Tag Archives: গল্প
-
পৌষের অপেক্ষায়এক ধুলোভরা গ্রামের রাস্তায় চারজনের ছোট দলটা হনহন করে চলছে । সকলের হাতে একটা করে থলে, তাতে প্লাস্টিকের দু-একটা জলের বোতল। রাস্তার তেষ্টা মেটাতে তো বটেই, ওদের কাজেও জলের প্রয়োজনটা বেশি, গলা ভেজাবার জন্য। ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে তাদের পৌছতে হবে তাদের গ্রাম আজারি থেকে চার মাইল দূরের কোজরা গ্রামে। কোজরার পুরনো জমিদার ঠাকুরসাহেবের হাভেলির বায়না। […]
-
পয়লা বৈশাখে লে খ্যাপাপয়লা বৈশাখের রাত, সময় নটা। দীপ্তেশ আর সুতপা ফিরছে, দুজনের চার হাতে চারটে শপার্স ব্যাগ ঝুলিয়ে। ব্যাগের পেট ফুলে আছে ভেতরের সুইটসের প্যাকেটে। ব্যাগ উঁচিয়ে উঁকি দিচ্ছে পাকানো বাংলা ক্যালেন্ডারের সাদা পিঠ। দম্পতির মাথায় উঁকি দিচ্ছে প্রশ্ন, পয়সা খরচ করে ক্যালেন্ডার আবার কেন? সুইটসের বহর একটু বাড়ালেই তো হয়! ক্যালেন্ডারের এখন কী গতি হবে? হাল […]
-
দোলনাভিনগাঁয়ে কাজ শেষে বিকেলে বাড়িতে ঢুকতে গিয়েই গৌরাঙ্গ বুঝতে পারলো বাড়িতে কোনো গন্ডগোল হয়েছে। দরজা হাট করে খোলা। বৌ শিবানী চৌকির ওপর না বসে, মেঝেতে থেবড়ে বসে, দেয়ালের দিকে মুখ করে বিড়বিড় করে কী সব যে বলছে, গৌরাঙ্গ বুঝতে পারলো না। শিবানীর শাড়ির আঁচল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। সেদিকে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। গৌরাঙ্গ-র পেছনে […]
-
হৃদস্পন্দনবিকেল ঢেকে সন্ধে আসছে, আনন্দময়ী সেবা সদনের ভেতর এখন রোগির পরিজনের ভীড় কমতে শুরু করেছে। ভিজিটিং আওয়ার শেষ, পরিস্কারের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা লম্বা ঝাড়ু নিয়ে বসার জায়গা, রিসেপশান, ফার্মেসি, আউটডোরের কেবিন ধোয়ামোছা করছে। শুধু এমারজেন্সিতেই এখন কয়েকজন ডিউটিতে আছে। কার্ডিয়াক সার্জেন ঝিলম ধীরে সুস্থে এমারজেন্সিতে এসে বসে। বিকেলের দিকে চাপ কম, এখানেই একটু আড্ডা দেয়, […]
-
ব্যালকনিদোতলার বারান্দার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এক তরুণী। ব্যালকনির টবেতে রাখা সুদৃশ্য গাছগুলির তদারকিতে ব্যস্ত। রাস্তার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক সুদর্শণ যুবক চা হাতে অপলক নয়নে দেখছে তরুণীটিকে। রোজকার ঘটনা। গাছের চর্চা করতে করতে তরুণীটি ঘেমে নেয়ে একশা। কয়েকটা চুল এসে মুখের সামনে এসে পড়াতে ব্যস্ত হয়ে সরিয়ে দিতে দিতে চকিতে নজর যায় রাস্তার ধারে দাঁড়ানো চা […]
-
পোকারোববারের সকাল। বাজার বসেছে। ভিড়টা অন্যদিনের তুলনায় তাই সিকি ভাগ বেশি। লোকেদের হাতে রঙবেরঙের নানান সাইজের থলে -কারোরটা পেটরোগা, কারোর নেয়াপাতি, তো কারোরটা আবার আটমাসের পোয়াতি। কেউ ব্যস্তবাগীশ, কেউ দরদামে ব্যস্ত, কেউ বা ছুটির আলস্য গায়ে মেখে সংসার ভুলে খানিক আড্ডায় মজে.. কারোর গায়ে হাল্কা র্যাপার জড়ানো, তো কারোর সাবধানি ধুতি হাঁটুর কাছে.. কারোর আটপৌরে […]
-
দশ বছরে পা দিল ‘গল্পের সময়’দশ বছরে পা দিল অনলাইন সাহিত্যভিত্তিক পত্রিকা ‘গল্পের সময়’। সময়ের হিসেবে এক দশক হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সাহিত্যচর্চার পথে এই দশ বছর মানে অসংখ্য শব্দের জন্ম, অজস্র ভাবনার উন্মেষ, আর পাঠক–লেখকের ভালবাসায় গড়ে ওঠা এক আত্মিক বন্ধন। ‘গল্পের সময়’ শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে—অন্যরকম গল্প বলার স্বপ্ন। যে গল্প দৈনন্দিনতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যে […]
-
উই ওয়ান্ট জাস্টিস(বর্বর লালসায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের স্মৃতিতে) এক কোনো কোনো রাতে সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে জেগে থাকে আকাশ৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে নক্ষত্র আর মানুষের চোখ লক্ষ কোটি জাগরণ ঘটিয়ে তোলে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে মানুষের স্পর্ধা শাসকের সব উচ্চারণ উচ্ছিষ্ট করে দিতে পারে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ অনেক উঁচু […]
-
মহানগর ও আরও দুটি গল্প।। উত্তরণ ।। ওয়েটিংরুমের বড়ো ঘড়িটায় রোমান দুটো বেজে গেছে ! নিশিকান্ত ত্রিবেদী হাতের চা তাড়াতাড়ি শেষ করার দিকে মন দিলেন। পাটনা জংশন স্টেশনের আপার ক্লাস ওয়েটিংরুমের যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বেশ ভালো। প্রশস্ত হল, বসবার চেয়ারের ডিজাইন আধুনিক । গোটাচারেক স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার লাগানো আছে বটে কিন্তু এই নভেম্বর মাসে পাখাগুলোই চলছে। আর তারা অভাবিতভাবে শব্দহীন […]
-
কালো ময়ূরী ও কারনেশনদিগন্তে কালো রেখা মাঝে মাঝে দপ দপ করছে, যেভাবে অনেকক্ষণ পড়ে থাকা নিভন্ত মশাল ধিক ধিক করে ওঠে। ঘৃণার মধ্যে মনে কেমন কাম জেগে ওঠে তার অন্ধ তমোময় দীপ্তি একটা তো আছে। এতো যে দ্বেষ কালিমায় পুঞ্জীভূত রাগ তা তো তুষের আগুন। শত্রু নারীদের ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের পরিণতিতে মৃত্যু আবহমান বিজয়ের সেতু চিহ্ণ। সেহেতু […]
-
রক্তএতক্ষনে আসার সময় হল?তোমার জন্য অফিস-কাছারি বন্ধ করে দিতে হবে দেখছি।প্রায়ই কাজে আসতে দেরি করে মিনতি। সময়ে রান্নার লোক না এলে শুধু অফিসে দেরি হয়, তাই নয় –সারা দিনের রুটিনটাই জট পাকিয়ে যায়। আজও দেরি করায় মেজাজ হারিয়ে কড়া কথা বলে দিতি। তার কথার জবাব না দিয়ে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে যায় মিনতি। জবাব না পেয়ে […]
-
টিকটিকি ও অন্য গল্পটিকটিকি -কিচ্ছু না, কালপ্রিট তুমি নিজে। কতবার পই পই করে বারণ করেছি, বার বার সাবধান করেছি প্রোফাইল লক করো, প্রোফাইল লক করো, সবাই করছে। এটাও খেয়াল করোনি। নিজে এথনিক হ্যাকিং টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেও যদি এটুকু বুদ্ধি না হয় তাহলে এখন কান্নাকাটি করছ কেন? আমাদের ছবি ছড়িয়ে ওরা ভাইরাল করছে বলে! একটানে কথাগুলো বলে একটু […]
-
এক চাঁদ চার তারাসেক্টর ফাইভ থেকে বাসে করে উল্টোডাঙা নামতেই খিদেটা চাগার দিল অনুষ্টুপের। শেষ খাবারটা খেয়েছে সেই দুপুরবেলা। বাড়ি থেকে দেওয়া টিফিনে আজ ছিল পরোটা, আলুর তরকারি আর মিষ্টি। আজ যেন একটু বেশিই খিদে পাচ্ছে। কী জানি কী হয়েছে।দুপুরের টিফিনটাও আজ টিফিন টাইম হতে না হতেই সাঁটিয়ে দিয়েছে। একটা বাজতে না বাজতেই অনুষ্টুপ টিফিন কৌটো খুলে বসায় […]
-
অ্যাক্টিভিস্ট১ ইস্যু ঘুরতে দেওয়া যাবে না। বার্নিং টপিককে আরও বার্নিং করে ধরে রাখতে হবে। ফোনের ওপারের কথা শুনতে শুনতে রাস্তার মোড়ের দোকান থেকে গোল্ড ফ্লেকটায় অগ্নিসংযোগ করল পঙ্কজ। তারপর দোকানের পেছনের দিকের ছায়াঘেরা বাবলা গাছটার নিচে বেঞ্চি পাতা সেফটি জোনে ঢুকে বাঁ হাতটা মোবাইলের নীচে ধরে ,কথা আড়াল করে, নিচু স্বরে বলতে শুরু করল – […]
-
ভেজা খড়ের গন্ধচামড়ার ওপর এসে পড়ে এক ফোঁটা ঠাণ্ডা জল। কেমন যেন কুঁচকে যায়। ঠিক কুঁচকে যাওয়া নয়, নিজেকে কেমন যেন গুটিয়ে নেয়। শুকনো বালির মধ্যে এক ফোঁটা জল এসে পড়লে যেমন হয়, চারপাশের পাড়ায় কেমন যেন একটা ধ্বস নামে। পাড়ায় পাড়ায় চাউর হয়ে যায় জল পড়ার খবর। তারপর শক্তির দিকে আস্তে আস্তে ঘেঁষে যাওয়া। কিছুতেই মুখ সরিয়ে […]
-
লক্ষ্মী-সরস্বতী।। ১।। আর বোলো না, কি দিনকাল পড়েছে ! তাই নয় তো কি? কাল রাতে কখন ফিরেছে জানো ? কখন ? সাড়ে বারোটা ! ভুতুর বাবা স্মোক করতে উঠেছিল, ব্যালকোনি থেকে দেখেছে। জানোই তো তিন দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম, তার উপর বিজি সিজন, মাঝে মাঝে রাতভর জাগতে হয় গো লোকটাকে ! হ্যাঁ। পুরুষ মানুষ হলে […]
-
উন্নয়নদুর্গাপুর থেকে বিষ্ণুপুর যাচ্ছিলাম সপরিবারে। সাত বছরের মেয়ের চোখে অপার বিস্ময়, অসীম আনন্দে চিকচিক করছে দুটো চোখ-মা দেখ কি সুন্দর গাছ, মা, কত সবুজ! মা কি পাখি ডাকল? প্রকৃতি প্রেমীর প্রশ্নবাণ থেকে বাঁচবার জন্য মেয়ের বাবা খবরের কাগজের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেছেন। আশা করছেন আড়াই ঘণ্টার পথ এই ভাবেই কাটবে। পুজোর আগমনী বার্তা জানিয়ে রাস্তার […]
-
ছবিসুরবালার বয়স এখন প্রায় পঁচাশি। মোটামুটি নিজের সব কাজ সে নিজে করতে পারে। শুধু চুল আঁচড়াতে গেলে বড্ড হাত ব্যথা করে। হাতটা উঁচু করতে গেলেই যত বেদনা। ছেলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। ওষুধ মালিশ এসব করলে একটু উপশম হয় । সুরবালা বুঝে গেছেন যে এই বয়েসে এর বেশি কোন কিছু আশা করা ঠিক নয়। তিনি […]
-
ডিলিটপাড়ার প্রদীপ বোধহয় পটাই হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বদের গাছ হয়েছে একখানা। হেন দুষ্কর্ম নেই যে পটাই করে না। তোলাবাজি মস্তানি গুন্ডামি মেয়েদের টিজ করা সব কাজে সে সিদ্ধ হস্ত। এহেন পটাই কে সবাই এড়িয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চলবো ভাবলেই তো আর চলা যায় না। বিশুর চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে ঘুম চক্ষুটি খুলেই ব্রাশে মাজন […]
-
এক সওদাগরের ‘সপ্তডিঙা ও অন্যান্য’সদ্য একটা ভালো বই পড়ে উঠলাম। ঠিক গল্প, উপন্যাস কিম্বা প্রবন্ধ নয়, তবে এই বইটিতে সব রসদই মজুত। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শঙ্কর ঘোষ এর লেখার একটি সংকলন- সপ্তডিঙা ও অন্যান্য। নোয়াখালি মার্চে সাংবাদিক হিসেবে গান্ধীজির সঙ্গী ছিলেন তিনি, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রনেতাদের সফর সঙ্গী শঙ্করবাবু প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সাংবাদিকতার চাপ সামলেও নিয়মিত বই রিভিউ […]
-
কৃকলাশতাহলে আমরা যাচ্ছি কি না লাস্ট শো-এ ? তাড়াতাড়ি ঠিক করে বল, টিকিট বুক করবো তো ! প্রমথ দুই বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বললো। তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু কানপুর ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে ইলেকট্রনিক্সের ছাত্র, প্রমথ ডে স্কলার, বাকি দুজন হোস্টেলবাসী । শনিবারের দুপুর থেকে প্রমথর বাড়িতে এসে খাওয়া দাওয়া আর জোর আড্ডা দিচ্ছে সুজন আর অনন্ত। ওদের দুজনের […]
-
সীতা১ অশোক বাড়ি ফিরছিল রিক্সা করে। এভাবে রিক্সাভাড়া সচরাচর সে খরচ করে না। শিখা বলে সে নাকি কিপ্টে। অশোক মুচকি হেসে এড়িয়ে যায়। ব্যাংক কর্মী অশোকের একটা ছোট বাড়ি আছে। ব্যাংক লোন করে প্রথমে জমি কিনেছিল সে। পরে লোন শোধ হলে বাড়ির জন্য লোন নেয়। অশোক বেশ হিসেবী । একটা ডায়েরি তে সে সব হিসেব […]
-
ঘুম এনে দেবে কেউঘুম আর শেষঘুম এক নয়, শেষ ঘুম হলো মৃত্যু। শেষ ঘুম একবারে অজ্ঞান,এক্কেবারে নিস্তার। ঘুমও নিস্তার- কিছু সময়ের জন্য ভুল-ঠিক, কর্তব্যাকর্তব্য,মায়া না মতিভ্রম, সুমতি- কুমতির হাত থেকে বাঁচা। শেষ ঘুমে তাই হয়তো স্বর্গ আসে ও ঘুমের মাঝে দেখা দেয় স্বপ্ন নামে ক্ষণস্বর্গ। রিটায়ার করা- ইস্তক প্রফুল্লবাবুর ঘুরে ফিরে ঘুম ছাড়া আর কিছুই ঠিক মনে হচ্ছে […]
-
বিন্দু বিসর্গগল্প আছে ?- রিষড়ার বাঙ্গুর পার্কের ফ্ল্যাটের সান্ধ্য দ্বিপাক্ষিক আড্ডার মধ্যেই হটাৎ প্রশ্নটা ছুড়েছিল কলকাতার একটি নামী সংবাদপত্রের সাব এডিটর পীযুষ আশ। গল্প তো আছেই ? খাস্তা, বাসি, টাটকা কোন গল্প শুনতে চাস বল?- চটজলদি পালটা প্রশ্ন ছুঁড়লো লেখক সদানন্দ। সবেমাত্র আই বি- র লার্জ পেগটা শেষ করে গ্লাস নামিয়েছে। সন্দিপনীয় ভাষায় উৎসব শুরু হয়েছে […]
-
দেবী আছেন ওদেশেওমানুষের মনের ভিতরের যে অন্ধকার, যে আসুরিক প্রবৃত্তি তাকে দমন করবার ভেতর দিয়েই এগিয়েছে আমাদের সভ্য হওয়ার ইতিহাস। কিন্তু এই সভ্য হয়ে ওঠবার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে যে এখনো বহু যোজন পথ পাড়ি দিতে হবে তা বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না। অতি সাম্প্রতিক কালের ভয়ানক নারী নির্যাতনের ঘটনা এক নিমেষে সভ্যতার আপাত পরিশীলিত মুখোশকে ছিঁড়ে ফেলে […]
-
বুঝিনি সে নিরুচ্চার ভালোবাসা ছিল নিরন্তরএক দুপুর থেকে একা একা কফি হাউসে বসে দু’তিন রাউন্ড ইনফিউশন শেষ কোরেও একটা লাইনেই আটকে থাকল পদ্যটা, ‘বুঝিনি সে নিরুচ্চার ভালোবাসা ছিল নিরন্তর’। আগে পরে আর কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নাহ্, আজ আর হবে না। বিকেলের দিকটায় উঠব উঠব করছি, এমন সময় দেখলাম প্রফেসর সাহেব ঢুকছেন, অনেকদিন পরে! আমার অনেক দিনের পরিচিত জন। […]
-
তান্ত্রিককথা ছিল পুরুলিয়া যাব পলাশ দেখতে। কিন্তু যাবার আগের দিন হুজুক উঠলো তারাপীঠ । আমি প্রথমে রাজি হচ্ছিলাম না গন্তব্য পরিবর্তনে। শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়েছিলাম তারাপীঠ না যাওয়ার জন্য। কিন্তু মহিলা সদস্যদেরই জয় হলো। তারাপীঠ সম্পর্কে গল্প শুনে শুনে কেমন যেন একটা অনাগ্রহ তৈরি হয়েছিল আমার মনের মধ্যে। এই অনাগ্রহের কারণ বলতে গেলে আমাকে অরুণের […]
-
গাছ কন্যাগ্রামে গঞ্জে শহরের আনাচে-কানাচে কত যে ঘটনা ঘটে যায় তার খবর আমরা কি রাখি। কতটুকু রাখতে পারি।নদীর ধারে সাজানো-গোছানো গাছ গাছালি ঘেরা সেরান্দি গ্রাম। এই গ্রামে একটা হাই স্কুল ছিল। রুনু নামে, একটা মেয়ে পড়ত এই স্কুলে। যখন অঙ্কের ক্লাস হতো, তখন দিদিমণি দেখলেন অংক না করে রুনু ছবি আঁকছে। আবার বাংলার ক্লাসে মাস্টারমশাই গেলেন […]
-
আকাশপথের উদ্দেশেআমার মা পান চিবুতে চিবুতে মাঝে মাঝেই জিভটাকে বার করে নিয়ে এসে অনেকটা লম্বা করে দেওয়ার চেষ্টা করত। খুব একটা সফল হতো না তবে তা নিয়ে তার কোনো কষ্ট ছিল না। কারণ জিভটাকে সামান্য কিছুটা দেখতে পেলেই সে খুশি। উদ্দেশ্য কতটা লাল হয়েছে সেটা দেখা। এখন রাত, তবে কত রাত আমি জানি না। আমার ঘরে […]
-
কর্মফলহঠাৎ মামন চিৎকার করে উঠলো।মা মা বাঁচাও বাঁচাও ,জ্বলে গেল জ্বলে গেল .. দৌড়ে গেল শিবানী, মামনের মা বাবা। সবাই ভেবেছে বুঝিবা আগুন লেগে গেছে ওর গায়ে। কিন্তু মেয়ে কে দেখে আশ্বস্ত হলো সবাই। আগুন তো নেই।তবে কিসে জ্বলে যাচ্ছে? মামন নাক টা চেপে ধরছে কখনো,কখনো বা দৌড়ে গিয়ে জল দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে ঘেমে স্নান […]
