
তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না, করে শুধু মিছে কোলাহল। কোলাহল না বলে বোধহয় হট্টগোল বলাই ভালো। বড্ড বেশি হলাহল পান চলছে চারপাশে, উঠোনে, বারান্দায় এমনি ঘরের ভেতরেও। দশ বছর আগে , গল্পের সময়ের শুরুর দিনগুলোতেও বোধহয় আমাদের মধ্যে অনেকেই এরকম ভেবেছিল,লিখেছিলও হয়তো কোথাও। তারপর, গল্পের সময় শুরু হওয়ার পর, সূযর্কে দশবার প্রদক্ষিণ করেছে পৃথিবী। প্রতিটি প্রদক্ষিণে পাল্ট গোছে সময়। তখনও মানুষ এতধারায় বিভক্তহয়ে পড়েনি, ছোট হতে হতে নিজের দুনিয়াটা ছেট্ট একটা কুঠিঘরে পরিণত হয়নি।, এখন যেরকমটা হয়েছ। এখন কেউ কোন কথা বললে, আগে তাঁর মুখের দিকে তাকাই, জেনে নিই তার বংশ পরিচয়, জেনে নিই তার পরিবারেরর ইতিহাস, ভূগোল। তারপর মিলিয়ে নিই এই ইতিহাস, এই ভূগোল আমার রুটে পড়ছে কিনা। যদি সে পরিচয় আমার দুনিয়ার বাইরে হয় তাহলে শুধু তার কথা নয়, তাঁর অস্তিত্বই অস্বীকার করি আমি, আমরা।
দশ বছর আগেও বিভেদ ছিল, জাত, ধর্ম, বর্ণ, দেশের পরিচয় মিলিয়ে মানুষের আলাদা কুঠি ছিল। কিন্তু কেউ যদি এইসব পরিচয় ভেঙে ফেলে এক হওয়ার কথা বলতো, তাঁর মন্ত্যবের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার প্রয়াস ছিল না। অন্তত প্রকাশ্যে সেই উদ্যোগের প্রশংসাই শোনা যেত বেশিরভাগ মানুষের মুখে। দশ বছর আগেও যুদ্ধ উন্মাদনা ছিল, কিন্তু কেউ শান্তির কথা বললে, তাঁকে অপরাধী সাব্যস্ত করার চল ছিল না। যা এখন এই দশ বছর বাদে হয়েছে। জাতের কি রূপ যে পাগল বোঝেনি, তাঁর খাতির ছিল, জাতভেদ থাকা সত্ত্বেও।
বিশ্বপ্রেমের কথা যে দাড়িওয়ালা কবি বলে গেছেন, তাঁকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করার সাহস ছিল না কারোর। এই দশ বছরে অনেকটা তাই হয়েছে। রণ হুঙ্কারে মেতে উঠে, শান্তির সমস্ত ললিতবাণী গুঁড়িয়ে দেওয়া চলছে। বিভেদ ভুলে এক হওয়ার কথা বললে, তাঁকে শ্রেণিশত্রুতে পরিণত করার প্রয়াস চলছে, তাঁকে, তাঁর সৃষ্টিকে অপদস্থ করা চলছে। শুধু আমার বাংলাদেশ নয়, সমস্ত পৃথিবীই এই দশ বছরে আরও অনেক বেশি অসহিষ্ণু হয়েছে, সাধারণ ছাপোষা মানুষও মনের কোণে হিংসার বীজ বপন করে চলেছে।
email:galpersamay@gmail.com

মতামত
আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।