-
গল্পের সময়, উৎসব সংখ্যা,২০২৬এবার গল্পের পাতায় জমে উঠুক উৎসবের আমেজ! বলা ছিল মহালয়ার আগেই আসছে গল্পের সময় ‘উৎসব সংখ্যা’। সে কথা রেখে মহালয়ার আগে থেকে প্রকাশ শুরু হলেও গোটা পাতা নতুন লেখালিখিতে ভরে উঠতে একটু সময় লাগবে। উৎসবের সময়কালেই প্রায় প্রতিদিন প্রকাশ পেতে থাকবে নতুন গল্প, বিশেষ রচনা, ব্যক্তিগত গদ্য, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। নানা অক্ষরমালায় সেজে […]
-
শতায়ুর গর্ব, আমার আকাশবাণীআমার আকাশবাণীতে প্রথম পা রাখা ১৯৮৪ সালের ১৫ই এপ্রিল। সেদিনটার কথা আমার এখনও মনে আছে। যুববাণীর ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ প্রদীপ মিশ্রের সঙ্গে আমায় আলাপ করিয়ে দিলেন আমার সাংবাদিক বন্ধু প্রদীপ দে। বললেন প্রদীপদা, ও জাগরণ, আমার বন্ধু টুকটাক লেখালেখি করে। ওকে যদি কিছু ওবি প্রোগ্রামের জন্য কাজে লাগানো যায় একটু দেখুন না। তার […]
-
রেডিওর গল্প২৬ অগাস্ট, আকাশবাণীর ১০০ বছর পূর্তি হল এ বছর। ভাবতে ভাল লাগে এই শতায়ু আকাশবাণীর একটি কণা ছিলাম আমরা। বড় গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকব তা ছিল স্বপ্নের অতীত। তবুও চোরা স্বপ্ন একদিন সফল হল। সালটা ছিল ১৯৮৮। প্রথম বছর অডিয়েন্স রিসার্চ ইউনিটে কাজ করা। তারপর এক বছরের মধ্যে মূল প্রোগ্রাম বিভাগে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। […]
-
শতবর্ষের রেডিও ও আকাশবাণী‘গল্পের সময়’-এ লিখতে হবে। এটা বেশ কঠিন কাজ। সেই ইতিহাস এর সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের আকাশবাণী ভবন তাকে নিয়ে লেখা কি সহজ। শত বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়িটি। সেই সাদা কালো ডোরা কাটা দাগ পেরিয়ে সেই লোহার গেট পার হয়ে সেই বাড়ীতে পা দিয়েছিলাম যুববাণীর ঘরে কত সালে ভুলেই গেছি যে। কত বছর আগে মনে […]
-
চাঁদবেনের মাঠ ও একটা সবুজ সাপএখন ভোর। অবশ্য পূব আকাশে সূর্য এখনও দেখা যাচ্ছে না। তবে আকাশে বাতাসে পুরানো গরদের কাপড়ের মতো আলো ছড়িয়ে রয়েছে। সূর্য দেখা যাচ্ছেনা তার কারণ শহর থেকে অনেক দূরের এই গ্রামেও এখন প্রবল বায়ুদূষণ। চোরাই কয়লার খনি থেকে কয়লা তুলে এনে সারা দিন ধরে পোড়ানো হয়। তারই ধোঁয়া এখন ভারি হয়ে দিগন্ত রেখায় জমে আছে। […]
-
বনের পাখিসুখুমণি নামটা জয়তীর একেবারেই পছন্দ নয়। যতবার কথা ওঠে জয়তী ততবারই মুখ বেঁকায়, ওটা আবার একটা নাম হল? যেমন করেই হোক নামটা পাল্টাতে হবে। বরুণ কিন্তু সম্মতি দেয় না, ওরা যেমন, তেমনি তো ওদের নাম হবে? বন্যেরা বনে সুন্দর, ভুলে গেলে? না, অমন নাম এই ডানাকাটা আসানসোলে চলবে না। জয়তী বরুনের সংসারে চলছে এই এক […]
-
গবেষণাদোতলার সিঁড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি উঠতে উঠতে চিত্তশঙ্কর বললেন, টিঙ্কু, পাত্রের বাবার ফোন এসেছিলো। মিনিট দশেকের মধ্যে পৌঁছে যাবে বললো। তুই রেডি হয়ে গেছিস তো ? চিত্তশঙ্করের একমাত্র মেয়ে টিঙ্কু, ওরফে সুচেতনা, তার বেডরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে কাজল পরছিলো। মাথা না ঘুরিয়ে বললো, মিনিট পনেরো লাগবে । এসে গেলে তুমি ওদের টুকটাক কথায় ব্যস্ত রেখো […]
-
বিলকিসের মাতরুবালা বারান্দায় বসে ভাত মাখছেন। হ্যাঁ তাতো প্রায় এক গামলা হবেই। তাঁর সামনে পাঁচটি বিড়াল বসে আছে উবু হয়ে। বিলকিস খালি তাঁর কোলে। সাদা ধবধবে নীল চোখের বিলকিস তরুবালার একটু বেশি প্রিয়। রথের মেলায় কুড়িয়ে পাওয়া একে । তাঁদের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে মাহেশের রথের মেলায় গেছিলেন তিনি। তখন ওই গজা জিলিপির দোকানের পাশটায় […]
-
এক্সোনাটুপুস্ করে একটা আওয়াজ হোলো, ব্যাস চারিদিক থেকে যেন নীরবতা ঘিরে ধরল আমাকে। পুকুরটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে যেন ওই আওয়াজটুকুর পর সব আওয়াজ শুষে নিচ্ছে। চারিদিকে বড় বড় গাছেরা গম্ভীর হয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আমাকেই দেখছে। লক্ষণটা ঠিক এরকম যেন বলছে কিচ্ছু বোঝার দরকার নেই তুমিও আমাদের মতোই চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকো হে। কিন্তু […]
-
কিসসাওয়ালি ও একটি গোপন কিসসাগত পাঁচ বছর যেদিন ডাক পড়েছে সেদিন সে গল্প শুনিয়েছে, তার আসল শ্রোতা চলতে না পারা ছেলেটি।কোনও কোনও দিন ওর ভাইবোন কি দুষ্টু বন্ধু-সখা এসে লক্ষ্মী হয়ে বসে, তখন কিসসাউলি যত তার মনে শোনা-জানা গল্প ছিল, লতায় পাতায় বুনতে থাকে। আজ কিন্তু শুধু এই ছেলেটির তলবেই তার গল্প বলতে আসা। আজ প্রথমেই শ্রোতাটি বাধা দিয়ে […]
-
চিত্রলেখা-অনিরুদ্ধ ও ঊষার গল্পবহুক্ষণ হলো, কুয়াশার মেদ ঝরিয়ে কার্তিক মাসের সকাল মধুমাখা হাসিতে ডগমগ করছে। গতরাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া উপন্যাসের ইতি টানতে সকাল সকাল বারান্দায় রোদের মিষ্টি আদর গায়ে মেখে বইটিতে ডুবে ছিলাম। এমন নয় এ বই আমি প্রথমবার পড়ছি। আগেও দুবার পড়েছি। বছর তিন বাদে আবার পড়তে গিয়ে নতুন আলোয় অনেক না দেখাদের আরো যেন স্পষ্ট দেখতে […]
-
অভিনব মধুচন্দ্রিমাদেবোপম, দেবদত্ত, দেবপ্রিয় – তিন তরুণ এক দুদিনের তফাতে কলকাতার আয়কর দপ্তরে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত হয়ে ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করলো। বয়েস তাদের বাইশ থেকে চব্বিশ। আর হ্যাঁ, তিনজনেরই নামে ‘দেব’ যোগ থাকাটা নেহাতই কাকতালীয়। তিনমাসের বিভাগীয় প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে তিনজনেরই পোস্টিং হলো কলকাতার একই শাখা অফিসে। শহরের সুপরিচিত অফিসবাড়ি পোদ্দার কোর্টের ছ’তলায়। কলকাতার তাবৎ বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর […]
-
দৃষ্টিদানমা সপাটে গালে এক থাপ্পর বসিয়ে তীব্র ব্যাঙ্গের স্বরে বলেছিল , তোর জীবনে দেখি রবি ঠাকুরের গান একেবারে ফলেই গেল –ফাগুনের ফুল যায় ঝরিয়া’। লজ্জায় অপমানে মরমে মরে যায় তিতির । নিজের দোষ খোঁজে, সম্পর্কের ভাঁজে কবে কোন ভুল ঢুকে পড়েছে তন্ন তন্ন করে তা বিক্ষণে মগ্ন হয় । সে তো নিজের সমস্ত কিছু দিয়ে […]
-
শনাক্তকরণরাত একটা। হাওয়া-বাতাস থেকে একটু দূরে, নিভৃত, নির্দিষ্ট, কোনো এক আলোর নিচে- প্রলম্বিত, স্থির, অথচ কম্পমান, অনাথ এবং ভাঙাচোরা একটা ছায়া নৈঃশব্দ্য সরাতে সরাতে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছিল গঙ্গার পাড় ধরে ধরে। গঙ্গায় তখন জোয়ার এসেছে। তার ঘোলাটে জলের এই ছলাৎ ছলাৎ শব্দগুলির প্রত্যেকেই যে যেরকম পারছে, ওই ছায়াটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ফলে, ছায়াটির বান্ধুময়তা বাড়ছে […]
-
মেয়েলি সাজ-হ্যালো, ডাক্তারবাবু বলছেন? – হাঁ, বলছি। – একবার আমাদের বাড়িতে আসতে হবে এখুনি। -কেন কি হয়েছে? -আমার বৌমা হঠাৎ খুব অসুস্হ হয়ে পড়েছে। হাত-পা ছেড়ে দিয়েছে। খুব ঘামছে আর বলছে বুকের ভেতরটা কেমন করছে। কেউ যেন চেপে ধরেছে। আপনি ডাক্তারবাবু প্লিজ একবার আসুন এখুনি। – দেখুন চেম্বারে কয়েকজন রোগী আছেন এখনও। ওদেরকে দেখে আসছি। – […]
-
আধ বোতল কেরোসিনকুপির সলতে দপ করে জ্বলে ওঠার পর লাল আভা ছড়িয়ে প্রথম আলো তার নাকের উপর পড়ে। সলতে জ্বলে ওঠার পর সেই লালিমা নাক থেকে নেমে ধীরে ধীরে তার মুখ আলোকিত হয়।নির্মলা কোনোদিন টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখেনি। ভোরবেলায় কুপির সলতে জ্বালানোর সময় তার মুখ যে কাঞ্চনজঙ্ঘার মত দেখায় সে কথা আজ পর্যন্ত তাকে কেউ বলেনি। […]
-
ছুটিবেশ ছিল তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হল…, নাহ্ শঙ্খ এঁড়ে বাছুর কেনেনি, তবু তাকে তাঁত বোনা ছাড়তে হয়েছিল। ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। শঙ্খের পেশা তাঁত বোনা ছিল না। বাবা সেরিব্রাল অ্যাটাকে অকেজো হয়ে যাওয়ার পর, সংসারের সচল চাকা গতি হারাতে থাকে। সংসার যাপন অচল হতে শুরু করে। চাকরি না পেয়ে, বেছে নিয়েছিল সাইন বোর্ড আঁকা। ভাগ্যিস […]
-
সেনাপতিকথাটা শুনেই, ভেতরে ভেতরে যেন শুকিয়ে গেল প্রার্থিতা। কাত্তিকের সিনসিনে হাওয়া বইতে শুরু করলে যেমন বাথরুমের মেঝে শুকিয়ে যায় ঠিক তেমন। মা বলতেন, টানের দিন। লেপ-কম্বলের দিন শুরু হল এবার। বসন্তের মাকে বলে ছাদটা ঝাড় দেওয়াতে হবে। শুধু আচার শুকোতে দেবার জায়গা ঝাড় দেয় রোজ। গোটা ছাদটা ঝাড় দেয় না কখনও। দু কাঠা জমির ওপর […]
-
সাদা-কালো চেক– আমি তো রায়গঞ্জ যাচ্ছি, তুমি কোথায় দীপঙ্করদা? – আমি তো গতপরশু থেকেই শিলিগুড়ি। তোর কাজ মিটলে চলে আসিস। – হ্যাঁ, খেয়েদেয়ে আর কাজ নেই তো? আবার পৌনে দুশো কিলোমিটার উজিয়ে যাব আড্ডা দিতে। – তাহলে আসিস না। কী একটা বিশেষ কাজে নাকি নিউজ এডিটর দেবব্রত বসু তোকে পাঠিয়েছেন – শুনছিলাম। – সেটা তো বলতেই […]
-
ববিযানরমেশের চায়ের দোকানের তিনটে দেওয়ালের একটা ফার্ম হাউসের সীমানা পাঁচিল। বাকি দুটো রমেশের পয়সায়। খুব একটা শক্তপোক্ত নয়। বাড়ি ভাঙা পুরোনো ইঁট কম পয়সায় জোগাড় করেছিল বটে তবে সেগুলো সব কাদা দিয়ে গাঁথা। যদিও ওপর থেকে সেটা বোঝা যায় না। অনেক কষ্টে দুবস্তা সিমেন্টের পয়সাও জোগাড় করেছিল রমেশ। বালি নিয়েছিল রাস্তার ধারের তিনটে ডাঁই থেকে। […]
-
কালাআমি জানি না ইদানিং আমি কানে খাটো কিনা৷ কথাটা মা-ই ক’দিন আগে আমাকে শুনিয়েছিল৷ মায়ের কথা শোনার পর আমি বোকার মতো ঘরে ঢুকে আয়নার সামনে ঝুঁকে পড়ে কান টেনে ধরে নানাভাবে দেখলাম আমার কান কতটা খাটো৷ মনে মনে হেসেও ফেললাম৷ তবে মায়ের কথায় রাগ হল৷ কিন্তু কিছু বললাম না৷ মনে মনে ফুঁসলাম৷ এরপর একদিন আমার […]
-
প্রতিদ্বন্দ্বীআমার উল্টোদিকে বসে ছেলেটা নিজের আলট্রা মড ট্যাবটায় স্লাইড করে মন দিয়ে কিছু পড়ে যাচ্ছিল। এসব দৃশ্যে এখন আমার ভয় ধরে। এসি মেট্রো ট্রেনের গোটা কামরাটায় যেখানে দেখতে পাচ্ছি, বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকটি মানুষ মনপ্রাণ ঢেলে নিজের মোবাইলে অনলাইন গেম, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিও, সিনেমা বা অনলাইন চ্যাটে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে সফরের এটুকু […]
-
জাগো।। ১।। আইসে ক্যাইসে চলেগা বিমলবাবু? ব্যাংক মে ইতনা সারা কাম পারা হুয়া হ্যায়। উপর সে আপকা ইয়ে ঝিকঝিক! স্যার হাফ ডে দে দো। স্যার হাফ ডে দে দো। হাফ ডে লেনেকা প্যাগার মিলতা হ্যায় ক্যয়া? কুছ হি দিনো মে নভরাত্রি কা ছুট্টি মিলেগা। ফির ভি? আইসে তো আপকা টার্গেট হোনে সে রাহা! ইয়ে ওয়ালা […]
-
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বিশেষ আয়োজননববর্ষের স্মৃতি চৈত্রদিনের হাওয়া লিখেছেন:মিতালী মিত্র পহেলা বৈশাখ: মাটির শিকড় থেকে শহরের উৎসব লিখেছেন:নাহার তৃণা পয়লা বৈশাখ,পুরোনো ক্যালেন্ডার ও পলেস্তারা খসা দেওয়াল লিখেছেন:সুসমীর ঘোষ ব্যক্তিগত গদ্য আমার বিনয় ভ্রমণ লিখেছেন:রামকিশোর ভট্টাচার্য জ্ঞান নিয়ে জ্ঞান লিখেছেন:চিন্ময় ভট্টাচার্য কবিতার ভাবনায় গভীর জীবনবোধের মনন-উদ্ভাসিত প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের কবিতা লিখেছেন:দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎকার পাঠক সব দর্শকে পরিণত হয়ে যাচ্ছেঃ অনিন্দ্য সৌরভ […]
-
চৈত্রদিনের হাওয়াবসন্তর শেষবেলায় যখন চৈত্রদিনের হাওয়া বইতে শুরু করে তখন বাঘের ডাক শুনতাম আমরা রাত বিরেতে। গুম গুমে সেই ডাকে ঘুম ভাঙা আমরা ভাইবোনেরা গুটিশুটি চাদর মুরি, চোখ টিপে নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকতাম। শহরের একদিকে রাজবাড়িতে বারোদোলের মেলায় আসত সার্কাস, আর সেই সার্কাসের বাঘই অমন পিলে চমকানো ডাক ছাড়তো। জলঙ্গী নদীর ধারে শহরের আর এক প্রান্ত […]
-
পহেলা বৈশাখ: মাটির শিকড় থেকে শহরের উৎসববাংলা নববর্ষের ইতিহাস কমবেশি সবার জানা। শুরুটা হয়েছিল মুঘল আমলে। এর শিকড় অনেকটাই গভীরে—কৃষির ভেতর। শুরুতে নববর্ষ ছিল মূলত ঋতুর পালাবদলের চক্রে জড়ানো হিসেব-নিকেশ শুরুর মাস। তখনও পহেলা বৈশাখ পোশাকী উৎসব আমেজের ঘেরাটোপে জড়ায়নি। বরং বৈশাখের প্রথম দিনটি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রীতি হিসেবে পালিত হতো। তখন ফসল তোলা, দেনা-পাওনা মেটানো, নতুন খাতা খোলার সময়। কৃষিকাজ […]
-
পয়লা বৈশাখ,পুরোনো ক্যালেন্ডার ও পলেস্তারা খসা দেওয়ালআমাদের ঘরে এখন আর কোনও ক্যালেন্ডার নেই। ফ্ল্যাট নামক থাকার জায়গায় প্লাস্টার খসিয়ে একটি পেরেক পোঁতারও অনুমতি নেই। ফ্ল্যাটে ওই ঝুলন্ত ক্যানভাসটির থাকার অযোগ্যতা নির্ধারণ করে একটা ঘোষণাপত্র প্রচার করে দেওয়া হয়েছে কবেই। এমনিতেই এখন আর পয়লা বৈশাখ বা ইংরেজি নতুন বছর এলে হাতে হাতে ক্যালেন্ডার ঘোরার চল নেই সেভাবে। একদিকে খরচের বহর আর অন্যদিকে […]
-
আমার বিনয় ভ্রমণ“কবিতা ও আনন্দ” প্রবন্ধে বিনয় মজুমদার লিখেছেন “কবিতা হচ্ছে চিরস্মরণীয় বাক্য সমষ্টি যা হুবহু মুখস্থ করা যায়” এটাকেই তিনি কবিতার সংজ্ঞা বলেছেন। পড়বার সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মনে রাখে। যে পরম্পরায় কবিতাটি পড়েছে সে সেই পরম্পরায় মনে রাখে। কবির সঙ্গে আমায় সহমত হতে হবে এমন কোনও কারণ আছে বলে মনে হয় না। আর সহমত না […]
-
গভীর জীবনবোধের মনন-উদ্ভাসিত প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের কবিতাপ্রণবেন্দু দাশগুপ্ত মনেপ্রাণে এবং কবিসত্তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে আপাদমস্তক একজন যথার্থ ‘আধুনিক কবি’ । বিগত শতকের তিরিশ-চল্লিশ দশক পেরিয়ে পঞ্চাশের দশকে বিদগ্ধ কবিদের নক্ষত্রমণ্ডলে কি শব্দের ব্যবহারে, কি কবিতার গঠনগত আঙ্গিক-প্রকরণে, কি বিষয়বস্তুর কাব্যিক উপস্থাপনে বাংলা কবিতার যে তুঙ্গ ‘আধুনিকতা’ প্রকাশ পেয়েছিল, ওই দশকের তাঁর সতীর্থ কবিদের মতোই প্রণবেন্দু দাশগুপ্তও হয়ে উঠেছিলেন তার যথাযোগ্য প্রতিনিধিত্বকারী একজন […]
-
জ্ঞান নিয়ে জ্ঞানজানার শেষ নাই, জেনে তাই কাজ নাই। হীরক রাজার সভাকবির রচিত এই নীতিবাক্য চমকে দিয়েছিল সেইসময়। মনে মনে শিউরে উঠেছি অনেকেই, কি ভয়ঙ্কর সেই দেশ, কি ভয়ঙ্কর সেই সময়। হীরক রাজার দেশে সিনেমা মুক্তি পাওয়ার ৪০ বছর পর, আমার বয়স আরও ৪০ বছর এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে , সেটাই বোধহয় সত্যি হতে চলেছে। কতটুকু […]
