এখন ভোর। অবশ্য পূব আকাশে সূর্য এখনও দেখা যাচ্ছে না। তবে আকাশে বাতাসে পুরানো গরদের কাপড়ের মতো আলো ছড়িয়ে রয়েছে।
সূর্য দেখা যাচ্ছেনা তার কারণ শহর থেকে অনেক দূরের এই গ্রামেও এখন প্রবল বায়ুদূষণ। চোরাই কয়লার খনি থেকে কয়লা তুলে এনে সারা দিন ধরে পোড়ানো হয়। তারই ধোঁয়া এখন ভারি হয়ে দিগন্ত রেখায় জমে আছে। তাই সূর্য দেখা যাচ্ছেনা। দিগন্ত রেখার অন্তত তিরিশ ডিগ্রি ওপরে না উঠলে সূর্য দেখাই যাবে না।
শুভায়নের সামনে পেছনে বিশাল মাঠ। শয্যখেত বললে ভাল হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর সে ভাবে চাষ হয়নি। কারণ বৃষ্টি হয়নি। বিকল্প সেচের ব্যবস্থা ছিল। জলস্তর নেমে যাওয়ায় তা এখন অকেজো। পাম্প ঘরটা ভাঙ্গাচোরা পড়ে আছে। রাতে সমাজ বিরোধীদের আড্ডা।
অজন্মা ভূমি। অবিকল ব্যর্থ মানুষের জীবনের মতো। রুক্ষ, ছায়াহীন, সবুজ উধাও, মাটি ফুটি ফাটা। খুব কষ্ট সহিষ্ণু কিছু আগাছা এখানে ওখানে। ক্ষয়ে আসা আল সীমায় কিছু খেজুর আর বাবলা, তাদের সর্বাঙ্গে কাঁটা।
শুভায়নের মনে হয় এই কাঁটাগুলো যেন বহু দিন বৃষ্টির স্পর্শ পাবার ব্যর্থ স্বপ্নের স্মৃতি।
যেমন ব্যর্থ প্রেমিকের জীবনে থাকে ভালোবাসা না পাওয়ার বেদনা খুব গোপনে। মাঠটার স্থানীয় নাম, শুভ এখানে আসার পর জেনেছে, চাঁদবেনের মাঠ। এখান থেকে দু-কিলোমিটার দূরে মরা নদী নুনিয়া। ক্ষুদে, নুনে, বরাকর এই তিন নিয়ে দামোদর।
তিনের এক নুনে এখানে নুনিয়া।
এখানকার লোক প্রবাদ, এখানকার নদীতেই চাঁদ বনিকের নাও ডুবেছিল।
সেই থেকে মাঠের নাম চাঁদ বনিকের মাঠ।
পশ্চিম বাংলার বহু জায়গাতেই এ ধরণের লোক প্রবাদ আছে । লোক বিশ্বাস আছে।
পঞ্চপান্ডব আর রাম-লক্ষণ বোধহয় ভারতের সব জায়গাতেই কখনও না কখনও পা রেখেছেন সেই রকমই চাঁদ সদাগর। এই মাঠে এই ভোরে দাঁড়িয়ে এই স্থানীয় লোক-প্রবাদ মনে করে শুভায়নের মনে হলো, আসলে চাঁদ সদাগর তো একজন মানুষ নয়, চাঁদ সদাগর আসলে অনেক, অসংখ্য।
নিয়তির পাকে পাকে নিঃস্ব, সব হারানো, একা মানুষ। যেমন শুভায়ন।
ভাল বাড়ির ছেলে। পড়াশোনায় ভাল, তার জীবনটা এমন হবার কথা ছিল?
কলেজে শাষক দলের ঘনিষ্ঠ একজন অধ্যাপক। তিনি কলেজের বাইরে চুলে কলপ করে যুবনেতা।
তিনি শুভায়নের ক্লাসের একটি মেয়েকে বারবার উত্যক্ত করছিলেন। তাঁর সঙ্গে রায়চকের রিসর্টে যাবার জন্য।
সবাই ব্যাপারটা জেনেছিল। নিজেদের মধ্যে রাগ নিন্দা, ছি ছি ক্কার প্রকাশ করছিল। শুভায়নই শুধু প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিল। তার ফল তাকে ভোগ করতে হলো। এটিডিম্ড্ ইউনিভার্সিটি। এখানেই পরীক্ষা এখানেই ফল।
ওঠে না। এই শুভায়ন ফেল করলো। পরে আরো নানা রকম অসুবিধা। ক্যামপাসিং-এর কথাই
আবার সেই সময়েই শুভায়নের মা হঠাৎ মারা গেলেন। ছেলের জীবনের বিপর্যয় দুর্বল হার্টের রুগী শুভায়নের মা সহ্য করতে পারেন নি।
ছিলেন।
ছোটবেলায় বাবা মায়া যাবার পর এই স্কুল শিক্ষিকা মা-ই তাকে বহু কষ্ট করে বড় করে
শেষ। শুভায়ন শ্মশান ঘাটে মার না পোড়া কয়েকটা হাড়ের ওপর ফুল দিয়ে জল ঢাললো। সব
মা লম্বা ছিল, অতবড় শরীরটার অবশেষ ঐ কয়েকটা ছাই হয়ে যাওয়া হাড়। পৃথিবীতে কোথাও তার কোনো চিহ্ন রইল না।
চাঁদ সদাগরের গল্পে নৌকা ডুবলো, তবে এক্ষেত্রে কারণ, কোনো কোপন স্বভাব নারী নয় একজন পুরুষ যিনি প্রকাশ্যে বলছেন আমার অনুগত হও, আমি যা কিছু করবো তাই ন্যায়। আমি লোহার বাসর ঘরে সাপ হয়ে ঢুকবো…. পুরুষ পুরুষ, না নারীও একজন ছিল? না শুভায়ন আর এসব কথা ভাববে না… সে মাঠ ছেড়ে আলপথের দিকে পা বাড়ালো। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই চোখে পড়লো সাপটা। ঘাসের মতো সবুজ রং, পেনসিলের মতো সরু।
কুন্ডুলি পাকিয়ে শুয়ে ছিল। ঠিক তার পায়ের পাশেই, এখন হঠাৎ হিলহিল করে সরে গেল খুব দ্রুত খেজুর ঝোপের দিকে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই, উঁচু আলের ওগাদা থেকে উঠে এলো বাসন্তী, যেন হাওয়ায় ভর করে।
সে শুভায়নকে বলে উঠলো শুভদা এত সকালে এখানে কেন? আমি দূর থেকে দেখে দৌড়ে এলাম…।
বাসন্তী শুভায়নদের মেসে রান্নার কাজ করে। স্থানীয় শাসক দলের চাপে তাকে নেওয়া হয়েছে। এই তিন মাসের মধ্যেই কানাঘুসোয় শুভ শুনেছে সে নষ্ট চরিত্রের মেয়ে। তবে আজকাল প্রকাশ্যে এসব বলা যায় না।
বাসন্তী শুভায়নকে স্যার বলে না শুভদা বলে। অবশ্য সাইটের সবাইকেই সে দাদা বলে, শুধু অরবিন্দ দুবেকে জামাইবাবু, কেন কে জানে?
সে শুভায়নকে দেখে দূর থেকে দৌড়ে এসেছে। কি উদ্দেশ্যে? এ প্রশ্ন মনের মধেও চাপা দিয়ে শুভায়ন বলে ওঠে, একটা সাপ। সবুজ রঙের, কি সাপ বলতো?
বাসন্তী বলে কোথায় সাপ? আমিতো সেই জন্যই ছুটে আসছি। এ মাঠ ভর্তি সাপ। গরমে ভোরের দিকে ঠান্ডা হাওয়া খেতে ওরা সব গর্ত থেকে বার হয়। কোনখানে সাপ? আমি দেখছিনাতো।
শুভায়ন খেজুর ঝোপের নিচে সাপটার দিকে তর্জনী নির্দেশ করলো। ঐ যে সবুজ রঙের। বাসন্তী একটু খুঁটিয়ে দেখে বললো কি জানি কি সাপ। আমি এরকম সাপ আগে দেখিনি।
তারপর বললো আপনি এভাবে মাঠে ঘুরবেন না। এ মাঠ ভর্তি সাপ। লোকে বলে চাঁদবেনে নৌকাডুবির পর যখন এ মাঠে এসে ডাঙ্গা পেয়েছিল তখন মা মনসা চাঁদকে দংশন করার জন্য অনেক বাপ পাঠিয়েছিল। এ মাঠের সাপেরা তাদেরই বংশধর।জয়ন্তী দংশন কথাটা নিখুঁত উচ্চারণ করলো। ওকি পড়াশোনা করেছিল? গ্রামেতো এখন অনেকেই মাধ্যমিক পাশ করে। শুভায়ন মনে মনে বললো মা মনসা চাঁদ বেনেকে মারবার জন্য সাপ পাঠাতে পারেনা কারণ চাঁদ বনিককে বাঁচিয়ে না রাখলে তার চলবে না। বনিক তার পূজা না করলে এ পৃথিবীতে তো মনসার পূজা চালু হবে না।
কিন্তু বাসন্তী কেন তাকে সাবধান করতে ছুটে এসেছে। সেকি শুভায়নকে দিয়ে… তার বদলা…? শরীরের? সাপটা এবার চলতে শুরু করেছে। দেড়ফুট মতো লম্বা।
সাপটার চলা দেখে কি একটা বলার জন্য শুভায়ন বাসন্তীর দিকে মুখ ফেরালো। আলপথের একটু উঁচু ভূমিতে বাসন্তী দাঁড়িয়ে আছে সামান্য দূরে।
শুভায়নের সমউচ্চতায় তার বক্ষদেশ। বাসন্তী শরীরে অপূর্ব সুন্দরী। তার বুকের কাপড়ের কিছুটা অবহেলা মেশানো। আড়াল রাখতে হয় তুই রাখা।
শুভায়নের চোখ যখন এমনিই বাসন্তীর বক্ষদেশে পড়েছে, বাসন্তী খুব আলতো করে কাপড় একটু টানলো, সেটা টানতে হয় তাই টানা।
শুভায়ন বুঝতে পারলো, প্রশ্রয়-প্রশ্রয়, তুমি এ শরীরে স্বাগত, নিজেকে বঞ্চিত করোনা। শুভ চোখ সরিয়ে নিল আর স্বাভাবিক মধ্যবিত্ত নীতিবোধের অভ্যাসে।
তার শরীরে কেন জানিনা একটা তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লো, লক্ষ লক্ষ বছরের পুরুষ অভ্যাসে।
এ চাকরীটা শুভায়ন পেয়েছে তার কলেজেরই এক অধ্যাপকের সাহায্যে। তিনি ‘রিসর্ট’ আখ্যান জানতেন। সমর্থনও করতেন। কিন্তু প্রকাশ্যে কিছু করতে পারেন নি। ভয়, যদি অবসরের আগে কোনো ক্ষয় ক্ষতি হয়।
তিনিই তাঁর এক বন্ধুর ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এ শুভকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। শুভায়ন সামনের বার পরীক্ষা দেবে। এখন মার পেনসন নেই, টাকার দরকার। স্যার বলেছিলেন সরি শুভ আমি কিছু করতে পারলাম না। হতাশ হয়ো না…. এখন এটা করো।
একটা সিমেন্ট কারখানা হবে, তার প্রজেক্ট ওয়ার্ক। জমির মাপজোক, মাটি পরীক্ষা, কারখানার প্রাথমিক নক্সা তৈরী। কাজটা শুরু হবার কদিন পরেই কাজটা বন্ধ হয়ে গেছে। সেই শাসক দল, এই দাবী সেই দাবী, যদিও কিছু-কিছু প্রাথমিক দাবী কোম্পানী মেনে নিয়েছিল। যেমন জনা বারো ছেলেকে নেওয়া হয়েছিল তারা অবশ্য এক-দু ঘন্টার জন্য আসতো, আর বাসন্তী সঙ্গে একটা বুড়ি হেল্লার। তাকে দু-একদিনের বেশি শুভ আসতে দেখেনি।
দাবী মেনে নিলে দাবী বেড়ে যায়। তার পর দাবী করা হলো এখন থেকে মাসে-মাসে স্থানীয় নেতৃত্বকে টাকা দিতে হবে। কোম্পানী রাজি হয়নি…। অতএব কাজ বন্ধ।
সাইট অফিস বলতে একটা টানা লম্বা বাড়ি। মাথায় এ্যাসবেসটাসের ছাদ। গরমে তেদে আগুন। তারই মধ্যে অফিসঘর ও শুভায়নদের সবার থাকার ব্যবস্থা।
যেদিন ভোরে শুভায়ন সাপটা দেখলো, চাঁদবেনের মাঠে সেদিন বিকেল চারটে সাড়ে চারটে সম প্রচন্ড ঝামেলা হলো শুভায়নদের সাইট অফিসে।
না, তার আগে সন্ধ্যাবেলায় একটা প্রচন্ড তোলপাড় করা ঘটনা ঘটেছিল। সেটা অবশশুভায়নের অংছ কাছেই সবকিছু তছনছ করে দেওয়া একটা ঘটনা। অন্যের কাছে কিছু নয়।
শুভায়নের কলেজের বন্ধু সুগত ফোন করে জানিয়েছিল, ইপ্সিতা নামে সেই মেয়েটি, যাকে নিয়ে, যার অপমান নিয়ে শুভায়ন প্রতিবাদ করেছিল, সে ঐ অধ্যাপকের সঙ্গেই শেষ পর্যন্ত রিসর্টে গেছে। গ্রাজুয়েশন হয়েছে এখনও পোষ্ট গ্রাজুয়েশন বাকি আছে… অতএব, হয়তো.. অন্য কিছুও হতে পারে।
সুগতের দুর্বলতা ছিল ইন্সিতার জন্য। যদিও সবাই জানতো ইপ্সিতা শুভায়নকেই…। সুগত বোধহয় ঐ বিশেষ খবরটা শুভায়নকে দিয়ে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছে।
প্রতিশোধ, অনুরাগ এসব এখন শুভায়নের জীবনের বাইরের বিষয়। সে এখন সপ্তভিঙা ডুবে যাওয়া চাঁদবেনে। পড়াশোনা গেছে, মা গেছে, ইপ্সিতার সঙ্গে তো কোন যোগাযোগই ছিন্দ্র না। তবে এসব কথা সে ভাববে কেন?
এই রকম ভাবতে ভাবতেই সে সারারাত ঘুমতে পারেনি। তারপর খুব ভোরে এসে দাঁড়িয়েছিল চাঁদবেনের মাঠে, যেখানে সে সবুজ সাপটা দেখলো। না শুধু সাপ নয়, তার সঙ্গে বাসন্তী নাকি নষ্ট মেয়েছেলে।
ওপর
দূর থেকে ছুটে এসেছে বলে তার বুক দুটি দ্রুত নিঃশ্বাসের তালে উঠছে বসছে, তার ওফর ঠোঁটের ওপর বিন্দু-বিন্দু ঘাম। কেন? *
শুভায়ন তার চেনা জীবন থেকে এত দূরে চলে এসেছে যে এখানে তার কাছে সবই
অচেনা, সবই অদ্ভুত।
সে যাক ঠিক সেদিন বিকেলবেলা। কোথাও কিছু নেই হঠাৎ জনা তিরিশ লোক এসে
কোনো কিছু না বলেই সাইটে ভাঙচুর শুরু করে দিল। গাড়িটার কাঁচ ভাঙলো, তারপর আগুন জ্বালিয়ে দিল। অফিস ঘরে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙলো। কম্পিউটারটা আছাড় মেরে ভাঙলো। শুভায়নের মোবাইলটাও আছাড় মেরে ভাঙ্গলো।
মুখে চিৎকার শালা, মদ-মেয়েছেলে নিয়ে ফুর্তি হচ্ছে। গ্রামের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। হামলাকারিদের মধ্যে শুভায়নদের এখানে কাজ করা দু-একজন ছেলেও আছে….।
শুভায়ন অবাক হয়ে ভাবলো মেয়েছেলে, বাসন্তীকে তো এরাই এখানে জোর করে ঢুকিয়েছে। আর মদ? সেতো অরবিন্দ দুবে ছাড়া কেউ খায়না। অবশ্য তার সঙ্গে এ গ্রাম থেকে কাজে নেওয়া দু-একজন ছেলেও যোগদেয় তার জন্য পরিবেশ?
ভাবনার ঠিক এই মুহূর্তেই শুভায়নের ঠোঁটের ওপর একটা ঘুঁসি সজোরে এসে পড়লো। টেবিলের কাঁচের ওপর কয়েক ফোঁটা রক্ত টপ-টপ করে পড়লো। কাঁচটা আগেই ভেঙে গেছে তার খাঁজে রক্ত ঢুকে গেল।
ইস ভাগ্যিস মা আগেই মারা গেছে। তা শুভোর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে দেখলে কি যে কষ্ট পেত।
ঘুঁষি চালানোটাই শেষ নয়, পাশের আর একটা লোক যার হাতে একটা রড ছিল সে সেটা সজোরে শুভায়নের ডান কাঁধে মারলো। ইলেকট্রিক শক লাগার মতো লাগলো। শুভ বুঝলো হাতটা ভেঙ্গে গেছে। সে টলে পড়ে গেল ঘরের কোণে।
ওরা বোধহয় ইলেকট্রিকের লাইন কেটে দিয়ে গেছে। ঘর অন্ধকার। কোথাও কোনো শব্দনেই। শুভায়ন দু-একবার ডাকলো। দুবেজি, কার্তিক আর সহকর্মীদের নাম ধরে কেউ সাড়া দিলনা। সে কোনো ক্রমে দেওয়াল ধরে উঠে টলতে টলতে ঘরের বাইরের দিকে পা বাড়ালো। অনেকক্ষণ নৌকায় থাকার পর ডাঙায় নামলে মনে হয় এখনও সবকিছু ঢেউ-এর দোলায় দুলছে। চাঁদবেনে যখন নৌকা ডুবির পর ঐ নুনিয়ার তীরে এসে দাঁড়িয়েছিল তখনও কি তার ঐ রকম মনে হয়েছিল? যেমন শুভায়নের এখন মনে হচ্ছে। দরজাটা পেরিয়েছে ঠিক সেই সময় মনে হলো সমস্ত জমিটা উল্টে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাসন্তী এসে তাকে ধরে ফেললো। তারপর আস্তে আস্তে ধরে নিয়ে যেতে লাগলো ঘরের দিকে।
চারিদিকে অন্ধকার। মোবাইলটা ভেঙে দিয়েছে। শুভায়নের সঙ্গে এখন সারা পৃথিবীর কারো কোনো যোগাযোগ নেই। তাছাড়া মা মারা যাবার পর তার তো এ জগতে সেভাবে কেউই নেই। প্রতিষ্ঠাও নেই, পরিবারও নেই, ভালবাসা নেই….শুধু একটা আহত শরীর আছে। আর বাইরে চিরকালের পৃথিবী। উদাসীন অবিকার…। বাসন্তী তার কমদামী মোবাইলের আলোটা জ্বেলেছে ওরই মাঝে কিভাবে কে জানে। আলো নয়, আলোর উপহাস। সেই অল্প আলোতেই শুভ দেখলো সকালবেলার সেই সবুজ সাপটা ঘরে ঢোকার দরজার পাশে চুপ করে শুয়ে আছে।
এই দীর্ঘ খরার দেশে, যেখানে রোদে জ্বলে গিয়ে গাছের পাতাগুলোও তামাটে রঙের। মাটির তলায় কয়লা তাই মাটি ঘাসহীন ধুসর সেখানে একটা সাপের গায়ে এত নরম সবুজ রং কিভাবে আসে কে জানে!
[বানানবিধি লেখকের নিজস্ব]
মতামত
আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেল গোপনীয় থাকবে।