15 Apr

বাই ডিফল্ট

লিখেছেন:দেবাশিস মজুমদার


– ইন্টারভিউ তো দিলেন। এবার বলুন কেমন লাগল আমার মতন বাচ্চা আনকোরা একটা মেয়ের প্রশ্ন?

– দারুণ! ও না না, এখন তো এসব বাংলা বললে চলবে না। কি যেন চলছে শব্দটা! ও হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে অ-সাম! ঠিক বললাম তো?

– একদম। আপনি এই বয়েসেও এত আপ টু ডেট থাকেন কি করে? আপনার ঐতিহাসিক উপন্যাস মানেই ইতিহাসের নতুন কোনও দিকের উন্মোচন…জাস্ট ভাবা যায় না। আগে কলেজ লাইফে যখন আপনার লেখা পড়তাম মনে হত কি করে খবর পান ইতিহাসের এত গলিঘুঁজির! এত অজানা অধ্যায়ের নানা ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ আপনার উপন্যাসের মধ্যে চলে এলেই সব জানা ইতিহাস অজানা হয়ে গিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়।

– ওরে শোন মেয়ে, ওটাই যে ঐতিহাসিক ঔপন্যাসিকের দায়িত্ব রে। আমাদের অর্ধেক ইতিহাসই যে প্রয়োজনের নিরিখে তৈরি হওয়া বা করা। সে সব যুগের লোকও নেই, প্রমাণও নেই। লোপাট সব বিতর্কিত তথ্য। তাই তো আমাকে এ জগতে আসতে হয়েছে সত্য উদ্ঘাটনের জন্যে।

– নানা ঐতিহাসিক গ্যাপগুলো দারুণ ধরেন কিন্তু আপনি। জাস্ট ভাবা যায় না।

– দেখিস এত গ্যাপ খুঁজতে খুঁজতে নিজের গ্যাপ বাড়াস না যেন! এত অল্প বয়সে এইসব বিষয় নিয়ে মেতেছিস!

-একদম না জ্যেঠু, আপনার সঙ্গে আমার একবার যখন যোগাযোগ ঘটেছে তখন কাটবে না দেখবেন!

– বলছিস! কি যেন নাম বললি তোর? অনেক অনেক ছোট আমার থেকে তাই তুই বলছি।

– ওকে। নো প্রবলেম। আমি খেয়ালি পাঠক। আর আপনাকে মাঝে মাঝেই জ্বালাব ফোন করে।

– দেখ, যদি পাস!

– মানে? আপনি ফোন ধরেন না?

– মাঝে মাঝে।

– আপনি যে ফোনটা ধরেন সেই নম্বরটা একটু দেবেন?

– বিরাশি বিরাশি চুরাশি আঠারশো সাতান্ন।

– বাহ! দারুণ নম্বর তো!

– হ্যাঁ, নিজের বয়স, নিজের জন্মসন, জন্মস্থান, অন্তিমকাল, কার্যকাল সব ওটাতেই।

– তার মানে এখন আপনার বয়স বিরাশি? আর ঠিকানাও তো বিরাশি নম্বর। আর চুরাশি মানে আর দু’বছর মানে…

-ঠিক, একদম ঠিক ধরেছিস। আর দু’বছর এই ধরণীতে…

– কি করে বুঝলেন?

– যে ভাবে ইতিহাসের গ্যাপটা বুঝি।

-আর আঠারশো সাতান্নটা?

-ওটার সলিউশনটা দেব না। তোর একটা আই কিউ টেস্ট নেব এক মিনিটের মধ্যে ভেতর থেকে এসে।

ভদ্রলোক ভেতরের ঘরে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দরজার ভারি পর্দাটা হাওয়ায় দুলতে লাগল। পর্দার দুলুনি দেখতে দেখতে পর্দা বেয়ে চোখ সরল পেলমেটের পাশে। আর সঙ্গে সঙ্গেই চোখ আটকাল পাশের ছবিটায়। পুরনো দিনের গোঁফওয়ালা এক সৈনিকের ফটোগ্রাফ, বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে। পিছনে একটা সেনা ছাউনির তাঁবুর দরজা। ছবিটির তলায় ক্যালিগ্রাফিতে লেখা, – দ্য গ্রেট রিভল্ট।

চিৎকার করে উঠল খেয়ালি — বুঝতে পারলাম জ্যেঠু। যতটা ভেবেছিলাম ততটা ঝামেলার নয়। আপনার বাড়ির সঙ্গে যোগ ছিল দ্য গ্রেট মিউটিনির।

ভেতর থেকে গম্ভীর গলায় উত্তর এল, –  না। বাড়ির নয়। আমারই।

এবার তোতলাতে থাকে খেয়ালি, আ-আ আপনি তো ঐ-ঐ ঐতিহাসিক উপন্যাসের লে-লে লেখক ব-বটকৃষ্ণ দেব। এ-এই এতক্ষণ তো তা-তা তাঁর সঙ্গেই ক-ক থা বললাম তো!

গম্ভীর উত্তর এল – ইয়েস, অ্যাবসলিউটলি  ট্রু।

-তা-তা-হলে ছছবির মানুষটার মধ্যে আপনি কি কি ক-করে?

ভেতরের কণ্ঠ জানাল, – ওটা বাই ডিফল্ট।

Tags: , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2022 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ