
টুপুস্ করে একটা আওয়াজ হোলো, ব্যাস চারিদিক থেকে যেন নীরবতা ঘিরে ধরল আমাকে।
পুকুরটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে যেন ওই আওয়াজটুকুর পর সব আওয়াজ শুষে নিচ্ছে। চারিদিকে বড় বড় গাছেরা গম্ভীর হয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আমাকেই দেখছে। লক্ষণটা ঠিক এরকম যেন বলছে কিচ্ছু বোঝার দরকার নেই তুমিও আমাদের মতোই চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকো হে।
কিন্তু মামার মাথায় তখন একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে আমায় ফোন করে এখানে আসতে বলেছিল যে, সে কই! কি এমন দরকারি কথা সে আমায় বলবে বলে ডেকেছে!
একটু পরেই দেখি পুকুরের ওপাশে বড় ঝোপটা একটু নড়াচড়া করেই থেমে গেল। এবার আমার গায়ের লোমকূপগুলো রিমরিম ঘাম ঝড়িয়ে আমায় বোঝাতে চাইলো যে ব্যাপারটা তাদের কাছে সুখকর মনে হচ্ছে না। সুতরাং….
এবার আমি যেদিক থেকে এসেছিলাম সেদিকে ফিরতেই পিছন থেকে একটা হাত আমার কাঁধে খুব আস্তে কেউ রাখতেই আমার মাথা থেকে একটা খুউউব ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। একটু আগেও আমার ধারে কাছে কেউ ছিল না। হঠাৎ কার হাত আমার কাঁধে! আমি যে খুব সাহসী সে বিষয়ে একটুও দুর্নাম নেই। বরং অতি ভিতু কাপুরুষের মতো’ য পলায়তি স জীবতি’ ধরনের মতবাদে বিশ্বাসী।
যাই হোক আস্তে আস্তে পিছন ফিরতেই অবাক হয়ে দেখলাম আমাদের পাড়ায় যে নতুন পাগলটা এসেছে সে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তার দিকে ফিরতেই সে আস্তে করে হেসে অতি স্বাভাবিক গলায় বললে ভয় পেয়ে গিয়েছেন তো?
বিস্ময়ের পর বিস্ময়!! আমি বললাম ও তুমি, আমি তো ভেবেছিলাম…
আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে সে বলে ওঠে ভূত বা ওই রকম কিছু একটা ভেবেছিলেন তাইতো? তা এই ভরদুপুরে আপনি এখানে ঘুরছেন কেন?
এবার আমি দেখলাম আমার মনে কিছুটা সাহস এসে জমেছে। আমি এবার কিছুটা কৌতুহল বসেই তাকে উল্টে প্রশ্ন করলাম তোমাকে তো দেখে এখন পাগল মনে হচ্ছে না! তুমি কে? এখানে তুমি কেন? আমায় আজ সকালে একজন কেউ ফোন করে এখানে আস্তে বলেছিল। এখন দেখছি কেউ নেই। তুমি যে ডাকনি তা তোমার প্রশ্ন দেখেই বুঝতে পারছি।
এবার লোকটার চোখ দুটোর দিকে তাকাতেই আমার মনে বেশ ভয় জমতে শুরু করে দিলো।
কোনও উত্তর না দিয়ে আমার দিকে ও হাতটা বাড়িয়ে দিতেই আমি খুব দ্বিধা নিয়েই তার হাতটা ধরলাম। দেখি হাতে একটা আঠালো কিছু লাগানো আছে। একটা অদ্ভুত ধরণের গন্ধ আসছে নাকে। চেষ্টা করলেও আমি তার হাত ছাড়াতে পারছি না।
এবার লোকটা পিছনের দিকে হাঁটা শুরু করতেই আমি পড়লাম বিপদে। নিজের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও কিছুতেই হাতটা ছাড়াতে পারলাম না। এবার আমার শরীরে একটা শিহরণ এলো। আমি লোকটা কে বলতে চেষ্টা করলাম আমায় ছেড়ে দিতে। লোকটা এক দৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে পিছনের দিকে অক্লেশে হেঁটে চলেছে। আমি দু’একটা ঠোক্কর খেলেও লোকটা এমন ভাবে হেঁটে চলেছে যেন সে সামনের দিকে তাকিয়েই চলেছে।
এবার ঠিক সেই ঝোপটার সামনে, সেই যেটাকে কিছুক্ষণ আগে নড়তে দেখেছিলাম ঠিক সেখানটায় এসে লোকটা আমায় ছেড়ে দিলো। আমার কিন্তু এতক্ষণে আনেক কিছুই গুলিয়ে গিয়েছে। আমি থম মেরে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি ঝোপের ভিতরে তাকিয়ে দেখলাম কিছু একটা রয়েছে সেখানে। আমি একটু ভালো করে দেখতে যেতেই লোটা বলে উঠলো ওখানে একটা বডি আছে। বডি মানে বোঝেন তো। ঘাসের সোফার ওপর শুয়ে আছে। ওই মক্কেলই আপনাকে ডেকেছিল। একটা বেওয়ারিস মালকে হাপিস করবে বলে।
তার কথাগুলো ঠিকঠাক বুঝে ওঠার আগেই দেখলাম মাঝে মাঝে লোকটার কথা থেমে যাচ্ছে বদলে যাচ্ছে চোখ মুখের বৈশিষ্ট্য। অবাক হয়ে দেখছি তার মোটা ঠোঁট দুটো অদ্ভুত রকমের ফ্যাকাশে। লম্বা নাকের নিখুঁত ডগাটা মাঝে মাঝে একটু বেঁকেই আবার সোজা হয়ে যাচ্ছে।
তার এই অচেনা ভাবভঙ্গি দেখতে দেখতেই এবার লোকটা আমায় ছেড়ে হঠাৎ বাঁ পাশের ঘন ঝোপের ভিতরে ঢুকে গেল, আমার নাকে তার হাতের সেই আঠালো পদার্থের গন্ধটা বেশ পীড়া দিচ্ছিল। আমি একটু এগিয়ে লাশটার মুখটা দেখার চেষ্টা করতেই লোকটা পাশের ঝোপ থেকে বেরিয়ে সোজা আমার দিকে আসছে দেখে থেমে গেলাম। ওর হাতে একটা বেশ বড় পুটুলি।
হাতের গন্ধটা আর সহ্য করতে না পেরে বুঝতে পারছি এবার আমার জ্ঞান হারাবো। ভীষণ দুর্বল লাগছে নিজেকে। যেন এবার আমি হয়তো মরেই যাবো। আরও একটা বডি পড়ে থাকবে ঝোপের ভিতর ঘাসের ওপর। লোকটার মুখটা কেমন সাদা লাগছে। ও এগিয়ে আসছে আমার দিকে। আমি বুঝতে পারলাম আমি ধুপ করে পড়ে গেলাম। জ্ঞান থেকে অজ্ঞান হবার মুহূর্তটা আমার কাছে একটা ভয়ঙ্কর ধোঁয়াটে মার্কা ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়। ধীরে ধীরে অজ্ঞান হয়ে গেলেও আমার সমস্ত চেতনা হারিয়ে যায়নি তখনও। তখনও আমার জ্ঞান কিছুটা অবশিষ্ট আছে। আমি বুঝতে পারছি লোকটা এসে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। একটা অস্পষ্ট ধোঁয়াটে মার্কা ঘটনা ঘটে চলেছে আমার সামনে। লোকটা ওই বড় পুটুলিটা আমার পাশে রেখে ও পাশের লাশটাকে অনায়াসে কোলে তুলে একটু দূরে একটা গাছের নীচে বসিয়ে রাখলো। তারপর পুকুরের ধারে গিয়ে জল থেকে একটা সুতো টানতে শুরু করতেই আমার সামনে অস্পষ্ট আবছা কয়েকটা ধোঁয়াসা মার্কা লম্বা লম্বা মূর্তি ভেসে উঠলো।
তারা আমায় আর ওই পুটুলিটা তুলে নিয়ে ওই গাছের নিচে বসে থাকা লোকটার পাশ দিয়ে যেতে লাগলো। হঠাৎ আমার মনে হল আরেএএ লোকটাকে আমি চিনি তো, আমাদের পাড়ার পাঁচু পোড়েল। খুব সেয়ানা। আমার থেকে অনেকবার আমার বাড়ির দলিলটা হাতাতে চেয়ে ছিল। পারে নি।
লোকগুলোর অস্বাভাবিকতায় আমি ভীষণ আতঙ্কিত। আমার সেই ঝিমুনি ভাবটার মধ্যেই বুঝতে পারছিলাম ওরা আমাকে যেন ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে। হঠাৎ চলা বন্ধ হলো। একটা মৃদু স্যাঁতসেতে গন্ধ আসছে। রাতের অন্ধকারের মতো অন্ধকার চারিদিকে। বারবার মনে হচ্ছে যেটুকু চেতনা আছে সেটুকুও চলে যাবে। আমি শুনতে পাচ্ছি আমার হৃৎপিণ্ডটার স্পন্দনটা একটু দ্রুত হয়েছে। কোথায় আছি সেটা বুঝতে না পারলেও মনে হচ্ছে একটা বিরাট শূন্যের মধ্যে ভেসে রয়েছি আমি। আমার বুকের ওপর সেই পুটুলিটা রাখা আছে। আমি নিশ্বাস নিলেই গাদাগাদা অন্ধকার ঢুকে যাচ্ছে আমার নাকের ভিতর দিয়ে বুকের ঘরে।
কতক্ষণ এমন ভাবে ছিলাম সেটা এখন আর বল;তে পারবো না। দেখলাম স্যাঁতসেতে গন্ধটা এবার অনেক হাল্কা হয়ে গিয়ে সেই আগের আঠালো গন্ধটা এবার বেড়ে গেল। সারা শরীর জুড়ে একটা কাঁপুনি ভাব। বুঝতেই পারছি এবার আমার জ্ঞান ফিরে আসছে। সেই প্রথম লোকটা আমার পাশে এসে দাঁড়াতেই আমার কেন যেন মনে হল এবার ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটবে। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করলাম উঠে বসতে, কিন্তু কিছুতেই পারলাম না। সেই লোকটা আমার পাশে দাঁড়িয়ে পুটুলিটা আমার বুকের ওপর থেকে সরিয়ে নিতে নিতে অদৃশ্য কাউকে অল্প কিছু গালমন্দ দিলো। এবার স্পষ্ট দেখলাম পাঁচু পোরেলের শরীরটা থেকে ওরা অনায়াসে হৃৎপিণ্ড আর মগজটা খুলে নিয়ে ওই পুটুলিটার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতেই। পুটুলিটা একটু যেন নড়ে উঠলো।
হঠাৎ কানে এলো টুংটাং উদাস শব্দ একটা। বাইরে টুপুস টুপুস অন্ধকার নামছে শুনতে পাচ্ছি আমি। সেই শব্দের সঙ্গেই যেন তাল মিলিয়ে ফিরে আসছে আমার চেতনা।
আমার সমস্ত শরীর জুড়ে একটা কাঁপুনি ভাব। আমি মরীয়া হয়ে আমার ডান হাতটা সজোরে ছুঁড়ে দিলাম পাশের দিকে। একটা নরম কিছুতে আঘাত করতেই সারা শরীর জুড়ে একটা ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা শুরু হল। সেই আগের তীব্র আঠালো গন্ধটা আমার পাশে এসে মুখের ওপর হাত রাখতেই একটা ভিজে ভিজে পিছল কিছু লেগে গেল মুখে।
আমি বুঝতে পারছি এবার আমার ঘোর কেটে যাচ্ছে। আমি দেখতে পাচ্ছি আমার বুকের ওপর রাখা পুটুলিটা অনেকটা দূরে খোলা হচ্ছে। আমি উঠে বসলাম। এখন নাকে কোনও গন্ধই লেগে নেই। পাঁচু পোড়েলের শরীরটা পুরোনো অসুখের মতোই পড়ে আছে দূরে। তার পাশে তার নিয়তি বসে বসে ঢুলছে। একটা মৃদু আলোর রেখা খেলা করছে পুটুলিটার ওপরে। আর সেই লোকটা কি যেন নাম? কিছুতেই মনে করতে পারছি না তার নামটা। সে দূরে বসে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
তোমার মস্তিষ্কটা আমার দরকার। আর বুকের পেন্ডুলামটা। গলাটা শুনে আমি আবার তাকালাম তার দিকে। সে একটা দশ ইঞ্চির কুকুর ছানা নিয়ে খেলা করতে করতে আমায় বলে চলেছে….
আমার নাম এক্সোনা। আমি তোমার পৃথিবীর মতো করে নিজেকে গড়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার আরও দুটো মস্তিষ্ক আর পেন্ডুলাম চাই। তার কথা শুনে ভিতরে ভিতরে শিউরে উঠছি আমি। সে খেলা করতে করতে বলেই চলেছে- ওই পাঁচু পোড়েলের মস্তিষ্কটা নিলেও সেটা খুব জটিল হওয়ায় নিতে পারছি না। বড় রাজনীতি ভর্তি মস্তিষ্কটায়। ঘিনঘিনে রাজনীতি।
পাশেই দেখি ফিচিৎ করে মুচকি হাসির আওয়াজ একটা। তাকিয়ে দেখি আমার নিয়তি।
ফিসফিস করে বলছে কিছু করার নেই গো। বলেই সেই মহিলাটি উধাও। সামনে দেখি পাঁচু পোড়েলের নিয়তিও তার পাশে নেই। আমি আবাক হয়ে দেখলাম পাঁচু পোড়েলের হৃৎপিণ্ডহীন শরীরটা উঠে বসেছে। কেমন একটা বরফের মতো ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে!
এবার সত্যিই একটা আতঙ্ক আমায় জড়িয়ে ধরছে। অথচ মনেও কিছুটা আগ্রহ দানা বাঁধছে। সামনের লোকটা কুকুর ছানাটকে নিয়ে আপন মনে খেলা করে যাচ্ছে দেখে আমি একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম এই ঘরটায় আসা জাওয়ার রাস্তাটা কোন দিকে।
অবাক বিস্ময়ে দেখলাম ঘরটা পাঁচকোনা। লোকটা খেলতে খেলতেই বলে উঠলো পঞ্চেন্দ্রিয়কে মনে রেখে ঘরটা তৈরি করা হয়েছে। ওর কথাগুলো হেঁয়ালির মতো লাগছে। আমি খুব ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম প্রত্যেক কোণে একটা করে লোহার রিং রয়েছে। লোকটা আবার বলে উঠলো। ওই রিংগুলো প্রত্যেকটাই একএকটা দরোজা খোলার জন্য লাগানো তবে খুলে বাইরে যেতে গেলে গভীর সমুদ্র পার হয়ে যেতে হবে। এসব ফরমুলা অনুযায়ী তৈরি। সমাধান করে বেরোতে হবে।
বহুদিন আগে আমার পূর্বপুরুষের ফরমুলা তোমার বাবা সমাধান করে তাদের বোকা বানিয়ে মুক্তি পেয়েছিল। আজ তাই আমি ঠিক করেছি তোমার মস্তিষ্কটা আমার চাইইই।
এবার আমি এক্সোনার সামনে এসে বসি। অমনি নাকে আসে সেই আঠালো গন্ধটা। আমি এবার উঠে যাই আবার একটু দূরত্ব রেখে বসি। আমি জানি লোকটা আমার মন পড়তে পারছে। তাই কিছুই ভাবাটা বন্ধ করে দিলাম।
হঠাৎ আমার চোখ যায় ঠিক এক্সোনার মাথার উপর যে কোণটা তার গায়ে একটা ছোট্টো অদ্ভুত চিহ্ন আর লিপি আঁকা আছে। না না কিছুই ভাবা হবে না।
ভেবে তো কোনও লাভও নেই। কিছুই সমাধান করতে পারবে না তুমি। এক্সোনার কথা শুনে আমি উঠে যাই। হঠাৎ কি মনে হতেই আমি গিয়ে সেই পুটুলিটার সামনে গিয়ে বসি। আমি যেতেই পুটুলিটা একটু নড়ে ওঠে। আমার মনে পড়ে পুটুলিটা আমার বুকের ওপর রেখেছিল বলে এক্সোনা তার সাকরেদদের খুব বকেছিল।
আমি পুটুলিটায় হাত দিতেই লোকটা চিৎকার করে ওঠে। আমি ভালো করে তাকিয়ে দেখি তার ঠিক পাশে একটা ভিজে নীল বলের মতো কিছু একটা পড়ে আছে। আর তার গায়ে ওই কোণটার গায়ে যেমন সাংকেতিক লিপি আছে তেমন লিপি লেখা আছে। আমি আরও আশ্চর্য হয়ে দেখি পুটুলির কাছে বসে আমি যা ভাবছি লোকটা সেটা বুঝতেই পারছে না! বরং সে বারবার চাইছে আমি পুটুলিটার থেকে সরে আসি।
আমি নীল বলটার গায়ের সাংকেতিক লিপিটা দেখে বুঝলাম একটা উল্টো ‘এল’ আর একটা উল্টো ‘ইউ’ লিপিটার আসল চিহ্ন। পুটুলির ভিতর থেকে দেখলাম একটা নীল আলো আমার চোখে এসে লাগছে। আমি সেই আলোয় বুঝলাম তীব্র একটা আচ্ছন্নতা আমাকে ঘিরে ফেলছে।
আমি সেই মানসিক অবস্থাতেই লাফিয়ে উঠে এক্সোনা কিছু বোঝার আগেই তার মাথার ওপরের
রিংটায় প্রথমে উলটো এলের মতো নামিয়ে ঘুরিয়ে উল্টো ইউয়ের মতো ঘোরাতেই দিশেহারার মতো এক্সোনা এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার ওপর। আমার মস্তিষ্কে একটা প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম কুকুরছানাটা এক্সোনার মুখের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পুটুলির ভিতর থেকে আমার বাবার কয়েকটা প্রাচীন খাতা প্রচণ্ড হাওয়ায় উড়তে শুরু করেছে! নিয়তির করুণ মুখটা দেখে আমর বেশ পুলক জাগলো মনে। হঠাৎ মনে হল আমার মস্তিষ্কের কোষগুলো ঠিকঠাক কাজ করতে শুরু করলেও আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।
এখন আমার আচ্ছন্ন ভাবটা আর নেই। সূর্য পশ্চিমে হেলে তাকিয়ে আছেন আমার দিকেই। আমি শুয়ে আছি সেই পাকুড় গাছটার নিচে যেখানে ঝোপের ভিতরে পাঁচু পোড়েলকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। পাশের পুকুরটায় হাল্কা অন্ধকার নেমে এসেছে। কেটে যাচ্ছে তীব্র আচ্ছন্নতা। চারপাশের সব কিছুই আমি দেখতে পাচ্ছি। আমি বুঝতে পারছি আমার বুকের যন্ত্রটা ঠিক মতোই চলছে। ঠিক পাশেই একটা ছেঁড়া ধুতির খানিকটা হাওয়ায় উড়ে এসে আমার মুখের ওপর এসে পড়তেই মনে হল সেই আঠালো গন্ধটা ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি ধুতিটায় একটা বড় ইট জড়িয়ে ছুঁড়ে দিলাম জলে। আশ্চর্য হয়ে শুনলাম আওয়াজটা ঝপাস্ নয় টুপুসস্…..
[বানানবিধি লেখকের নিজস্ব]

Tags: এক্সোনা, গল্প, গল্পের সময়, রামকিশোর ভট্টাচার্য
email:galpersamay@gmail.com

মতামত
আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।