01 Oct

সাত্যকি আর ফিরে আসে নি

লিখেছেন:তপন মোদক


গল্পের সময় উৎসব সংখ্যা

(১)

সেদিন বাজারে হঠাৎ পেছন থেকে কাঁধে হাত দিয়ে একজন বলল, আরে সিধু না ! কেমন আছিস । আমি ভাল করে দেখেও ঠিক চিনতে পারলাম না । আমার মতই দোহারা চেহারা । মুখে একটা ধুর্ত ধুর্ত ভাব ।  সে কিন্তু অতি পরিচিতের মত হাসতে লাগল । তুই-তোকারি করছে যখন – ছোট বেলার বন্ধু বা অতি পরিচিত – হয়তো স্কুলে একসঙ্গে পড়েছিলাম । আরে হ্যাবলার মত তাকিয়ে আছিস কেন – চ – সামনের চায়ের দোকানটায় যাই , বলে সে আমার হাত ধরে প্রায় টেনেই দোকানের দিকে নিয়ে চলল । আমিও বাধা না দিয়ে ওর সঙ্গে চায়ের দোকানে চললাম ।

চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি প্রায় দুবছর হতে চলল। গত পরশুই তো আমার ছোটবেলার স্কুলের বন্ধু রতনের সঙ্গে এই বাজারেই দেখা এবং দেখা মাত্রই চিনতে পারলাম। রতনকে বেশ গর্ব করেই বললাম, পাঁচ বছর মানে ক্লাস  ওয়ান  থেকে যাদের সঙ্গে মিশেছি প্রত্যেককে আমার মনে আছে । ক্লাস সিক্স পর্যন্ত আমাদের স্কুলে পড়ে রজত ওর পরিবারের সঙ্গে দিল্লী চলে গেল – তারপর প্রায় দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর একটা বিয়ে বাড়িতে দেখা – তাও ঠিক চিনতে পেরেছি । সত্যি কথা বলতে কি, আমার মেমরি নিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন ইগো আছে । তার জন্য অফিসে প্রচুর সুনামও কুড়িয়েছি । আত্মীয়-স্বজনরাও জানে সিধুকে জিজ্ঞেস করলেই –  পুরোনো কথা সব জানা যাবে । কিন্তু এটা কি হল ! একে তো কিছুতেই মনে আনতে পারছি না । মনের ক্যামেরা দিয়ে আমার সমস্ত বিচরনের ক্ষেত্রগুলো থেকে ঘুরে এলাম – কিন্তু একে কোত্থাও খুঁজে পেলাম না । বহুদিনের প্রতিষ্ঠিত  অহং’এ একটু ধাক্কাও লাগল । তুই-তোকারি করব না তুমি বলব সেটাও বুঝতে পারছি না ।

আমতা আমতা করে বললাম, মানে তোকে মানে তোমাকে ঠিক চিনতে পারছি না তো । এ কিরে শালা – কাল পর্যন্ত তো তোর আমাকে ছাড়া চলত না – হঠাৎ কি হল – বোস বোস – কোথাও পড়ে-টরে যাস নি তো – ব্রেনে চোট পাস নি তো, বলে আমাকে চায়ের দোকানে প্রায় জোর করেই বসিয়ে দিল । আমিও কিরকম ভ্যাবাচাকা খেয়ে বসে পড়লাম । এই চায়ের দোকানে সব্বাই আমার পরিচিত । চায়ের দোকানদার জগুদা বলল, আরে সিধুবাবু একটু জিরিয়ে নিন – বয়সটা তো হয়েছে – তারপর  যা গরম পড়েছে – আপনার আর কি দোষ – আমি তো বাড়ি গিয়ে আমার বউকেই চিনতে পারি না, বলে খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসতে লাগল । বেশ বুঝতে পারছি -পুরো মুরগী বনে যাচ্ছি । অন্যান্য খরিদ্দাররাও আমার দিকে তাকিয়ে ফিক ফিক করে হাসছে – আর সব কিছুর জন্য এই চল্লিশ ডিগ্রি গরমই যে দায়ী – এই নিয়ে ফটাফট লাইকও পড়তে লাগল । আমি দেখলাম ব্যাপারটা পুরো আমার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে । আর দেরী না করে বললাম, কেমন দিলাম বল – ভড়কে গেছলি তো সাত্যকি ।

আমার অফিসের একটা অল্প বয়সী পিওনের নাম ছিল সাত্যকি । এ ছাড়া কোনো সাত্যকিকে আমি চিনি না । কেন যে ওই নামটাই মনে এল তাও জানিনা ।ওর সাত্যকি হবার চান্স খুবই কম ।  ও কিন্তু ব্যাপারটা দারুণ ভাবে নিয়ে নিল । তাই বলি – ছোটবেলার বন্ধুকে কি কেউ ভুলতে পারে – তাছাড়া তোর তো আবার মেমরি নিয়ে খুব গর্ব – পরশু রতনকে তো  সেটাই বললি, বলে আমার কাঁধটা চাপড়ে দিয়ে জগুদাকে বলল, দুটো চিনি ছাড়া । বোঝাই যাচ্ছে মালটা পুরোপুরি ভণ্ড – কোনও একটা ধান্দায় আছে । আমি যে চিনি ছাড়া চা খাই সে খবরটাও দেখছি ও  যোগাড় করে নিয়েছে। আমার কোথাও ভুল হচ্ছে না তো । শুনেছি ব্রেনের এক একটা কোষ এক এক বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট । যাকে আমি সাত্যকি বলছি – সে কি সত্যিই সাত্যকি ! আমার জীবনে সাত্যকি বলে কেউ কি কখনও ছিল ! ব্রেনের সাত্যকি চ্যাপ্টারটা কি কোনও কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ! পরশু রতনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল – সেটা পর্যন্ত ও জানে ! তখন কি  ও আমার সঙ্গে ছিল ! সব কেমন গুবলেট হয়ে যাচ্ছে । কত রকমই তো শোনা যায় – সমস্ত খোঁজখবর নিয়ে বন্ধু সেজে বা আত্মীয়ের মত মিশে – সব কিছু লোপাট করে দিল । একটু সতর্ক থাকতে হবে ।

https://khoshkhobor.blogspot.com/

কিরে কি এত ভাবছিস – আরে বাবা ধার চাইব না – একটু প্রাণ খুলে কথা বল, বলে ও একটা ঠেলা দিল । আমি চায়ের ভাঁড়টা ফেলে দিয়ে ভাবলাম দেখি ও কতটা বাড়তে পারে – বললাম, রিটায়ারমেন্টের পর কেমন কাটছে – সাত্যকি। ও আকাশ থেকে পড়ার ভান করে বলল, আমার আবার রিটায়ারমেন্ট কিরে – তোর মত হোয়াইট কলারের চাকরি নাকি আমার – যেদিন পোষাবে না – ছেলের হাতে সঁপে দিয়ে বলব, নে এবার সামলা – বলে হো হো করে হাসতে লাগল । তাহলে মালটা ব্যবসা করে । কিসের ব্যবসা হতে পারে ! আবার একটা আন্দাজে ঢিল ছুঁড়ে দেখি – যদি মেনে নেয় – তাহলে আর কোনও রকম সন্দেহ রাখার কথা নয় – স্রেফ কাটিয়ে দেব। আমার মামাতো ভাই’এর বরানগরে একটা শাড়ির দোকান আছে ।খুব চালু ।  চাকরীর শেষের দিকে ভেবে ছিলাম একটা ব্যবসা শুরু করলে কেমন হয় ! ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বাড়িতে বসে আছে – ওরও একটা হিল্লে হয় । আমার মামাতো ভাই’এর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাও চালিয়েছিলাম অনেকদিন – সোদপুরে একটা দোকানঘরও দেখা হয়েছিল ।  তারপর যা হয় –  জীবনের  আরও অনেক প্রোজেক্টের মত এটাও অধরা রয়ে গেল ।

আমি ওকে বাজাবার জন্য বললাম সেই শাড়ির ব্যবসাতেই আছিস তো – না আবার অন্য কিছুতে হাত দিয়েছিস । আবার অন্য কিছু করব কেন – শাড়িতে কত লাভ জানিস, চটজলদি ও উত্তর দিল – আরও যেটা বলল তাতে আমার এবার সত্যি সত্যি মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল। বলল, কালই তো দোকানে ছেলের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলাম – তুই প্রায় ঘন্টা খানেক বসলি – বরানগরের তোর মামাতো ভাই’এর দোকানের কথা বললি – কিরে তোর শরীর খারাপ করছে নাকি । সত্যিই চোখের সামনে মনে হচ্ছে যেন একটার পর একটা কালো পর্দা সরে সরে যাচ্ছে । কি যে হচ্ছে ঠিক বলতে পারবো না ।

তারপর কি ভাবে ওই ভণ্ড লোকটাকে এড়িয়ে বাড়ি ফিরলাম – সেটাও একটা রহস্য। মল্লিকা বলল, কি গো বাজার কোথায় – অত ঘামছো কেন – বেডরুমে চল এ সি চালিয়ে দিচ্ছি । আমাকে নিয়ে কেউ বিব্রত হোক এটা আমার খুবই অপছন্দের । কোনও রকমে বললাম, হ্যাঁ – শরীরটা একটু খারাপ লাগছে বটে – তবে অত ব্যস্ত হবার কিছু নেই । মল্লিকা এ সি অন করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে নিজের কাজে চলে গেল । কিন্তু ওই সাত্যকি মনের ওপর পাথরের মত চেপে বসে রইল । তখনো আমি কল্পনা করতে পারি নি এর শেষ কোথায় যেতে পারে ।

(২)

বিকেলে একটু হাঁটা  আমার অভ্যাস । দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমও এসেছিল । কি করে যে ঘুমোতে পারলাম বলা বেশ খুব মুশকিল । শরীরটাও বেশ ঝরঝরে লাগছে । সকালের ব্যাপারটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার মত হেঁটে ন্যাশানাল হাইওয়েতে একটা চায়ের দোকানে আড্ডার ঠেক । ওখানে হরি রোজ আসে । আমার একদম ছোট্ট বেলার বন্ধু । ছোটবেলার প্রায় সবাই বিভিন্ন কারণে ছিটকে গেলেও হরির সঙ্গে আমার কোনও দিন ছাড়াছাড়ি হয়নি। আমার চাকরিতে ট্রান্সফার ছিল না – হরিরও তাই। হরিকে কোনও রকম ভনিতা না করে সোজাসুজি বললাম, আচ্ছা হরি – সাত্যকি নামে আমাদের কোনও বন্ধু ছিল রে । হরি কোনও রকম চিন্তা না করে বেশ কনফিডেন্সের সঙ্গে বলল, কই নাতো । তারপর একটু ভেবে বলল, মুখার্জী পাড়ায় একজন সাত্যকি আছে – আমাদের চেয়ে দু এক বছরের জুনিয়ার – পিজি হসপিটালে চাকরি করত – আমার বাবার যখন স্ট্রোক হল – পিজিতে ভর্তি করার ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিলাম – এখন সম্ভবত চিনতে পারবে না – কেন বলতো – সাত্যকিকে দরকার কেন । আমি বললাম, না না ও সাত্যকি নয় – মানে আমার খুব ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল – তোর কি মনে পড়ছে – সাত্যকি নামে কাউকে । হরি একটু রেগে গিয়েই বলল, কি যা তা বলছিস – তোর ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল – আর আমি চিনবো না – তোর অফিসের সব বন্ধুকেও আমি চিনি ।

এটা একদম সত্যি কথা ।  বিভিন্ন কারণে হরি আমার অফিসে বহুবার গেছে –  আমিও গেছি  ওর অফিসে । এবার আমার আবার সেই ভাবনাটা ফিরে এল – সঙ্গে সেই মাথা ঝিমঝিম করাটাও । হরি বলল,  কি ব্যাপার বলত – কে এক সাত্যকিকে নিয়ে পড়েছিস কেন – ব্যাপারটা খুলে বলত । হরিকে কতদূর বলতে পারতাম জানিনা – তার আগেই দেখি, হাসতে হাসতে সাত্যকি নামের লোকটি দোকানের দিকে আসছে । এসেই বলল, কিরে সিধু –  চায়ের অর্ডার দিয়েছিস – এই দোকানটাতেই তো বিকালে আড্ডা মারিস রোজ । তারপর হরির দিকে তাকিয়ে বলল, আপনিই তো হরিবাবু – নমস্কার – সিধুর মুখে আপনার এত কথা শুনেছি  যে আপনাকে চিনিয়ে দিতে হবে না – আমি তো সিধুকে প্রায়ই  রাগাতাম – তোর হরিহর আত্মা কোথায় গেল, বলে বিশ্রী ভাবে হাসতে লাগল। কিচ্ছুক্ষণের মধ্যেই লোকটি চায়ের দোকানের দখল নিয়ে নিল । আমি কিরকম – কোন বিয়েবাড়িতে আমি খাবার মাঝেই ল্যাট্রিনে ছুটেছিলাম – কোন হোটেলে মদ খাবার মাত্রা বেশি হয়ে গেছিল এবং মাতাল অবস্থায় আমি কি কি করেছি বেশ রসিয়ে রসিয়ে বলতে লাগল – চায়ের দোকানের সবাই আমাকে অন্যরকম ভাবে চেনে । সবাই বেশ উপভোগ করতে লাগলো । সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল – ও একটা ঘটনাও মিথ্যে বলছে না । এইসব টুকরো টুকরো ঘটনা – শুধু খোঁজখবর নিয়ে হয় না – ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলে জানা সম্ভব নয় । তাহলে সাত্যকির অস্তিত্ব ছিল – শুধু আমার একদম মনে নেই । হরি বলল, আশ্চর্য ও যে তোর এতটা ঘনিষ্ট – জানাস নি তো – ঠিক আছে তোরা গল্প কর – আমার একটু তাড়া আছে । হরি একটু অসন্তুষ্ট হল মনে হয়। ও ভাবছে সাত্যকি চ্যাপ্টারটা ওর কাছে গোপন করেছি কেন । হরির সঙ্গে আমার যা সম্পর্ক তাতে এটা ভাবাটাই স্বাভাবিক । আমি হলে একই রকম ভাবতাম।

হরি চলে যাবার পর সাত্যকি বলল, চ বাড়ির দিকে হাঁটা দিই – যেতে যেতে কথা হবে । চায়ের দাম মিটিয়ে দুজনে হাঁটতে লাগলাম । ও আবার কিছু পুরোনো কথা বলল – বিশেষ করে আমার বিয়ের ঘটনা – যেগুলো সত্যিই ঘটেছিল । ও যত কথা বলছিল আমার অস্বস্তি তত বাড়ছিল । এই সাত্যকি নামের ব্যক্তিটির উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও রকম ধরতাই পাচ্ছিলাম না । নিজেকে অসুস্থ ভাবতে কারই বা ভাল লাগে । আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে লাগলাম – যাতে সাত্যকি নামে আমার জীবনে কেউ থাকে ।

বাড়ি আসতে আর সামান্য দেরী আছে । ও হঠাৎ যে প্রসঙ্গ উত্থাপন করল – সেটা আমার আশঙ্কার মধ্যেই ছিল এবং  ওর উদ্দেশ্যটাও আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল । বলল, মনিকার  সঙ্গে  কেমন  চালাচ্ছিস রে – কালকেই দেখলাম – এখনও দারুণ ফিগার । এটা আমার অত্যন্ত গোপন ও বিপজ্জনক জায়গা। মনিকা আমার এক জুনিয়ার কলিগের স্ত্রী । আমার চেয়ে প্রায় পনেরো বছরের ছোট । সম্পর্কটাও অনেক দিনের । অনেক যত্নে সম্পর্কটা গোপন রাখতে পেরেছি এতদিন । আমার স্ত্রী – ছেলে – মেয়ে বা বউমা জেনে গেলে আমি শেষ । তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং আমারও – সব এক লহমায় খতম হয়ে যাবে । এই সাত্যকি নামের ব্যক্তিটির ঝুলি থেকে আসল উদ্দেশ্যটা বেরিয়ে পড়ল এবার । এই বিষয়টা নিয়েই ও আমাকে ব্লাকমেল করবে ।

তবুও আমি মরিয়া হয়ে বাঁচার চেষ্টা করলাম। বললাম, কে মণিকা । বাব্বা ! আমাকেও ভড়কি দিচ্ছিস – মণিকা মুখার্জি নাম পালটে ফেলেছে নাকি, ও বেশ হাসতে হাসতে বলল । তারপর একজন পাকা ব্ল্যাকমেলারের মত বলল, বর্ধমানের হোটেল ড্রিমল্যাণ্ড’এর ঝামেলাটা ছাড়া আর তো কোনও বিপদে পড়িস নি – পাকা খেলোয়ারের মত মণিকার সঙ্গে কাটিয়ে দিলি সিধু – তবে মনিকার মত মেয়ে পেলে এটুকু রিস্ক নেওয়াই যায় – কি বল।

আমি আর ভাবতে পারছি না । আর চাপ নিতে পারছিলাম না । মুখ থেকে প্রায় বেরিয়ে পড়েছিল, কত টাকা । কিন্তু এখনও পর্যন্ত সামলে নিলাম । বাড়ির কাছাকাছি এসে পড়েছি – এবার থামাতে হবে ওকে । আমার সম্বন্ধে আর কি কি খবর ও যোগাড় করেছে বুঝতে পারছি না । মণিকার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর হোটেল ড্রিমল্যাণ্ডেই মাঝে মাঝে যেতাম । বছর তিনেক আগে – মানে শেষ যেবার গেছলাম – হোটেলটায় পুলিশ রেড হয় । পুলিশ আমাদের দুজনের ছবি তুলে নিয়ে পঁচিশ লক্ষ টাকা ক্লেম করে – না হলে বাড়িতে জানিয়ে দেবার হুমকি দেয় । তা ছাড়া কোর্ট কাছারি তো আছেই । মাস খানেকের মধ্যে টাকাটা দিয়ে দেবার কথা দিয়ে ছাড়ান পাই । টাকাটা দিন কুড়ি পরেই দিয়ে আসি। পুলিশও ছবি – কাগজপত্র আমাকে ফেরত দিয়ে দেয় । এখনও গোটা ঘটনাটা আমার কাছে বেশ চাপের । ভয়ে ভয়ে থাকি ।  পুলিশকে বিশ্বাস নেই ।  আর এখন আবার সাত্যকি ।

কিরে কি ভাবছিস – পঁচিশ লাখ টাকার ঘা’টা এখনও শুকোয় নি তো। আমি বললাম, ছাড় ও সব – তুই তো ওদিকে যাবি । সাত্যকি এই প্রথম কন্ট্রাডিক্ট করল না। যদিও আমি জানি না ওর বাড়ি কোথায়। বলল, ওকে – ওসব নিয়ে আলোচনা না করাই ভাল – ঠিক আছে আবার দেখা হবে । আমার বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে আমার বাড়ির উল্টো দিকের রাস্তা ধরে ও মিলিয়ে গেল ।

(৩)

রাতে খাওয়াদাওয়ার পর একটা পুরোনো আলমারি থেকে বিয়ের এলবামগুলো বার করলাম । সবাইকেই চিনতে পারছি – প্রায় তেত্রিশ বছর আগের সব মুখ । মল্লিকা বলল, কি ব্যাপার – হঠাৎ বিয়ের ছবি নিয়ে পড়লে। কিছু একটা বলতে হয় । বললাম, নিজেকে একটু ফিরে দেখছি – আর মেমরিটাকেও একটু  ঝালিয়ে নিচ্ছি – সবাইকে চিনতে পারি কিনা । আচ্ছা ওকে জিজ্ঞেস করলে কেমন হয় । খুব আলতো ভাবে বললাম, আচ্ছা তুমি সাত্যকি নামে কাউকে চেন – মানে – আমি কখনো সাত্যকির কথা বলেছি তোমাকে । মল্লিকাও হরির মত বলল, কই নাতো – কে সাত্যকি – তোমার অফিসের বন্ধু । আমি ব্যাপারটায় গুরুত্ব না দেবার ভান করে বললাম, না না ওই হরি বলছিল – ওর পরিচিত একজন বলেছে – আমাকে চেনে – আমি তো চিনতে পারলাম না । মল্লিকারও আমার মেমরি সম্পর্কে যথেষ্ট কনফিডেন্স আছে । ও বলল, তুমি যখন চিনতে পারনি – তাহলে ওই নামে কোনও বন্ধু তোমার ছিল না – নাও শুয়ে পড়ো – আর এলবামগুলো আলমারীতে তুলে রেখে দিও । ও পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল ।

এলবামে অচেনা কোনও মুখ খুঁজে পেলাম না । তাহলে ! সাত্যকি যেভাবে একটার পর একটা ঘটনার কথা আজ উল্লেখ করল – আমার একদম কাছের মানুষ ছাড়া জানা সম্ভব নয় । তাহলে কি সত্যিই আমার ব্রেনের কোনও গণ্ডগোল হয়ে গেল ! মোবাইলে গুগুল সার্চে ব্যাপারটা মারতেই এমনেশিয়া নামে একটা রোগের কথা দেখাচ্ছে । দেখাচ্ছে,  Amnesia refers to the loss of memories, including facts, information and experiences. Amnesia can be caused by damage to areas of the brain that are vital for memory processing । এখানে ব্রেনের কোনও বিশেষ জায়গা ড্যামেজ হলে – কোনও বিশেষ ঘটনা বা কোনও খবর ভুলে যাওয়ার কথা বললেও পরিচিত কোনও ব্যক্তি একদম ব্রেন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবার কথা কোত্থাও বলছে না ।

এমন একটা ব্যাপার আজ ঘটে গেল – কারোর সঙ্গে আলোচনা পর্যন্ত করতে পারবো না – এমন কি ডাক্তারের কাছেও যাওয়া যাবে না । আমার জীবনের সমস্ত গোপন ব্যাপারগুলো ফাঁস হয়ে গেলে – তিল তিল করে গড়ে তোলা আমার এই আজকের জীবনটা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে – এটা বেশ বুঝতে পারছি । আর যত বুঝতে পারছি ততই আমার মনের গভীরে একটা ভয়ের অদৃশ্য প্রেত যেন সব কিছু ঘেঁটে দিতে লাগল । ঘুম তো দূরের কথা – দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল । স্ট্রোকের পূর্বলক্ষ্মণ কিনা বুঝতে পারছি না ।

বউ ঘুমিয়ে পড়েছে । আমি কোনও রকমে বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে গিয়ে ঘাড়ে মুখে জল দিলাম । আমার জীবনে একটা ঝড় আসছে – উৎস মুখটাও জেনে গেছি । এখন গতিবেগটা  বোঝার চেষ্টা করছি – সামলাতে পারব কিনা । জীবনে অনেক বড় বড় ঝড় সামলেছি । বউ ছাড়া মনিকাই আমার জীবনে একমাত্র নারী নয় – একাধিক নারী  আমার জীবনে এসেছে আবার চলে গেছে । খুব দক্ষতার সঙ্গে সে সব সামলেছি – বিন্দুমাত্র কেউ সন্দেহ করতে পারবে না । সাত্যকির কাছে এ সব খবর আছে কিনা কে জানে ।

মল্লিকার যাতে ঘুম না ভাঙে তাই খুব আস্তে আস্তে ছাদে চলে গেলাম । রাত একটা বেজে গেছে । চারিদিকে নৈশব্দের একটা উৎসব চলছে মনে হচ্ছে। দু’এক দিন আগে পূর্ণিমা গেছে । চাঁদটা একদম মাথার ওপরে । আমার বাড়ির পিছন দিকে একটা বাগান মত আছে  – চাঁদের আলোতে সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে । যে ঘটনাগুলো আমি ভুলে যেতে চাই – আমার আজকের জীবন থেকে যে কৃতকর্মগুলো মুছে ফেলতে চাই – সাত্যকি নামের লোকটি আবার সেগুলো এক এক করে চোখের সামনে মেলে ধরছে যেন ।

আমার চোখের সামনে এক  এক করে সব হাজির হতে লাগল । এদের এতদিন ঘুম পাড়িয়ে  রেখেছিলাম । ভেবেছিলাম ঘুম আর ভাঙ্গবে না । ভুল ভেবেছিলাম । সবাই প্রস্তুত ছিল । সাত্যকি ম্যাজিকের যাদুদণ্ড ঘুরিয়ে সবাইকে একে একে হাজির করতে লাগল। মনিকা তো বটেই – রেবা – শ্রীমতী – সাহানা সবাই ছাদের পশ্চিম দিকের কার্ণিসে বসে আমার দিকে তাকিয়ে বিশ্রী শব্দে হাসতে লাগল । ছাদের অন্যপ্রান্ত থেকে রামশরণের বউ সত্যভামা আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল – তার চোখে আগুন ঠিকরে বেরুচ্ছে ।

রামশরণের চ্যাপ্টারও কি সাত্যকি যোগাড় করেছে ! রামশরণ আমার অফিস কলিগ ছিল । বিহারের চম্পারন জেলার সূরজগাঁও গ্রামে ওর বাড়ি।    অফিস চলাকালীন একটা সিলিং ফ্যান ওর মাথার ওপর ভেঙ্গে পড়ে – সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় । যেহেতু আমি কর্মচারী ইউনিয়নের একজন হর্তাকর্তা ছিলাম – ম্যানেজমেন্ট টোটাল ব্যাপারটা সেটেল করার জন্য আমার ওপর দায়িত্ব দেয় । রামশরণের নিজের প্রচুর সেভিংস ছিল – তারপর অফিসেই অফিস চলাকালীন মারা যায় – ম্যানেজমেন্ট ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রচুর টাকা দেয় । ওর স্ত্রী চম্পারনেই থাকত – লেখাপড়া জানতো না – ছেলেপুলেও ছিল না । চাকরি দিতে হবে না বলে – ক্ষতিপূরনের পরিমানটা অনেকটাই বেড়ে যায় ।

আমি চম্পারনে রামশরণের বাড়ি যাই – ওর বউ  সত্যভামার সঙ্গে দেখা করি। তারপর আরও অনেকবারই আমি চম্পারনে যাই। কি প্রক্রিয়ায় সত্যভামার কাছ থেকে মৃত রামশরণের প্রায় পুরো টাকাটাই হাতিয়ে নিই – সে গল্প সাত্যকি জানলে আমার আর কিছুই করার থাকবে না । ও আমার ঘাড়ের ওপর চেপে বসে আমাকে শেষ করে দেবে । এই মাঝরাতে আমার আর কোনও লজিক কাজ করছে না । যে ঘটনা কারো পক্ষে জানা অসম্ভব – তা সাত্যকি জানবে কি করে ! বর্ধমানের ড্রিমল্যাণ্ড হোটেলের কেলেংকারীতে যে পঁচিশ লক্ষ টাকা গচ্চা গিয়েছিল – তা ওই রামশরণেরই টাকা । আজ বিকেলে পঁচিশ লাখ টাকাটার কথা সাত্যকি উল্লেখ করেছে – কিন্তু উৎসটা ও কতটুকু জানে !

(৪)

পরদিন সকালে বাজারের দিকে আর গেলাম না । যদিও জানি সাত্যকি আমার পিছু ছাড়বে না । দেখা হবেই । আমার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আমি একটা ফ্ল্যাট নিচ্ছি । আমার ছেলের নামে । বাড়িতে কোনও অসুবিধা নেই – তবুও ছেলে আলাদা থাকতে চাইছে । আমার আর মল্লিকারও কোনও আপত্তি নেই । ফ্ল্যাটটা শহরের শেষ প্রান্তে  একটা কমপ্লেক্সের মধ্যে । অনেকগুলো বিল্ডিং – সব আঠারো তলার । আমি যেটা বুক করেছি – সেটা পনেরো তলায় । খেলার মাঠ – সুইমিং পুল – জিম সবই থাকবে।  মাঝে মাঝে দেখতে যাই । সেদিন এদিক ওদিক তাকিয়ে ফ্ল্যাটের দিকে রওয়ানা দিলাম ।

রাস্তা ফাঁকা । একটা মোড় ঘুরতেই দেখি সাত্যকি হাসতে হাসতে এগিয়ে এল, কিরে সিধু – ফ্ল্যাট দেখতে যাচ্ছিস – আমারও  ঝিলের দিকে পনেরো তলায় একটা ফ্ল্যাট নেবার কথা ছিল – তো ছেলে রাজী হল না – কি আর করা যাবে – তোরটা দেখে আশ মেটাই – চ। সাত্যকি আমার সঙ্গে হাঁটতে লাগল । বলা বাহুল্য  আমার ফ্ল্যাটটা একদম ঝিলের পাশেই । আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম – সাত্যকি কখন রামশরণের কথাটা তোলে। এ কথা সে কথার পর – যা ভেবেছিলাম – সেই জায়গাটাতেই ঢুকে পড়ল, কিরে রামশরণের কথা ভাবছিস – তবে ও ব্যাটা মরে তোকে বড়লোক করে দিয়ে গেল । আমার মনের মধ্যে সেই পুরোনো মানুষটা ঢুকে পড়েছে । সাত্যকিকে যে করেই হোক থামাতে হবে। জীবনে অনেকগুলো পাপ করেছি । আর একবার – হয়তো শেষ বারের মত – একটা মরিয়া প্রচেষ্টা । আমাকে বাঁচতে হবে ।

নিজের কাছে নিজের কৃতকর্মের যুক্তিগুলোকে একটা একটা করে নিজের পক্ষে সাজানোর চেষ্টা করতে লাগলাম । যে অবৈধ সম্পর্কগুলো এখন নেই – কিন্তু একসময় ভয়ঙ্কর ভাবে সত্য ছিল – তাদের প্রতি আমার কোনও দায় বা অপরাধবোধ থাকতে পারে কি ! সেগুলো তো কবেই চুকেবুকে গেছে । আমি যেমন এনজয় করেছি – তারাও করেছে । আমি তো কাউকে ঘর থেকে টেনে বার করে আনেনি । তারা এসেছে আমার কাছে – আমি আপত্তি করিনি । কেবল মনিকা ! প্রথম দিকের উদ্দাম জীবন কাটিয়ে এখন অনেক শান্ত আর মধুর দিন আমরা দুজনেই কাটিয়ে চলেছি । সত্যি বলতে কি এই সম্পর্কটা টিঁকে আছে বলেই দুজনেই অনেক সুস্থ ভাবে নিজ নিজ পরিবারের দায় দায়িত্ব হাসিমুখে সামাল দিচ্ছি। কেবল সত্যভামা ! এই ব্যাপারটাতে কোনও ভাবেই নিজেকে ক্ষমা করা যায় না। একজন গ্রাম্য সরল নিরক্ষর মহিলার প্রতি যে অন্যায় আমি করেছি – তার সারল্যকে যে ভাবে  দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছি । তার জন্য হাজারবার আমার ফাঁসি হওয়া উচিৎ ।

সাত্যকি বলল, কিরে কথা বলছিস না তো – আগে তো তুই বলতিস আর আমি শুনতাম – তোর মনে আছে – পূর্ণিমা রেস্তোরায় আমার সঙ্গে ঝামেলা হল – তুই তো সামলালি । ঘটানাটা আমার পরিষ্কার মনে আছে । যা ঝামেলা হবার আমার সঙ্গেই হয়েছিল – আমাকেই মেটাতে হয়েছিল । মেটানো মানে – আমাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল – যেটা আমার স্বভাববিরুদ্ধ । সেই জন্য আরও মনে আছে । এখনও ওই রেস্তোরার সামনে দিয়ে গেলে – অপমানের জ্বালাটা নতুন করে চাগান দেয় । আর এটাও পরিষ্কার মনে আছে যে – ওই রেস্তোরায় আমি একাই গিয়েছিলাম । সঙ্গে কেউ থাকলে আমি নিজেকে এতটা নিচে নামাতে পারতাম না । এই সাত্যকি সেই ঘটনাটাও জানে – এবং আমিও কোনও প্রতিবাদ করলাম না – কারণ, আমার মাথায় তখন অন্য ভাবনা পাক খাচ্ছে – যদিও  খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না ভাবনাটাকে – মনের কথা যদি সাত্যকি পড়ে ফেলে !

সাত্যকিই বলল, এই তো এসে গেছি – বলা আছে কাউকে । আমি বললাম, কাকে আর বলব – প্রোজেক্টের কাজ চলছে – প্রচুর লোক থাকে- কোনও অসুবিধা হবে না । কি জানি কেন আজ ঝিলের দিকে কোনও কাজ হচ্ছে না । লোকজন সব পাঁচ-ছটা বিল্ডিং পরে অন্য বিল্ডিং’এ কাজে ব্যস্ত। বালি-পাথর-রডের স্তুপ মাড়িয়ে নির্দিষ্ট বিল্ডিং’এর সামনে এলাম । একটা ওয়ার্কিং লিফট আছে – কিন্তু আজ সেটা বন্ধ । অগত্যা সিঁড়ি ভাঙ্গতে লাগলাম।  জানলা দরজা বা বারান্দায় এখনও গ্রীল বসানো হয়নি । বারান্দা থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায় । ওপর থেকে নীচে তাকালে আমার গা শিরশির করে । সম্ভবত আমার এক্রোফোবিয়া আছে । মাথা ঘুরে যাবার ভয়ে বারান্দার ধারে যাই না। আমি সাত্যকিকে – না সাত্যকি আমাকে সব ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছে বলা মুস্কিল । আমি বললাম, চ বারান্দাটা দেখি । সাত্যকি বলল, ওরে বাবারে – আমার এক্রোফোবিয়া আছে – তুই যা । আমি বললাম, ওপর থেকে ঝিলটা যা লাগে – না দেখলে ঠিক বুঝতে পারবি না । আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে সাত্যকি অতি সাবধানে বারান্দার দিকে এগুলো । আমি এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলাম । এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সর্বশক্তি দিয়ে সাত্যকিকে ধাক্কা দিলাম । তারপর কি হল আর মনে নেই ।

(৫)

প্রায় একমাস পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলাম । আমি চোদ্দতলা থেকে নীচে পড়ে গেছলাম । বালির স্তুপের ওপর পড়েছিলাম বলে আঘাতটা মারাত্মক হয়নি । চিৎকার শুনে প্রজেক্টের লোকজনই আমাকে অতি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে । এই কদিন বউ, ছেলে, মেয়ে, বউমা পালা করে করে আমাকে সঙ্গ দিয়েছে  । সময় পেলেই আমি ফ্ল্যাটের কাজ দেখতে যেতাম । তাই সেদিনের যাওয়া নিয়ে কেউ কোনও রকম সন্দেহ করেনি । এতবড় এক্সিডেন্টের পর আমি বেঁচে আছি – এই ঢের ।  সংসারের সবাই যে আমাকে কতটা ভালবাসে – আমার জন্য কতটা উদ্বিগ্ন – তা আগে এমন করে বুঝিনি । ছেলে আর জামাই তো এই একমাস অফিস কামাই করে বসে আছে। সব ঘটনারই ভাল খারাপ দুটো দিক থাকে । ভাল যে ব্যাপারটা – তা হল  – ছেলে  ফ্ল্যাট না নেবার  সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে – বাড়িতেই থাকবে । প্রোমোটারকে যে এডভান্স দেওয়া আছে – তা ফেরত পাওয়া কোনও ব্যাপার নয় । কারন, ওই প্রোজেক্টের বাজারদর ইতিমধ্যে অনেক বেড়ে গেছে । এখনও কয়েক জায়গায় ব্যাণ্ডেজ আছে । সেগুলোও পনেরো দিন পর খোলা হবে । একটু দাঁড়াতে পারলেই আমাকে আর একবার চম্পারন যেতে হবে। ফ্লাটের এডভান্সের টাকা আর কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙ্গে পঞ্চাশ লাখ টাকার একটা চেক সত্যভামাকে দিয়ে আসব।

না, সাত্যকি  ফিরে আসেনি । আর আসবেও না । কারণ, আমি  নিজে হাতে তাকে হত্যা করেছি।

[ বানানবিধি ও মতামত লেখকের নিজস্ব] 

Tags: , , , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • Sreya Ghose on October 7, 2023

    খানিকটা predictable , তথাপি সুখপাঠ্য।
    নিজের অন্যায় শুধরে নেওয়ার উদ্যোগ সর্বদাই কআম্য।

    মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2024 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ