10 Oct

দৃষ্টিদান

দৃষ্টিদান / নন্দিতা সিনহা/ গল্পের সময়

মা সপাটে  গালে এক থাপ্পর বসিয়ে তীব্র ব্যাঙ্গের  স্বরে বলেছিল , তোর জীবনে দেখি রবি ঠাকুরের গান একেবারে ফলেই গেল –ফাগুনের ফুল যায় ঝরিয়া’।

লজ্জায়  অপমানে মরমে মরে যায় তিতির ।

নিজের দোষ খোঁজে, সম্পর্কের ভাঁজে কবে কোন ভুল ঢুকে পড়েছে তন্ন তন্ন করে তা বিক্ষণে  মগ্ন হয় ।

সে তো নিজের সমস্ত কিছু দিয়ে বাড়ির বিরুদ্ধতা করে অনির্বাণকে চেয়ে এসেছে । দুটো পরিবারের মধ্যে শিক্ষা সামাজিক মর্যাদা আর্থিক স্থিতির আকাশ পাতাল তফাৎ।  সে সব বুঝেই কিন্তু  শুধুমাত্র ভালোবাসাকে মূল্য দিতে গিয়ে নিজেকেই অবহেলা করেছে তিতির নিজের অগোচরে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যে বিরাট ফাঁক  হয়ে যাচ্ছে বোঝে নি।  অনির্বাণকে গড়ে তোলাই তখন তার কাছে মাছের চোখ। বারবার সে অনির্বাণকে বলতো , তোমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। তুমি পারবে অনি, আমাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে। আমি আছি তোমার পাশে।

নিজের হাত খরচা আর টিউশনের টাকা দিয়ে চাকরির পরীক্ষার ফর্ম , বই সমস্ত কিনে আনতো অনির্বাণের জন্য। আর অনির্বাণ শুধু ভান করে যেত । নিজেকে গড়ে তুলবার ভান,ভালোবাসার ভান।

গ্রাজুয়েশনের রেজাল্ট খুব খারাপ হলো তিতিরের। কোনো রকমেই টিকে গেল অনার্সটুকু। এর কারণ কী ? খুঁজতে গিয়ে মায়ের চোখে ধরা পড়ে গেল মেয়ের অন্যমনস্কতা।  সেই সময়ে একদিন বিমর্ষ তিতির  নির্জনে অনির্বাণের কাঁধে  মাথা দিয়ে শান্তি খুঁজছিল।  তার দাদারই এক বন্ধু  দুর থেকে দেখে ছবি তুলে নেয় মোবাইলে। তাদের বাড়িতে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠলো।  কালবৈশাখী ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল সুখী সংসারের মানচিত্র।।

মা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলে, তুমি ওই মাকাল ফলটার প্রেমে পড়েছ? রূপটুকু ছাড়া আর কি আছে তার? তার ওপর অভিমান করে বাবা তাকে আর  মাস্টার ডিগ্রি তে ভর্তি করলেন না। পড়াশোনার খরচ বন্ধ করে দিলেন।। নিজে অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

আর সেই অনির্বাণ কী করলো! বাবার কোন বন্ধুর  অসুন্দর মেয়েকে বিয়ে করলে কোলিয়ারিতে  নাকি চাকরি করে দেবে। সেই লোভে তিতিরের সমস্ত ভালবাসা ভুলে সে বীরভূমের বাস তুলে দিয়ে স্থায়ী ভাবে চলে গেল ঝরিয়া ।

বাবা চুপ হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু এক তীব্র বিষ মায়ের মুখ থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে তিতিরের দিনরাত্রিকে অসহনীয় করে তুলছিল।

এইবার প্রেম পিরিতি ভুলে বাবার সম্বন্ধ করা বিয়েটি করে আমাদের কন্যা দায় থেকে উদ্ধার কর। বাড়িতে আইবুড়ো ননদ বসে থাকলে  ছেলের বউ আনতে পারব  আর এ জীবনে?

তোমার জন্য তো বাবা মরতে বসেছিল । সেটাই কি চাও তুমি?

চোখের জলে তিতিরের রাতগুলো ভেসে যেত। এই পরিবারে তাহলে তার অবস্থানটা কোথায়?

(২)

তুই তো কত বছর যাস নি। পিসিমনি বলল ।তাপসী দি বলল ,তুই চল, আলাপ কর কিংশুকের এর সাথে। আমি বলছি তোর ভালো লাগবে। পিসতুতো দিদির কথাতে তিতির একটু অবাকই হল।

আবার  নতুন আলাপ? ন্যাড়ার বেলতলা যাওয়ার প্রবাদ টা মনে পড়ে গেল। ভুরু কুঁচকে বলল; তোমার ননদের ছেলেকে দেখবার জন্য আমি বীরভূম থেকে মালদা যাব?


শরীরে মনে বিধ্বস্ত কিংশুক শুধু অপেক্ষা করে গেছে যদি তার প্রেমিকা ফিরে আসে । মাঝে মাঝে ভেবেছে আচ্ছা সিনেমার মত কোন ঘটনা নয় তো!  হঠাৎ করে সে বুঝতে পারে যে, কোন এক  দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত। তার বাঁচবার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই হয়তো কিংশুক এর জীবনকে বিপন্ন করতে না চেয়ে নিঃশব্দে সরে গেছে।


দেখাতে চাইলে একখানা ছবি আনতে পারতে।

তিতিরের গলাতে তাচ্ছিল্যর আভাস পেয়ে তাপসী  বিরক্তটুকু গিলে নেয়।

তোর এই সবকিছুকে হালকা করে দেখা স্বভাবটা খুব খারাপ। যদি রাজি থাকিস তো বল, তোর আশীর্বাদের  প্রস্তুতি শুরু হতে এখনো সাত দিন বাকি । আমরা তো কালকে ফিরেই যাচ্ছি মালদা। মামা মামিকে রাজি করিয়ে তোকে নিয়ে যাব।

মা খুব সহজেই অনুমতি দিয়ে দিল, যা ঘুরেই আয়। চার মাস বাদেই তো বিয়ে, পিসিমনির বাড়ি আবার কবে যেতে পারবি তার তো ঠিক নেই ।

বাবা একটু  হালকা আপত্তি তুললো। ১৫ দিন পরে  আশীর্বাদ, এখন বেড়াতে যাবে! কিছু একটা অসুবিধে হয়ে গেলে তখন আমার কথার খেলাপ হয়ে যাবে।

কিচ্ছু হবে না দাদা ,যাবে তো আমার বাড়ি। একটু মনক্ষুন্ন হয়েছিল রাঙা পিসি ।

তিতির কি আমাদের কেউ নয় ?ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে ওকে যত্নে রাখা তো আমারও দায়িত্ব।

রাঙা পিসি,তাপসী দির সাথে  মালদা যেতে ভারী চমৎকার লাগছিল তিতিরের। অনেকদিন পর কোথাও বেড়াতে যাচ্ছে সে। খাদের গোপন অন্ধকারের মধ্যে একটু একটু যেন  বাতাস বয়ে আনছে  জীবনে বেঁচে থাকার গন্ধ।

সেই কত বছর আগে কোন একটা নিমন্ত্রণে গিয়েছিল রাঙা পিসির বাড়ি। তখন রাতের বেলায় গম গম শব্দে ফারাক্কা ব্রিজ পেরিয়ে ছিল ট্রেন। জানালা খুলে সবাই উঁকি দিয়ে দিয়ে দেখেছিল গঙ্গাকে। পয়সা ছুঁড়েছিল কেউ কেউ । সবার সে কি উত্তেজনা!

এখন এসি জানালার এপাশ থেকে সকালের উজ্জ্বল আলোতে  ফারাক্কা ব্যারেজ দেখেও সেই রোমাঞ্চকে ছোঁয়া গেল না। নাকি রোমাঞ্চিত হবার মনটাই ফসিল হয়ে গেছে কয়লা খনির অতলান্ত অন্ধকারে!

গত কয়েকদিন ধরে তাপসীদির কাছে কিংশুক এর গল্প শুনে শুনে একটা ছবি তিতিরের মনের মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছিল। অত্যন্ত সৎ স্পষ্টবাদী এই মানুষটার প্রতি তাপসীর  স্নেহজ দুর্বলতা ছিল।

৩৫ বছর বয়স হয়ে গেছে এখন ও বিয়ে করেনি। তাপসীদির গলায় মমত্ব ঝরে পড়ে।

কিংশুক ভালোবাসত  তার থেকে প্রায় ন’দশ বছরের  ছোট একটি মেয়েকে। নিজে চাকরি পেয়েই সেই নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েটিকে কলেজে পড়িয়ে চাকরির পরীক্ষায় যথাযথ গাইড করে তাকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সে এখন ভারতীয় রেলের পদস্থ কর্মী। কেওনঝরে পোস্টিং। সেই মেয়ে যে এত বেইমানি করতে পারে এটা ভাবনার অতীত।

রকমারি আলো- ছায়া তাপসীর মুখে বেদনার কারুকাজ তৈরি করে।

রেজিস্ট্রি অফিসে দুজনে মিলে নোটিশ দিয়ে আসার ২৫ দিনের মধ্যে মেয়েটি গিয়ে সেই বিয়ে নাকচ করে আসে, কিন্তু কী যে কারণে সে কথা সে কিছুতেই বলেনি।

কেওনঝরে ছুটে গিয়েছিল কিংশুক । কিন্তু তখন মেয়েটি অফিসের ছুটি নিয়ে কোথাও গিয়েছিল। তার  কোয়ার্টার চাবি বন্ধ। অফিসের লোকজনও কোন সঠিক  হদিশ  দিতে পারেনি।

মেয়েটির বাড়িতেও ছুটে আসে  হতবম্ব কিংশুক ।  মেয়েটির গরিব বিধবা মা তার প্রশ্নের উত্তরে ফ্যাল ফ্যাল করে শুধু তাকিয়ে ছিলেন। কোনো কথা বলতে  পারেননি। সেই আশ্চর্য দৃষ্টির মানে কিংশুক উদ্ধার করতে পারেনি।

শরীরে মনে বিধ্বস্ত কিংশুক শুধু অপেক্ষা করে গেছে যদি তার প্রেমিকা ফিরে আসে । মাঝে মাঝে ভেবেছে আচ্ছা সিনেমার মত কোন ঘটনা নয় তো!  হঠাৎ করে সে বুঝতে পারে যে, কোন এক  দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত। তার বাঁচবার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই হয়তো কিংশুক এর জীবনকে বিপন্ন করতে না চেয়ে নিঃশব্দে সরে গেছে।

কিন্তু এইরকম কোন ঘটনা হলে তাকে জানাবে না এটা কি হতে পারে ?

একটার পর একটা চিঠি দিয়েছে। সেই আবার ফিরে এসেছে তার ঠিকানায়। রি-পোস্ট করা হাতে লেখাটি কিংশুকের চেনা।

তীব্র দুশ্চিন্তায় যখন ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে তখন একদিন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শোনে মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়েছে উচ্চপদস্থ সহকর্মীর সাথে। কিন্তু এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো পাত্র মেয়ের নির্বাচিত।

একটা তীব্র অভিমান অপমানে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে কিংশুক।  রাতের অন্ধকারে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে আসে চুপি চুপি। তার এই মস্ত বড় পরাজয় লজ্জা নিয়ে সে গুটিয়ে গিয়েছিল শামুকের খোলের ভিতর।  মায়ের শত অনুরোধেও আর বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না।

আসলে মেয়েদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে কিংশুক। এই কথাটা তাপসীদির মুখে যতবার শোনে ততবারই তিতিরের বুকের ভেতর একটা ভয়ংকর গোপন যন্ত্রণা বিবমিষার উদ্রেক করে।

না দেখা মেয়েটা কে কিভাবে যেন অন্তর থেকে সমর্থন করে ফেলে সে । একটা তীব্র যুক্তিহীন প্রতিহিংসা তিতিরের বুকে বিষাক্ত ফণা তোলে। মনে মনে বলে; বেশ হয়েছে, বেশ করেছে। কেন সব সময় সব লাঞ্ছনা যন্ত্রণার শিকার মেয়েদেরই হতে হবে ? সব সময় প্রতারণার শিকার কেন মেয়েদেরই হতে হবে ? কেন গোপন কান্নায় বালিশ ভিজবে  শুধু মেয়েদের? আর বড়লোকের একমাত্র কন্যাকে বিয়ে করতে প্রেমিকের ফুল সাজানো গাড়ি ছুটে যাবে অন্যদিকে ? সে মনে মনে কিংশুকের না দেখা প্রেমিকাকে সাবাস দেয় । বেশ করেছো। তোমার বুকের ধক আছে। কিংশুক যে কত বড় বঞ্চনার শিকার হলো সেই কথাটা ভেবে দেখে না। যন্ত্রণার সাথে যন্ত্রণার যোগ বিয়োগ করতে থাকে সে।

 (৩)

কিংশুক কে দেখে একটুও ইম্প্রেসড হলো না তিতির । যদিও তাপসীদি কখনো তার রূপের প্রশংসা করেনি।  শুধুই তার গুণের কথা বলতো। কিন্তু তবুও তিতির কেন জানি না একটু আশাহত হল । মুখটা তো ভালো করে দেখবার উপায় নেই। মালদহে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে  ঠান্ডা  আছে ভালো।  কিন্তু দুপুর বারোটাতে মাঙ্কি টুপি পরে আসার মত নয়। অথচ ইনি যখনই উদয় হচ্ছেন   মাঙ্কি টুপি শোভিত হয়ে।


সারারাত জেগে থাকে কিংশুক। অতীত স্মৃতির সাথে আগামীর স্বপ্নের টাগ অফ ওয়ার চলতে থাকে। প্রত্যাখ্যান এ অভ্যস্ত তার চেতনা ভাবলো এবারও না হয় সে রকমই কিছু একটা হবে । কিন্তু একদম চুপ থাকাটা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয় । ভবিষ্যতের জন্য যেন কোন আফসোস না থাকে।


প্রথম আলাপের পরেই সে বুঝলো লোকটি একটু কুতার্কিক। কথার পৃষ্ঠে কথা সাজিয়ে তর্ক করতে ভালোবাসে । তিতির বলেছিল, মানুষ সস্তায় যা কিছু পায়, তার মূল্য বোঝেনা ।

নুন তো সস্তায় পাওয়া যায়। তাহলে কি মানুষ নুনের মূল্য বোঝেনা ?

কথাটা  তো ঠিক।  কিন্তু কিংশুককে  যুৎসই উত্তর দিতে না পেরে তিতিরের একটু রাগ হয়েছিল। উঠে চলে গিয়েছিল অন্য ঘরে।

তাপসীদের হাল্কা গোপন বাসনা ছিল তিতিরের সাথে যদি কিংশুকের বিয়েটা দেওয়া যায়। তাই এবারে বীরভূমে গিয়ে তিতিরের বিয়ের খবর শুনে একটু বিমর্ষ হয়েছিল । তবুও একটা  ক্ষীণ আশা  জেগেছিল যদি ওদের পরস্পরের পরস্পরকে ভালো লাগে। তিতিরের প্রেমের ঘটনা কিংশুক  কে জানিয়েছিল তাপসী । মামাতো বোনটি কে বড্ড ভালোবাসে সে। মনের গভীর থেকে সে চায় একটা ভালো মানুষের সাথে তিতিরের বিয়ে হোক।

তর্ক করার প্রবণতার জন্য তিতির যে বিরক্ত হয়েছে এ কথা বুঝে কিংশুক নিজেকে একটু সামলে নিল।

সেদিন সন্ধ্যাবেলা কারেন্ট অফ হয়েছিল। তিতির অন্য ঘরে গিয়ে একটা মোমবাতির আলোয় বসে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন পড়ছিল। অন্য ঘরে কিংশুক এর সাথে গল্প করছিল তাপসীরা। জানালার ফাঁক দিয়ে মোমবাতি তীর্যক আলোতে তিতিরের মুখটা দেখে অননুভূত একটা কোমল বেদনায় মনের তন্ত্রীতে যেন দিলরুবা বেজে উঠলো কিংশুকের।

সমব্যথী মনে হারিয়ে যাওয়া প্রেম, বিশ্বাস ,আশ্চর্য মায়ামন্ত্র বলে মুহূর্তে যেন ফিরে এলো । নতুন করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হলো তিতিরের বিয়ের সব ঠিকঠাক।

সারারাত জেগে থাকে কিংশুক। অতীত স্মৃতির সাথে আগামীর স্বপ্নের টাগ অফ ওয়ার চলতে থাকে। প্রত্যাখ্যান এ অভ্যস্ত তার চেতনা ভাবলো এবারও না হয় সে রকমই কিছু একটা হবে । কিন্তু একদম চুপ থাকাটা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয় । ভবিষ্যতের জন্য যেন কোন আফসোস না থাকে।

এরকম একটা প্রস্তাব আসতে পারে তিতিরের স্বপ্নের অগোচর । প্রথমটা সে থতমত খেয়ে গেল।  আবার ভালোবাসা? একি কোন রকম ভাবেই সম্ভব! বাবা মাকে আবার সে কি করে বলবে?

তাপসীদি বলল, সেই দায়িত্ব আমাদের ,তুই তোর মনকে পড়।

তিতির আলতো হেসে বললো; মাংকি টুপির আড়ালে  মুখটাই তো ভালো করে দেখতে পেলাম না, মনের কথা জানাবো কি করে?

কিংশুক এক টানে টুপিটা খুলে ফেলে। দুটো উজ্জল চোখে বিশ্বাসের সরোবর। অবগাহনের আমন্ত্রণ ফুটে আছে সেখানে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই এক অদৃশ্য শর তিতিরের বুকের মধ্যে এ ফোঁড় ও ফোঁড়। একই অস্ত্রে হত হয়েছিল মৃগী ও নিষাদ – এবং আজকের তারিখে।

তিতিরের গল্প পাঠ শেষ হতেই হাততালিতে ফেটে পড়লো আমন্ত্রিত অতিথিরা।

আমরা বোধহয় গল্পের পাত্র-পাত্রী কে চিনতে পেরেছি। প্রিয় বন্ধু ইন্দ্রানী বলল।

ভিড়ের মধ্যে আবার ও চারটে চোখে বিশ্বাসের মালা বদল ।

কিংশুক বলে , বিয়ের তারিখ নয় আজকের তারিখে  আমাদের চক্ষুদান হয়েছিল।

তিতির বলে, মাল সমেত চোর ধরা পড়ে গেল আপনাদের সবার সামনে।

[বানানবিধি লেখকের নিজস্ব]

দৃষ্টিদান / নন্দিতা সিনহা

Tags: , , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2026 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ ।