘ন হন্যতে’ পড়া এক অভিজ্ঞতা হয়ে থেকে যাবে। প্রেমের উপন্যাস যাঁরা সংগ্রহে রাখতে চান, তাঁরা অবশ্যই সংগ্রহ করুন ‘ন হন্যতে’। এই উপন্যাস কেবল প্রেমের নয়, প্রেমের থেকেও বেশি কিছু।

 

প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জি, যার আর এক নাম মিতিন…

মিতিনের আত্মপ্রকাশ ‘পালাবার পথ নেই’ উপন্যাসের মাধ্যমে। যদিও এই উপন্যাস কিশোরপাঠ্য নয়। পূজাবার্ষিকী ‘আনন্দমেলা’তে প্রথম প্রকাশিত হয় মিতিনকে কেন্দ্রে রেখে যে কিশোর উপন্যাসটি, সেটি – ‘সারান্ডায় শয়তান’। তারপর কিশোর/কিশোরীদের কথা ভেবেই একের পর এক উপন্যাস লিখে গিয়েছেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য, যার ভরকেন্দ্রে থেকেছে মিতিন। ফেলুদা, কাকাবাবু, কি কি রা, ঋজুদা বা অর্জুনের পাশাপাশি গোয়েন্দা হিসেবে মিতিনের জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে।

প্রভাবতী দেবী সরস্বতী-এর গোয়েন্দা কৃষ্ণা বা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়-এর গোয়েন্দা গার্গী চরিত্রের বাইরে বাঙলা সাহিত্যে  মহিলা সত্যান্বেষী উল্লেমখযোগ্য ভাবে তেমন কেউ নেই। কিন্তু মিতিনের বুদ্ধিমত্তা, স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং ঝকঝকে ব্যক্তিত্ব কেবল কিশোর কিশোরী নয়, ভালবেসে ফেলেছেন সব বয়সের পাঠক।

সুচিত্রা ভট্টাচার্য-এর ঝরঝরে স্মার্ট গদ্যভাষায় লেখা গোয়েন্দা মিতিন-এর প্রত্যেকটি উপন্যাস তাই রহস্য-রোমাঞ্চপ্রেমী পাঠকদের সংগ্রহে অবশ্যই থাকা চাই।

 

‘আমরা দু’জন পরস্পরের কে যেন হই’…

ধ্রুব (‘দূরবীন’ / শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়), পৃথু ঘোষ (‘মাধুকরী’ / বুদ্ধদেব গুহ)-এর পর সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যের পাঠকের মুখে মুখে ফেরা নাম কিগান অর্ক চ্যাটার্জি। কিগান, যার চোখের তারা নীল। সেই নীলচে চোখের আলোয় দিকভ্রান্ত হননি যুবসমাজের এমন একজনও পাঠক সম্ভবত নেই।’আলোর গন্ধ’ উপন্যাসের কিগান অর্ক চ্যাটার্জি নামের এই চরিত্রটি আশ্চর্যভাবেই হয়ে গিয়েছে ‘ইউথ আইকন’।’আলোর গন্ধ’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য অভিমান। নিভৃত, নিরুচ্চারিত অভিমান। যে অভিমানের জন্ম হয় একমাত্র প্রেম থেকেই। না পাওয়া সেই প্রেমের আর্তিই কিগান অর্ক চ্যাটার্জি, দীঘি, জিয়ানা, রাহীকে ঘিরে থাকে। তাই স্মরণজিৎ চক্রবর্তী-এর এই উপন্যাসকে ভাল না বেসে পাঠকের উপায় নেই। যাঁরা প্রেমের উপন্যাসের খোঁজ করেন, তাঁদের সংগ্রহকে নিশ্চিতভাবেই সমৃদ্ধ করবে, ‘আলোর গন্ধ’।

[বানানবিধি/মতামত লেখকের নিজস্ব]

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2022 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ