03 Nov

ঘুরে দাঁড়ানো

লিখেছেন:বিষ্ণু বিশ্বাস


কাগজে খবরটি পড়েই অন্তরাত্মা হায় হায় করে উঠেছিল। পরক্ষণেই ক্রোধ। প্রচণ্ড ক্রোধ। ক্রোধ প্রশমিত হওয়ার পর দাদাসুলভ সহানুভূতি।

ভুল করলি ভাইটি। বড় ভুল। খুব ভালো রেজাল্ট করে খানাকুল না চাঁপাডাঙার ওদিক থেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়তে এলি কলকাতায়। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্সে। জানি তো আমাদের ইংরিজিতে ভুল হয়। গ্রামারে নয়। প্রোনানসিয়েশনে। আমরা গার্ডিয়ানকে বলি গার্জেন, কোয়েশ্চেনকে বলি কোশ্চেন,নাজিকে বলি নাৎসি। ম্যারিকাকে বলি আমেরিকা, অ্যাটিটিউটকে বলি অ্যাটিচুড, গভর্নমেন্টকে গভমেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। তাছাড়া চালচলন পোশাক আশাক এসব তো আছেই।

জানি তোকে খুব উত্ত্যক্ত করেছিল। একদিন নয় দিনের পর দিন। তাই বলে ঝুলে পড়বি ভাইটি আমার। অনেকেই এখন বলছে. কী বোকা কী বোকা! না পোষালে ছেড়ে দিতে পারত। আমি কিন্তু ছাড়ার কথা বলছি না ভাইটি। দখল নেবার কথা বলছি। বিপুলদার সেই অবিস্মরণীয় কবিতা ‘তোমার মারের পালা শেষ হলে’ তোকে একবার শোনাতে পারলে ভালো হত। পা থেকে মাথা পর্যন্ত চাবুকের দাগ যেন থাকে / এমনভাবে মারো / দাগ যেন বসে থাকে বেশ কিছুদিন / এমনভাবে মারো / এমনভাবে মারো / তোমার মারের পালা শেষ হলে / আমাকে দেখায় যেন ডোরাকাটা বাঘের মতন।

মার খেতে খেতে এক সময় আমাদের ডোরাকাটা বাঘ হয়ে ওঠার গল্প তোকে শোনানো হল না। তবু বলে যাই। যদি তোর মতো অন্য কেউ শোনে!

আমরাও তো বি.এ. অনার্স পাশ করে কত দূর দূরান্তের গাঁ-গঞ্জ থেকে পড়তে এসেছিলাম ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালকাটায়। কেউ করমিপুর, কেউ বেলডাঙা, কেউ বা জিয়াগঞ্জ। সত্তর দশকের সেই সময়টিতে ঝকঝকে মার্কশিঠ না থাকলে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালকাটায় ভর্তি হওয়া যেত না। সেটুকু আমাদের ছিল। কিন্তু ওই যে বললাম ইংরিজি প্রোনানসিয়েশন। তার উপর কলার ফাঁসা শার্ট, রঙচটা ট্রাউজারস্‌ আর তালি দেওয়া পেরেক মারা জুতো। সিমেন্টের মেঝেতে হাঁটলেই কেমন ধাতব শব্দ হতো। আমাদের জন্যই বোধহয় ধীরেনদা লিখেছিলেন, দাঁতালো পেরেক তালি খাওয়া জুতো অনেক কথাই কয়।

নিজের নিজের কলেজে এই নিয়েই দাপিয়ে বেড়ানো আমরা কেমন যেন ইঁদুর বনে গেলাম। প্রেসিডেন্সি, লেডি ব্রাবোর্ন, বেথুন, স্কটিশের চাপে পুরো কোনঠাসা। ক্লাসে ইংরিজিতেই বলতে হতো। কোথাও আটকে গেলে দেশজ বাংলা শব্দ অজান্তে জিভের ডগায় চলে এসে বাক্য পূরণ করে দিত। আড়চোখে দেখতাম মুখ টিপে হাসছে ওরা। ক্লাশ শেষে আমাদের বাংলা মিশ্রিত ইংরিজি ও ইংরিজি উচ্চারণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাহা হাহা হিহি হিহি।

মনামী বলে একজন ছিল। অনার্সে ফার্স্ট হয়েছিল শুনতাম। ফার্স্ট গার্লের গুমর তো ছিলই তার উপর ওর বাবা নাকি শাসকদলের এমপি বা মন্ত্রীটন্ত্রি কিছু একটা। জাতীয় পতাকা লাগানো সরকারী গাড়ি সরাসরি গেট দিয়ে ঢুকে একেবারে সেন্টেনারি হলের কাছে এসে নামিয়ে দিয়ে ফিরে যেত। নামার সঙ্গে সঙ্গে কোথা থেকে ছুটে এসে দারোয়ান ‘নমস্তে ম্যাডাম’ বলে সেলাম ঠুকত। স্বভাবতই ওই ছিল ওদের গ্রুপটার পাণ্ডা নাকি গ্যাং লিডার বলব! ওকে ঘিরেই ক্যালকেসিয়ান এলিটদের জটলা। আমার মুখে এলিট শব্দটি শুনে একদিন কী হাসাহাসি। ওটা নাকি ইলাইট হবে। বাপের জন্মেও ইলাইট শুনিনি। আমাদের কলেজের অধ্যাপকরাও এলিটই বলত। তাঁরাও কি আমাদের মতো পাড়াগেঁয়ে ভুত ছিল। পিত্তি জ্বলে গেলেও কিছু বলতে পারতাম না। বোধহয় তখনও মারের পালা শেষ হয়নি বলে।

একটা ক্লাশ শেষ হলে পরেরটা শুরু হতে মিনিট সাত-আট লাগল। এই সময়টুকুই খুব ডেঞ্জারাস। আমরা ওই সময় ক্লাসে না বসে বাইরের বারান্দার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কলেজ স্ট্রিটের ভিড় দেখতাম আর লক্ষ্য রাখতাম স্যার ক্লাসের দিকে যাচ্ছেন কিনা। আমরা বলতে আমি, বেলডাঙার শামসুল, সোনামুখির মহীতোষ, জিয়াগঞ্জের শ্যামসুন্দর আরো এরকম দু-চারজন।

একদিন বইখাতা গুছিয়ে তড়িঘড়ি বেরোতে যাচ্ছি, জটলার মধ্যে থেকে মনামী ডাকল। প্রথমে শুনতে না পাওয়ার ভান করে দ্রুত পা বাড়ালাম। স্কটিশের দেবতনু গলা চড়াল, কীরে! খুব পাখনা গজিয়েছে দেখছি। মনামী ডাকছে শুনতে পাচ্ছিস না? মনামীর এক নম্বর চামচা এই দেবতনু। মনামী যতটা পাত্তা দেয় জানি না, তবে ও পারলে মনামীর জুতোর বেল্ট বেঁধে দিতেও প্রস্তুত।

দাঁড়াতেই হল। পড়েছি যবনের হাতের মতো।

– বলো। কী বলবে।

মনামী খুব মিষ্টি করে বলল, একটু কাছে আয়। গায়ের গন্ধটা নিই একটু।

দেবতনু বলল, একেবারে খাঁটি গণেশ মার্কা সরষের তেল ম ম করছে।

– গণেশের তেল আমার খুব পছন্দ। গণেশ ছাড়া ড্যাডের কিছু রোচেই না।

আমি শান্ত চোখে মনামীর দিকে তাকিয়ে বললাম, বলো।

– কিছু না, একটা সিম্পল কোয়েশ্চেন। বলতো ইংরেজরা শেষ পর্যন্ত কেন ইন্ডিয়া কুইট করল? অ্যালাইড পাওয়ার তো সেকেন্ড ওয়ার্ল্ডওয়ারে জিতেছিল। তাও কেন ব্রিটেন ইন্ডিয়াকে পাওয়ার হ্যান্ডওভার করল?

প্রথমে ভেবেছিলাম কিছু বলব না। কিন্তু নিজের প্রিয় সাবেজেক্ট পেয়ে লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। ইংরেজরা কেন ভারত ছাড়ল তার কারণগুলো একটার পর একটা বলতে থাকলাম। বিয়াল্লিশের বিপ্লব দিয়ে শুরু করে নেতাজীর চপেটাঘাত, নৌবিদ্রোহ, লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দীদের বিচারকালীন প্রবল জনবিক্ষোভ সবই উঠে এল একে একে। আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, মনামী হাত নেড়ে আমাকে থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, এগুলো তো মাইনর রিজনস। আমি আসলটা জানতে চাইছি।

আমি অবাক হয়ে বললাম, আসল কারণ কী?

– কিচ্ছু না। তোদের বাপ ঠাকুকরদার ইংরিজি শুনে ভয় পেয়ে গেল এক্সট্রিমলি।

এতক্ষণ সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। মনামীর টিপ্পনীতে উল্লাসে ফেটে পড়ল। যেন থার্ড ওয়ার্ল্ডওয়ার জিতে নিল আর কী।

আমি স্থানু মতো দাঁড়িয়ে রইলাম কতক্ষণ জানি না। শামসুল এসে আমার কাঁধে হাত দিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর সম্বিত ফিরল।

বারান্দার কোণে গিয়ে দাঁড়াতেই মহীতোষ রুমাল বের করে আমার চোখে বোলালো। আমার চোখ দিয়ে কি জল পড়ছিল! আমি নিজেও জানি না।

শামসুল তখনো আমাকে ধরে রেখেছে।

– আমাদের নিয়ে যা খুশি বলুক। তাই বলে আমাদের বাবা-জ্যাঠা তুলবে?

আমি মাথাটা তুলে অনেক দূরের আকাশ দেখতে দেখতে বললাম, আমার বাপ তুলেছিল। তাই না? তখন ভালো করে শুনিনি। আচ্ছা ঠিক আছে।

কী ঠিক আছে তখনও জানিনা। যা ঘটার ঘটল সন্ধেবেলায়। বেলেঘাটায় – আমার মেসে।

শ্রান্তি ক্লান্তি বিষন্নতা আর বিধ্বস্ততায় ইউনিভারসিটি থেকে ফিরে শুয়ে আছি বেলেঘাটার মেসবাড়িতে। দোতলার একটি ঘরে – জানালার পাশে। ফুরফুর করে হাওয়া দিচ্ছিল। একটু তন্দ্রা মতন এসেছিল বোধহয়। মনে হল জানালার বাইরে থেকে কে যে ফিসফিস করে কিছু বলছে।

– পালাচ্ছ কেন? ঘুরে দাঁড়াও। বন্দুক ঘুরিয়ে ধরো।

কথাগুলো কেমন চেনা চেনা লাগছে। জানলার গরাদে মুখ রেখে কাউকে দেখতে পেলাম না। দোতলার জানালায় কে উঠবে। কী করেই বা উঠবে। কিছুক্ষণের মতো মনে পড়ে গেল অনীক পত্রিকায় পড়া জয়ন্ত জোয়ার্দারের গল্প। একজন সিআরপি ও জনৈক নকশাল ভূতের গল্প। ঘরের ঘুলঘুলির মধ্যে ঢুকে বসে এক বিধ্বস্ত মানুষকে সাহস দিয়েছিল, পালাচ্ছ কেন। বন্দুক ঘুরিয়ে ধরো।

তক্ষুনি ঠিক করে নিলাম আর পালানো নয়। এবার ঘুরেই দাঁড়াব। অস্ত্র আমাদেরও কম নেই। নিজের নিজের কলেজে এতদিন রাজ করে এসেছি। প্রিন্সিপাল ঘেরাও থেকে দুবির্নীত অধ্যাপককে ঢিঁট করা, নতুন জয়েন করা মেয়েদের প্রতি কটুক্তি করা থার্ড ইয়ারের ছাত্রকে কান ধরে পঞ্চাশ বার ওঠবোস করানো – কী বাকি ছিল। অনেক হয়েছ আর নয়। নকশাল ভুত দাদা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। বিড়াল মারতে কিঞ্চিৎ দেরি করে ফেলেছি ঠিকই। কিন্তু সব শেষ হয়ে য়ায়নি। বলা যায় এই শুরু।

শামসুল, মহীতোষদের নিয়ে পরদিনই একটা প্ল্যান ছকে ফেললাম। অফ পিরিয়ডে আমরা ক্লাসে থাকি না। কলেজ স্কোয়ারের দিকে গিয়ে চার প্লেট ঘুঘনি নিয়ে আট জনে মিলে খাই। কিংবা ছ প্লেটে বারো জন। মনামীরা ক্লাসে বসেই টিফিন সারে। স্যান্ডউইচ, চিকেন বার্গার আরো কত সব অজানা না জানা খাবারের নাম শুনি। কখনো সখনো বোতল টোতলও কারো ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে। আর এন্তার সিগারেট।চুরুটও। চুরুট আনত মনামী। বলত, ড্যাড একাট সেমিনারে গিয়ে খোদ হাভানা থেকে নিয়ে এসেছে। উল্লাস খেলে যেত অন্যদের চোখে মুখে। ক্লাসে বসে বোতল কিংবা সিগারেট আমরা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।

ঠাকুরদার আমলের থেলো হুঁকোর  সঙ্গে একটা ‘ পোড়া মাটির বিগ সাইজের কলকে ছিল যাতে একবারে অনেকখানি মাল ঠাসা যেতে পারে । তাতেই কষে ঠাসা হল আমাদের করিমপুরের বিখ্যাত আসগরি গঞ্জিকা। (আবগারি দপ্তর মার্জনা করবেন। এটুকু না করলেই চলছিল না স্যার)।

সেদিন আমার পোশাকও ছিল দুর্দন্ত। কোথায় লাগে প্রেসিডেন্সিয়ান রণজয় কিংবা স্কটিশের দেবতনু। ঠাকুরদার ছেড়ে যাওয়া বিখ্যাত মিসিম জোলার খেটো ধুতি, আনিমুল চাচার সেলাই করা ইর্ষনীয় ফতুয়া। কাঁধে আলতো করে ফেলে রাখা  সোনামুখির গামছা। আর তার সঙ্গে আমার সেই অবিস্মরণীয় বুটজুতো। এক সময় বাটা কোম্পানিরই ছিল – এখন পেরেক  পেরেকেই ওজনদার টাটা কোম্পানির জুতো হয়ে গেছে।

সেদিন অফ পিরিয়ডে আমরা ক্লাস ছাড়িনি। তার উপর আমার সেদিনের জমকালো পোষাক দেখে অনেকক্ষণ থেকেই ফিসফাস শুরু হয়েছে। কিছু একটা ঘটতে চলেছে, বুঝতে পেরেছিল কি পারেনি জানিনা – তবে আমার দিকে মনামী খুব সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছিল। ঠিক যেভাবে পুলিশের খোঁচর কলেজ স্কোয়ারের বেঞ্চে বসে হাওয়া খাওয়ার ভাব করে চারিদিক নজরে রাখতে রাখতে হঠাৎ কাউকে ভারি ব্যাগ বয়ে নিয়ে যেতে দেখেই সন্দেহ করে নিশ্চয় ব্যাগে মাল আছে এবং একটু পরেই চার্জ শুরু হবে – অনেকটা তেমনভাবেই।

বার্গার টার্গার খাওয়ার পর চুরুট ধরানোর তোড়জোড় শুরু হতেই শামসুলের ব্যাগ থেকে বেরিয়ে এল ঠাকুরদার আমলের পোড়া মাটির জাম্বো কলকে  এবং জ্বলে উঠল আগুন। একটানেতে যেমন তেমন দুটানেতে রুগি / তিনটানেতে রাজা উজির চারটানেতে সুখী। সামসুল একটান দিয়েই মহীতোষের দিকে এগিয়ে দিল,মহীতোষ  শ্যামসুন্দরকে। শ্যামসুন্দর থেকে আমি। আমি তিনটান মেরে সাগর থেকে আসা শ্যাম হালদারের দিকে এগিয়ে দিলাম। যেমন ভয়ংকর উৎকট, তেমনি তীব্র কটু গন্ধে গোটা ক্লাসরুম অন্দোলিত। হু হু বাওয়া এ তোমার হাভানা নয়। খোদ করিমপুরের সুপার কোয়ালিটি আসগরি মশলা। একটু তো সহ্য করতেই হবে বাবারা, মা জননীরা। দেবতনুর হাতের চুরুট হাতেই রয়ে গেল। আগুন আর জ্বলল না।

বিস্ফারিত চোখে আমাদের দিকে চেয়ে আছে ক্যালকেসিয়ান এলিট, সরি ইলাইট গ্রুপ। প্রাথমিক ঘোর কাটিয়ে প্রেসিডেন্সিয়ান শুভব্রত কিছু একটা বলতে এগিয়ে এল। কী বলত সেটা আর জানা হল না। তার আগেই হাইবেঞ্চের উপর টকাস করে তুলে দিলাম আমার বিখ্যাত টাটা কোম্পানির বুট জোড়া। সরাসরি শুভব্রতর নাক বরাবর। কিছু বলবার জন্য সেই যে হাঁ করেছিল মান্যবর প্রেসিডেন্সিয়ান, সেই হাঁ আর বন্ধ হল না।

মনামী মিনমিন করে বলল, হোয়াট দিস নুইস্যান্স! তোরা মানুষ। না চাষা? আমি বুট জুতো নাচাতে নাচাতে বললাম, আমি চাষা নই, আমার ভিতরে রয়ে গেছে সাত পুরুষের চাষাত্ব।

– সে তো তোর অ্যাটিটিউট দেখেই বুঝছি।

– কী বুঝছিস ডিয়ার ব্রাবোরিয়ান লেডি? চাষের তুই কী বুঝিস, কতখানি বুঝিস!

ফার্স্ট গার্লের অহমিকা দপ করে জ্বলে উঠল।

– ইয়োরস ফোর ফাদার মাইট বি ফার্মারস। ডু য়ু নো মাই ফাদার ইজ আ সিটিং এগ্রিকালচার মিনিস্টার। ড্যাডের কাছ থেকে আমি চাষ আবাদের প্রস অ্যান্ড কর্নস শিখে নিয়েছি। আ গুড স্টুডেন্ট ইজ হি অর সি হু নোজ হিজ অর হার সাবজেক্ট অফ স্টাডিজ ওয়েল অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ সোসিও ইকনমিক কন্ডিশনস অফ সারাউন্ডিনস অ্যান্ড পিপলস ইন জেনারেল।

আপনা থেকেই আমার ঠোঁট উলটিয়ে গেল।

– উরি উরি ব্বাস। চাষটাষ নিয়ে অনেক শিখেছিস তো!

বেশ, তোকে একটা সিম্পল কোশ্চেন করি। তুই সেদিন আমাকে ডেকে প্রশ্ন করেছিলিস না! সুতরাং আমারও একটা প্রশ্ন ডিউ রয়ে গেছে।

ওপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া এল কি এল না আমার বয়ে গেল। দুম করে সিম্পল কোশ্চেনটা করেই দিলাম।

– বল তো খেতি জমিতে মই দেয় কখন?

প্রশ্নটা করেই হাইবেঞ্চের উপর তোলা আমার টাটা কোম্পানির বুট জোড়া নাচাতে লাগলাম।

এবার মনামীর তোতলানোর পালা।

– ওই তো ওই তো … যখন … যখন …

– সেই তো সেই তো … কখন … কখন?

ঠোঁটে ঠোঁট চিপে একটু ভেবে নিয়ে কপালের উপর ঝুঁকে আসা চুলগুলো ঠিক করতে করতে বলল, ওই তো যখন ধান পাকে। আই মিন অ্যাট দ্য টাইম অ্যাজ হোয়েন প্যাডি গ্রোন রাইপ।

– কাররররেক্ট। ঠিক বলেছিস – যেটা তোর বাপরা করে থাকে।

সেদিনের মতোই উল্লাসে ফেটে পড়ল ক্লাসরুম। হাহা হাহা হিহি হিহি। তবে এবার আমার চারপাশের জটলা থেকে। বুঝলাম ওদের মারের পালা শেষ হয়েছে। এখন আমাদের জামা খুললে  গায়ে ডোরাকাটা দাগ দেখা যাবে ।

#

তাই বলছিলাম ভুল করলি ভাইটি। বড় ভুল। খুব বড় ভুল।

 

[বানানবিধি/মতামত লেখকের নিজস্ব]   

Tags: , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2021 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ