Tag Archives: গল্প


  1. প্রত্যাবর্তন

    ঝাঁ-চকচকে পিচরাস্তাটা ধরে যেতে যেতে কুড়ানী ভাবল,সত্যিই দেশটার কি উন্নয়ন! আর মানুষ গুলোর কোনো ভাবনা নেই।বর্ষাতে আর ছ্যাপ-ছ্যাপে কাদা মাড়িয়ে,লুঙি-কাপড় গুটিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে হবে না কাউকে।গ্রামের ছেলে-মেয়ে গুলোকে আর ঠেলে-ঠেলে সাইকেল পার করে স্কুলে যেতে হবে না—এখন পাকা রাস্তা!লোকের কথা চিন্তা করলে কি হবে,কুড়ানী নিজে কখনও জুতো পরে না।জুতো থাকবে কি করে ওর পায়ে?খালি […]

  2. কবিরাজ

    সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে । কয়েকদিনের গুমোট গরমের মধ্যে এই বৃষ্টিটুকু যেন খোদার আশির্বাদ । সারাদিন ঘরের মধ্যে বসে থেকে হামজা মোল্লার মন উসখুস শুরু হয়েছে । হামজা মোল্লা গ্রামের একমাত্র নামকরা কবিরাজ । সংসার খুবই ছোট । কিন্তু মনে সুখ নেই , সংসারে নেই শান্তি । হামজা সহজে হাল ছাড়ার লোক না । […]

  3. নটে গাছ

    লিচু গাছের নীচে আধ শোয়া হয়ে ঝিমোচ্ছিল নিশিকান্ত। খোঁচা খোঁচা দাড়ি গোঁফ। শুকনো হরিতকির মতো পাতলা চেহারা। কোমর থেকে গোড়ালি ঢাকা চেক লুঙ্গি। খালি গা। ধারালো চোখ। বাঁশ ডগলার মতো মাথা ঝুঁকে, লিচু তলায় বসে আছে। বসে আছে মানে মতলব ভাঁজছে। লোকে আড়ালে বলে আড় কাঠি। আড়কাঠি মানে ‘সাপের হাঁচি বেদে চেনে’। সেটা হলো সাপের […]

  4. আকাশ অন্ধকার

    ছেলে পিনাকী বিয়ে করে বাইরে চাকরি নিয়ে চলে গেছে অনেকদিনই হয়ে গেল। ভারতীর ঘরটা একটু ফাঁকা ফাঁকা ঠিকই কিন্তু বিদ্যাচরণ স্ত্রীকে সেই ফাঁকটা কখনই বুঝতে দেননি। সব সময় স্ত্রীকে সঙ্গ দিতেন। রিটায়ারমেন্টের পর একটা এনজিও-তে জয়েন করেছিলেন তাও সেইসব কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। এই বয়সেও ভারতীর যা কিছু অপূর্ণ আশা সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করেন বিদ্যাচরণ। […]

  5. ভাত

    ‘খবরদার! আমার মাকে নিয়ে একটাও খারাপ কথা বলবেন না’ তেরো বছরের তিনুর মাথায় খুন চেপে গেলো, তার দুচোখে আগুন। এমনিতে তিনু খুব শান্ত, সাত চড়ে রা কাড়ে না। রোজ ভোরবেলায় উঠে সকালের লোকাল ধরে ডানকুনি থেকে চলে আসে শিয়ালদায়। এখানে এই ভাতের হোটেলে কাজ করছে একবছর হলো। মাইনে ছাড়াও সকালের জলখাবার আর দুপুরের খাওয়াটা ফ্রি। […]

  6. ঋ-তানিয়া

    না। তানিয়া কিছুতেই কথা বলছে না। ওকে কথা বলানোর জন্য গত দু’দিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে ঋ। তবুও একটা বর্ণও উচ্চারণ করছে না ও। কথা বলছে না মানে যে কোনও কাজ করছে না, তা নয়। সেই অষ্টমঙ্গলার গিঁট খুলে এ বাড়িতে আসার পর থেকে ও যা যা করে, মুখ বুজে তা-ই করে যাচ্ছে। সকালে […]

  7. কর্পোরেট

    – তাহলে আপনি আপনার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছেন। আমি কয়েক সেকেণ্ড কোনো কথা বলতে পারলাম না। আবছা আলোয় ভদ্রলোককে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে – বয়স পঞ্চাশের বেশি বলে মনে হচ্ছে না। গলায় অদ্ভূত এক যান্ত্রিক কাঠিন্য। বোধহয় স্যুট পরে আছেন। বোধহয় কেন, নিশ্চিত। এখন বেশ ঠাহর করা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে চোখও সয়ে যাচ্ছে। আমি […]

  8. গল্প বলে কানাই সর্দার

    কানাই সর্দার গল্প বলে। তার মাথায় সাদা কোঁকড়া চুল গালে দুচার খানা সাদা দাড়ি উত্তুরে হাওয়ায় নড়ে তিরতির। পচাই খেয়ে চোখদুটো লাল হলেই তার কাছে গল্প বের হয় দুদ্দাড়। সাদা নেংটির মত একফালি ধুতিখানা জড়িয়ে বাবলাতলায় বসেই বিড়ি চায় আধখানা। না তার গোটা চাওয়া নেই কোনোকালেই। মাঠে শীতের ধান কাটা হচ্ছে। কামিনদের মাথা উঠছে নামছে। […]

  9. একটু শীতের জন্য

    হা-হুতাশ করে করে ডিসেম্বর শেষ। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষ হতে চললেও এখনও তেমন শীত পড়ল না। ফি বছরই শীতের জন্য হাহাকার চলে সুতপনদের। আলমারিতেই তুলে রাখতে হয় নামী – দামি শীতের পোশাক। অথচ সুতপন এখন ভাবে, ছোটবেলায় কত্তো শীত ছিল। জামাকাপড়ের সেরকম জোগাড় না থাকায় স্কুলে যেতে হি হি করে কাঁপতে হত। ঠাণ্ডায় দাঁতে দাঁতে […]

  10. কীটনাশক

    সন্ধ্যার রুটিন রাউন্ডে এসে ড. পারিজাত লাহিড়ী শুনলেন একটি স্পেশাল কেবিনে কেন্দ্রীয় সরকারের একজন বিশেষ অতিথি ভর্তি হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যাপার, তাই গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। আসল নামধাম কিছু নথিবদ্ধ হয় নি, উপরমহলের নির্দেশে। শহরের নামকরা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের এই বিশেষ কেবিন যেটা সচরাচর ভি আই পি দের জন্য বরাদ্দ থাকে সেই ঘরটায় ঢুকতেই ভূত দেখার […]

  11. পার্টি বলেছিল

        বুর্জোয়া শিক্ষা ব্যবস্থায় যে যত পড়ে, সে তত মূর্খ হয় – কলেজ স্ট্রিটের দেওয়াল থেকে উড়ে এসে যখন আমাদের বালুরঘাট কলেজেরও দেওয়ালে ফুটে উঠল, তখন যে ঝাঁকটি বেরিয়ে পড়ল গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরতে, আমি ছিলাম তাদেরই একজন। আমি অবশ্য তখন ছাত্র নই। বুর্জোয়া কেমিস্ট্রি অনার্সের বুর্জোয়া সাম্মানিক স্নাতক। মা – বাবা গত, দাদার […]

  12. হোমওয়ার্ক

      সমাজের নানাবিধ দুরাচার, অনাচার, ব্যভিচার রুখবার জন্য ইদানিং আমাদের অনেককেই ভয়ংকর মরিয়া হয়ে উঠতে দেখছি। ভরদুপুরে মনের হরষে মোমের বাতি জ্বালানোর শুভ সংস্কৃতি কিছুদিন আগেও তেমন চোখে পড়েনি। চারপাশের এত অধঃপতন আর অবক্ষয়ের মধ্যে এটা নিঃসন্দেহে এক অতীব ইতিবাচক লক্ষণ বলা যেতে পারে। কাগজে দেখছিলাম ঝাড়গ্রাম না মাড়গ্রাম কোথায় যেন পুলিশ গ্রামবাসীদের ডেকেডুকে এনে […]

  13. রঙিন দারিদ্ররেখা

    উইয়ের ঢিবি থেকে মাটি ভেঙে টিনের বালতিতে বোঝাই করতে করতে সুধাকৃষ্ণ বুঝে উঠতে পারছিল না কটা বাজে। গ্রাম–ভারতের যে মানুষেরা রোদের এগনো–পেছনো, তারা আর চাঁদের অবস্থানে বেলা রাত মাপে সুধাকৃষ্ণ তাদেরই একজন। অথচ আষাঢ়ের এই থমধরা মেঘলা সকালে এই বৃষ্টি, বৃষ্টি নয়, মেঘভাঙা ধারালো রোদ, কখনও আগলা–পাগলা হাওয়া – এমনই যখন চারপাশের প্রাকৃতিক খেলা; তখন […]

  14. এই প্রজন্ম

    সিমিভ্যালিতে চমৎকার বাড়ি কিনেছে সম্বিৎ। কাঠের দোতলা বাড়ি। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূমিকম্প হয় বলে সব বাড়িই কাঠের তৈরি। বাড়িটার বাঁদিক দিয়ে বোধহয় গেছে পাঁচ নম্বর নর্থ ফ্রি ওয়ে। খানিকটা এগোলেই পাহাড়। সেই পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে চওড়া ফ্রি ওয়ে। চৌষট্টি মেইল এগনোর পর তবে সমতলে গিয়ে মিশেছে রাস্তাটা। সম্বিতের বাড়ির সামনে এক টুকরো বাগান। বাগানে […]

  15. ঘরভাঙা ঘর

    ঘরে ফিরতে কবিরুলের পা জড়িয়ে আসছিলো। কবিরুল চাকরি করে একটা বেসরকারি ব্যাংকে। মতিঝিলে অফিস। বেতন ভালো।  বেতন ভালো বলে এখনো সে নিজের জন্য ভালো একটা বাসা ভাড়া নেয়নি। দেশে বাড়িঘরের চেহারা আগে পাল্টাতে হবে। বাড়ির ছেলে পাস করে চাকরি পাওয়ার সাথে সাথে গ্রামের মানুষ আগে তাদের ঘরখানার জৌলুস দেখতে চায়। এটা বাদ রেখে আর কোনো […]

  16. হরিদাস পাল

    হরিদাস দৌড়াচ্ছে। আমোদপুরের হরিদাস। খেঁচে দৌড়। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে বাতাসকেও টেক্কা দিচ্ছে বুঝি। দৌড়াতে দৌড়াতে পরনের লুঙ্গিটার দিকে দ্রুত একবার তাকিয়ে নিচ্ছে সে। শতছিন্ন লুঙ্গিটা মালকোঁচা মেরে দৌড় শুরু করেছিল। আছে তো এখনও কোমরে? আছে বলেই মনে হচ্ছে যেন। অবশ্য না থাকলেও থামার উপায় নেই, ল্যাংটো হয়েই দৌড়ে যেতে হবে তাকে। দৌড়াতে দৌড়াতে নিজেই […]

যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 - 2024 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ