গল্প পড়ুন

এই মুহুর্তে বাংলা ভাষায় লেখালিখি করেছেন এমন গল্পকারের সংখ্যা কত? সত্যি বলতে কী ‘গল্পের সময়’ তা জানে না। কয়েকজন ব্যাক্তি ও কয়েকটি সংস্থা উদ্যোগ নিয়ে দুই বাংলায় লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের নথিভুক্তকরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তা কোনও ভাবেই সম্পূর্ন নয় বা হওয়া সম্ভব নয়। কারন প্রতিনিয়তই লেখালিখির জগতে আসছেন বহু মানুষ। ইন্টারনেটে বাংলা গল্পের ম্যাগাজিন করতে গিয়ে আমরা লক্ষ্য করেছি অনেক লেখকই এখনও কম্পিউটার এড়িয়ে চলেন। কাগজ-কলমেই তাঁরা স্বচ্ছন্দ। চিরাচরিত ছাপা ম্যাগাজিন, লিটল ম্যাগ, শারদসংখ্যা বা সংবাদপত্রের সাময়িকীতেই তাঁরা লেখালিখি করেন। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে স্বচ্ছন্দ একদল লেখককুল রয়েছেন। তারা ফেসবুকে পোস্ট করছেন, ব্লগ বানাচ্ছেন, ই-ম্যাগাজিনেও লিখছেন। ‘গল্পের সময়’ এই দুই পক্ষকেই চায়। নবীন ও প্রবীন গল্পকারদের গল্প পড়ুন এই পাতায়।


  • উই ওয়ান্ট জাস্টিস
    উই ওয়ান্ট জাস্টিস

    (বর্বর লালসায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের স্মৃতিতে)   এক কোনো কোনো রাতে সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে জেগে থাকে আকাশ৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে নক্ষত্র আর মানুষের চোখ লক্ষ কোটি জাগরণ ঘটিয়ে তোলে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে মানুষের স্পর্ধা শাসকের সব উচ্চারণ উচ্ছিষ্ট করে দিতে পারে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ অনেক উঁচু […]


  • মহানগর-ও-আরও-দুটি-গল্প
    মহানগর ও আরও দুটি গল্প

    ।। উত্তরণ ।।    ওয়েটিংরুমের বড়ো ঘড়িটায় রোমান দুটো বেজে গেছে ! নিশিকান্ত ত্রিবেদী হাতের চা তাড়াতাড়ি শেষ করার দিকে মন দিলেন। পাটনা জংশন স্টেশনের আপার ক্লাস ওয়েটিংরুমের যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বেশ ভালো। প্রশস্ত হল, বসবার চেয়ারের ডিজাইন আধুনিক । গোটাচারেক স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার লাগানো আছে বটে কিন্তু এই নভেম্বর মাসে পাখাগুলোই চলছে। আর তারা অভাবিতভাবে শব্দহীন […]


  • বাজি মূল রচনাঃ অ্যান্থন চেকভ অনুবাদ – ডাঃ সুশোভন অধিকারী
    বাজি

    শরৎকালের এক গভীর কালো রাত। এক বৃদ্ধ ধনী মহাজন নিজের লাইব্রেরীতে পায়চারি করছেন আর ভাবছেন পনেরো বছর আগের এমনই এক শরৎকালের সন্ধ্যার কথা। সেদিন তিনি বাড়িতে পার্টি দিয়েছিলেন। অতিথি অভ্যাগতরা যারা এসেছিলেন, তারা প্রায় সকলেই কথায় খুব তুখোড়—কথাবার্তাও বুদ্ধিদীপ্ত ও চিত্তাকর্ষক। অনেক বিষয়েই আলোচনা হচ্ছিলো, তার মধ্যে একটি ছিল মৃত্যুদন্ড। বেশীরভাগ অতিথি, বিশেষ করে যারা […]


  • কালো ময়ূরী ও কারনেশন

    দিগন্তে কালো রেখা মাঝে মাঝে দপ দপ করছে, যেভাবে অনেকক্ষণ পড়ে থাকা নিভন্ত মশাল ধিক ধিক করে ওঠে।  ঘৃণার মধ্যে মনে কেমন কাম জেগে ওঠে তার অন্ধ তমোময় দীপ্তি একটা তো আছে। এতো যে দ্বেষ কালিমায় পুঞ্জীভূত রাগ তা তো তুষের আগুন। শত্রু নারীদের ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের পরিণতিতে মৃত্যু আবহমান বিজয়ের সেতু চিহ্ণ। সেহেতু […]


  • রক্ত/ জটাশঙ্কর লাহিড়ী
    রক্ত

    এতক্ষনে আসার সময় হল?তোমার জন্য অফিস-কাছারি বন্ধ করে দিতে হবে দেখছি।প্রায়ই কাজে আসতে দেরি করে মিনতি। সময়ে রান্নার লোক না এলে শুধু অফিসে দেরি হয়, তাই নয় –সারা দিনের রুটিনটাই জট পাকিয়ে যায়। আজও দেরি করায় মেজাজ হারিয়ে কড়া কথা বলে দিতি। তার কথার জবাব না দিয়ে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে যায় মিনতি। জবাব না পেয়ে  […]


  • টিকটিকি ও অন্য গল্প

    টিকটিকি -কিচ্ছু না, কালপ্রিট তুমি নিজে। কতবার পই পই করে বারণ করেছি, বার বার সাবধান করেছি প্রোফাইল লক করো, প্রোফাইল লক করো, সবাই করছে। এটাও খেয়াল করোনি। নিজে এথনিক হ্যাকিং টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেও যদি এটুকু বুদ্ধি না হয় তাহলে এখন কান্নাকাটি করছ কেন? আমাদের ছবি ছড়িয়ে ওরা ভাইরাল করছে বলে! একটানে কথাগুলো বলে একটু […]


  • কাপুরুষ এবং এক যুদ্ধের সমাচার তন্বী মুখোপাধ্যায়
    কাপুরুষ এবং এক যুদ্ধের সমাচার

    কাপুরুষ ঘুমের ঘোরে হাত রেখেছিল অন্যের হৃদয়ে। হৃদয় উষ্ণ, তবে তাতে শোণিতের শব্দ ছিলো না। মুহূর্তে তার  ভেতরে ককিয়ে উঠেছে কান্না। তার অন্তরাত্মা বৈশাখের ঝুরো ধুলোর মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকছে।সীমান্তে তখন সন্নাটা। এক্মুহূর্তের রাতশেষ। তবে কার বুকে সে হাত রেখেছিল? সে নারী না পুরুষ বুঝতে পারেনি তখন ঘোর ভয়ে। নিজে সে মেয়ে নয়। পাশ ফিরে […]


  • রূপাতীত , রমা ঘোষ, গল্প
    রূপাতীত

    বাতাসে শিউলিফুলের গন্ধ। নিশ্চয় চামেলিদের গাছে ফুল ধরেছে। আমাদের বাড়ির পেছন দিকে রান্নাঘরের পাশে একটা শিউলিগাছ ছিল। শোঁয়াপোকা হয় বলে বছর দুয়েক আগে কেটে ফেলা হয়। রান্নাকরা ডালে একটা শোঁয়াপোকা পড়ে-ছিল। সরলাপিসি আমাদের রান্না করে। সেই বলল গাছটা কাটিয়ে ফেলার কথা। বড় বাটি ভরতি পুরো ডালটা ফেলা গেল। দেখা গিয়েছিল তাই, নাহলে কারও পেটে চালান […]


  • মসসা, সিদ্ধার্থ সান্যাল
    মসসা

    এক রণধীর চৌবে গ্লাসে আর এক পেগ হুইস্কি ঢেলে নিয়ে আমার খালি গ্লাসের দিকে ইঙ্গিত করে সুশীলের দিকে ফিরে বললেন, তখন আমি পালামৌ ডিসট্রিক্টের এস পি, বুঝলে। পালামৌতে, আমাদের সাবেকি বাড়ির দুমাইলের মধ্যে ডালটনগঞ্জের ডিসট্রিক্ট কোর্ট এরিয়াতে আমার অফিস। পুরো কেরিয়ারের মধ্যে সেই একবারের পোস্টিং-এই বাবা, মা, দাদা, বৌদি সকলের সঙ্গে বছর দুয়েক থাকার সুযোগ […]


  • জীবন, রূপা সেনগুপ্ত, গল্প
    জীবন

    ১ বৃষ্টি থেমে গেছে তাতো প্রায় সাত দিন হয়ে গেল। সুমিদের উঠোন থেকে জল নেমে গেছে। গত কয়েকদিন রোদের তেজ ছিল প্রখর। উঠোন মোটামুটি শুকিয়ে গেছে। তবু সুমি সাবধানে উঠোনের ধার ঘেঁষে হাটে। তাঁর মা কাঠ এবং কয়লার উনুনে রাঁধেন। সেই ছাই ফেলে একটা সরু চলার পথ করেছেন তিনি। তাঁদের বাড়ির সীমানায়  কলাবতী ফুলের গাছ […]


  • এক চাঁদ চার তারা, সুসমীর ঘোষ, গল্প,
    এক চাঁদ চার তারা

    সেক্টর  ফাইভ থেকে  বাসে  করে  উল্টোডাঙা  নামতেই  খিদেটা  চাগার  দিল  অনুষ্টুপের। শেষ  খাবারটা  খেয়েছে সেই  দুপুরবেলা।  বাড়ি থেকে দেওয়া  টিফিনে  আজ  ছিল  পরোটা, আলুর  তরকারি  আর  মিষ্টি। আজ  যেন  একটু  বেশিই  খিদে পাচ্ছে। কী জানি কী হয়েছে।দুপুরের টিফিনটাও আজ টিফিন টাইম হতে না হতেই সাঁটিয়ে দিয়েছে।  একটা বাজতে না বাজতেই অনুষ্টুপ টিফিন কৌটো খুলে বসায় […]


  • অ্যাক্টিভিস্ট, দেবাশিস মজুমদার
    অ্যাক্টিভিস্ট

    ১ ইস্যু ঘুরতে দেওয়া যাবে না। বার্নিং টপিককে আরও বার্নিং করে ধরে রাখতে হবে। ফোনের ওপারের কথা শুনতে শুনতে রাস্তার মোড়ের দোকান থেকে গোল্ড ফ্লেকটায় অগ্নিসংযোগ করল পঙ্কজ। তারপর দোকানের পেছনের দিকের ছায়াঘেরা  বাবলা গাছটার নিচে বেঞ্চি পাতা সেফটি জোনে ঢুকে বাঁ হাতটা  মোবাইলের নীচে  ধরে ,কথা আড়াল করে, নিচু স্বরে বলতে শুরু করল – […]


  • ভেজা খড়ের গন্ধ হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
    ভেজা খড়ের গন্ধ

    চামড়ার ওপর এসে পড়ে এক ফোঁটা ঠাণ্ডা জল। কেমন যেন কুঁচকে যায়। ঠিক কুঁচকে যাওয়া নয়, নিজেকে কেমন যেন গুটিয়ে নেয়। শুকনো বালির মধ্যে এক ফোঁটা জল এসে পড়লে যেমন হয়, চারপাশের পাড়ায় কেমন যেন একটা ধ্বস নামে। পাড়ায় পাড়ায় চাউর হয়ে যায় জল পড়ার খবর। তারপর শক্তির দিকে আস্তে আস্তে ঘেঁষে যাওয়া।  কিছুতেই মুখ সরিয়ে […]


  • লক্ষ্মী-সরস্বতী

    ।। ১।। আর বোলো না, কি দিনকাল পড়েছে ! তাই নয় তো কি? কাল রাতে কখন ফিরেছে জানো ? কখন ? সাড়ে বারোটা ! ভুতুর বাবা স্মোক করতে উঠেছিল, ব্যালকোনি থেকে দেখেছে। জানোই তো তিন দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম, তার উপর বিজি সিজন, মাঝে মাঝে রাতভর জাগতে হয় গো লোকটাকে ! হ্যাঁ। পুরুষ মানুষ হলে […]


  • গল্পের সময়
    উন্নয়ন

    দুর্গাপুর থেকে বিষ্ণুপুর যাচ্ছিলাম সপরিবারে। সাত বছরের মেয়ের চোখে অপার বিস্ময়, অসীম আনন্দে চিকচিক করছে দুটো চোখ-মা দেখ কি সুন্দর গাছ, মা, কত সবুজ! মা কি পাখি ডাকল? প্রকৃতি প্রেমীর প্রশ্নবাণ থেকে বাঁচবার জন্য মেয়ের বাবা খবরের কাগজের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেছেন। আশা করছেন আড়াই ঘণ্টার পথ এই ভাবেই কাটবে। পুজোর আগমনী বার্তা জানিয়ে রাস্তার […]


  • গল্পের সময়
    ছবি

    সুরবালার বয়স এখন প্রায় পঁচাশি। মোটামুটি নিজের সব কাজ সে নিজে করতে পারে। শুধু চুল আঁচড়াতে গেলে বড্ড হাত ব্যথা করে। হাতটা উঁচু করতে গেলেই যত বেদনা। ছেলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। ওষুধ মালিশ এসব করলে একটু উপশম হয় । সুরবালা বুঝে গেছেন যে এই বয়েসে এর বেশি কোন কিছু আশা করা ঠিক নয়। তিনি […]


  • ডিলিট

    পাড়ার প্রদীপ বোধহয় পটাই হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বদের গাছ হয়েছে একখানা। হেন দুষ্কর্ম নেই যে পটাই করে না। তোলাবাজি মস্তানি গুন্ডামি মেয়েদের টিজ করা সব কাজে সে সিদ্ধ হস্ত। এহেন পটাই কে সবাই এড়িয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চলবো ভাবলেই তো আর চলা যায় না। বিশুর চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে  ঘুম চক্ষুটি খুলেই ব্রাশে মাজন […]


  • ভাষা-শহিদ কে জানত একটা কথা থেকেই এত ঝামেলার সৃষ্টি হবে। পটাই মেয়েটার সামনে দাঁড়িয়ে গদাইকে বলেছে - অত ভাবার কিছু নেই।ভাল লাগলে বলে দে-আই লেবু। ব্যস ওখানেই শুরু হল নতুন বিপ্লব।এলাকার দাপুটে নেতা ও কাউন্সিলর সত্যেনদাকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ার মোড়েই ধরেছিল পটাইকে।দলের ছেলেদের সামনেই গরম নিতে আরম্ভ করল আর তারপরই শুরু হল মেয়ের বাবার ধমকানি - চেনো আমাকে? কানেকশন জানো? তোমার থোবড়া বিল্লা করে দিতে পারি একটা ফোনে। দমার ছেলে নয় পটাই। কাউন্সিলর সত্যেনদার সামনে ঝুঙ্কুর বাবাকে বলেই দিয়েছিল - দেখুন, আমাকে চমকে খুব একটা লাভ নেই।একটা উঠতি বয়সের ছেলে।তার লাবারকে আই লেবু বলেছে। তো তাতে হয়েছেটা কি! আর তো কিছুই করে নি! এতেই এত টেম্পো নেওয়ার কি আছে? ওর হয়ে আমি সরি বলে দিচ্ছি।হয়ে গেল। খেল খতম, পয়সা হজম।তবে এটাও জেনে জান আপনার মেয়েরও কিন্তু পিনিক মারার অভ্যেস আছে।খিল্লি ওই প্রথম করেছিল।তাই এত। ঝুঙ্কুর বাবা দাঁত কিড়মিড় করে বলেছে- পিনিক মারা দেখবে? ওকে।আই উইল গিভ ইউ অ্যা লেশেন। তুই থামবি - বলে সত্যেনদার ধমকে আপাতত চুপ করলেও পরে লোকটা চলে যেতেই সত্যনদার সামনেই বলেছে- বালের শিক্ষিত। সত্যেনদার পাল্টা ধমক - মাইণ্ড ইওর ল্যাংগুয়েজ পটাই।ভাষা ঠিক কর।নইলে তাড়াব দল থেকেই।এত নোংরা ল্যাংগুয়েজ।পার্টির ইমেজ বলে একটা কিছু আছে তো নাকি রে! একে তো ইভ টিজিং এর কেস ।তার ওপর স্ল্যাং ইউস।কি বলবে বল লোকে।তোদের এই স্ল্যাং ইউজটা কি বাই বার্থ? তোরা ভদ্র সমাজে বসবাসের অযোগ্য। দলে তো বটেই। পটাই চিৎকার করে বলল- ধূর বাল।ছাড়ো না।এই বালের ইংলিশ, যায় বোঝা না যায় পড়া।যারা বোঝে না,দের সামনে ঝেড়ে কি যে আনন্দ পাও কে জানে!এর চেয়ে বাল, হিন্দি অনেক ভাল। অন্তত বোঝা যায়। গদাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল পটাই এর দিকে পটাই চিৎকার করল- কি বাল? তাকিয়ে দেখছিস কি? থতমত খেয়ে গদাই বলল- দেখছি না শুনছি। কি শুনছিস ? বল না ? খেপে উঠেছে পটাই। তোমার মাতৃভাষা- নরম গলায় বলল উচ্চমাধ্যমিক ফেল গদাই।একটু থেমে আরও নরম গলায় বলল আসলে বুঝতে চাইছি হিন্দি আর তোমার মাতৃভাষার পার্থক্যটা। সত্যেনদা গদাই এর দিকে তাকিয়ে বললেন -'বোঝার কোন চেষ্টাই কোর না গদাই।মাথার সব চুল টেনেও বুঝতে পারবে না, আমিও পারিনি।’ গদাই নিষ্পাপ কণ্ঠে প্রশ্ন করল- কোন বিষয়টা? সত্যেনদার নির্লিপ্ত জবাব- এই একটা ভাষা শহীদ হয় কখন? অন্য ভাষার তাপে না ভুল ব্যবহারের চাপে? একটা সিগারেট ধরিয়ে লম্বা টান দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট রিং ছাড়তে ছাড়তেই পটাই বলল- আমাদের এই মাতৃভাষার জোর জান? আমরা জানি।আমাদের সমাজ জানে।আমাদের এই ভাষার জোরেই কিভাবে ওই বালের শিক্ষিত সমাজের ইংলিশ মাড়ানো ধান্দাবাজদের চাপে বাপ বলাতে হয়। সত্যেনদার ধমক এল - ওই ছোটলোকের ভাষার কোন দাম নেই। চকিতে ঘুরে দাঁড়াল পটাই - শুধু দাম কখন বলতো? অন্যকে ভয় দেখাতে বা চমকাতে ? তাই না? যখন আমাদের ডাক পড়ে? মানে যখন আপনারা ডেকে নিয়ে যান, আরকি! থতমত খাওয়া সত্যেনদার দিকে তাকিয়ে গদাই নিষ্পাপ কণ্ঠে বলল - ঘাবড়াবেন না - কথা অমৃত সমান।কি বলেন? ……………………………. নিউ নর্মাল দেবাশিস মজুমদার আমাদের সাধনার ওপরে উঠলে দেখা যায়, উঁচু উঁচু পাহাড় ছোঁয়া মিনারখানা যেন আকাশে হেলান দেওয়া। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছিলেন ষাটোর্ধ সুখময় তপাদার। - বলেন কি? আপনি সাধন মার্গের মানুষ বুঝি নি তো। - না, না। সাধনা আমাদের ২০ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীদের আবাসন। সেই চারতলা আবাসনের মাথায় উঠলে পাশেই দেখা যেত গঙ্গা।এখন গঙ্গার পাশে খেলনা গম্বুজের মতন ত্রিশতলা নতুন কমপ্লেক্স নিউ কোলকাতা। - জানি একেবারে অত্যাধুনিক ব্যবস্থার অ্যাপার্টমেন্ট।আমার মেয়ের অফিসের বস্ বুক করেছেন একটি।মেয়েও বলছে আমাদের গঙ্গা দর্শনের পাঁচতলার ওপরের ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে ওখানেই একটা বুক করতে।এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলেন প্রাতঃভ্রমণকারী নির্বেদ রায়। - ওখানে সব ভাল। একটাই অসুবিধা, সবাই অচেনা। পনেরো কুড়ি হাজার মানুষ গোটা এলাকায়। পাঁচ হাজার মতন ফ্ল্যাট, ত্রিশতলা দশটা টাওয়ার।কে কার? এটাই বুঝি না।হয়ত বা বয়সটা বোঝায় না।এটাও হতে পারে।নিজের যুক্তিতে অটল সুখময়। - আপনি গিয়েছিলেন কখনও? - হ্যাঁ, আমার ভাগ্নী মুন কিনেছে, ২৮ তলায়। গেলাম, থাকলামও একদিন। ভাল বন্দোবস্ত। - হবেই তো। কত বড় কর্পোরেটের ব্যাপার। খারাপ হবে কেন? - না, তা নয়। সাধনার চারতলা আবাসনের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে এত ছোট মনে হয় না কখনও। ওপরের বারান্দায় গেলেও না। কিন্তু মুনের চল্লিশতলা টাওয়ার নীচে দাঁড়িয়েও নিজেকে যা মনে হল ওর আঠাশতলার ব্যালকনিতে গিয়েও তাই মনে হল। - কি? - নিজেকে একটা বিন্দুর মতন। - ওসব কিছু না। অত উঁচু তো। তাই ওরকম মনে হয়। - না, আসলে আমার মনে হল, ওপর থেকে নীচে তাকালে মাটির পৃথিবীর মানুষগুলো বিন্দু হয়ে যাচ্ছে আর নীচে দাঁড়ানো মাটির পৃথিবীর মানুষের দল ছোট হতে হতে হয়তো একদিন চাপা পড়ে যাবে। - সে কি! কি করে! - দাপুটে উচ্চতার আগ্রাসী ক্ষুধার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হতাশা আর অভিমানে। - সে তো পাহাড়ের সামনে দাঁড়ালেও হয় আমাদের তাই না? আবার পাহাড়ী উচ্চতা থেকে তাকালেও হয়। - নো – নো।নেভার নেভার।প্রাকৃতিক উচ্চতা বা গুণগত উচ্চতা কোন মানুষকেই নীচু করে না বা ছোট করে না বাঁচার শর্তগুলোকে। - তাহলে আপনি কোন উচ্চতার কথা বলছেন সুখময় দা? - বৈভবের উচ্চতার কথা। - কিন্তু এখন তো চেঞ্জিং সোসাইটির এটাই নর্মাল ডিমাণ্ড সুখময় দা। টু মেক অ্যা ডিফারেন্স বিটুইন কমন অ্যাণ্ড আনকমন ম্যান। - কেন? কেন বলুন তো? - সোসাইটির নর্মাল ডিমাণ্ডকে অ্যাবনর্মাল চাহিদার মুখে ফেলে আর একটা নতুন সোসাইটির বাজার তৈরির জন্য। - কারা তৈরি করছে এই সোসাইটি আর বাজার? - নিউ নর্মাল সোসাইটি আর তাদের বৈভবের দাপুটে সাপ্ল্যায়ার। যাদের উচ্চতার দাপটে ছোট হয়ে যাচ্ছে আমাদের চাহিদাগুলো বিন্দুর মতন।
    দুটি গল্প

    ভাষা-শহিদ   কে জানত একটা কথা থেকেই এত ঝামেলার সৃষ্টি হবে। পটাই  মেয়েটার  সামনে  দাঁড়িয়ে গদাইকে বলেছে – অত ভাবার  কিছু নেই।ভাল লাগলে বলে দে-আই লেবু। ব্যস ওখানেই  শুরু  হল নতুন  বিপ্লব।এলাকার  দাপুটে নেতা ও কাউন্সিলর সত্যেনদাকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ার  মোড়েই  ধরেছিল  পটাইকে।দলের  ছেলেদের  সামনেই  গরম নিতে আরম্ভ  করল আর তারপরই শুরু হল মেয়ের  বাবার  […]


  • সিদ্ধার্থ সান্যাল / কৃকলাশ
    কৃকলাশ

    তাহলে আমরা যাচ্ছি কি না লাস্ট শো-এ ? তাড়াতাড়ি ঠিক করে বল, টিকিট বুক করবো তো ! প্রমথ দুই বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বললো। তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু কানপুর ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে ইলেকট্রনিক্সের ছাত্র, প্রমথ ডে স্কলার, বাকি দুজন হোস্টেলবাসী । শনিবারের দুপুর থেকে প্রমথর বাড়িতে এসে খাওয়া দাওয়া আর জোর আড্ডা দিচ্ছে সুজন আর অনন্ত। ওদের দুজনের […]


  • রূপা সেনগুপ্ত / সীতা
    সীতা

    ১ অশোক বাড়ি ফিরছিল রিক্সা করে। এভাবে রিক্সাভাড়া সচরাচর সে খরচ করে না। শিখা বলে সে নাকি কিপ্টে। অশোক মুচকি হেসে এড়িয়ে যায়। ব্যাংক কর্মী অশোকের একটা ছোট বাড়ি আছে। ব্যাংক লোন করে প্রথমে জমি কিনেছিল সে। পরে লোন শোধ হলে বাড়ির জন্য লোন নেয়। অশোক বেশ হিসেবী । একটা ডায়েরি তে সে সব হিসেব […]


  • ঘুম এনে দেবে কেউ / তন্বী মুখোপাধ্যায়
    ঘুম এনে দেবে কেউ

    ঘুম আর শেষঘুম এক নয়, শেষ ঘুম হলো মৃত্যু। শেষ ঘুম একবারে অজ্ঞান,এক্কেবারে নিস্তার। ঘুমও নিস্তার- কিছু সময়ের জন্য ভুল-ঠিক, কর্তব্যাকর্তব্য,মায়া না মতিভ্রম, সুমতি- কুমতির হাত থেকে বাঁচা। শেষ ঘুমে তাই হয়তো স্বর্গ আসে ও ঘুমের মাঝে দেখা দেয় স্বপ্ন নামে ক্ষণস্বর্গ। রিটায়ার করা- ইস্তক  প্রফুল্লবাবুর ঘুরে ফিরে ঘুম ছাড়া আর কিছুই ঠিক মনে হচ্ছে […]


  • বিন্দু বিসর্গ /দেবাশিস মজুমদার
    বিন্দু বিসর্গ

    গল্প আছে ?- রিষড়ার বাঙ্গুর পার্কের ফ্ল্যাটের সান্ধ্য দ্বিপাক্ষিক আড্ডার মধ্যেই  হটাৎ প্রশ্নটা ছুড়েছিল কলকাতার একটি নামী সংবাদপত্রের  সাব এডিটর পীযুষ আশ। গল্প তো আছেই ? খাস্তা, বাসি, টাটকা কোন গল্প শুনতে চাস বল?- চটজলদি পালটা প্রশ্ন ছুঁড়লো লেখক সদানন্দ। সবেমাত্র আই বি- র লার্জ পেগটা শেষ করে গ্লাস নামিয়েছে। সন্দিপনীয় ভাষায় উৎসব শুরু হয়েছে […]


  • বুঝিনি সে নিরুচ্চার ভালোবাসা ছিল নিরন্তর / অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়
    বুঝিনি সে নিরুচ্চার ভালোবাসা ছিল নিরন্তর

    এক দুপুর থেকে একা একা কফি হাউসে বসে দু’তিন রাউন্ড ইনফিউশন শেষ কোরেও একটা লাইনেই আটকে থাকল পদ্যটা, ‘বুঝিনি সে নিরুচ্চার ভালোবাসা ছিল নিরন্তর’। আগে পরে আর কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নাহ্, আজ আর হবে না। বিকেলের দিকটায় উঠব উঠব করছি, এমন সময় দেখলাম প্রফেসর সাহেব ঢুকছেন, অনেকদিন পরে! আমার অনেক দিনের পরিচিত জন। […]


  • তান্ত্রিক, ত্রিদিবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
    তান্ত্রিক

    কথা ছিল পুরুলিয়া যাব পলাশ দেখতে। কিন্তু যাবার আগের দিন হুজুক উঠলো তারাপীঠ । আমি প্রথমে রাজি হচ্ছিলাম না গন্তব্য পরিবর্তনে।  শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়েছিলাম তারাপীঠ না যাওয়ার জন্য। কিন্তু মহিলা সদস্যদেরই জয় হলো। তারাপীঠ সম্পর্কে গল্প শুনে শুনে কেমন যেন একটা  অনাগ্রহ তৈরি হয়েছিল আমার মনের মধ্যে। এই অনাগ্রহের কারণ বলতে গেলে আমাকে অরুণের […]


  • গাছ কন্যা/সুদীপ ঘোষাল
    গাছ কন্যা

    গ্রামে গঞ্জে শহরের আনাচে-কানাচে কত যে ঘটনা ঘটে যায় তার খবর আমরা কি রাখি। কতটুকু রাখতে পারি।নদীর ধারে সাজানো-গোছানো গাছ গাছালি ঘেরা সেরান্দি গ্রাম। এই গ্রামে একটা হাই স্কুল ছিল। রুনু নামে, একটা মেয়ে পড়ত এই স্কুলে। যখন অঙ্কের ক্লাস হতো,  তখন দিদিমণি দেখলেন অংক না করে রুনু ছবি আঁকছে। আবার বাংলার ক্লাসে মাস্টারমশাই গেলেন […]


  • গল্পের সময় শৈলেশ মটিয়ানি হিন্দি থেকে ভাষান্তর: অনিন্দ্য সৌরভ
    মুক্তি

    [প্রখ্যাত লেখক শৈলেশ মটিয়ানির জন্ম  ১৪ই অক্টোবর, ১৯৩১, আলমোড়া জেলার বাড়েছিনা গ্রামে। উত্তরাখণ্ডের গ্রামীণ-পাহাড়ি জনজীবনের বিশিষ্ট কথাশিল্পী। কিছু সরকারি পুরস্কার ছাড়াও কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সাম্মানিক ডি. লিট. (১৯৯৪ সাল)। মৃত্যু: ২৪শে এপ্রিল, ২০০১, দিল্লি। উত্তরাখণ্ড সরকার তাঁর স্মৃতিতে প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের ‘শৈলেশ মটিয়ানি পুরস্কার’ দেয়।]   কেবল পান্ডে সবে নদীটা অর্ধেক পেরিয়েছেন। চতুর্মাসের […]


  • গল্পের সময় আকাশপথের উদ্দেশে হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
    আকাশপথের উদ্দেশে

    আমার মা পান চিবুতে চিবুতে মাঝে মাঝেই জিভটাকে বার করে নিয়ে এসে অনেকটা লম্বা করে দেওয়ার চেষ্টা করত। খুব একটা সফল হতো না তবে তা নিয়ে তার কোনো কষ্ট ছিল না। কারণ জিভটাকে সামান্য কিছুটা দেখতে পেলেই সে খুশি। উদ্দেশ্য কতটা লাল হয়েছে সেটা দেখা। এখন রাত, তবে কত রাত আমি জানি না। আমার ঘরে […]


  • কর্মফল

    হঠাৎ মামন চিৎকার করে উঠলো।মা মা বাঁচাও বাঁচাও ,জ্বলে গেল জ্বলে গেল .. দৌড়ে গেল শিবানী, মামনের মা বাবা। সবাই ভেবেছে বুঝিবা আগুন লেগে গেছে ওর গায়ে। কিন্তু মেয়ে কে দেখে আশ্বস্ত হলো সবাই। আগুন তো নেই।তবে কিসে জ্বলে যাচ্ছে? মামন নাক টা চেপে ধরছে কখনো,কখনো বা দৌড়ে গিয়ে জল দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে ঘেমে স্নান […]


  • ভেবলির নতুন বছর রূপা সেনগুপ্ত
    ভেবলির নতুন বছর

    আকাশে তামাটে হলুদ চাঁদ। তিনমাথার মোড়ে পুবদিকে একফালি গোল মেঠো জমি।   পাড়ার বাচ্চামেয়েরা কিৎ কিৎ খেলে সেখানে। আজ ন্যাড়াপোড়া হবে। দোলপূর্ণিমার আগের দিন রাতে শুকনো ডালপালা জোগাড় করে ন্যাড়াবুড়ি বানিয়েছে ভূদেব। কোলে ছোটভাই হরিকে নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে ভেবলি। সবিতা ভেবলির দিকে তাকিয়ে বলে, যা ঘর থেকে আলু আর বেগুন নিয়ে আয়। পুড়িয়ে নিবি […]


  • দুটি গল্প / ধ্রুব বাগচী
    দুটি গল্প

    গিফট রাসবিহারী এভেন্যুর ফুটপাত। একটা  লাইটপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকার ব্যবসা ভূষণের। ওর মতে এটাই লেটেস্ট ইনফরমেশন টেকনোলজি। সারাবছর তো বটেই, চৈত্র বৈশাখে ভূষণের কাজের চাপ বাড়ে। নিজের কোম্পানিতে নিজেকেই ওভার টাইম দেয় তখন। ব্যাপারটা ভেবে ফিক করে একটু হেসে নিল। হঠাৎ  কানের কাছে এক প্রৌঢ়ের গলা- “আচ্ছা ভাই, খানদানি লুঙ্গি কোন দোকানটায় পাবো বলো তো?” […]


যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 - 2026 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ