Tag Archives: গল্পের সময়
-
আধ বোতল কেরোসিনকুপির সলতে দপ করে জ্বলে ওঠার পর লাল আভা ছড়িয়ে প্রথম আলো তার নাকের উপর পড়ে। সলতে জ্বলে ওঠার পর সেই লালিমা নাক থেকে নেমে ধীরে ধীরে তার মুখ আলোকিত হয়।নির্মলা কোনোদিন টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখেনি। ভোরবেলায় কুপির সলতে জ্বালানোর সময় তার মুখ যে কাঞ্চনজঙ্ঘার মত দেখায় সে কথা আজ পর্যন্ত তাকে কেউ বলেনি। […]
-
ছুটিবেশ ছিল তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হল…, নাহ্ শঙ্খ এঁড়ে বাছুর কেনেনি, তবু তাকে তাঁত বোনা ছাড়তে হয়েছিল। ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। শঙ্খের পেশা তাঁত বোনা ছিল না। বাবা সেরিব্রাল অ্যাটাকে অকেজো হয়ে যাওয়ার পর, সংসারের সচল চাকা গতি হারাতে থাকে। সংসার যাপন অচল হতে শুরু করে। চাকরি না পেয়ে, বেছে নিয়েছিল সাইন বোর্ড আঁকা। ভাগ্যিস […]
-
সেনাপতিকথাটা শুনেই, ভেতরে ভেতরে যেন শুকিয়ে গেল প্রার্থিতা। কাত্তিকের সিনসিনে হাওয়া বইতে শুরু করলে যেমন বাথরুমের মেঝে শুকিয়ে যায় ঠিক তেমন। মা বলতেন, টানের দিন। লেপ-কম্বলের দিন শুরু হল এবার। বসন্তের মাকে বলে ছাদটা ঝাড় দেওয়াতে হবে। শুধু আচার শুকোতে দেবার জায়গা ঝাড় দেয় রোজ। গোটা ছাদটা ঝাড় দেয় না কখনও। দু কাঠা জমির ওপর […]
-
সাদা-কালো চেক– আমি তো রায়গঞ্জ যাচ্ছি, তুমি কোথায় দীপঙ্করদা? – আমি তো গতপরশু থেকেই শিলিগুড়ি। তোর কাজ মিটলে চলে আসিস। – হ্যাঁ, খেয়েদেয়ে আর কাজ নেই তো? আবার পৌনে দুশো কিলোমিটার উজিয়ে যাব আড্ডা দিতে। – তাহলে আসিস না। কী একটা বিশেষ কাজে নাকি নিউজ এডিটর দেবব্রত বসু তোকে পাঠিয়েছেন – শুনছিলাম। – সেটা তো বলতেই […]
-
ববিযানরমেশের চায়ের দোকানের তিনটে দেওয়ালের একটা ফার্ম হাউসের সীমানা পাঁচিল। বাকি দুটো রমেশের পয়সায়। খুব একটা শক্তপোক্ত নয়। বাড়ি ভাঙা পুরোনো ইঁট কম পয়সায় জোগাড় করেছিল বটে তবে সেগুলো সব কাদা দিয়ে গাঁথা। যদিও ওপর থেকে সেটা বোঝা যায় না। অনেক কষ্টে দুবস্তা সিমেন্টের পয়সাও জোগাড় করেছিল রমেশ। বালি নিয়েছিল রাস্তার ধারের তিনটে ডাঁই থেকে। […]
-
প্রতিদ্বন্দ্বীআমার উল্টোদিকে বসে ছেলেটা নিজের আলট্রা মড ট্যাবটায় স্লাইড করে মন দিয়ে কিছু পড়ে যাচ্ছিল। এসব দৃশ্যে এখন আমার ভয় ধরে। এসি মেট্রো ট্রেনের গোটা কামরাটায় যেখানে দেখতে পাচ্ছি, বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকটি মানুষ মনপ্রাণ ঢেলে নিজের মোবাইলে অনলাইন গেম, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিও, সিনেমা বা অনলাইন চ্যাটে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে সফরের এটুকু […]
-
জাগো।। ১।। আইসে ক্যাইসে চলেগা বিমলবাবু? ব্যাংক মে ইতনা সারা কাম পারা হুয়া হ্যায়। উপর সে আপকা ইয়ে ঝিকঝিক! স্যার হাফ ডে দে দো। স্যার হাফ ডে দে দো। হাফ ডে লেনেকা প্যাগার মিলতা হ্যায় ক্যয়া? কুছ হি দিনো মে নভরাত্রি কা ছুট্টি মিলেগা। ফির ভি? আইসে তো আপকা টার্গেট হোনে সে রাহা! ইয়ে ওয়ালা […]
-
জ্ঞান নিয়ে জ্ঞানজানার শেষ নাই, জেনে তাই কাজ নাই। হীরক রাজার সভাকবির রচিত এই নীতিবাক্য চমকে দিয়েছিল সেইসময়। মনে মনে শিউরে উঠেছি অনেকেই, কি ভয়ঙ্কর সেই দেশ, কি ভয়ঙ্কর সেই সময়। হীরক রাজার দেশে সিনেমা মুক্তি পাওয়ার ৪০ বছর পর, আমার বয়স আরও ৪০ বছর এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে , সেটাই বোধহয় সত্যি হতে চলেছে। কতটুকু […]
-
পাঠক সব দর্শকে পরিণত হয়ে যাচ্ছেঃ অনিন্দ্য সৌরভ[ অনিন্দ্য সৌরভ। প্রায় চার দশক ধরে বাংলা অনুবাদ কর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। করেছেন একশোটির বেশি গল্পের বাংলা অনুবাদ। উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাঁর অনুদিত গল্প – ‘অলৌকিক’। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা ছাড়া সাহিত্য চর্চাই তাঁর একমাত্র নেশা। ‘শিল্পসাহিত্য’ নামে একটি মননশীল সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্য কর্মের ওপর নানা মননশীল প্রবন্ধ রচনা […]
-
পৌষের অপেক্ষায়এক ধুলোভরা গ্রামের রাস্তায় চারজনের ছোট দলটা হনহন করে চলছে । সকলের হাতে একটা করে থলে, তাতে প্লাস্টিকের দু-একটা জলের বোতল। রাস্তার তেষ্টা মেটাতে তো বটেই, ওদের কাজেও জলের প্রয়োজনটা বেশি, গলা ভেজাবার জন্য। ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে তাদের পৌছতে হবে তাদের গ্রাম আজারি থেকে চার মাইল দূরের কোজরা গ্রামে। কোজরার পুরনো জমিদার ঠাকুরসাহেবের হাভেলির বায়না। […]
-
পয়লা বৈশাখে লে খ্যাপাপয়লা বৈশাখের রাত, সময় নটা। দীপ্তেশ আর সুতপা ফিরছে, দুজনের চার হাতে চারটে শপার্স ব্যাগ ঝুলিয়ে। ব্যাগের পেট ফুলে আছে ভেতরের সুইটসের প্যাকেটে। ব্যাগ উঁচিয়ে উঁকি দিচ্ছে পাকানো বাংলা ক্যালেন্ডারের সাদা পিঠ। দম্পতির মাথায় উঁকি দিচ্ছে প্রশ্ন, পয়সা খরচ করে ক্যালেন্ডার আবার কেন? সুইটসের বহর একটু বাড়ালেই তো হয়! ক্যালেন্ডারের এখন কী গতি হবে? হাল […]
-
হৃদস্পন্দনবিকেল ঢেকে সন্ধে আসছে, আনন্দময়ী সেবা সদনের ভেতর এখন রোগির পরিজনের ভীড় কমতে শুরু করেছে। ভিজিটিং আওয়ার শেষ, পরিস্কারের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা লম্বা ঝাড়ু নিয়ে বসার জায়গা, রিসেপশান, ফার্মেসি, আউটডোরের কেবিন ধোয়ামোছা করছে। শুধু এমারজেন্সিতেই এখন কয়েকজন ডিউটিতে আছে। কার্ডিয়াক সার্জেন ঝিলম ধীরে সুস্থে এমারজেন্সিতে এসে বসে। বিকেলের দিকে চাপ কম, এখানেই একটু আড্ডা দেয়, […]
-
ব্যালকনিদোতলার বারান্দার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এক তরুণী। ব্যালকনির টবেতে রাখা সুদৃশ্য গাছগুলির তদারকিতে ব্যস্ত। রাস্তার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক সুদর্শণ যুবক চা হাতে অপলক নয়নে দেখছে তরুণীটিকে। রোজকার ঘটনা। গাছের চর্চা করতে করতে তরুণীটি ঘেমে নেয়ে একশা। কয়েকটা চুল এসে মুখের সামনে এসে পড়াতে ব্যস্ত হয়ে সরিয়ে দিতে দিতে চকিতে নজর যায় রাস্তার ধারে দাঁড়ানো চা […]
-
পোকারোববারের সকাল। বাজার বসেছে। ভিড়টা অন্যদিনের তুলনায় তাই সিকি ভাগ বেশি। লোকেদের হাতে রঙবেরঙের নানান সাইজের থলে -কারোরটা পেটরোগা, কারোর নেয়াপাতি, তো কারোরটা আবার আটমাসের পোয়াতি। কেউ ব্যস্তবাগীশ, কেউ দরদামে ব্যস্ত, কেউ বা ছুটির আলস্য গায়ে মেখে সংসার ভুলে খানিক আড্ডায় মজে.. কারোর গায়ে হাল্কা র্যাপার জড়ানো, তো কারোর সাবধানি ধুতি হাঁটুর কাছে.. কারোর আটপৌরে […]
-
দশ বছরে পা দিল ‘গল্পের সময়’দশ বছরে পা দিল অনলাইন সাহিত্যভিত্তিক পত্রিকা ‘গল্পের সময়’। সময়ের হিসেবে এক দশক হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সাহিত্যচর্চার পথে এই দশ বছর মানে অসংখ্য শব্দের জন্ম, অজস্র ভাবনার উন্মেষ, আর পাঠক–লেখকের ভালবাসায় গড়ে ওঠা এক আত্মিক বন্ধন। ‘গল্পের সময়’ শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে—অন্যরকম গল্প বলার স্বপ্ন। যে গল্প দৈনন্দিনতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যে […]
-
মাসি ও আশপাশের গল্পআমার মা বাবার থেকে আমার মাসিদের দরদ কিছু কম ছিল না। মায়ের নিজের যে বোন নেই ছোটবেলায় বুঝিনি তা, দেখতাম আমার মেজ, সেজ, নমাসি, ফুল, কনে, রাঙা, নতুন, ছোট হয়ে যখন আর আঙুলে ধরত না, তখন নাম ধরে ধরে মাসি হত। যেমন পেরু, রীনা, বুড়াই, পুতুল, গীতু, মেমু, বুটা, ঢেঁপি। তারপরে তো মাসিরাই আমার সমবয়সী […]
-
উই ওয়ান্ট জাস্টিস(বর্বর লালসায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের স্মৃতিতে) এক কোনো কোনো রাতে সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে জেগে থাকে আকাশ৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে নক্ষত্র আর মানুষের চোখ লক্ষ কোটি জাগরণ ঘটিয়ে তোলে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ কোনো কোনো রাতে মানুষের স্পর্ধা শাসকের সব উচ্চারণ উচ্ছিষ্ট করে দিতে পারে৷ সেই রাত তেমনই ছিল৷ অনেক উঁচু […]
-
মহানগর ও আরও দুটি গল্প।। উত্তরণ ।। ওয়েটিংরুমের বড়ো ঘড়িটায় রোমান দুটো বেজে গেছে ! নিশিকান্ত ত্রিবেদী হাতের চা তাড়াতাড়ি শেষ করার দিকে মন দিলেন। পাটনা জংশন স্টেশনের আপার ক্লাস ওয়েটিংরুমের যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বেশ ভালো। প্রশস্ত হল, বসবার চেয়ারের ডিজাইন আধুনিক । গোটাচারেক স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার লাগানো আছে বটে কিন্তু এই নভেম্বর মাসে পাখাগুলোই চলছে। আর তারা অভাবিতভাবে শব্দহীন […]
-
কালো ময়ূরী ও কারনেশনদিগন্তে কালো রেখা মাঝে মাঝে দপ দপ করছে, যেভাবে অনেকক্ষণ পড়ে থাকা নিভন্ত মশাল ধিক ধিক করে ওঠে। ঘৃণার মধ্যে মনে কেমন কাম জেগে ওঠে তার অন্ধ তমোময় দীপ্তি একটা তো আছে। এতো যে দ্বেষ কালিমায় পুঞ্জীভূত রাগ তা তো তুষের আগুন। শত্রু নারীদের ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের পরিণতিতে মৃত্যু আবহমান বিজয়ের সেতু চিহ্ণ। সেহেতু […]
-
রক্তএতক্ষনে আসার সময় হল?তোমার জন্য অফিস-কাছারি বন্ধ করে দিতে হবে দেখছি।প্রায়ই কাজে আসতে দেরি করে মিনতি। সময়ে রান্নার লোক না এলে শুধু অফিসে দেরি হয়, তাই নয় –সারা দিনের রুটিনটাই জট পাকিয়ে যায়। আজও দেরি করায় মেজাজ হারিয়ে কড়া কথা বলে দিতি। তার কথার জবাব না দিয়ে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে যায় মিনতি। জবাব না পেয়ে […]
-
গাবগুবি তার একলা আছেঅরুণদার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৭৪-১৯৭৫ এ। তখন সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ঢুকেছি। অরুণদা তখন হিন্দমোটরে কাজ করে। ‘শ্রীরামপুর স্টেশনে মহুয়া গাছটিকে’ লেখা হয়ে গিয়েছে। আমার শহরের আর এক কবি সমর বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় নিয়ে গিয়েছিল চন্দননগরের শুকসনাতনতলায় অরুণদার বাড়িতে। লিটল্ কার্লমাক্সকে দেখে সেদিন সদ্য যুবক চমকে উঠেছিলাম। সেদিন কয়েকটা কবিতা শোনার পর স্বভাব বাউল […]
-
শারদ অধ্যায় ২০২৪[ চারিদিকেই যেন আজ অসুখ।একজন মানুষকে ভরসা,বিশ্বাস করতে পারছেন না আর একজন মানুষ। একজন মানুষের ধর্ম,ভাষা,আর্থিক পরিস্থিতি থেকে গায়ের রঙ, লিঙ্গ তাকে আলাদা করে রাখছে অন্যদের থেকে। সভ্য বলে বড়াই করলেও আজও নিরাপত্তা নেই নারীর, শিশুর বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি এই সমাজ।কুকথা, কুযুক্তিতে ভরে যাচ্ছে তার দেওয়ালগুলো। গভীর সব অ-সুখ ঘিরে ধরছে আমাদের।করোনাকালে ‘উৎসব’ কথাটা সচেতনভাবে বর্জন […]
-
‘গল্পের সময়’ যা বলতে চায়এই দুহাজার তেইশে ‘গল্পের সময়’ এসে দাড়িয়েছে ঠিক সেই বিন্দুতে যা অতীত লগ্ন থেকে ভবিষ্যৎ অগ্রগমনের প্রাগ্রসর মুহূর্ত। কিছুটা পথ পেরিয়ে এসে এই একক কম্প্রমান দ্বীপের মতো মুহূর্তটিতে দাঁড়িয়ে প্রবহমান কালের অবিচ্ছিন্ন স্রোতকে যেন একবার বুঝে নেওয়া যায় হয়তবা।‘গল্পের সময়’-এর দীর্ঘপথ অতিক্রমেরর কোনো মহিমান্বিত অভিজ্ঞতা নেই। সে পেরিয়ে এসেছে মাত্র ছয়টি বছর। আর এই ছয় […]
-
‘গল্পের সময়’ উৎসব সংখ্যা ২০২৩[প্রকাশিত হল ‘গল্পের সময়’ উৎসব সংখ্যা ২০২৩। এই আয়োজনে সামিল হয়েছেন নবীন ও প্রবীণ গল্পকারেরা।]
-
সাত্যকি আর ফিরে আসে নি(১) সেদিন বাজারে হঠাৎ পেছন থেকে কাঁধে হাত দিয়ে একজন বলল, আরে সিধু না ! কেমন আছিস । আমি ভাল করে দেখেও ঠিক চিনতে পারলাম না । আমার মতই দোহারা চেহারা । মুখে একটা ধুর্ত ধুর্ত ভাব । সে কিন্তু অতি পরিচিতের মত হাসতে লাগল । তুই-তোকারি করছে যখন – ছোট বেলার বন্ধু বা অতি […]
-
সরলাবালা হোম ডেলিভারিনবাবহাট বাসস্ট্যান্ড বোধহয় এসে গেছে । লোক্যাল বাসের কন্ডাক্টর আর ক্লিনারদের শোরগোল আর চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে প্যাসেঞ্জার জোগাড় করার আওয়াজ হিরণ্ময় গাড়ির ভেতর থেকেই শুনতে পেলেন । এখানে ভলভো বাসের স্ট্যান্ডটা চালু লোকাল বাসের লেনগুলো ছাড়িয়ে সামান্য দূরে, বড়ো শেডটার শেষ প্রান্তে । যেন নীচুজাতের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে আলগা, দূরে দূরে থাকা ! ইউনিভারসিটির ড্রাইভার ছেলেটা লোকজন […]
-
জামতাড়া গ্যাং(১) বেশিদিন নয়, এক বছর পুরতে আরও মাস চারেক বাকি ছিল। এই ক’মাসের খাপছাড়া সংসার। চুকিয়ে দিয়ে যখন বেরিয়ে আসে কেউ, টান পড়ে কি কোথাও। পড়লেও সে টান পোক্ত নয়। উপড়ে ফেলতে তেমন কষ্ট কিছু হবার কথা নয়। দুটো ট্রলি, বড় হাতব্যাগটা আর একটা ল্যাপটপ। বেরিয়ে এসে দরজাটা টেনে দিলেই খচ করে মসৃণ শব্দে একটা […]
-
নিশিযাপনচোস্তা আর হাফ হাতা পাঞ্জাবি গায়ে গলাতে গলাতে কৌশিকের হঠাৎ চোখে পড়ল, এ দেয়াল সে দেয়ালে বড় বড় ফ্রেমে বাঁধানো একের পর এক ছবি। ফ্রেমগুলোর ফাঁকফোকর থেকে চুন সুরকি খসে খসে দাঁত-মুখ বেরিয়ে আসা দেখে তার মনে হল, এগুলো ঢাকার জন্যই বুঝি এই ফ্রেমগুলো এখানে টাঙানো হয়েছে। কিন্তু ছবিগুলো এ রকম কেন! ছবিতে গাছ আছে। […]
-
শেষের আগেকোর্ট থেকে বেরিয়ে দুজন দুদিকে হাঁটা লাগালো। আর্য একবার মুখ ঘুরালো , বীথি উঠে যাচ্ছে সাদা বাসে। ও এখন চলে যাবে সলপ । আশা করেছিল আর্য একবার যদি তাকায় বীথি। কিন্তু না, বীথি সোজা উঠে গেল বাসে। ভীড় সাঁতরে বেরিয়ে যাচ্ছে বাসটা দক্ষ সাঁতারের মতো। চকিতে মনে পড়ে গেল কোচিংয়ের দিনগুলোর কথা। দুজনেরই মা জেনে […]
-
আজ মহালয়াতার পদবি কি সে জানে না। তার বাপ কে সে জানেনা ! মায়ের নাম ছিল একটা, লোকে ডাকতো হেমা বলে। ধর্ম কি তাও সে জানে না। মন্দিরে সে যায় ফিরিতে পোসাদ খেতে আর না হয় সুযোগ বুঝে চুরি চামারি করতে, মসজিদে গেলে তাকে ভাগিয়ে দেয় – ‘ভাগ ! তুই তো মুসলমান না !’ বলে। সে […]
