-
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বিশেষ আয়োজননববর্ষের স্মৃতি চৈত্রদিনের হাওয়া লিখেছেন:মিতালী মিত্র পহেলা বৈশাখ: মাটির শিকড় থেকে শহরের উৎসব লিখেছেন:নাহার তৃণা পয়লা বৈশাখ,পুরোনো ক্যালেন্ডার ও পলেস্তারা খসা দেওয়াল লিখেছেন:সুসমীর ঘোষ ব্যক্তিগত গদ্য আমার বিনয় ভ্রমণ লিখেছেন:রামকিশোর ভট্টাচার্য জ্ঞান নিয়ে জ্ঞান লিখেছেন:চিন্ময় ভট্টাচার্য কবিতার ভাবনায় গভীর জীবনবোধের মনন-উদ্ভাসিত প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের কবিতা লিখেছেন:দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎকার পাঠক সব দর্শকে পরিণত হয়ে যাচ্ছেঃ অনিন্দ্য সৌরভ […]
-
চৈত্রদিনের হাওয়াবসন্তর শেষবেলায় যখন চৈত্রদিনের হাওয়া বইতে শুরু করে তখন বাঘের ডাক শুনতাম আমরা রাত বিরেতে। গুম গুমে সেই ডাকে ঘুম ভাঙা আমরা ভাইবোনেরা গুটিশুটি চাদর মুরি, চোখ টিপে নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকতাম। শহরের একদিকে রাজবাড়িতে বারোদোলের মেলায় আসত সার্কাস, আর সেই সার্কাসের বাঘই অমন পিলে চমকানো ডাক ছাড়তো। জলঙ্গী নদীর ধারে শহরের আর এক প্রান্ত […]
-
পহেলা বৈশাখ: মাটির শিকড় থেকে শহরের উৎসববাংলা নববর্ষের ইতিহাস কমবেশি সবার জানা। শুরুটা হয়েছিল মুঘল আমলে। এর শিকড় অনেকটাই গভীরে—কৃষির ভেতর। শুরুতে নববর্ষ ছিল মূলত ঋতুর পালাবদলের চক্রে জড়ানো হিসেব-নিকেশ শুরুর মাস। তখনও পহেলা বৈশাখ পোশাকী উৎসব আমেজের ঘেরাটোপে জড়ায়নি। বরং বৈশাখের প্রথম দিনটি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রীতি হিসেবে পালিত হতো। তখন ফসল তোলা, দেনা-পাওনা মেটানো, নতুন খাতা খোলার সময়। কৃষিকাজ […]
-
পয়লা বৈশাখ,পুরোনো ক্যালেন্ডার ও পলেস্তারা খসা দেওয়ালআমাদের ঘরে এখন আর কোনও ক্যালেন্ডার নেই। ফ্ল্যাট নামক থাকার জায়গায় প্লাস্টার খসিয়ে একটি পেরেক পোঁতারও অনুমতি নেই। ফ্ল্যাটে ওই ঝুলন্ত ক্যানভাসটির থাকার অযোগ্যতা নির্ধারণ করে একটা ঘোষণাপত্র প্রচার করে দেওয়া হয়েছে কবেই। এমনিতেই এখন আর পয়লা বৈশাখ বা ইংরেজি নতুন বছর এলে হাতে হাতে ক্যালেন্ডার ঘোরার চল নেই সেভাবে। একদিকে খরচের বহর আর অন্যদিকে […]
-
আমার বিনয় ভ্রমণ“কবিতা ও আনন্দ” প্রবন্ধে বিনয় মজুমদার লিখেছেন “কবিতা হচ্ছে চিরস্মরণীয় বাক্য সমষ্টি যা হুবহু মুখস্থ করা যায়” এটাকেই তিনি কবিতার সংজ্ঞা বলেছেন। পড়বার সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মনে রাখে। যে পরম্পরায় কবিতাটি পড়েছে সে সেই পরম্পরায় মনে রাখে। কবির সঙ্গে আমায় সহমত হতে হবে এমন কোনও কারণ আছে বলে মনে হয় না। আর সহমত না […]
-
গভীর জীবনবোধের মনন-উদ্ভাসিত প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের কবিতাপ্রণবেন্দু দাশগুপ্ত মনেপ্রাণে এবং কবিসত্তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে আপাদমস্তক একজন যথার্থ ‘আধুনিক কবি’ । বিগত শতকের তিরিশ-চল্লিশ দশক পেরিয়ে পঞ্চাশের দশকে বিদগ্ধ কবিদের নক্ষত্রমণ্ডলে কি শব্দের ব্যবহারে, কি কবিতার গঠনগত আঙ্গিক-প্রকরণে, কি বিষয়বস্তুর কাব্যিক উপস্থাপনে বাংলা কবিতার যে তুঙ্গ ‘আধুনিকতা’ প্রকাশ পেয়েছিল, ওই দশকের তাঁর সতীর্থ কবিদের মতোই প্রণবেন্দু দাশগুপ্তও হয়ে উঠেছিলেন তার যথাযোগ্য প্রতিনিধিত্বকারী একজন […]
-
জ্ঞান নিয়ে জ্ঞানজানার শেষ নাই, জেনে তাই কাজ নাই। হীরক রাজার সভাকবির রচিত এই নীতিবাক্য চমকে দিয়েছিল সেইসময়। মনে মনে শিউরে উঠেছি অনেকেই, কি ভয়ঙ্কর সেই দেশ, কি ভয়ঙ্কর সেই সময়। হীরক রাজার দেশে সিনেমা মুক্তি পাওয়ার ৪০ বছর পর, আমার বয়স আরও ৪০ বছর এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে , সেটাই বোধহয় সত্যি হতে চলেছে। কতটুকু […]
-
পাঠক সব দর্শকে পরিণত হয়ে যাচ্ছেঃ অনিন্দ্য সৌরভ[ অনিন্দ্য সৌরভ। প্রায় চার দশক ধরে বাংলা অনুবাদ কর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। করেছেন একশোটির বেশি গল্পের বাংলা অনুবাদ। উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাঁর অনুদিত গল্প – ‘অলৌকিক’। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা ছাড়া সাহিত্য চর্চাই তাঁর একমাত্র নেশা। ‘শিল্পসাহিত্য’ নামে একটি মননশীল সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্য কর্মের ওপর নানা মননশীল প্রবন্ধ রচনা […]
-
পৌষের অপেক্ষায়এক ধুলোভরা গ্রামের রাস্তায় চারজনের ছোট দলটা হনহন করে চলছে । সকলের হাতে একটা করে থলে, তাতে প্লাস্টিকের দু-একটা জলের বোতল। রাস্তার তেষ্টা মেটাতে তো বটেই, ওদের কাজেও জলের প্রয়োজনটা বেশি, গলা ভেজাবার জন্য। ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে তাদের পৌছতে হবে তাদের গ্রাম আজারি থেকে চার মাইল দূরের কোজরা গ্রামে। কোজরার পুরনো জমিদার ঠাকুরসাহেবের হাভেলির বায়না। […]
-
পয়লা বৈশাখে লে খ্যাপাপয়লা বৈশাখের রাত, সময় নটা। দীপ্তেশ আর সুতপা ফিরছে, দুজনের চার হাতে চারটে শপার্স ব্যাগ ঝুলিয়ে। ব্যাগের পেট ফুলে আছে ভেতরের সুইটসের প্যাকেটে। ব্যাগ উঁচিয়ে উঁকি দিচ্ছে পাকানো বাংলা ক্যালেন্ডারের সাদা পিঠ। দম্পতির মাথায় উঁকি দিচ্ছে প্রশ্ন, পয়সা খরচ করে ক্যালেন্ডার আবার কেন? সুইটসের বহর একটু বাড়ালেই তো হয়! ক্যালেন্ডারের এখন কী গতি হবে? হাল […]
-
দোলনাভিনগাঁয়ে কাজ শেষে বিকেলে বাড়িতে ঢুকতে গিয়েই গৌরাঙ্গ বুঝতে পারলো বাড়িতে কোনো গন্ডগোল হয়েছে। দরজা হাট করে খোলা। বৌ শিবানী চৌকির ওপর না বসে, মেঝেতে থেবড়ে বসে, দেয়ালের দিকে মুখ করে বিড়বিড় করে কী সব যে বলছে, গৌরাঙ্গ বুঝতে পারলো না। শিবানীর শাড়ির আঁচল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। সেদিকে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। গৌরাঙ্গ-র পেছনে […]
-
হৃদস্পন্দনবিকেল ঢেকে সন্ধে আসছে, আনন্দময়ী সেবা সদনের ভেতর এখন রোগির পরিজনের ভীড় কমতে শুরু করেছে। ভিজিটিং আওয়ার শেষ, পরিস্কারের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা লম্বা ঝাড়ু নিয়ে বসার জায়গা, রিসেপশান, ফার্মেসি, আউটডোরের কেবিন ধোয়ামোছা করছে। শুধু এমারজেন্সিতেই এখন কয়েকজন ডিউটিতে আছে। কার্ডিয়াক সার্জেন ঝিলম ধীরে সুস্থে এমারজেন্সিতে এসে বসে। বিকেলের দিকে চাপ কম, এখানেই একটু আড্ডা দেয়, […]
-
ব্যালকনিদোতলার বারান্দার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এক তরুণী। ব্যালকনির টবেতে রাখা সুদৃশ্য গাছগুলির তদারকিতে ব্যস্ত। রাস্তার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক সুদর্শণ যুবক চা হাতে অপলক নয়নে দেখছে তরুণীটিকে। রোজকার ঘটনা। গাছের চর্চা করতে করতে তরুণীটি ঘেমে নেয়ে একশা। কয়েকটা চুল এসে মুখের সামনে এসে পড়াতে ব্যস্ত হয়ে সরিয়ে দিতে দিতে চকিতে নজর যায় রাস্তার ধারে দাঁড়ানো চা […]
-
পোকারোববারের সকাল। বাজার বসেছে। ভিড়টা অন্যদিনের তুলনায় তাই সিকি ভাগ বেশি। লোকেদের হাতে রঙবেরঙের নানান সাইজের থলে -কারোরটা পেটরোগা, কারোর নেয়াপাতি, তো কারোরটা আবার আটমাসের পোয়াতি। কেউ ব্যস্তবাগীশ, কেউ দরদামে ব্যস্ত, কেউ বা ছুটির আলস্য গায়ে মেখে সংসার ভুলে খানিক আড্ডায় মজে.. কারোর গায়ে হাল্কা র্যাপার জড়ানো, তো কারোর সাবধানি ধুতি হাঁটুর কাছে.. কারোর আটপৌরে […]
-
দশ বছরে পা দিল ‘গল্পের সময়’দশ বছরে পা দিল অনলাইন সাহিত্যভিত্তিক পত্রিকা ‘গল্পের সময়’। সময়ের হিসেবে এক দশক হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সাহিত্যচর্চার পথে এই দশ বছর মানে অসংখ্য শব্দের জন্ম, অজস্র ভাবনার উন্মেষ, আর পাঠক–লেখকের ভালবাসায় গড়ে ওঠা এক আত্মিক বন্ধন। ‘গল্পের সময়’ শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে—অন্যরকম গল্প বলার স্বপ্ন। যে গল্প দৈনন্দিনতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যে […]
-
মাসি ও আশপাশের গল্পআমার মা বাবার থেকে আমার মাসিদের দরদ কিছু কম ছিল না। মায়ের নিজের যে বোন নেই ছোটবেলায় বুঝিনি তা, দেখতাম আমার মেজ, সেজ, নমাসি, ফুল, কনে, রাঙা, নতুন, ছোট হয়ে যখন আর আঙুলে ধরত না, তখন নাম ধরে ধরে মাসি হত। যেমন পেরু, রীনা, বুড়াই, পুতুল, গীতু, মেমু, বুটা, ঢেঁপি। তারপরে তো মাসিরাই আমার সমবয়সী […]
-
উই ওয়ান্ট জাস্টিস(বর্বর লালসায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের স্মৃতিতে) এক কোনো কোনো রাতে সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে জেগে থাকে আকাশ৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে নক্ষত্র আর মানুষের চোখ লক্ষ কোটি জাগরণ ঘটিয়ে তোলে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে মানুষের স্পর্ধা শাসকের সব উচ্চারণ উচ্ছিষ্ট করে দিতে পারে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ অনেক উঁচু […]
-
মহানগর ও আরও দুটি গল্প।। উত্তরণ ।। ওয়েটিংরুমের বড়ো ঘড়িটায় রোমান দুটো বেজে গেছে ! নিশিকান্ত ত্রিবেদী হাতের চা তাড়াতাড়ি শেষ করার দিকে মন দিলেন। পাটনা জংশন স্টেশনের আপার ক্লাস ওয়েটিংরুমের যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বেশ ভালো। প্রশস্ত হল, বসবার চেয়ারের ডিজাইন আধুনিক । গোটাচারেক স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার লাগানো আছে বটে কিন্তু এই নভেম্বর মাসে পাখাগুলোই চলছে। আর তারা অভাবিতভাবে শব্দহীন […]
-
তোমার কথা হেথা…তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না, করে শুধু মিছে কোলাহল। কোলাহল না বলে বোধহয় হট্টগোল বলাই ভালো। বড্ড বেশি হলাহল পান চলছে চারপাশে, উঠোনে, বারান্দায় এমনি ঘরের ভেতরেও। দশ বছর আগে , গল্পের সময়ের শুরুর দিনগুলোতেও বোধহয় আমাদের মধ্যে অনেকেই এরকম ভেবেছিল,লিখেছিলও হয়তো কোথাও। তারপর, গল্পের সময় শুরু হওয়ার পর, সূযর্কে দশবার প্রদক্ষিণ করেছে […]
-
বাজিশরৎকালের এক গভীর কালো রাত। এক বৃদ্ধ ধনী মহাজন নিজের লাইব্রেরীতে পায়চারি করছেন আর ভাবছেন পনেরো বছর আগের এমনই এক শরৎকালের সন্ধ্যার কথা। সেদিন তিনি বাড়িতে পার্টি দিয়েছিলেন। অতিথি অভ্যাগতরা যারা এসেছিলেন, তারা প্রায় সকলেই কথায় খুব তুখোড়—কথাবার্তাও বুদ্ধিদীপ্ত ও চিত্তাকর্ষক। অনেক বিষয়েই আলোচনা হচ্ছিলো, তার মধ্যে একটি ছিল মৃত্যুদন্ড। বেশীরভাগ অতিথি, বিশেষ করে যারা […]
-
কালো ময়ূরী ও কারনেশনদিগন্তে কালো রেখা মাঝে মাঝে দপ দপ করছে, যেভাবে অনেকক্ষণ পড়ে থাকা নিভন্ত মশাল ধিক ধিক করে ওঠে। ঘৃণার মধ্যে মনে কেমন কাম জেগে ওঠে তার অন্ধ তমোময় দীপ্তি একটা তো আছে। এতো যে দ্বেষ কালিমায় পুঞ্জীভূত রাগ তা তো তুষের আগুন। শত্রু নারীদের ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের পরিণতিতে মৃত্যু আবহমান বিজয়ের সেতু চিহ্ণ। সেহেতু […]
-
রক্তএতক্ষনে আসার সময় হল?তোমার জন্য অফিস-কাছারি বন্ধ করে দিতে হবে দেখছি।প্রায়ই কাজে আসতে দেরি করে মিনতি। সময়ে রান্নার লোক না এলে শুধু অফিসে দেরি হয়, তাই নয় –সারা দিনের রুটিনটাই জট পাকিয়ে যায়। আজও দেরি করায় মেজাজ হারিয়ে কড়া কথা বলে দিতি। তার কথার জবাব না দিয়ে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে যায় মিনতি। জবাব না পেয়ে […]
-
টিকটিকি ও অন্য গল্পটিকটিকি -কিচ্ছু না, কালপ্রিট তুমি নিজে। কতবার পই পই করে বারণ করেছি, বার বার সাবধান করেছি প্রোফাইল লক করো, প্রোফাইল লক করো, সবাই করছে। এটাও খেয়াল করোনি। নিজে এথনিক হ্যাকিং টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেও যদি এটুকু বুদ্ধি না হয় তাহলে এখন কান্নাকাটি করছ কেন? আমাদের ছবি ছড়িয়ে ওরা ভাইরাল করছে বলে! একটানে কথাগুলো বলে একটু […]
-
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি[ এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যের অভিভাবক সমান, শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি ইতিমধ্যেই প্রকাশিত। ২০১২ সালে এটি প্রকাশিত হয় বিখ্যাত অনুবাদক ও সম্পাদক অনিন্দ্য সৌরভের নিজস্ব ‘শিল্প ও সাহিত্য’ পত্রিকায়।অনিন্দ্য সৌরভের অনুমতিক্রমেই এই মূল্যবান আলাপটি ‘গল্পের সময়’ এর পাঠকদের জন্য ফের প্রকাশ করা হল।] অনিন্দ্য সৌরভ: আপনার সৃষ্টি করা বেশ কিছু চরিত্র […]
-
গাবগুবি তার একলা আছেঅরুণদার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৭৪-১৯৭৫ এ। তখন সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ঢুকেছি। অরুণদা তখন হিন্দমোটরে কাজ করে। ‘শ্রীরামপুর স্টেশনে মহুয়া গাছটিকে’ লেখা হয়ে গিয়েছে। আমার শহরের আর এক কবি সমর বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় নিয়ে গিয়েছিল চন্দননগরের শুকসনাতনতলায় অরুণদার বাড়িতে। লিটল্ কার্লমাক্সকে দেখে সেদিন সদ্য যুবক চমকে উঠেছিলাম। সেদিন কয়েকটা কবিতা শোনার পর স্বভাব বাউল […]
-
এক বিস্মৃতপ্রায় সঙ্গীতকার[ মূল্যবান এই লেখাটি লেখা হয়েছিল অনেক আগেই, সেই আশির দশকে।সম্পাদক সাগরময় ঘোষের অনুমতিক্রমে এই বিস্মৃতপ্রায় সঙ্গীতকারের কথা প্রকাশ পাওয়ার কথা ছিল সেই সময়ের ‘দেশ’ পত্রিকার পাতায়।কিন্তু বিশেষ কারণে তা না হওয়ায় এতদিন লেখাটি অজান্তেই বাক্স বন্দি হয়ে পড়েছিল লেখকের কাছে। হঠাৎ তা মিলে যাওয়ায় লেখক তা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছেন ‘গল্পের সময়’কে।] ১৯৩২ সালের গোড়ার […]
-
ফিরে দেখা – দেখি নাই ফিরেফিরে দেখলাম। তবে বড্ড দেরিতে। অথচ ঘরেই ছিল সে, এতকাল। ভালো করে নজরই করিনি। সেই যে.. তা সবে অবোধ আমি, অবহেলা করি… এতকাল অবহেলাই করেছি। পরধন লোভে মগ্ন হয়েছিলাম কিনা, তা জানি না, তবে অবহেলা করেছি। কতটা অবহেলা করেছি, তা বোধগম্য হল, দেখি নাই ফিরে শেষ করার পর। রামকিঙ্কর বেইজের জীবন নিয়ে লিখেছেন সমরেশ বসু। […]
-
ধূমপান, বাঙালি ও বাংলা সিনেমাশিরোনামেই যেখানে ধূমপানের সঙ্গে বাঙালি ও বাংলা ছবি যুক্ত হয়েছে তখন বাঙালির সঙ্গে অন্য প্রদেশের মানুষ এবং বাংলা ছবির সঙ্গে অন্য ছবির তুলনা আসবেই। এ কথা স্বীকার করে নেওয়া ভাল যে আমাদের হাতে এমন নির্দিষ্ট তথ্য বা পরিসংখ্যান নেই যা থেকে বাঙালি ও অন্য প্রদেশবাসীর ধূমপানের অভ্যাস অথবা বাংলা ও হিন্দী ছবিতে ধূমপানের প্রতিতুলনা করা […]
-
কাপুরুষ এবং এক যুদ্ধের সমাচারকাপুরুষ ঘুমের ঘোরে হাত রেখেছিল অন্যের হৃদয়ে। হৃদয় উষ্ণ, তবে তাতে শোণিতের শব্দ ছিলো না। মুহূর্তে তার ভেতরে ককিয়ে উঠেছে কান্না। তার অন্তরাত্মা বৈশাখের ঝুরো ধুলোর মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকছে।সীমান্তে তখন সন্নাটা। এক্মুহূর্তের রাতশেষ। তবে কার বুকে সে হাত রেখেছিল? সে নারী না পুরুষ বুঝতে পারেনি তখন ঘোর ভয়ে। নিজে সে মেয়ে নয়। পাশ ফিরে […]
-
রূপাতীতবাতাসে শিউলিফুলের গন্ধ। নিশ্চয় চামেলিদের গাছে ফুল ধরেছে। আমাদের বাড়ির পেছন দিকে রান্নাঘরের পাশে একটা শিউলিগাছ ছিল। শোঁয়াপোকা হয় বলে বছর দুয়েক আগে কেটে ফেলা হয়। রান্নাকরা ডালে একটা শোঁয়াপোকা পড়ে-ছিল। সরলাপিসি আমাদের রান্না করে। সেই বলল গাছটা কাটিয়ে ফেলার কথা। বড় বাটি ভরতি পুরো ডালটা ফেলা গেল। দেখা গিয়েছিল তাই, নাহলে কারও পেটে চালান […]
