07 Oct

জাগো

লিখেছেন:দেবাশিস সাহা


জাগো /দেবাশিস সাহা/ গল্পের সময়

।। ১।।

আইসে ক্যাইসে চলেগা বিমলবাবু? ব্যাংক মে ইতনা সারা কাম পারা হুয়া হ্যায়। উপর সে আপকা ইয়ে ঝিকঝিক! স্যার হাফ ডে দে দো। স্যার হাফ ডে দে দো। হাফ ডে লেনেকা প্যাগার মিলতা হ্যায় ক্যয়া? কুছ হি দিনো মে নভরাত্রি কা ছুট্টি মিলেগা। ফির ভি? আইসে তো আপকা টার্গেট হোনে সে রাহা! ইয়ে ওয়ালা ব্রাঞ্চ বেচকে মুঝে সন্যাস লেনা পাড়েগা ক্যায়া আপ জাইসে লোগো কে লিয়ে?

ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বর্মা জির এমন ধমক শুনে থতমত খেয়ে গেল বিমল। মিনিট পাঁচেক আগেই স্ত্রীর ফোনটা এসেছিল। চূড়ান্ত দুশ্চিন্তায় পড়ে প্রায় কাঁদতে কাঁদতে তাকে ফোন করেছিল সে –

শোনো না! বাবুর স্কুল থেকে ফোন এসেছিল। কিসব বন্ধুরা মিলে নাকি মারপিট করেছে! বাবুর নাকি খুব লেগেছে। মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়েছে নাকি। হেডমিস্ট্রেস ফোন করে আমাকে বলেছে বাবুকে নিয়ে আসতে। তুমিও শিগগির আসো! আমার ভীষণ ভয় করছে।

ঠিক আছে নির্মলা আমার কথাটা শোনো। কান্না থামাও। তুমি স্কুটিটা নিয়ে বের হও। আমি এদিকে দেখি বস কে বলে বের হতে পারি কিনা। চিন্তা করো না। তুমি এগোও, আমি আসছি।

মনে মনে নির্মলার কথাগুলোই ভাবছিল বিমল। সম্বিৎ ফিরল সেই বসের ধমকেই –

ক্যায়া হুয়া? আপ মাজাক সামাঝ রাখে হ্যায়?

বিমল উত্তরে বলল – নেহি স্যার। অ্যাকচুয়ালি বেটে কা স্কুল সে ফোন আয়া থা। পাতা নেহি কুছ মারপিট কিয়া হোগা দোস্তো কে সাথ। টিচার বোল রাহে থে খুন ভি নিকলা হ্যায় থোড়া। মুঝে যাকে একবার দেখনা পাড়েগা স্যার। ওয়াইফ বহত পারেশান হো রাহি হ্যায়।

জবাবে কিছুক্ষন চুপ করে কি যেন ভেবে বর্মা জি বলে উঠল – তুম বাঙ্গালী লোগ। আওর তুম লোগো কা বাহানা। সহি ক্যাহেতে হ্যায়। বাঙ্গালিকা তিন হাত – দো হাত, আওর এক অজুহাত। যাও দাফা হো!

থ্যাংক ইউ স্যার। – বসের সব অপমান একরকম হজম করে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লো সে।

দুপুরবেলার দিকে লোকাল ট্রেনগুলো সাধারণত ফাঁকাই থাকে, নইলে অফিস টাইমে ঘর ফিরতি ডেলি  প্যাসেঞ্জারদের সঙ্গে  কুস্তি করে জানালার ধারের সিট্ পাওয়া অনেকটা ওই ‘আচ্ছে দিন’ পাওয়ার মত হয়ে যায়। চলন্ত ট্রেনের হাওয়া আর সারাদিনের ক্লান্তিতে কখন হালকা ঝিম পেয়ে গেছে বুঝতে পারলো না বিমল। একেক সময় ভাবে – এ কি ধরণের জীবন বেঁচে চলেছে সে? কোথাও থেকে যদি এককালীন কিছু টাকা পেত, নিজের একটা ব্যবসা শুরু করত সে। আর তারপর, সেই ব্যবসা করে মহানগরীর বুকে একটা নতুন ফ্ল্যাট কিনে স্ত্রী-সন্তান কে নিয়ে সেখানে গিয়ে উঠতে পারত। বাপ-দাদার আমলের রেখে যাওয়া শহরতলির ভগ্নপ্রায় বাড়িটায় আর বাস করতে ইচ্ছে করে না তার। ইদানিং সদ্য প্রোমোটারির পয়সায় লাল হওয়া চান্দিরামের দেওয়া অফারটা নিয়ে তাই খুব ভাবে বিমল। এই তো গতকাল রাতেও ফোনটা এসেছিল –

আরে বিমলবাবু আপনি টেনশন নিচ্ছেন কেনো? আপনার ওই পুরোনো বাড়ির হামি যা ভাও বলেছি, মার্কেটে কোথাও আপনি সে দাম পাবেন না লিখকে লিজিয়ে। আপ সামাঝদার আদমি হ্যায় মহারাজ। ছোঁড়িয়ে ও পুরানা বাড়ি কা মায়া। আপ বাঙ্গালি লোগো কা  মাইনে অকসর দেখা হ্যায়। পুরানা চিজো কো লেকে বহত সেন্টিমেন্টাল হোতে হ্যায় অপলোগ। আরে দুনিয়া কে সাথ আপগ্রেড হোনা শিখিয়ে। নেহি তো বাকিও সে হামেশা পিছে হি রাহে যাইয়েগা। বেচ মারিয়ে ও ঘর। হামারা জো নায়া প্রজেক্ট বন রাহা হে সিটি কে সাউথ মে, ওয়াহা আপকো স্পেশাল ডিসকাউন্ট পে এক থ্রি বি-এইচ-কে দিলা দেঙ্গে।

বিমল ভেবে পায় না কি বলবে। একদিকে অর্থ আর একটু প্রতিষ্ঠিত জীবনের প্রলোভন, আর অন্যদিকে – স্মৃতি, মায়া, পরিচয় আর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আবার নিমেষেই ভাবে, তার এই মধ্যবিত্ত জীবনের অসহায়তা আর প্রতিদিনের জীবনসংগ্রাম থেকে একটু মুক্তি পেতে পারলে কতই না ভালো হত। গতে বাঁধা জীবন যেন এক জেলখানা। সাজা কাটতেই হবে। কোনো নিস্তার নেই!

।। ২।।

একদিকে চরম দোটানা আর অন্যদিকে ছেলের দুশ্চিন্তা করতে করতে কখন ক্লান্তিতে চোখটা লেগে গিয়ে ছিল খেয়াল করে নি বিমল। হঠাৎ ট্রেনের কামড়াটায় একটা তুমুল হইচই শুনে ঘুমটা ভেঙে গেলো তার। ট্রেনের মধ্যে দুজন লোক সমানে ঝগড়া করে চলেছে –

এ বাবু এ। গাওয়ার কিসকো বোলা রে? জ্যায়াদা বাত মাত কারো তুমি সামঝা? হাম বাতা দে রাহে হে তুমকো!

উল্টোদিকের লোকটা বলছে-

নয়তো কি করবি তুই? কি করবি? ঠিক করেছি, গাওয়ার বলেছি! গাওয়ার, আঙ্গুঠাছাপ!! রানিং ট্রেন সে গুটকা খা কে থুক রাহা হ্যায়! কালা অক্সর ভইস বরাবর!

অপরজন আরো তেড়ে-মেরে উঠে গলা খাঁকিয়ে বলল –

হা তো ক্যায়া হুয়া? ক্যায়া করেগা রে? কিসি কে বাপ কা রাজ হ্যায়? হামে জো মর্জি হাম করেগা। তুমি লোগ কুছ নেহি কর সক্তা। কব সে খালি দিমাগ কা দহী কিয়ে যা রাহা হ্যায়। ইয়ে মাত করো, ও মাত করো।

 

গলার ঔদ্ধত্য় শুনে বিমল বুঝতে পারল ঘটনাটা নতুন কিছু না। ট্রেনের আর পাঁচটা লোকের মধ্যে একজন-দুজন বিষয়টা থামানোর চেষ্টা করছিল। বাকিরা নির্বিকার! কেউ হেডফোনে গান শুনে চলেছে, কেউ ডুমস্ক্রলিং এ ব্যাস্ত। জাতির অপমান যেন গা-সওয়া হয়ে গেছে একটা জাতির কাছে। অজুহাত একটাই – “আমার কি?”

বিমলও কানে হেডফোন গুঁজে ফোনে চান্দিরামের নাম্বারটা ডায়াল করলো। রিং হয়ে কেটে গেল কল টা।

।।৩।।

ছেলের স্কুলে পৌঁছে বিমল দেখল স্ত্রী নির্মলা, তাদের ছেলে, আর আরেকটি ছেলে, সম্ভবত তাদেরই ছেলের বয়সী ও সেই ছেলেটির বাবা-মা প্রিন্সিপাল রুমে ভীষণ চেঁচামেচি করছে। নির্মলা বলছিল –

এ আপনি কি বলছেন প্রিন্সিপাল ম্যাম? ছোট ঘটনা মানে? ঘুষিটা আর একটু উপরে লাগলে আমার ছেলেটার নাকে লাগতে পারতো!! আর আমার ছেলে তো বলছে, ও আগে হাত তোলেনি। ওকে ওরা চার – পাঁচজন মিলে পরিষ্কার বুলি করছিল। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?

প্রিন্সিপাল ম্যাম বললেন – দেখুন মিসেস রায়, আমাদের কাছে কিন্তু আপনার ছেলের কমপ্লেনই আগে এসেছে, যে আপনার ছেলেই আগে হাত তুলেছে! সাহু-জির ছেলেরও চোট লেগেছে দেখুন না। সেটা তো এমনি এমনি লাগে নি। আপনি আপনার ছেলেকে বোঝান, এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটলে আমরা কিন্তু ওকে টি. সি. দিতে বাধ্য হব!

এইসব কথার মধ্যেই বিমল লক্ষ্য করল একজন সাফারি স্যুট পরা ভদ্রলোক প্রিন্সিপাল ম্যামের সামনে রাখা চেয়ারে বসে সব কথা চুপচাপ কেবল শুনে চলেছে। হৃষ্টপুষ্ট চেহারা, মোটা গোঁফ, হাতের মোটামুটি সবকটা আঙুলেই মিলিয়ে মিশিয়ে কতগুলো দামি দামি পাথরের আংটি, হাতে ইমপোর্টেড ঘড়িটাও লক্ষ্য করল সে। সাহু জি! স্কুলের ট্রাষ্টিবোর্ডের মেম্বার। স্কুলের অ্যানুয়াল ফাংশানে তাকে আগেও দেখেছে সে।

বাকবিতন্ডায় কান না দিয়ে সোজা ছেলের কাছে গিয়ে বিমল দেখল বেশি কিছু না, তবে থুতনির কাছটা সামান্য ছড়ে গেছে।

।।৪।।

আর কোনো কথা না বাড়িয়ে স্ত্রীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল তিনজন। ফেরার পথে পরিচিত ডেন্টিস্টের চেম্বার থেকে ঘুরে গেল একবার। ডাক্তার বললেন – চিন্তার কিছু নেই, দাঁত নড়ে নি, মাড়ি থেকে সামান্য একটু ব্লিডিং হয়েছে, ও তেমন কিছু না, সেলাই লাগবে না, ওষুধ লিখে দিচ্ছি, খাওয়ান দু-এক দিনে সেরে যাবে।

বাড়ির রাস্তা তখনো আধা ঘন্টা মত বাকি হবে। একটা ট্রাফিক সিগন্যালে স্কুটিটা দাঁড় করাল বিমল। চৌরাস্তাটার মোড়ে তারস্বরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া চালানো হচ্ছে। তবে,  সেদিকে মন নেই তার। সকাল থেকে যা যা হয়ে চলেছে, তাতে তার মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। কিন্তু নিজের একার কথা ভাবলে তো হয় না। স্ত্রী হয়ত দুপুরে না খেয়েই ছেলের স্কুলে ছুটেছে। সন্তানের ওরকম খবর শুনে কোন মায়েরই বা গলা দিয়ে খাবার নামবে? তার উপর প্রিন্সিপালের রুম থেকে বেরোনোর পর থেকে বিমলের সাথে একটাও কথা বলে নি সে। ছেলেটারও মনের অবস্থা কেমন হবে কে জানে? হয়তো ভাবছে তার বাবা কি ভীষণ অপারক! কাপুরুষ! কিন্তু, এই সমাজে যদি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, অর্থ নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক চোখে দেখবার চল থাকত, তাহলে কোনো বাবাই অপারক হত না; কোনো চাকুরীজীবি চুপচাপ মালিকের গালাগাল সহ্য করত না; কোনো ট্রেনের নিত্যযাত্রীরা একটি জাতির অপমানে নির্বিকার হয়ে বসে থাকত না। এই কঠিন সত্যিগুলো তার ছেলেকে কি করে বোঝাবে সে?

বিমল জানে তার ছেলে আইসক্রিম খেতে খুব ভালবাসে। ছেলেকে জিজ্ঞেস করল –

“কি রে, আইসক্রিম খাবি?”

ছেলে হ্যা-সূচক ঘাড় নাড়ল।

স্ত্রীকে বলল –

নির্মলা তুমিও তো দুপুরে কিছু খাও নি বোধ হয়।

ওরকম একটা খবর শুনলে খাওয়া যায়?

বিমল লক্ষ্য করল সিগন্যালটা ক্রস করেই রাস্তার ধরে একটা ভুজিয়াওয়ালার দোকান আছে। বেশ বড়ো আউটলেট, ওখানকার সিঙ্গারা, কচুরি বেশ ভাল। সে আগেও বাড়ির জন্যে নিয়ে গেছে। আর, পাশে একটা আইসক্রিমের দোকানও আছে।

ভুজিয়াওয়ালার দোকানে ঢুকে, স্ত্রী আর ছেলেকে এক জায়গায় বসিয়ে অর্ডার দিতে গেল বিমল। বিলিং কাউন্টারে ছেলেটিকে নতুন মনে হল। আকচার আসা হয়, একরকম মুখ চেনা হয়ে গেছিল।

অর্ডারটা দিতেই যাবে, আবার একটা চেঁচামেচি কানে এল তার। দেখল, দোকানের মালিক একটি কর্মচারীকে চূড়ান্ত অপমান করছে। মেঝে পরিষ্কার করতে গিয়ে ফিনাইলের বালতিটা ভুল করে উল্টে ফেলেছে ছেলেটি। সেই ফিনাইল গোলা জল গড়িয়ে একাকার অবস্থা! বিমলের কানে এলো, দোকানের মালিক ছেলেটিকে বলছে –

দিমাগ নেহি হ্যায় ক্যায়া তুমহারা? ভাঙ খায়ে হো? কুছ কাম-ধাম আতা নেহি হ্যায়, আ যাতে হো মূহ উঠাকে অ্যাডভান্স মাঙ্গনে! ইয়েহি হোগা তুমি লোগো সে! ইসি লিয়ে ইস স্টেট কা কুছ নেহি হোনে ওয়ালা। সির্ফ হাত ফাইলানা আতা হ্যায় তুমলোগো কো!

কর্মচারী ছেলেটি মাথা নিচু করে সাফাই করে যেতে লাগল। বিমল শুনলো কথা গুলো। আজকের দিনটা যেন বড্ড বেশি বাস্তবের আয়না দেখিয়ে যাচ্ছে তাকে। চোখ ঝলসে যাওয়ার জোগাড়!

বিলিং কাউন্টারের ছেলেটি জিজ্ঞেস করল–

স্যার আপকা অর্ডার?

হ্যা, হুম! ছ-টা সিঙ্গারা প্যাক হবে। এই নাও টাকা।

ছ্যায় সামোসা। ঠিক হ্যায় স্যার।

বিমল কি যেন ভাবল, তারপর বলল –

উহু! সামোসা না! আমি বলেছি সিঙ্গারা!

জি স্যার! ছ্যায় সামোসা।

উহু, ছ-টা সিঙ্গারা!

হা। ছ্যায় সামোসা।

ছ-টা সিঙ্গারা!

জি স্যার। হিন্দি মে সিঙ্গারা কো হি সামোসা বলতে হ্যায় স্যার। কিন্তু বাংলায় সিঙ্গারাকে সিঙ্গারাই বলে, সামোসা বলে না!

বিলিং কাউন্টারের ছেলেটি কিছুক্ষন বিমলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। বিমলও নির্বিকার মুখে একটা জয়সূচক ম্লান হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ছেলেটি বিল করে খুচরো টাকা ফেরত দিয়ে পাশের একটি ছেলেকে ভ্রু কুঁচকে বলল – ছে ঠো সিঙ্গারা প্যাক কার দে।

ইতিমধ্যে বিমলের ফোনটা বেজে উঠল। চান্দিরাম! ফোনটা হাতে নিয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো সে, যতক্ষণ না কলটা রিং হয়ে আপনে আপনেই কেটে না যায়।

চৌরাস্তার মোড়ে অবিরত বাজতে থাকা মহালয়ার অনুষ্ঠানে এক পুরুষকণ্ঠ সোচ্চারে গেয়ে উঠল – “জাগো! তুমি জাগো!”

[ বানানবিধি লেখকের নিজস্ব] 

জাগো / দেবাশিস সাহা

Tags: , , ,

 

 

 




  • খোঁজ করুন




  • আমাদের ফেসবুক পেজ

  • মতামত

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।




    Notify me when new comments are added.

    যোগাযোগ


    email:galpersamay@gmail.com

    Your message has been sent. Thank you!

    গল্পের সময় পরিবার
    সমীর
    অগ্নীশ্বর
    দেবাশিস
    চিন্ময়
    পার্থ
    মিতালি
    জাগরণ
    দেবব্রত

    © 2016 - 2026 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ ।