
দশ বছরে পা দিল অনলাইন সাহিত্যভিত্তিক পত্রিকা ‘গল্পের সময়’। সময়ের হিসেবে এক দশক হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সাহিত্যচর্চার পথে এই দশ বছর মানে অসংখ্য শব্দের জন্ম, অজস্র ভাবনার উন্মেষ, আর পাঠক–লেখকের ভালবাসায় গড়ে ওঠা এক আত্মিক বন্ধন।
‘গল্পের সময়’ শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে—অন্যরকম গল্প বলার স্বপ্ন। যে গল্প দৈনন্দিনতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যে গল্প মূলধারার ভিড়ে চাপা পড়ে যায়, সেই অনুচ্চারিত, অব্যক্ত অনুভবগুলোকেই প্রকাশের আলোয় আনাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। এখানে গল্প মানে শুধু কাহিনি নয়—এখানে গল্প মানে জীবন, সময়, স্মৃতি আর মানবিকতার অন্বেষণ।
এই পথচলা কখনও মসৃণ ছিল না। অনলাইন মাধ্যমের সীমাবদ্ধতা, সময়ের অভাব, অর্থনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছুর মধ্যেই ‘গল্পের সময়’ এগিয়ে চলেছে অনিয়মিত ভাবে নিয়মিত প্রকাশের এক নিজস্ব ছন্দে। কখনও দেরি হয়েছে, কখনও বিরতি এসেছে, তবু থেমে থাকেনি গল্প বলা। কারণ গল্পের সময় বিশ্বাস করে—গল্প কখনও ফুরিয়ে যায় না, শুধু সময়ের অপেক্ষা করে।
এই দশ বছরে যে শক্তিটা সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে, তা হল পাঠক ও লেখকদের ভালবাসা। অচেনা লেখকের প্রথম লেখা থেকে শুরু করে পরিচিত কলমের পরিণত গল্প—সবকিছুকেই সমান যত্নে জায়গা দিয়েছে ‘গল্পের সময়’। পাঠকদের প্রতিক্রিয়া, লেখকদের আস্থা আর শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থনই তাকে বারবার নতুন করে পথ চলার সাহস জুগিয়েছে।
নতুন বছরে পা রেখে ‘গল্পের সময়’ আরও একবার নিজের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে চায়। সে চায় আরও বেশি গল্প বলতে, আরও নতুন কণ্ঠকে জায়গা দিতে, আরও গভীরভাবে সময়কে ধরতে। তার অংশীদার আপনিও। তাই আমরা বলি ‘তুমিও গল্প বল’।
পরিবর্তিত সমাজ, বদলে যাওয়া সম্পর্ক, অদেখা যন্ত্রণা আর অপ্রকাশিত আনন্দ—সব মিলিয়ে আগামী দিনেও ‘গল্পের সময়’ থাকতে চায় গল্পের পাশে, মানুষের পাশে। শুরু হোক গল্প বলা, আমরা মনে করি ‘সব সময় গল্পের সময়’।
সম্পাদকমন্ডলী
গল্পের সময়
Tags: অণু গল্প, গল্প, গল্পের সময়, গল্পের সময় ব্লগ, সাক্ষাৎকার
email:galpersamay@gmail.com

মতামত
আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।