10 Oct

বনের পাখি

লিখেছেন:অনাথবন্ধু চট্টোপাধ্যায়


বনের পাখি / অনাথবন্ধু চট্টোপাধ্যায়

সুখুমণি নামটা জয়তীর একেবারেই পছন্দ নয়। যতবার কথা ওঠে জয়তী ততবারই মুখ বেঁকায়, ওটা আবার একটা নাম হল? যেমন করেই হোক নামটা পাল্টাতে হবে।

বরুণ কিন্তু সম্মতি দেয় না, ওরা যেমন, তেমনি তো ওদের নাম হবে? বন্যেরা বনে সুন্দর, ভুলে গেলে? না, অমন নাম এই ডানাকাটা আসানসোলে চলবে না। জয়তী বরুনের সংসারে চলছে এই এক টানাপোড়েন।

অবশ্য সুখুমণিকে ঝাড়খন্ডের গন্ডগ্রাম থেকে পাকড়াও করে আনার ক্রেডিটটা জয়তীরই।

জয়তী স্কুলে পড়ায়। বরুণ কলেজে। ছেলে বাবিকে নিয়ে আসানসোলের ধোপদুরস্ত আবাসনে তাদের ছোট্ট সংসার।

দশটা – পাঁচটা বাইরে কাটিয়ে সন্ধের মুখে ঘরে ফিরে একবেলার সংসার। ওই এক বেলাতেই জয়তী যাবতীয় গুছিয়ে বাগিয়ে নেয়। ছাঁচে ঢালা জীবন তাদের। চলে জলবৎ তরলং। কোনো হারাকিরি ছিল না এতদিন।

সমস্যাটা দেখা দিল বারির জন্মের পর। প্রথম বছরটা সামলে দিল জয়তী বরুনের মায়েরা বোনেরা। হাত-পাছুঁড়তে ছুঁড়তে বাবি হামা দিতে লাগলো। তারপর একদিন টলমল করে হাঁটতেও শিখলো। বসন্তে আমগাছে বউল আসার মত মুখে একটি দুটি অস কথা। সমস্যাও শুরু সেখান থেকে। জয়তী বরুণ কাজে বেরলে বাবিকে সামলাবে কে? হাতের নাগালে যা পায় বাবি তাই টেনে ধরে। জয়তীর সাজানো ঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায় নিমেষে। পারাপারি করে ছুটি নিতে বাধ্য হয় জয়তী আর বরুণ। তখনি ওরা বুঝতে পারল, ওদের সাংসারে আরও একজনের প্রয়োজন। জয়তী প্রথম কথাটা তুললো একদিন, একটা কম বয়সী মেয়ে পাওয়া যেত। সকালে এসে বিকেলে চলে যেত, কিম্বা থাকতো। দ্যাখো না, কাউকে পাও যদি?

সমস্যাটা বরুণ টের পেয়েছে। তাই বলে দেখবো, তবে কাউকে যোগাড় করতে পারবো বলে মনে হয় না।

তোমাদের দিদিমণির মহলে চর্চা করে দেখো। খবর পেলেও পেতে পারো।

শেষ পর্যন্ত জয়তীই পারলো, তবে তার স্বশুর বাড়ি জগদীশপুর থেকে। গিরিডির কাছে ছোট্ট জনপদ জগদীশপুর।

শীত পড়লে পরিযায়ী পাখিদের মত, এখানে হাওয়া-বদলে আসেন অনেকে। বড়দিনের ছুটিতে এল জয়তীও। এখানে এসে প্রথম দেখল সুখুমণিকে। ছোট্ট চেহারার রোগা হিলহিল মেয়েটি। ওর মা খুশি সরেন জয়তীর শ্বশুর বাড়িতে কাজ করে। স্বামী নেই। অল্প বয়সী বিধবা। জগদীশপুর থেকে ফিরতি পথে সুখুমণিকে বগলদাবা করে ফিরল জয়তী।

পরদিন থেকেই আসানসোলের ফ্ল্যাটে শুরু হয়ে গেল সুখুমণির ট্রেনিং। কাজ করতে করতে সুখুমণি ঘন ঘন মাথা চুলকায়। লক্ষ্য করে জয়তী শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেই ফেলল, মাথায় তোর উকুন আছে না কি রে?

সুখুমণি মাথা নাড়ে, হ্যাঁ।

অমনি লাফিয়ে ওঠে জয়তী, এ-মা-মা। জয়তীর সমস্ত শরীর রি রি করে ওঠে। ভাবে, এক্ষুনি একটা ব্যাবস্থা না করলেই নয়। তা নাহলে সবার মাথায়  ছড়িয়ে পড়বে। বরুণও বাড়িতে নেই। অগত্যা জয়তী একাই পথে নামল। সঙ্গে সুখুমণি। যেতে যেতে জয়তী সুখুমণিকে ভুজুং দেয়, মাথা যত ন্যাড়া করবি, চুল তত সুন্দর হবে। এই অ্যাতো বড়।

সুখুমণির কালো মুখে ঝিলিক দিয়ে ওঠে সাদা দাঁতের সারি।

কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে বরুণের মনটা কেমন খারাপ হয়ে যায়। সেটা লক্ষ করে জয়তী বলে, কোনো উপায় ছিল না। ফ্ল্যাট বাড়িতে সব কাছে কাছে থাকা। পরিণামটা কি হতে পারতো বুঝতে পারছো?

বরুণ ফিসফিসয়ে বলে, কতটা ঠিক হল কাজটা কে জানে। বেশি জবরদস্তি করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ওরা কিন্তু সাঁওতাল পরগণার আদিবাসি!

এবার আভিমান হয় জয়তীর, আমি কি ওর ওপর আত্যাচার করেছি?

টুকটাক হাতের কাজ শেষ করে সুখুমণি বাবির সঙ্গে খেলতে বসে। বাবির এক ঝুড়ি খেলনা। সেই নিয়ে ওদের কত রকমের খেলা। ঝাড়া হাত-পায়ে নিশ্চিন্ত জয়তী নিজের মনে সংসার সামলায়। আর তখনই জয়তীর মাথায় আসে সুখুমণির নাম পরিবর্তনের কথাটা। বরুণকে বলে, বেশি দেরি করলে ওর এই নামটাই সবার মুখে বসে যাবে। একটা ওর নাম ঠিক করে দাও তো?

বরুণ বিরক্তি দেখিয়ে বলে, খুর, ওসব আমার একেবারে আসে না।

শেষ পর্যন্ত জয়তী-ই রাখলো সুখুমণির নতুন নাম ফুলি। বরুণ কে বললো, ওর ওই এক নামে সব আছে। ফুল থেকে ফুলি। ফুল ঘরেও থাকে, আবার বনেও ফোটে।

বরুণ গম্ভীর হয়ে বললো, আগে ওর মনটা পড়ো। কি চায়, কি চায় না। তোমার ইচ্ছেমত ওকে সাজিয়ো না।

জয়তী বিরক্ত হয়ে দ্রুত পা ফেলে চলে যেতে যেতে বলে, কাল সকালে উঠে ওকে জগদীশপুমন্ডি ফেরত দিয়ে এসো। আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, ওর মন স্টাডি করতে হবে এখন।

বেগতিক বুঝে বরুণ চুপ করে যায়।

কিন্তু সন্ধেবেলা হতে না হতেই ফুলির চোখ দুটো কেমন লাল হয়ে যায়। শোবার ঘরে খাটের নিচে বসে ঢুলতে  থাকে। কখনো ডিভানের গায়ে ঢুলে পড়ে। ঠক করে ঠুকে যায় ফুলির মাথা। এদিকে জয়তীর একবেলার সংসারে কাজ শেষ হতে রাত দশটা বেজে যায়। ফুলি ঘুমিয়ে তখন কাদা। জয়তী ধমক দেয় ফুলিকে, এত ঘুম! ধন্য বাবা। এবার থেকে তোকে একটু করে লেখাপড়া শেখাবো, দাঁড়া।

পরদিন থেকে সন্ধে হলে বাবি আর ফুলি এক সঙ্গে পড়তে বসে। এ. বি. সি. ডি-অ, আ, ক, খ। দেখতে দেখতে ফুলি নাম লিখতে শিখে গেল –  ফুলি সোরেন।

বরুণ মাসে একবার জগদীশপুর যায়। খুশিকে দিয়ে আসে ফুলির মাস মাইনের টাকাটা। আঁচলে টাকা বাঁধতে বাঁধতে খুশি শুধোয়, উয়ার গায়ের রঙ কিছু চিকনা হল কি, দাদা?

বরুণ হেসে জবাব দেয়, চিকনা হবে কি করে? উয়ার গায়ে যা আলকাতরা চিপাইছিস! তবে ই, পিচ রাস্তায় রদ পড়লে যেমন চিকচিকায়, তেমন হইছে কিছুটা!

খুশি আঁচলে মুখ ঢাকা দিয়ে খিলখিল হেসে ওঠে।

জয়তীকে সে কথা বলতেই প্রথমে এক চোট হাসি। মুখ চোখ লাল হয়ে ওঠে হাসির দমকে। চোখ ছাপিয়ে জল আসে। ফিসফিসিয়ে জয়তী বলে, বললে না কেন, পান্তুয়া কি কোনদিন রসগোল্লা হয়?

জয়তী তবু আপ্রাণ চেষ্টা করে ওকে নিজের মত করে নিতে। ছুটির দিন গুলোতে ফুলিকে নিয়ে বাজার যায়। কিনে দেয় হাতের চুড়ি, কানের সস্তার দুল, গলার সোনালি রঙের লকেট। লুচির মত ছোট হাতের তালুতে মেহেন্দি করিয়ে দেয়। বিচে ঢ্যাঁড়সের মত ঘোট, আঙ্গুলে গেতলের আংটি। ফুলি ফিরে এসে একটা পিচবোর্ডের বাক্সে সে সব তামিয়ে রাখে।

কোনোদিন বিশেষ কোথাও যেতে হলে, জয়তী ফুলিকে সাজতে বলে। ফুলি একটা নতুন ফ্রক পরে। কানে, গলায়, হাতে ওর নিজেস্ব গয়না পরে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচরে নেয়। জয়তী বলে, নে এবার আঙুল বের কর। ফুলি তর্জনীর ডগাটুকু এগিয়ে ধরে। জয়তী তাতে একটুস খানি ক্রিম লাগিয়ে দেয়। ফুলি মুখে ক্রিম লাগিয়ে প্রাণপণে ঘষতেই থাকে।

জয়তী অমনি তাড়া দেয়, নে-নে, খুব হয়েছে।

ওদের দিনগুলো বয়ে যায় হড়কা বন্যার মত। বাবিকে স্কুলে ভর্তির সময় প্রায় হয়ে আসছে। মেজে ঘষে জয়তী ফুলিকেও খানিকটা মানুষের মত করে ফেলেছে। কিন্তু জয়তী কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছে, ছাদে যেতে ফুলির খুব উৎসাহ। মুখ থেকে কথাটা খসা মাত্র, তড়াক করে লাফিয়ে সে ছাদে চলে যায়। কিন্তু ফেরে দেরিতে। কি হতে পারে  ব্যাপারটা? জয়তী বরুণকে প্রশ্ন করে।

পিছু পিছু গিয়ে দেখলেই পারো? বরুণ উত্তর দেয়।

ওই কাজটা কিন্তু তোমাকেই করতে হবে? জয়তী আনুরোধ করে।

রবিবার দিন জয়তী ইচ্ছে করেই ওকে ছাদে পাঠায়। ফুলির পিছু নেয় বরুণ।

বিরাট দ্বাদের তিনটে দিক ঢাকা। অন্য অ্যাপার্টমেন্ট আর কারখানার চিমনিতে। কেবল পূর্ব দিক দিয়ে দেখা যায় সুবুজ গাছপালার মাথা পেরিয়ে দূরের দিগন্ত। সুবুজের বুক চিরে চলে গেছে রেলের মেন লাইন সীতারামপুর-চিত্তরঞ্জন হযে জগদীশপুরের দিকে। সেইদিকের কার্নিসে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ফুলি। সে সময় একটা ট্রেন দেখলেই সে কেমন চঞ্চল হয়ে ওঠে। যদিও সে জানে না, ট্রেনটা কোথায় যাবে।

বরুণের রিপোর্ট পেয়ে জয়তী মুখ টিপে হাসে, দেখো, আবার কবি-টবি হয়ে যাবে না তো? ঘরের বন্ধ বাতাসে জয়তীর টুকরো হাসি কাঁচের চুড়ির মত রিন রিন করে বেজে ওঠে। জয়তী মুখে যাই বলুক, ব্যাপারটা ভাল করে পরখ করতে একদিন ছুটি নেয়।

ছুটির দিনে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ হতে পিঠ বিছানা পেতেই বালি মাটির মত এলিয়ে পড়ে জয়তী। বাবি ঘুমোচ্ছে। ফুলি তার পিচবোর্ডের বাক্স নিয়ে মশগুল। এখন মাঝে মাঝে দু-চারটাকা তার হাতে দেয় জয়তী। ফুলির সাজগোজের ঠুনকো জিনিষের সঙ্গে তাও জমে থাকে পিচবোর্ডের বাক্সে। বরুণ বলে, ফুলির ব্যাঙ্ক অফ জগদীশপুর।

জয়তীর দুপুরের ভাত-ঘুম জোঁকের মত। একবার লাগলে ছাড়তে চায় না। চোখের পাতায় যেন কেউ পাথর চাপিয়ে রেখেছে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঘুম পাতলা হতে জয়তী দেখল বর্ষাকালের আকাশ মেঘে ঢাকা। যেন সন্ধে হবো হবো। আড়মোড়া ভেঙে বিছানায় উঠে বসতে নজর পড়ল জয়তীর ঢোকার দরজাটা হাঁ করে খোলা। আভ্যাসবশত ডাক দেয় জয়তী – ফু-লি।

কিছু কোনো সাড়া পায় না। অমনি জয়তীর নিভে যাওয়া সন্দেহ মাথা চারা দিয়ে ওঠে- ফুলি নিশ্চয় ছাদে। শিকারী বেড়ালের মত নিঃশব্দে পা টিপে টিপে ছাদে যায়। সারা ছাদ ঘুরে দেখে চোখ কপালে ওঠে জয়তীর- কোথায় ফুলি। তার মেয়েলি মম অনেক কু-গেয়ে ওঠে, ছাদ থেকেপড়ে যায়নি তো। চারতলা আবাসনের ওপর থেকে নিচেটা ভাল করে দেখা যায় না। কটা ঝাঁকা মাথা গাছে দৃষ্টি আটকে যায়। জয়তী ঝড়ের বেগে নিচে নেমে আসে। আঁতিপাতি করে খোঁজে চারপাশ। না কোথাও নেই।

ঘরে ফিরে শুখনো গলায় এক ঢোক জল ঢেলে ফোন করে বরুণকে।

সে কি। ঠিক বলছো তো? বরুণ অবাক।

ঠিক নয়তো কি? মজা করছি আমি? জয়তী খুব সিরিয়াস।

বরুণ ঘরে ফিরলে জয়তী কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, পিচবোর্ডের বাক্সটাও নেই।

তার মানে এটা প্ল্যানিং। বরুণ গম্ভীর হয়ে বললো।

কিন্তু ওইটুকু মেযে কার সঙ্গে পালাবে? ওর তো সেই বোধ এখনও হয়নি? জয়তী আজ কোনো হিসাব মেলাতে পারছে না।

জগদীশপুরে ফোন করতে বরুণের মাথায় হাত। বরুণের মা বললেন, আমিই তোদের ফোন করতে যাচ্ছিলাম। খুসি আজই জানিয়ে দিয়েছে যে, সে আর কাজ করবে না। বাপের বাড়িতে গিয়ে এখন থাকবে। ওর ভাইরা ডেকেছে।

মুখে নাগ হয়। একা যদি  বরুণ মা-কে বলল, তবু তো সে ঘরে আছে পালায় নি; কিন্তু ফুলি গেল কোথায়। ওকে বকাঝকা, মারধোর কিছুই করা হয়নি।

ওইটুকু মেয়ে, যাবে কোথায়। খোঁজ খবর কর। ঠিক পাওয়া যাবে। আশ্বাস দেন বরুণের মা।

বরুণ বাস-ডিপো, রেল-স্টেশন, সিনেমা হল, বাজার- তন্ন তন্ন করে খুজে রাত বারোটায় বাড়ি ফিরে জয়তীকে বলল, আমার এবার খুব ভয় করছে। খুশি বিধবা, ফুলি-ই ওর একমাত্র সন্তান। তারপর খুশি একে আদিবাসি, তার ওপর থাকে সাঁওতাল পরগণায়। কি হতে পারে ভেবে দেখেছ?

সকাল দশটা বাজতে জয়তী আর বরুণ থানায় গিয়ে হাজির। খানার মেজবাবু খাতা-কলম বের করে প্রশ্ন করেন, কি নাম?

বরুণ বললো, ফুলি।

বয়স?

একে একে ফুলির যাবতীয় বিবরণ লিখে নিয়ে গম্ভীর মুখে নিদান দেন মেজবাবু, আশেপাশের পুকুর গুলো ভালো করে দেখুন। জলে ডুবে গিয়ে থাকলে লাশ ভেসে উঠবে। আশেপাশের সবাইকে জানিয়ে রাখুন। খবর চেপে রাখবেন না। আর আজকের মধ্যে না পাওয়া গেলে, একটা অটো জাতীয় গাড়িতে মাইক বেঁধে আসানসোলের প্রতিটা কোনে প্রচার করাবেন। বুঝলেন? এদিকে আমরাও দেখছি।

না পাওয়া গেলে? এক বুক ভয় ঠেলে প্রশ্ন করে বরুণ।

না পেলে ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস হয়ে যাবে। তখন…। পুরো কথাটা বলেন না মেজবাবু।

তখন? ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে জয়তী।

থানা  থেকে ফিরে বরুণ কাছে পিঠের পুকুরগুলো দেখতে বেরোয়। জয়তী বাবিকে কোলে করে আশেপাশের  আবাসনের ঘরে ঘরে খবর দিতে যায়।

খুঁজে – পেতে ফিরতে ফিরতে বরুণের মাঝ রাত। না কোনো কিছুই সে দেখতে পায় নি। গায়ের যেমো জামা খুলতে খুলতে বরুণের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে হাহুতাশ, মহাপাপ করেছিলাম, বুঝলে? এমন শাস্তি কিন্তু এ জীবনে কখনো আর পাইনি। বাপ-রো

জয়তী বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে বলে, বুকটা কেমন খালি খালি লাগছে। মাথা ঘুরছে।

সাত সকালে একটা অটোর মাথায় মাইকের চোঙা বেঁধে বরুণ ঘোষণা করতে বেরিয়ে পড়েছে। জয়তী পই পই করে বরুণকে বলে দিয়েছে, যোষণা করার সময় ফুলি নামটাই বলবে। এখানে ওকে এই নামেই সব্বাই চেনে।

আধমরা হয়ে বরুণ ফিরল রাত এগারটায়। জয়তীও ঘরে বসে ছিল না। যতখানি পেরেছে ঘুরেছে সারাদিন ধরে আশেপাশের বাজার- শপিং মল। জয়তী বরুণের দিকে তাকায়, ঠিক যেন উদভ্রান্ত একটা পাগল। খাড়া খাড়া চুল। বসা বসা লাল চোখ। বরুণও দেখে জয়তীকে, চোখের কোনে কালির ধ্যাবড়া পোঁচ।

বাইরে ভদ্রলোকেদের বস্তির আলো টুপ টাপ করে নিভতে শুরু হয়েছে। শব্দহীন হয়ে আসছে রাত। হঠাৎ পাশের ঘরে ল্যান্ড ফোন জোরে জোরে বেজে উঠতে জয়তী আঁৎকে উঠল। বরুণও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে একটা লাফ দিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে ফোন ধরল। সাহস করে জয়তীও এসে রিসিভারে কান রেখেছে। ভেসে এল খানার মেজবাবুর  বাজখাই কণ্ঠস্বর, বরুণ চক্রবর্তী বলছেন?

হ্যাঁ-হ্যাঁ আমি মানে…। বরুণ খতমত খেয়ে গেল।

মেজবাবু বলেন, ঘণ্টা দুয়েক আগে একটা রিক্সাঅলা একটা মেয়েকে নিয়ে এসেছে। সবুজ ফ্রক পরা। গায়ের রঙ কালো। হাতে চুড়ি। কানে দুল। গলায় সোনালি লকেট।

ওটাই তো ফুলি। বরুণ চিৎকার করে ওঠে।

মেজবাবু একটা ধমক দিয়ে বললেন, খামুন তো মশায়। মেয়েটাকে যতবার জিঞেস করছি, বলছে, আমার নাম সুখুমণি, ফুলি নয়। মেয়েটার নামটা বদলে দিয়ে ভেবেছেন কি? পার পেয়ে যাবেন? অ্যাঁ?

[বানানবিধি লেখকের নিজস্ব]

Tags: , , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2026 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ ।