16 Jul

কর্পোরেট

লিখেছেন:তপন মোদক


– তাহলে আপনি আপনার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছেন।

আমি কয়েক সেকেণ্ড কোনো কথা বলতে পারলাম না। আবছা আলোয় ভদ্রলোককে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে – বয়স পঞ্চাশের বেশি বলে মনে হচ্ছে না। গলায় অদ্ভূত এক যান্ত্রিক কাঠিন্য। বোধহয় স্যুট পরে আছেন। বোধহয় কেন, নিশ্চিত। এখন বেশ ঠাহর করা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে চোখও সয়ে যাচ্ছে। আমি বেশ নার্ভাস বোধ করতে লাগলাম। কিন্তু ব্যাপারটা টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট সত্যি। আমি এই কারণেই তো এদের কাছে হাজির হয়েছি – অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে। গত পাঁচ বছর ধরে আমি এই দিনটারই তো প্রতীক্ষা করছিলাম।

প্রথম দিকে ভেবেছিলাম নিজেই কাজটা করবো। কতরকম ঘটনা তো কাগজে পড়ি। তবে যতই পরিকল্পনা করে কাজটা করা হোক না কেন – কোনো একটা সূত্রে ঠিক ধরা পড়ে যায়। আর ক্রেডিট নেয় পুলিশ। সব কটা গাড়ল। আমি নিজেও অনেক পরিকল্পনা করেছি। কোনো ফাঁকফোকর নেই। পুলিশ কেন সিবিআই’এর বাবাও ধরতে পারবে না। কিন্তু সাহসে কুলোয় নি। বাবা বলতো তুই একটা মেয়েছেলে। কোনো কাজটাই ঠিকঠাক করতে পারিস না। বাবার মেয়েদের সম্বন্ধে এরকম একটা ধারণা কেন হয়েছিল বলতে পারবো না। আমার অভিজ্ঞতা বলে, পুরুষদের চেয়ে মেয়েরা অনেক বাশি গুছিয়ে কাজ করতে পারে।

সুচরিতা অনেক দিন অপেক্ষা করেছে। একমাসের মধ্যে যদি আমি অনিকে ঝেড়ে ফেলতে না পারি – ও আর অপেক্ষা করবে না। ওর বস নাকি ওকে রোজ প্রস্তাব দেয়। ব্যাপারটা সত্যি কিনা জানি না। ঢপও মারতে পারে। নিজেকে হেভি ডিমান্ডেড করে তোলা আর কি। ওর বসকে আমি চিনি। অত্যন্ত গুডবয় টাইপের। অফিস আসার সময় নির্ঘাত দুধ দিয়ে কর্নফ্লেক্স খেয়ে আসে। তবে সুচরিতার গ্ল্যামার অনেকটা মেঘে ঢাকা সূর্যের মত। চট করে বোঝা যায় না। আর মেঘ ভেদ করে যে ওর গ্ল্যামারের সন্ধান পাবে তার পক্ষে ওর জন্য ফিদা হয়ে যাওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সুচরিতার কথায় সত্যি বলতে কি আমি বেশ ভয়ই পেয়ে গেছি। সুচরিতাকে পৃথিবীর যে কোনো মূল্যেই আমি পেতে চাই।

বেশ স্মার্টলিই সব কিছু সামলাচ্ছিলাম। কাগজে বিজ্ঞাপনটা দেখে খুব কনফিডেন্স নিয়েই রাতে ফোনটা করেছিলাম। ব্যক্তিগত কলমে ‘যে কোনো সমস্যার সমাধানে – ফোন করুন’। প্রথমে ভেবেছিলাম জ্যোতিষি বা কোনো তান্ত্রিক-ফান্ত্রিক হবে। সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রাইক করলো। জ্যোতিষ বা বাস্তু কলমে না দিয়ে ব্যক্তিগত কলমে কেন। ফোনটা রিসিভ করেই একটা ভারী গলা বলল, আপনার কলটা নোট করা হল – যথাসময়ে আপনাকে ফোন করা হবে। ব্যস। ওইটুকুই। আমাকে হ্যালো পর্যন্ত বলতে দিল না। তারপর পরদিনই কমসে কম বার দশেক ফোন করেছি। সবসময়ই এনগেজড। তারপর ভুলে গেলাম ফোনের কথা। গতকাল দুপুর বারোটা দশে ফোনটা এল। সেই একই গলা, আপনি গত বুধবার একটা কল বুক করেছিলেন। আপনাকে আগামী কাল বিকাল পাঁচটার সময় এসপ্ল্যানেড ইষ্টে পিয়ারলেস অফিসের সামনে অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। এইটুকু বলেই ফোনটা কেটে গেল। আবার এনগেজড। এবার মনে হতে লাগলো কেউ শালা মজা করছে। এক একটা বন্ধুর মুখ মনে পড়তে লাগলো। কাউকে ঠিক আইডেন্টিফাই করতে পারলাম না। এরকম ভাবার দুটো কারণ। এক, আমি রোজ অফিস থেকে বেরিয়ে পিয়ারলেস অফিসের সামনে দিয়েই দত্ত কেবিনে চা খেয়ে বাস ধরি। আর দ্বিতীয় কারণ, সুচরিতার আর আমার পিয়ারলেস অফিসের সামনেটাই গত পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করার জায়গা। যে আগে আসবে ওখানেই দাঁড়াবে।

আসবো কি আসবো না ভাবতে ভাবতে পাঁচটার দশ মিনিট আগেই ওখানে দাঁড়িয়ে রইলাম। বেশ স্মার্টলি একটা সিগারেট ধরিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। যেন রোজ দাঁড়াই। তবে সেটা ছটায়। কপালও ভালো আজ সুচরিতার ভাইপোর অন্নপ্রাশন। অফিস আসেনি। না হলে ওকে আবার কাটাতে হোতো। ঠিক পাঁচটার সময় মাটি ফুঁড়ে একটা লোক আমার সামনে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে বলল, মিঃ বোস – গ্ল্যাড টু মিট ইউ। বলেই হাত বাড়িয়ে দিল। ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হতে চললো। গরমের ঝাপটা বাড়ছে। লোকটা  স্যুট পড়েছে। গলায় টাই। অতি সাধারণ চেহারা। আমাকে বললো, আসুন স্যার। সামনেই আমাদের গাড়িটা রয়েছে। দেখলাম একটা সাদা রঙের হোন্ডা সিটি। এখানে অনেকেই আমার পরিচিত। চা খাবার সময় আলাপ। অফিসেরও কেউ কেউ আমাকে সঙ্গ দেয়। সামনের সিগারেটের দোকানের ছেলেটাও আমাকে চেনে। পাঁচ বছর ধরে দেখছে। দাঁড়ালেই এক প্যাকেট ক্লাসিক এগিয়ে দেয়। যাতে আমাকে কেউ দেখতে না পায় খুব স্মার্টলি গাড়িটাতে উঠে পড়লাম। যেন রোজই উঠি। গাড়িটা লেনিন সরণী দিয়ে গিয়ে শিয়ালদহ পেরিয়ে রাজাবাজারে ঢুকলো। এতক্ষণ স্যুটেড বুটেড কোনো কথা বলেনি। ড্রাইভারও দেখলাম কোথায় যেতে হবে জানে। স্যার, আপনি এই চশমাটা চেঞ্জ করে নিন। এবারও আমি কোনো প্রশ্ন না করে নিজের চশমাটা খুলে ওই চশমাটা পড়ে নিলাম। অন্য পাওয়ার। একদম ব্লাঙ্ক। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। খুলতে জাচ্ছি। স্যুটেড বুটেড বলল, স্যার, এটাতে কিছুই দেখা যাবে না। সেইজন্যই আপনাকে ওটা দেওয়া হয়েছে। আপনি যে কাজে যাচ্ছেন সেখানে লোকেশানটা ইমমেটেরিয়াল স্যার। স্যার, আপনার প্রোটেকশনের জন্যই আপনি চশমাটা খুলবেন না।

একটা শিরশিরানি ভাব আমার মাথা থেকে তলপেটে নেমে ঘুরপাক খেতে লাগলো। প্রথমে ভাবলাম ভুল করেছি। কোনো একটা অজুহাত দেখিয়ে নেমে পড়ি। পরক্ষণেই ভাবলাম, না শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে। আমার মত ম্যাদামারা পুরুষের অন্যের সাহায্য না নিয়ে উপায় কি। আজ ইচ্ছা করেই বেশি টাকা আনিনি। ওই জন্য চাপটা কম। গাড়িটা আরও ঘণ্টা খানেক পর থামলো। স্যুটেড বুটেড আমার হাত ধরে নামালো। আমি বললাম, এবার চশমাটা চেঞ্জ করে নিই। উত্তর এলো, আর এক মিনিট স্যার। একটা লিফটে চাপলাম। ক’তলায় উঠলাম বুঝতে পারলাম না। তারপর একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। এবার আপনি চশমাটা চেঞ্জ করে নিন স্যার, কথাটা বলেই হাতে আমার চশমাটা গুঁজে দিয়ে স্যুটেড বুটেড চলে গেল।

আমার চশমাটা পরে নিয়ে দেখতে লাগলাম। ঘরের মধ্যে একটু কম আলো। আমার ঠিক সামনে একটু দূরে একটা সোফায় একজন বসে আছে। সেখানটা আলো আরো কম। সেই ভদ্রলোক একটা অদ্ভূত কণ্ঠস্বরে প্রথমেই প্রশ্নটা করে বসল। যেন অনেকদিনের চেনা।

আমি বললাম, স্ট্রেঞ্জ! আপনি কি করে বুঝলেন – যে আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করতে চাই। তখন আমার বেশ আশ্চর্য লাগছে। এই নিজেকে আমিই চিনিনা। খুব স্মার্টলি প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলাম অন্ধকারে ঢাকা মুখটার দিকে।

ওদিক থেকে ভেসে এল, দেখুন স্যার – প্রায় দশ হাজার বছরের অভিজ্ঞতার পরম্পরা আমাদের ক্যাপিটাল – সেই প্রস্থরযুগ থেকে – মানুষ যখন অস্ত্র কাকে বলে যানতো না – পাথরের টুকরো দিয়ে জীবজন্তু শিকার করতো বেঁচে থাকার তাগিদে – আমরাই তাদের টেকনোলজি দিই – পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে শেখাই এবং সেই অস্ত্র দিয়েই যে অন্য মানুষকে মারা যায় – এই ধারণাটা ওদের মাথার মধ্যে আমরাই ইনজেক্ট করি – তাহলেই বুঝতেই পারছেন। আমার আগের এম ডি আপনার মুখ দেখে বলে দিতে পারতো – আপনি ঠিক কি চান – কিন্তু আমি – কাজটা একটু অন্যভাবে করি – গত থার্ড জুলাই রাত্তির ১টা ৫৫ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে আপনি আমাদের সাহায্য চান – রাইট – আপনার সঙ্গে কোনো কথা হয় না। সেটাই আমাদের কোম্পানির কাজের ধরণ। স্বভাবতই আপনি কি সাহায্য চান – ডিসক্লোজ করতে পারেন নি। আমার ইনভেস্টিগেটিং টিম – ঠিক তার ১০ সেকেণ্ড পর থেকে রান করতে শুরু করে। আপনার সমস্ত হোয়ার আবাউট এখন আমার ডেটা ব্যাঙ্কে। আমার স্টাডি টিম আপনার আর আপনার স্ত্রীর এভরিথিং স্টাডি রিসার্চ টিমকে দেবে। তারা ঠিক করবে কাজটা আমাদের রিসোর্স পারফর্ম করবে – না – আপনাকে দিয়েই করানো হবে –

আমার তখন কনফিডেন্স তুঙ্গে। আমার বস অলোকদা অনেকদিন আগে বলেছিল, ওয়ান ইস টু অয়ান কথা বললে প্রথমেই অপোনেন্টকে চেপে ধরবি। পারলে ঘাড়ে চেপে বসবি। সেই শিক্ষাটা এখানে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। পায়ের ওপর পা তুলে বললাম, আমি আগে বুঝে নিতে চাই – আমি কি ঠিক জায়গাতে এসেছি। সেই কণ্ঠস্বর আদেশের ভঙ্গিতে বলল, রিসেপসান, এনাকে একটা লিটারেচার দাওতো। আমি বললাম, লিটারেচারে বেশি বেশি লেখা থাকে – নিজেদের সম্বন্ধে অনেক ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে। মনে হোলো অপোনেন্টকে বেশ চেপে ধরেছি। একটু সময় নিয়ে বলল, রাইট – আপনি তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটা দেখুন – মিঃ গেটস – নিজে হাতে ডিজাইন করে দিয়েছেন – ওনার একটা ছোট্ট কাজ করে দিয়েছিলাম। মিঃ গেটস! পাগলটা কি বিল গেটস’এর কথা বলছে। আমি তাও খুব একটা পাত্তা না দিয়ে বললাম, ওটাও অনেক সময় ঠিক থাকে না –

এবার মনে হোলো ভদ্রলোক খুব ঘাবড়ে গেছেন। একটু যেন অসন্তুষ্ট। বললো, আচ্ছে আপনি ঠিক কি চান। আপনার কাজটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক – না – আমাদের কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য। যদি বলেন স্যার – ডেটা দেখতে চান বা আমাদের ক্রেডিবিলিটি যাচাই করে নিতে চান। সে ক্ষেত্রে আমরা আপনাকে পাসওয়ার্ড দিয়ে দিচ্ছি – আমাদের স্যাটিসফায়েড ক্লায়েন্টদের হাজির করতে পারবো না। এটা আমরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে করে থাকি। আপনার কাজ হয়ে যবার পর আপনার কোনোরকম রেফারেন্স আমাদের কাছ থেকে কেউ পাবে না। তারপর সার্ভিস সংক্রান্ত ডেটা, সেটাও আমাদের কোম্পানি ক্লায়েন্টের কাজ হয়ে যাবার পরেই চরম বিশ্বাসের সঙ্গে সমস্ত কিছু ইরেজ করে দেয়। আপনি আপনার স্ত্রীকে হত্যা করার জন্য আমাদের সার্ভিস নিতে এসেছেন। রাইট। সেক্ষেত্রে আপনার কাজটা হয়ে যাবার পরে সমস্ত ডেটা ভ্যানিস করে দেবো। এমন কি যে হিউম্যান রিসোর্স আপনার হয়ে কাজটা করবে – তারাও ভ্যানিস হয়ে যাবে –

এবার আমি একটু টলে গেলাম। আস্তে আস্তে অন্ধকার থেকে ওই ভদ্রলোক আমার ঘাড়ে চেপে বসছে যেন। আমার মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল। আমি উলটো চাল চাললাম, ধরুন আমি যদি আপনাদের কাজটা না দিই – বা ধরুন আমি যদি ব্যাপারটা থেকে পিছিয়ে আসি – মানে আমার স্ত্রীর সঙ্গেই একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং’এ চলে আসি – সেক্ষেত্রে তো আপনাদের এই পরিশ্রম বা সার্ভিস বৃথা যাবে। সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রলোক বললেন, সেটা আপনি পারবেন না – আমার ওয়াচ টিম আপনাদের সবসময় লক্ষ্য রাখছে – তারা কিছুতেই আপনাকে ব্যাক করতে দেবে না – কাল রাতে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হয় – রাইট।

সত্যিই কাল রাতে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হয়েছিল। আমি বললাম, হ্যাঁ-হয়েছিল – তাতে কি ? মাঝরাতে আপনি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ট হন – পরিবেশের প্রভাব আর কি – রাইট। আমিও মন্ত্রমুগ্ধের মতো বললাম, অ্যাঃ – হ্যাঁ হ্যাঁ রাইট।

এবার চোখটা অনেকটাই সয়ে গেছে। জায়গাটাকে তত বেশি অন্ধকার মনে হচ্ছে না। আমার বড় অঙ্কের কনফিডেন্স লেবেল তখন জিরোতে অবস্থান করছে। সেই কণ্ঠস্বর বলে চলেছে, সকালে আপনার স্ত্রী আপনার জামার পকেট থেকে একটা ছবি আবিষ্কার করেন এবং আপনাকে প্রচণ্ড সিলি কথাবার্তা বলেন। আপনার মধ্যে ক্রোধ জন্মায়। আপনি লাস্ট নাইটের কথা ভুলে গিয়ে আবার আগের স্ট্যান্ডে ফিরে যান। ঐ ছবিটা আপনার লাইব্রেরিতে আলমারির দ্বিতীয় তাকের রবীন্দ্র রচনাবলীর পঞ্চম খণ্ডের ১২২ পাতার মধ্যে লুকানো ছিল – রাইট – তাহলে বুঝতেই পারছেন স্যার আপনার ব্যাক করার আর উপায় নেই –

আমি এবার সত্যি যাকে বলে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। আমতা আমতা করে বললাম, মানে – মানে – আপনারা আমার ঘরের মধ্যে ঢুকেছিলেন। কণ্ঠস্বর বলেই চলেছে, শুধু ঘরে কেন স্যার। আমরা আপনার মনটাকেও হাইজ্যাক করতে পারি এবং আমাদের ইচ্ছামত চালনা করতে পারি – আসলে হাসব্যান্ড- ওয়াইফ’এর কেসগুলো – খুবই ডেলিকেট – আপনি আপনার স্ত্রীকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন – কিন্তু এই সিদ্ধান্ত থেকে আপনি বার বার পিছিয়ে আসবেন – এটাই স্বাভাবিক – আগে এই কেসগুলোতে আমাদের খুবই ব্যাড ইনভেস্টমেন্ট হয়ে যাচ্ছিল – তাই আমাদের বর্তমান সিদ্ধান্ত – আপনাকে কিছুতেই পিছিয়ে আস্তে দেওয়া যবে না – আপনি যদি আপনার ভাই বা বন্ধু বা কোনো প্রতিবেশীকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে খরচ অনেক কম। আমাদের ইনভেস্টমেন্টও কম কারণ আপনি ওই সিদ্ধান্ত থেকে কখনোই সরে যাবেন না – রাইট –

সেই শিরশিরানি ভাবটা পেটের মধ্যে ঘুরপাক খেয়ে আবার ওপর দিকে উঠতে শুরু করলো। তবুও আমি নিজেকে ফেরাবার একটা শেষ চেষ্টা করে বললাম, হয়তো ঠিক – কিন্তু – আমার কথাকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বললেন, হয়তো কেন – হান্ড্রেড পারসেন্ট ঠিক। আমাদের অভিজ্ঞতা তাই বলছে। ওকে, এবার আমি আমাদের রিসার্চ টিম আর সেটেলমেন্ট টিমের চিফদের ডাকছি। যাক এবার অন্য মুখও দেখা যাবে। ওই একঘেঁয়ে যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। তবুও বললাম, কি হবে –

এবার ভদ্রলোক যেন একটু তৎপর হলেন। বললেন, এক্ষুনি ক্লিয়ার হয়ে যাবে স্যার। দেখলাম টেবিলে রাখা দুটি ভিন্ন সুইজ পুশ করলেন। সঙ্গে সঙ্গেই দুজন লোক প্রবেশ করল। দুজনেই ওই একই রকম স্যুটেড বুটেড। সম্ভবত ইউনিফর্ম। উনি আদেশের সুরে বললেন, আমাদের ক্লায়েন্ট মিঃ বোসের ব্যাপারে আপনার টিমের রিপোর্ট দিন।

একজন যন্ত্রের মত বলতে শুরু করলো, মিঃ বোস – বয়স – ৪৩, বি পি – ৮০/১২৫, পালস – ৭০-৯০ পার মিনিট, হার্ট স্ট্রেন্থ – ৩৩%, মেজর ক্রাইম রেকর্ড – নীল, মাইনর ক্রাইম রেকর্ড – ১১ বছর বয়সে সাইকেল দিয়ে সেই সময়ের এক বন্ধুকে ইচ্ছা করে ধাক্কা মেরে একটা হাত ভেঙে দেয়, ভয়ের ক্ষেত্র বা রেকর্ড – একটি এক্সিডেন্ট দেখে অজ্ঞান হয়ে যান। চার রাত্রি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে – নার্ভের ওষুধ খেয়ে সুস্থ হন, বিশেষত্ব – নেই। মিসেস বোস – বয়স – ৩৫, বি পি- ৮০/১২০, পালস – ৭০-১৪০ পার মিনিট, হার্ট স্ট্রেন্থ – ৬৫%, মেজর ক্রাইম রেকর্ড – নীল, মাইনর ক্রাইম রেকর্ড  নীল, ভয়ের ক্ষেত্র বা রেকর্ড – ভয় পাওয়ার কোনো রেকর্ড নেই, বিশেষত্ব – সিনেমায় বা টিভিতে ক্রাইম এগেনস্ট ওম্যান এনজয় করেন, পাহাড়ে বেড়াতে ভালোবাসেন।

সাজেসান – মিসেস বোসকে কোনো হিল এরিয়ায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে – পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া যেতে পারে।

এইসব তথ্য কখন জোগাড় করল কে জানে। বিপি পালস জানি না তবে অনির সম্পর্কে যা বলেছে, একদম সত্যি। ভায়োলেন্সের সিনেমা দেখতে ও খুব ভালোবাসে। আর পাহাড়ের কথাটাও সত্যি। যদিও আমি কোনোদিন অনিকে দার্জিলিংয়েও নিয়ে যাই নি। ইচ্ছেও করেনি। এবার ভদ্রলোক বললেন, ফাইন। তাহলে স্যার বুঝতে পারছেন, আপনার হার্ট স্ট্রেন্থ – ওনলি ৩৩%, ৫০% ছাড়া আমরা রিস্ক নিই না – তাছাড়া আপনার স্ত্রীর হার্ট স্ট্রেন্থ বেটার হলেও পালস ফ্লাকচুয়েসান রেসিও ভেরি ভেরি ফ্লাকচুয়েটিং – ৭০ টু ১৪০। যে কোনো ব্যাপারে উত্তেজিত হয়ে যা খুশি করতে পারেন –সে ক্ষেত্রে আমাদের রিসার্চ টিমের সাজেসান একদম ওকে – এবার আপনি বলুন – সেটেলমেন্ট –

দ্বিতীয়জন প্রায় একই সুরে বলতে শুরু করলো, বলছি স্যার – সব মিলিয়ে কুড়ি লক্ষ টাকা –

আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বলে কি লোকটা। আমার মুখ থেকে বেরিয়ে এল, কি বলছেন – কুড়ি লক্ষ টাকা! অসম্ভব –

ভদ্রলোক একটু যেন হেসে উঠলেন, দেখুন – আমরা ক্লায়েন্টের সব দিক বিচার করে – এস্টিমেটটা দিই – আপনার পি এফ আকাউন্টে ৩০ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা জমা আছে – সেখান থেকে ৫০% অর্থাৎ ১৫ লক্ষ টাকা আপনি উইথড্র করতেই পারেন। আপনার অফিসও এ্যালাও করবে। আর পৈত্রিক জমি বিক্রি বাবদ ৬ লক্ষ টাকা আপনার আলমারির লকারে আছে। তার মানে কুড়ি লক্ষ টাকা পেমেন্ট করতে আপনার কোনো অসুবিধা হবার কথা নয়। মাত্র কুড়ি লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপনি কি পেতে চলেছেন আমার চেয়ে নিশ্চয় আপনি ভাল জানেন।

আমি এবার প্রতিবাদ করে উঠলাম, এত টাকা – একটা সামান্য হত্যার জন্যে – হাজার দশেক টাকা দিলে – অন্য কেউ খুন করে লাশ গায়েব পর্যন্ত করে দেবে – এই তো কাগজে সেদিন দেখলাম –

কোনোরকম বিচলিত না হয়ে উঁনি বললেন, আপনি অন্য লোকের কাছে না গিয়ে কিন্তু আমাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছেন। ঠিক আছে স্যার, ব্রেকআপটা দিয়ে দিলে একটা ক্লিয়ার পিকচার আপনি পেয়ে যাবেন – সেটেলমেন্ট –

আবার সেই স্যুটেড বুটেড সেটেলমেন্ট বলতে শুরু করলো, এই যে স্যার – ২ জন রিসোর্স – ৫ লক্ষ টাকা করে ১০ লক্ষ টাকা – পোস্ট প্রোজেক্ট টিম – ৫ লক্ষ – রিহ্যাব এক্সপেনডিচার – ২ লক্ষ – আর সার্ভিস চার্জ ৩ লক্ষ টাকা।

ব্যাপারটা একদমই মাথায় ঢুকলো না। বলেও ফেললাম, কিছুই বুঝলাম না –

সেটাই স্বাভাবিক। ঠিক আছে আমি বোঝাতে চেষ্টা করছি। বলে একটু থামলেন। তারপর বললেন, প্রথমেই ২ জন রিসোর্স – ৫ লক্ষ টাকা করে – রাইট। এটা আমাদের অতি দক্ষ নেগোসিয়েসন টিম – অনেক বার্গেনিং করে এতটা লো কস্টে নিগোসিয়াট করতে পেরেছি। যে দুজন আপনার স্ত্রীকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খাদের নীচে নেমে ডেথ কনফার্ম করবে – তাদের পরিবার পিছু অতি সামান্য ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে –

ক্ষতিপূরণ অদ্ভূত তো, আমি না বলে পারলাম না।

আগেই আপনাকে বলেছি স্যার আপনার সমস্ত ডেটা ইরেজ করে দেওয়া হবে – ওই দুজনকেও ইরেজ করে দেওয়া হবে – এই গ্রহ থেকে। নেক্সট, পোস্ট প্রোজেক্ট টিম –৫ লক্ষ – রাইট। এই টিম আপনার স্ত্রীর ডেডবডি উদ্ধার করবে – নিয়ারেস্ট হাসপাতালে নিয়ে যাবে । পোস্টমর্টেম করাবে – ফিউনারেল ওয়ার্ক শেষ করে – আপনার হাতে ডেথ সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেবে। ও হ্যাঁ – একটা পয়েন্ট মিস করে গেছি – বিভিন্ন জায়গায় – ধরুন – স্পটে – মানে যেখানে ডেডবডিটা উদ্ধার করা হবে আর কি – তারপর হাসপাতালে – মর্গে – শ্মশানে এই টিম কান্নাকাটি পর্যন্ত করবে। একটু থামলেন তিনি। একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে আমার দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসতে লাগলেন। একজন দক্ষ শিকারীর মত শিকারকে খেলিয়ে খেলিয়ে মজা দেখছেন যেন।

আমার মাথা আর কাজ করছে না। বললাম, আমি আর ভাবতে পারছি না –

উনি সেই হাসি মুখেই বলতে লাগলেন, আপনাকে তো আর ভাবতে হবে না স্যার – সে দায়িত্ব আমাদের – আর লাস্ট পয়েন্ট – রিহ্যাব এক্সপেনডিচার – আপনার স্ত্রীর মৃত্যুর ঠিক পরেই আপনাকে ১০ দিন থেকে ১ মাস পর্যন্ত আমাদের রিহ্যাব সেন্টারে রাখা হবে – সেখানে ফাইভ স্টার রিসেপশন আপনাকে দেওয়া হবে –

রিহ্যাব সেন্টার! এই কেসের সঙ্গে রিহ্যাব সেন্টারের কি সম্পর্ক আমার গলাটাও যেন নিজের গলা বলে মনে হচ্ছে না।

ভদ্রলোক অধ্যাপক সুলভ স্টাইলে বলতে লাগলেন, এটা একদম লেটেস্ট আইডিয়া – দেখা গেছে – প্রোজেক্ট শেষ হবার পর – ক্লায়েন্টের একটা মেন্টাল ব্রেক ডাউন ঘটে – সে অদ্ভূত আচরণ করতে থাকে – বিশেষ করে আপনার মত মিডিল ক্লাস। যেমন ধরুন, আপনি কনফেস করতে পারেন থানায় গিয়ে, বলতে পারেন যে আপনি আপনার স্ত্রীকে খুন করেছেন – ইয়া ধরুন আত্মহত্যা করাও অস্বাভাবিক কিছু নয় – আসলে ইমোসান, লাভ এণ্ড এফেক্সান – এই মধ্যযুগীয় ভ্যালুগুলো এখনো কিছু কিছু মানুষের মধ্যে একজিস্ট করে – সেইজন্য আমরা কোনো রিস্ক নিই না। আপনাকে রিহ্যাব সেন্টারে ট্রিটমেন্ট করা হবে – আপনার মধ্যে একটা ধারণা দেওয়া হবে যে – যা করেছেন আপনি সজ্ঞানে জেনে বুঝে করেছেন – আপনার মনের মধ্যে দুঃখবোধের লেশমাত্র রাখা হবে না।

আমি বেশ বুঝতে পারছি আমার আর পিছোবার উপায় নেই। বুকের মধ্যে দ্রিম দ্রিম করে একটা ব্যাণ্ড বাজতে লাগলো।

এর ঠিক দশদিন পর অনি আর আমি গ্যাংটকের উদ্দ্যেশে ট্রেনে চাপলাম। অনিকে বেড়াতে যাবার কথাটা বলতেই কেমন যেন অদ্ভূত চোখে আমার দিকে তাকালো। রাত্রে যখন টিকিট দেখালাম সমস্ত কথা ভুলে গিয়ে যা করলো সুচরিতাকে মন থেকে তাড়িয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু কেস আর আমার হাতে নেই। আমি যা করেছি ওদেরই ইনস্ট্রাকশানে। আমার মেলে ই-টিকিট ওরাই পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি কিন্তু সুচরিতাকে কিছুই জানাই নি। অনিকে নিয়ে গ্যাংটক বেড়াতে যবার কথাটা শুনেই বলল, বাব্বা প্রেম জেগে উঠেছে দেখছি। এবার তাহলে আমার ছুটি। তবে দেখো আবার একই হোটেলে উঠোনা।

দুমাস আগেই অফিস মিটিং’এর নাম করে আমি আর সুচরিতা গ্যাংটকে মস্তি করে এসেছি। যে হোটেলটায় উঠলাম আগে কোনোদিন নাম শুনিনি। বাস স্ট্যাণ্ড থেকে বেশ দূরে। মিলিটারিদের একটা আবাসন চোখে পড়লো। অনি এবার আপত্তি করে উঠলো, এত দূরে – তুমি জানতে না – ম্যাল থেকে তো অনেক দূরে চলে এসেছি। মিথ্যে কথা বলে বলে ব্যাপারটাতে এত সচ্ছন্দ বিচরণ করতে পারি যে মাঝে মাঝে নিজেরই পিঠ চাপড়াতে ইচ্ছা করে। বললাম, অফিসের একটা পার্টি বিনা পয়সায় সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে বুঝলে না। অনি বেসিক্যালি একটু সেকেলে টাইপের। অফিসের ব্যাপার-স্যাপার অত বোঝে না। আমি যা বলি সব বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। হোটেলটা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।বাড়িটার পিছনে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ডান দিকে ডিপ ফরেস্ট। ফাটাফাটি। সব মিটে গেলে সুচরতিকে নিয়ে এখানে একবার উঠতে হবে। অনি বলল, খুব সুন্দর তবে পাশাপাশি দু একটা হোটেল থাকলে ভালো হত, কেমন যেন গা ছমছম করছে। ঘরে ঢুকে পর্দা সরাতেই কাঞ্চনজঙ্ঘা ঝলমল করে উঠলো। অনি তালি দিয়ে আনন্দে লাফিয়ে উঠল। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি আর একটুহলেই আউট হয়ে যাচ্ছিলাম আর কি। ওকে সরিয়ে দিয়ে বাথরুমে চলে গেলাম। বাথরুমের ভেতর থেকে চিৎকার করে বললাম, আমি একটু ফ্রেশ হয়ে নিচ্ছি – তুমি ইন্টারকমে ফোন করে খাবারটা অর্ডার দিয়ে দাও। বাথরুমে বেশ খানিকটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। একটা সিগারেট ধরালাম। পরিবেশ এমন বিট্রে করছে – যে কোনো সময় ইমোশনাল হয়ে যেতে পারি। না – অনিকে বেশি মেলতে দেওয়া যাবে না। বিয়ের আগে অনি একজনকে মনে মনে চাইত। বিয়ের পর সেটা আমাকে বলেছিলও। ব্যাস ঐটুকুই। তার সঙ্গে আলাপও হয়নি – সম্পর্ক রাখার তো কথাই নেই। সেই মালটাকে আজ কবর খুঁড়ে বার করতে হবে। না হলে শালা আমি বাঁচবো না। বাবার কথাই ঠিক, আমার দ্বারা কিস্যু হবে না।

পরদিন সকালে ইন্টারকমে ফোনের আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙলো। হুটোপুটি করে উঠে ফোন ধরলাম। রিসেপসন থেকে গুড মর্নিং জানিয়ে বলল, আপনাদের নাথুলা যাবার গাড়ি রেডি স্যার – আধ ঘন্টার মধ্যে আপনি আর মিসেস তৈরি হয়ে নিন। আমি মোটেই অবাক হলাম না। জানতাম এরকম কিছু একটা হবে। গতকাল কোথাও যাওয়ার কথা কারও সঙ্গেই হয় নি। খুব ঠাণ্ডা মাথায় বললাম, ও কে। গতকাল ডোজটা দারুন কাজে লেগেছিল। অনি কেঁদেকেটে একসা। রাতের খাবার টেবিলে পড়ে রয়েছে। বিছানায় ও একা ঘুমোচ্ছে। আমার রাত কেটেছে ডিভানে। অনিকে ডেকে ভাববাচ্যে আধ ঘন্টার মধ্যে রেডি হয়ে নিতে বললাম। নাথুলার কথা শুনে গতকালের কথা সব ভুলে গিয়ে হই হই করে উঠলো। আমার বুকের মধ্যে আবার সেই দ্রিম দ্রিম শব্দটা ফিরে এল। এবার আগের চেয়েও দ্রুত। আমি সেটাকে চাপা দেবার জন্য খুব মিষ্টি করে বললাম, চা বলি। অনি বিছানা থেকে নামতে নামতে বলল, চা-ফা সব বাইরে খেয়ে নেব বুঝলে – আমি বাথরুমে ঢুকছি – বেরোলেই তুমি রেডি হয়ে নেবে। অনি বাথরুমে যাবার আগে জানলার পর্দাটা টেনে দিল। কাঞ্চনজঙ্ঘার মাথায় তখন আগুনের গোলা। একটা মায়াবী আলো জানলা ভেদ করে আমাদের ঘরে ঝাঁপিয়ে পড়ল, আর তার ছটা অনির সদ্য ঘুমভাঙ্গা চোখে মুখে আর অবিন্যস্ত একরাশ এলোচুলে পড়ে একটা কেলেংকারি বাঁধিয়ে তুললো। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে অনিকে দেখতে লাগলাম একটা পাকা খেলোয়াড়ের মত।

না। বুকের মধ্যে শব্দটা আর শুনতে পাচ্ছি না।

Tags: , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন

  • পুরানো সংখ্যা




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ