aro porun
-
উই ওয়ান্ট জাস্টিস(বর্বর লালসায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের স্মৃতিতে) এক কোনো কোনো রাতে সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে জেগে থাকে আকাশ৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে নক্ষত্র আর মানুষের চোখ লক্ষ কোটি জাগরণ ঘটিয়ে তোলে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে মানুষের স্পর্ধা শাসকের সব উচ্চারণ উচ্ছিষ্ট করে দিতে পারে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ অনেক উঁচু […]
-
বাজিশরৎকালের এক গভীর কালো রাত। এক বৃদ্ধ ধনী মহাজন নিজের লাইব্রেরীতে পায়চারি করছেন আর ভাবছেন পনেরো বছর আগের এমনই এক শরৎকালের সন্ধ্যার কথা। সেদিন তিনি বাড়িতে পার্টি দিয়েছিলেন। অতিথি অভ্যাগতরা যারা এসেছিলেন, তারা প্রায় সকলেই কথায় খুব তুখোড়—কথাবার্তাও বুদ্ধিদীপ্ত ও চিত্তাকর্ষক। অনেক বিষয়েই আলোচনা হচ্ছিলো, তার মধ্যে একটি ছিল মৃত্যুদন্ড। বেশীরভাগ অতিথি, বিশেষ করে যারা […]
-
কালো ময়ূরী ও কারনেশনদিগন্তে কালো রেখা মাঝে মাঝে দপ দপ করছে, যেভাবে অনেকক্ষণ পড়ে থাকা নিভন্ত মশাল ধিক ধিক করে ওঠে। ঘৃণার মধ্যে মনে কেমন কাম জেগে ওঠে তার অন্ধ তমোময় দীপ্তি একটা তো আছে। এতো যে দ্বেষ কালিমায় পুঞ্জীভূত রাগ তা তো তুষের আগুন। শত্রু নারীদের ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের পরিণতিতে মৃত্যু আবহমান বিজয়ের সেতু চিহ্ণ। সেহেতু […]
-
রক্তএতক্ষনে আসার সময় হল?তোমার জন্য অফিস-কাছারি বন্ধ করে দিতে হবে দেখছি।প্রায়ই কাজে আসতে দেরি করে মিনতি। সময়ে রান্নার লোক না এলে শুধু অফিসে দেরি হয়, তাই নয় –সারা দিনের রুটিনটাই জট পাকিয়ে যায়। আজও দেরি করায় মেজাজ হারিয়ে কড়া কথা বলে দিতি। তার কথার জবাব না দিয়ে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে যায় মিনতি। জবাব না পেয়ে […]
-
গাবগুবি তার একলা আছেঅরুণদার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৭৪-১৯৭৫ এ। তখন সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ঢুকেছি। অরুণদা তখন হিন্দমোটরে কাজ করে। ‘শ্রীরামপুর স্টেশনে মহুয়া গাছটিকে’ লেখা হয়ে গিয়েছে। আমার শহরের আর এক কবি সমর বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় নিয়ে গিয়েছিল চন্দননগরের শুকসনাতনতলায় অরুণদার বাড়িতে। লিটল্ কার্লমাক্সকে দেখে সেদিন সদ্য যুবক চমকে উঠেছিলাম। সেদিন কয়েকটা কবিতা শোনার পর স্বভাব বাউল […]
-
রূপাতীতবাতাসে শিউলিফুলের গন্ধ। নিশ্চয় চামেলিদের গাছে ফুল ধরেছে। আমাদের বাড়ির পেছন দিকে রান্নাঘরের পাশে একটা শিউলিগাছ ছিল। শোঁয়াপোকা হয় বলে বছর দুয়েক আগে কেটে ফেলা হয়। রান্নাকরা ডালে একটা শোঁয়াপোকা পড়ে-ছিল। সরলাপিসি আমাদের রান্না করে। সেই বলল গাছটা কাটিয়ে ফেলার কথা। বড় বাটি ভরতি পুরো ডালটা ফেলা গেল। দেখা গিয়েছিল তাই, নাহলে কারও পেটে চালান […]
-
এক চাঁদ চার তারাসেক্টর ফাইভ থেকে বাসে করে উল্টোডাঙা নামতেই খিদেটা চাগার দিল অনুষ্টুপের। শেষ খাবারটা খেয়েছে সেই দুপুরবেলা। বাড়ি থেকে দেওয়া টিফিনে আজ ছিল পরোটা, আলুর তরকারি আর মিষ্টি। আজ যেন একটু বেশিই খিদে পাচ্ছে। কী জানি কী হয়েছে।দুপুরের টিফিনটাও আজ টিফিন টাইম হতে না হতেই সাঁটিয়ে দিয়েছে। একটা বাজতে না বাজতেই অনুষ্টুপ টিফিন কৌটো খুলে বসায় […]
-
ভেজা খড়ের গন্ধচামড়ার ওপর এসে পড়ে এক ফোঁটা ঠাণ্ডা জল। কেমন যেন কুঁচকে যায়। ঠিক কুঁচকে যাওয়া নয়, নিজেকে কেমন যেন গুটিয়ে নেয়। শুকনো বালির মধ্যে এক ফোঁটা জল এসে পড়লে যেমন হয়, চারপাশের পাড়ায় কেমন যেন একটা ধ্বস নামে। পাড়ায় পাড়ায় চাউর হয়ে যায় জল পড়ার খবর। তারপর শক্তির দিকে আস্তে আস্তে ঘেঁষে যাওয়া। কিছুতেই মুখ সরিয়ে […]
-
উন্নয়নদুর্গাপুর থেকে বিষ্ণুপুর যাচ্ছিলাম সপরিবারে। সাত বছরের মেয়ের চোখে অপার বিস্ময়, অসীম আনন্দে চিকচিক করছে দুটো চোখ-মা দেখ কি সুন্দর গাছ, মা, কত সবুজ! মা কি পাখি ডাকল? প্রকৃতি প্রেমীর প্রশ্নবাণ থেকে বাঁচবার জন্য মেয়ের বাবা খবরের কাগজের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেছেন। আশা করছেন আড়াই ঘণ্টার পথ এই ভাবেই কাটবে। পুজোর আগমনী বার্তা জানিয়ে রাস্তার […]
-
প্রক্সিডোরবেল বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রক্সি প্রথমেই ছুটে মেইনডোরের সামনে গিয়ে কয়েকপাক ঘুরে নিয়েছে। তারপর বাথরুমের সামনে এসে দু-তিন বার ডাক দিয়েই আবার ছুটেছে মেইনডোরের কাছে। ইতিমধ্যে ডোরবেল আবার বেজেছে; ফলে প্রক্সির ছুটোছুটি আর হাঁকডাক আরও খানিকটা বেড়েছে; সুমি নির্ঘাৎ সুযোগ বুঝে বাইরে বেরিয়েছে! নিরালা স্নান অসম্পূর্ণ রেখেই কোনোরকমে হাউসকোর্টটা গায়ে চাপিয়ে বেরিয়ে এলো। প্রক্সি দ্বিগুণ […]
-
কচুরিপানাসাদা মার্বেল পাথরে মোড়া সিঁড়ি। নিশ্চয়ই সাদাও একটা রং — তবে তফাত এই যে, এই সাদা বকের পালকের মতো। তার উপর দিয়ে নরম কালো একটা রং এলোমেলোভাবে এঁকেবেঁকে নেমে এসেছে— যেন একচিলতে একটা নদীর স্রোত। ওঠার মুখেই সৌমিত্রর চোখে পড়ল বনেদি আমলের একটা শ্বেতপাথরের কানাউঁচু থালা। জলে ভরতি — জলের উপর ভাসছে কচুরিপানা। সৌমিত্রর ডান-চোখের […]
-
সাত্যকি আর ফিরে আসে নি(১) সেদিন বাজারে হঠাৎ পেছন থেকে কাঁধে হাত দিয়ে একজন বলল, আরে সিধু না ! কেমন আছিস । আমি ভাল করে দেখেও ঠিক চিনতে পারলাম না । আমার মতই দোহারা চেহারা । মুখে একটা ধুর্ত ধুর্ত ভাব । সে কিন্তু অতি পরিচিতের মত হাসতে লাগল । তুই-তোকারি করছে যখন – ছোট বেলার বন্ধু বা অতি […]
-
জামতাড়া গ্যাং(১) বেশিদিন নয়, এক বছর পুরতে আরও মাস চারেক বাকি ছিল। এই ক’মাসের খাপছাড়া সংসার। চুকিয়ে দিয়ে যখন বেরিয়ে আসে কেউ, টান পড়ে কি কোথাও। পড়লেও সে টান পোক্ত নয়। উপড়ে ফেলতে তেমন কষ্ট কিছু হবার কথা নয়। দুটো ট্রলি, বড় হাতব্যাগটা আর একটা ল্যাপটপ। বেরিয়ে এসে দরজাটা টেনে দিলেই খচ করে মসৃণ শব্দে একটা […]
-
অভিনেত্রীর খোঁজেউল্টোদিকের সোফায় বসে থাকা মেয়েটা এতক্ষণ মন দিয়ে একটা ম্যাগাজিন পড়ছিল। পত্রিকাটা মুখের ওপর থেকে সরিয়ে নিতে এবার ওর পুরো মুখটা দেখতে পেল রাজীব। হাতের ম্যাগাজিনটা বেশ খানিকটা জোরেই নিচু টেবিলটায় রাখল মেয়েটা। মুখে বেশ বিরক্তিচিহ্ন। বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেই বেলা এগারোটা থেকে অপেক্ষা করছে, আর এখন প্রায় চারটে বাজে। রাজীবেরও এবার বেশ অধৈর্য লাগছিল। […]
-
কামড়ুম জংশন*[একটি গল্প, বা যে কোনও লেখাই, একবার পঠিত হওয়ার পর পাঠককে পুনর্পাঠের অনুরোধ করা যায় না। সেটা অন্যায়। একই নামে, ‘কামড়ুম জংশন’ গল্পটি সদ্যই যা এবছরের শারদ ‘নতুন গল্পপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর আমি আরেকটি গল্প হিসেবে একই নামে এই গল্পটি লিখেছি। কবে ভিন্নতা বোঝাতে এই গল্পটির নামের পাশে একটি (*) তারকা চিহ্ন দিয়েছি। যাঁরা […]
-
ঘুরে দাঁড়ানোকাগজে খবরটি পড়েই অন্তরাত্মা হায় হায় করে উঠেছিল। পরক্ষণেই ক্রোধ। প্রচণ্ড ক্রোধ। ক্রোধ প্রশমিত হওয়ার পর দাদাসুলভ সহানুভূতি। ভুল করলি ভাইটি। বড় ভুল। খুব ভালো রেজাল্ট করে খানাকুল না চাঁপাডাঙার ওদিক থেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়তে এলি কলকাতায়। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্সে। জানি তো আমাদের ইংরিজিতে ভুল হয়। গ্রামারে নয়। প্রোনানসিয়েশনে। আমরা গার্ডিয়ানকে বলি গার্জেন, কোয়েশ্চেনকে […]
-
কালসর্পদিনগুলি বৃষ্টির মতই ফোঁটাফোঁটা গলেগলে পড়ে গেলো। বাদলের মেঘ- ঘন আকাশ। পিঁপড়েগুলো। সাদা ডানায় পরি হলো। মুঠো থেকে পড়ে গেলো পাতা ঝরার বয়স। আর্যর কতোক পাতা মিশে গেছে মাটির মধ্যে। কতোক পুড়ে গেছে। কতোক আদপোড়া হয়ে নিভে গেছে। তারপর? কলমি শাকের বিছানা। পটলের বালিশ। স্নানযাত্রা। অরোনা … ছুটির দিনে আর্য যখন ঘরের কৌটো-বাওটা ম্যাগাজিন পুরানো […]
-
একজন কুকুরের জবানবন্দিএভাবে যে ধীরে ধীরে আমি একটা হই হই কাণ্ডের মধ্যে ঢুকে পড়ব তা কোনওদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। কোনও একটা ঘটনা, তার প্রভাব, তার অভিঘাত যে এরকমভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে সে কথা ভাবতে আজ আমার কেমন যেন আশ্চর্য লাগে। কীভাবে যেন কী হয়ে গেল? আজ প্রতিটা মানুষ শিউরে উঠছে আমার বলা কথা শুনে। বলছে এও কী […]
-
বুমেরাং“মন্টু, শুনলাম নাকি ওই নীল দোতলা বাড়ির ছোট ছেলেটার করোনা হয়েছে?” “হ্যাঁ জেঠিমা আমিও তাই শুনলাম।” “হবে না ,চোপর দিন মোটরসাইকেলে কাঁধে সিলিন্ডার মিলিন্ডার নিয়ে ডাক্তার সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কি না কি সব গ্ৰুপ ট্রুপ খুলে মানুষের সেবা করছে।আরে বাবা তুই কি ডাক্তার ?বেশি পাকা !এই করে এ পাড়ায় তো ওই করোনা ঢোকালো!” মন্টু জলের […]
-
স্বেচ্ছা নির্বাসনফেসবুকের সার্চ লেখা জায়গাটায় গিয়ে দময়ন্তি টাইপ করে “অর্কপ্রভ ব্যানার্জি”। প্রায় ছয় বছর পর দময়ন্তির মনে পড়ে তারও একটা ফেসবুক আ্যকাউন্ট ছিল। অর্কই খুলে দিয়েছিল এই মুখপত্রিকা। এতগুলো বছরে সাইক্রিয়াটিস্ট দময়ন্তি বসুর একবারও মনে আসেনি ফেসবুকের কথা। সময়, ইচ্ছে কোনোটাই নেই তার। সারাদিন কেটে যায় কতরকম গল্প শুনতে। সকাল থেকে হরেকরকম চরিত্র।তাদের বিভিন্ন মানসিক স্টেটাস আপডেট করারএকমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান দময়ন্তির চেম্বার। তাই দময়ন্তির […]
