গল্প পড়ুন

এই মুহুর্তে বাংলা ভাষায় লেখালিখি করেছেন এমন গল্পকারের সংখ্যা কত? সত্যি বলতে কী ‘গল্পের সময়’ তা জানে না। কয়েকজন ব্যাক্তি ও কয়েকটি সংস্থা উদ্যোগ নিয়ে দুই বাংলায় লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের নথিভুক্তকরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তা কোনও ভাবেই সম্পূর্ন নয় বা হওয়া সম্ভব নয়। কারন প্রতিনিয়তই লেখালিখির জগতে আসছেন বহু মানুষ। ইন্টারনেটে বাংলা গল্পের ম্যাগাজিন করতে গিয়ে আমরা লক্ষ্য করেছি অনেক লেখকই এখনও কম্পিউটার এড়িয়ে চলেন। কাগজ-কলমেই তাঁরা স্বচ্ছন্দ। চিরাচরিত ছাপা ম্যাগাজিন, লিটল ম্যাগ, শারদসংখ্যা বা সংবাদপত্রের সাময়িকীতেই তাঁরা লেখালিখি করেন। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে স্বচ্ছন্দ একদল লেখককুল রয়েছেন। তারা ফেসবুকে পোস্ট করছেন, ব্লগ বানাচ্ছেন, ই-ম্যাগাজিনেও লিখছেন। ‘গল্পের সময়’ এই দুই পক্ষকেই চায়। নবীন ও প্রবীন গল্পকারদের গল্প পড়ুন এই পাতায়।


  • প্যারাসিটামল

    আরতি এই ছেলেটাকে একদম সহ্য করতে পারে না।অথচ সকাল হলে সবার আগে ওর মুখটাই দর্শন করতে হয়।ভোরের আলো ফুটলেই তাকে ধড়ফড় করে বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়।রাতের কাপড়টা ছেড়ে অন্য একটা শুদ্ধ কাপড় পরে ঘরে-বাইরে কয়েকটা জায়গায় গোবর জল বুলোতে হয়।আর তখনই ছেলেটা পেপার নিয়ে হাজির হয়।ছেলেটার চোখের নজরটা বড্ড খারাপ। আগে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ  তার […]


  • ধাক্কা

        দুপুরে বিছানায় শুয়ে ঘুম আসছিল না শোভনের । পাশ ফিরতেই চোখ পরে একটু দুরে রাখা ড্রেসিং টেবিলের আয়নাতে । বনলতা একমনে বসে বই পড়ছে, বিছানার পাশে রাখা টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে । শোভন জানে খানিকটা পড়ে তবে ও শুতে আসবে । নীল আলোতে লতার মুখের ওপর একটা আভা ফুটে উঠেছে । তবু বয়সের আঁকাজোকা যেন […]


  • দাদুভাই

    -‘আচ্ছা দাদান, এই তারাগুলোর মধ্যে ঠাম্মা কোনটা?’ -‘ওইযে দাদুভাই সবচেয়ে বড়ো তারাটা দেখো, কী উজ্জ্বল, ওটাই তোমার ঠাম্মা’। -‘দাদান, সব মানুষই কি মরে গেলে আকাশের তারা হয়ে যায়?’ -‘না দাদুভাই, যারা ভালো কাজ করে, কক্ষনো মিথ্যেকথা বলে না শুধু তারাই তারা হয়ে আকাশের কালো বুকটাতে ঝিলমিল্ করতে থাকে’। -‘আচ্ছা দাদান, তারাদের কি কখনও ধরা যায়?’ […]


  • শোকের অধিকার

    [যশপাল হিন্দি সাহিত্যের প্রখ্যাত প্রগতিশীল কথা সাহিত্যিক। সামাজিক বৈষম্য দূর করে সমাজে সকলের সমান অধিকারের দাবিতে সাহিত্যকে তিনি একটি হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর লেখা উপন্যাস – দিব্যা, দাদা কমরেড, অমিতা, ঝুঠাসচ, মনুষ্য কে রূপ। অন্যান্য রচনা – ন্যায় কা সংঘর্ষ, গান্ধীবাদী কি শবপরীক্ষা ইত্যাদি। – অনুবাদক( ননী শূর)] পোশাক মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার […]


  • মাছি

    [ক্যাথরিন ম্যানসফিল্ড-এর জন্ম, ১৮৮৮ সালে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন শহরে। তাঁর শিক্ষাজীবনের বেশ কিছুটা লন্ডনে, এবং সেখান থেকেই তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু। ১০১২ সালে বিখ্যাত সমালোচক এবং সম্পাদক মিডলটন মারির সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং পরে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। ইতিমধ্যে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধে তাঁর ভাই লেসলি মারা যান। এই ঘটনা তাঁর সাহিত্য জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত […]


  • একটি তুলসীগাছের কাহিনী

    ধনুকের মতো বাঁকা কংক্রিটের পুলটার পরেই বাড়িটা। দোতলা, উঁচু এবং প্রকাণ্ড বাড়ি। তবে রাস্তা থেকেই সরাসরি দণ্ডায়মান। এদেশে ফুটপাত নাই বলে বাড়িটারও একটু জমি ছাড়ার ভদ্রতার বালাই নাই। তবে সেটা কিন্তু বাইরের চেহারা। কারণ, পেছনে অনেক জায়গা। প্রথমত প্রশস্ত উঠান। তারপর পায়খানা-গোসলখানার পরে আম-জাম-কাঁঠালগাছে ভরা জঙ্গলের মতো জায়গা। সেখানে কড়া সূর্যালোকেও সূর্যাস্তের ম্লান অন্ধকার এবং […]


  • স্থিরবিন্দু

    চন্দনা বলেছিল এই শরীর নিয়ে বেরুবে? ‘না বেরিয়ে উপায় কি? আমাকে নিয়ে এই কটা দিন তুমি কতো কষ্ট করে সংসার চালিয়েছো।এভাবে ঘরে থাকাটা আরো যন্ত্রণার। হরিপদর গায়ে হাত রেখে চন্দনা বলে জ্বরটা এখনো আছে। এই শরীর নিয়ে বেরুলে আমি খুব দুশ্চিন্তায় থাকবো। হেসে উঠেছিল হরিপদ। আমাদের আবার দুশ্চিন্তা? চিন্তা করলে তার কিছু না কিছু একটা […]


  • ক্যাক্‌টাস

      রমনীমোহনের প্রাসাদোপম বাড়ির কারুকার্য করা বিশাল লোহার গেট, সেটা খোলা। তারপরে আবার একটা কোলাপসিব্‌ল গেট। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে চাঁদু, অর্থাৎ চন্দ্রনাথ। অবশ্য সেটা এখন আর বোধহয় কেউ মনে রাখেনি। সবাই বলে চাঁদু। চাঁদু নিজেও জানে তাকে ঐ নামে সম্বোধনের সময় সবাই একটা তাচ্ছিল্যের ইঙ্গিত ছুড়ে দেয়। এটাও জানে পাড়ায় যে কোনো বাড়িতে সে […]


  • ঋকের বড় হওয়া এবং তারপর…

    (১) সিঞ্চিনি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখল ব্রেসিয়ারটা নেই। সিঞ্চিনি বরাবরই বাথরুমে স্নান করতে ঢোকার আগে খাটের ওপর ম্যাক্সি, পেটিকোট, প্যান্টি আর ব্রেসিয়ারটা রাখে। প্রথমে পেটিকোট। তারপর ব্রেসিয়ার আর প্যান্টি। ব্রেসিয়ার-প্যান্টির ওপর ম্যাক্সিটা চাপা দিয়ে রাখে। অনেক দিনের অভ্যাস। গা মুছে গামছাটা পেঁচিয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে ঘরে এসে ওগুলো পরে নেয়। আজ বাড়িতে কেউ নেই। বিতানের […]


  • ভোঃ

    ‘ক’ আর ? আর কি নেব বল্ ? ফোনের  এপারে মেয়ের মানে আমার গলা- একটা  স্বপ্ন, দু’চারটে ভাল চিন্তা, দু’চারটে দুশ্চিন্তা,আর ভরসা। যা নিয়ে  সকালে উঠবি। হ্যাঁ তা নিভ্ভরসা হ’য়ে যাওয়া নয় বলেই তোরা তিন তিনটে ভরসা বলিস্ ,আস্থা বলিস , না তো বোন্ বোনধ্ , হ্যাঁ তা বোনন- ধ-উ – ইচ্ছে করে তোত্লাচ্ছিস কেন? […]


  • মেঘ বালিকা

    ঠিক পাঁচটায় টয়েটো গাড়িটা এসে দাঁড়ালো এয়ারপোর্টের গেটের সামনে। নেমে পড়লাম তিন বন্ধু। গাড়ি থেকে লাগেজ নামিয়ে  ট্রলি-গাড়িতে চাপিয়ে আস্তে আস্তে এগোতে থাকলাম। ‘সেলাম সাব’ , ড্রাইভারের গলা শুনে হঠাৎই খেয়াল হল তাকে  কিছু বকশিশ দেওয়া হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, ‘দেবাশিস ,আমরা ট্রলিটা দেখছি। তুই ড্রাইভার দাদাকে কিছু টাকা দিয়ে আয়’। আমার কথা শুনে দেবাশিস […]


  • আমার ছেলে কিচ্ছু খায় না

    ডাক্তারের উল্টো দিকের চেয়ারে বসে মুখ কাঁচুমাচু করে কাজরী বললেন, ডাক্তারবাবু, আমার ছেলে কিচ্ছু খায় না। এর আগেও দু’জন চাইল্ড স্পেশালিস্টকে দেখিয়েছিলাম। এই যে তাঁদের প্রেসক্রিপশন… বলেই, আগে থেকে বের করে রাখা তিন-চারটে কাগজ উনি এগিয়ে দিলেন ডাক্তারবাবুর দিকে। ডাক্তারবাবু সেগুলিতে চোখ বোলাতে লাগলেন। কাজরী আবার বললেন, ও কিচ্ছু খাচ্ছে না, কী করা যায় বলুন […]


  • একজন সামান্থার গল্প

    বহু রাত পর আজ সামান্থা  ঘু্মোতে পেরেছে। বহুদিন পর আজ সে সকালের  স্নিগ্ধ নিষ্পাপ আলোর বিচ্ছুরণ দেখেছে অন্য রকম এক ভাল লাগায় নিজেকে ঢেলে দিয়ে। আজ সকালের কফি তাকে মিষ্টি করে শুভাশিস জানিয়েছে। সরে গেছে তার জীবন থেকে কালো রাহুর গ্রাস। কাল রাতে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে ফ্রেডিকে। অনেকগুলো দিন সহ্য করেছে সে দাঁতে দাঁত […]


  • সেফ কাস্টডি

    আজকেই শেষ হয়ে যেত তরকা। শেষ মানে একেবারে খতম। এ তল্লাটে আর চুরবুড়ি মারাতে হত না। দাগী স্বপনের ভাই কেলেজনা গতরাতে খতম হয়ে যাওয়ার খরবটা শোনার পর থেকেই ব্যাপারটা একটু একটু করে অনুভব করতে পারছিল তরকা। চারপাশেই স্বপনের দলের ছেলেগুলো ওকে নজরে রাখছিল। অর্থাৎ সুযোগ খুঁজছিল। তরকাও এখান থেকে পালাবার তাক করছিল। কিন্তু পালানো ব্যাপারটা […]


  • প্রত্যাবর্তন

    ঝাঁ-চকচকে পিচরাস্তাটা ধরে যেতে যেতে কুড়ানী ভাবল,সত্যিই দেশটার কি উন্নয়ন! আর মানুষ গুলোর কোনো ভাবনা নেই।বর্ষাতে আর ছ্যাপ-ছ্যাপে কাদা মাড়িয়ে,লুঙি-কাপড় গুটিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে হবে না কাউকে।গ্রামের ছেলে-মেয়ে গুলোকে আর ঠেলে-ঠেলে সাইকেল পার করে স্কুলে যেতে হবে না—এখন পাকা রাস্তা!লোকের কথা চিন্তা করলে কি হবে,কুড়ানী নিজে কখনও জুতো পরে না।জুতো থাকবে কি করে ওর পায়ে?খালি […]


  • কবিরাজ

    সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে । কয়েকদিনের গুমোট গরমের মধ্যে এই বৃষ্টিটুকু যেন খোদার আশির্বাদ । সারাদিন ঘরের মধ্যে বসে থেকে হামজা মোল্লার মন উসখুস শুরু হয়েছে । হামজা মোল্লা গ্রামের একমাত্র নামকরা কবিরাজ । সংসার খুবই ছোট । কিন্তু মনে সুখ নেই , সংসারে নেই শান্তি । হামজা সহজে হাল ছাড়ার লোক না । […]


  • হ্যালুসিনেশন

    আবার সেই ছাতিম ফুলের সুঘ্রান। এই গন্ধটা নাকে এলেই আমি আর নিজেকে নিজের ভেতর পুরে রাখতে পারিনা। আমার ভাবনাগুলোতে কেমন জট পাকিয়ে যায় সুগন্ধী বাতাসে। বাস্তব জগত থেকে কেমন একটা স্বপ্নিল কল্প রাজ্যে ঢুকে পড়ি আচমকা।আমার অবস্থানটাই বদলে যায় দ্রুত। তখন নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ ভুলে যাই আমি। কোথায় আছি, কোথায় যেতে চাই কিছুই বুঝতে পারিনা। […]


  • নজরদারি

    হুমদোমুখো লোকগুলো জেরা করেই চলেছে। কঠিন সব প্রশ্নের জালে ক্রমশ পেরে ফেলছে স্বপ্ননীলকে। স্বপ্ননীল ভাবছে, তাহলে গোপনীয় বলে কিছুই নেই। সে কবে ওলা বা উবরে কোথায় গিয়েছিল, ওহো! ক্যালকাটায় কবে কার সঙ্গে গিলে কত টাকা ডিজিটালে পেমেন্ট করেছে, সবই ওদের জানা। এমনকি পাতি হলুদ ট্যাক্সিতে হাওড়া স্টেশনে গিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে আসা কয়েকজনের সঙ্গে সে যে […]


  • চলচ্চিত্র

    ছবি অনেকটাই প্রতীকী। এক একজনের ছবি এক এক রকমের। প্রতিটি ছবির মধ্যে একটা সময় ঢুকে থাকে নিজের মত করে। তবে ছবিও যে হেঁটে যায় তার ছবি না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত। পাশের গ্রামের ছবি পিসি। হ্যাঁ ওই নামে বেশী চিনি। টাইটেল টা বলা শক্ত, আসলে পাগলদের টাইটেল কোনোকালেই ছিল না। অবশ্য ঠিক কি কারণে পাগল […]


  • তৃতীয় নয়ন

                                                                                                        ১  তীব্র শীতের মতো এক দেশ। খাঁ খাঁ প্রান্তর, কুয়াশা মোড়া, নিঃস্তব্ধ, কোলাহলহীন। সে কি আগে এসেছে এখানে ? কখনো ? কই চিনতে পারছে না তো কাউকে। কেমন সব অলীক মুখ চোখের মানুষজন, অচেনা অঙ্গভঙ্গি, অদেখা  পরিবেশ! অনুভূতিহীন চোখ মেলে সে তার চারপাশ দেখে নেয়। না তার ভয় করছে না। […]


  • চেনা-চেনা লাগে

    [১] কালিদাস মাধ্যমিক (উচ্চমাধ্যমিক) বিদ্যালয়ে শুভম যেদিন অঙ্কের পার্টটাইম শিক্ষক হিসেবে জয়েন করল সেদিন সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টির দাপট ছিল মনে রাখার মতন। সারা আকাশ কালো হয়ে রয়েছে, সঙ্গে অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত আর উথাল-পাথাল ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডব। এত খারাপ আবহাওয়া বছরের এই সময়টা সচরাচর হয় না। কিন্তু হয়েই যখন গেছে তখন কি আর করা! প্রথম দিন, […]


  • কীট

    ১ সারাদিন অখণ্ড অবসর। জীবন বড়ো নিস্তরঙ্গ। কাছেই কোথাও কোকিল ডাকছে। আর তার সাথে আসছে ছাতারে পাখিদের হিসেব না মেলা ঝগড়া। বড় খেয়ালী এ সকাল। আর খুব আলতো। মুঠো করে না ধরলে যেন ঝরে যাবে। শব্দ বলতে একটা হচ্ছে বটে। গুনগুন,গুঞ্জন। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন দীপান্তবাবু। ফেলে রাখা.. পড়ে থাকা তানপুরা থেকে একটা ভ্রমর বেরিয়ে আসছে। […]


  • সুক্ষ্ম শরীরে

    ত্রিলোকনাথ গোস্বামী প্রতিদিনের মতই নিজের সাধনায় বসেছে।      দুধওয়ালা শুভ, প্রতিদিনের মত দুধের প্যাকেটটা নিয়ে আসল – ত্রিলোকনাথের ঘরের সামনে। দুটো টোকা মারল দরজার উপর। ভালো করে ত্রিলোকনাথের দিকে তাকিয়ে দেখল, সে পদ্মাসনে বসে রয়েছে। ত্রিলোকনাথ কোনো সারা না দেওয়াতে – শুভ নিজেই ঘরে ঢুকে, টেবিলের উপর রাখা পাত্রে – দুধের প্যাকেটটা রেখে দিল। শুভ-র বয়স […]


  • নটে গাছ

    লিচু গাছের নীচে আধ শোয়া হয়ে ঝিমোচ্ছিল নিশিকান্ত। খোঁচা খোঁচা দাড়ি গোঁফ। শুকনো হরিতকির মতো পাতলা চেহারা। কোমর থেকে গোড়ালি ঢাকা চেক লুঙ্গি। খালি গা। ধারালো চোখ। বাঁশ ডগলার মতো মাথা ঝুঁকে, লিচু তলায় বসে আছে। বসে আছে মানে মতলব ভাঁজছে। লোকে আড়ালে বলে আড় কাঠি। আড়কাঠি মানে ‘সাপের হাঁচি বেদে চেনে’। সেটা হলো সাপের […]


  • আকাশ অন্ধকার

    ছেলে পিনাকী বিয়ে করে বাইরে চাকরি নিয়ে চলে গেছে অনেকদিনই হয়ে গেল। ভারতীর ঘরটা একটু ফাঁকা ফাঁকা ঠিকই কিন্তু বিদ্যাচরণ স্ত্রীকে সেই ফাঁকটা কখনই বুঝতে দেননি। সব সময় স্ত্রীকে সঙ্গ দিতেন। রিটায়ারমেন্টের পর একটা এনজিও-তে জয়েন করেছিলেন তাও সেইসব কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। এই বয়সেও ভারতীর যা কিছু অপূর্ণ আশা সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করেন বিদ্যাচরণ। […]


  • ভাত

    ‘খবরদার! আমার মাকে নিয়ে একটাও খারাপ কথা বলবেন না’ তেরো বছরের তিনুর মাথায় খুন চেপে গেলো, তার দুচোখে আগুন। এমনিতে তিনু খুব শান্ত, সাত চড়ে রা কাড়ে না। রোজ ভোরবেলায় উঠে সকালের লোকাল ধরে ডানকুনি থেকে চলে আসে শিয়ালদায়। এখানে এই ভাতের হোটেলে কাজ করছে একবছর হলো। মাইনে ছাড়াও সকালের জলখাবার আর দুপুরের খাওয়াটা ফ্রি। […]


  • ঋ-তানিয়া

    না। তানিয়া কিছুতেই কথা বলছে না। ওকে কথা বলানোর জন্য গত দু’দিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে ঋ। তবুও একটা বর্ণও উচ্চারণ করছে না ও। কথা বলছে না মানে যে কোনও কাজ করছে না, তা নয়। সেই অষ্টমঙ্গলার গিঁট খুলে এ বাড়িতে আসার পর থেকে ও যা যা করে, মুখ বুজে তা-ই করে যাচ্ছে। সকালে […]


  • নিশি পাওয়া

    ক্রিং .. ক্রিং .. ক্রিং .. টেলিফোনটা বেজে উঠলো। মাথার কাছে রাখা টেলিফোনটা বেজে উঠতেই ঘুম জড়ানো চোখে সচকিত ডাঃ বিকাশ মণ্ডল। ঘড়ি দেখলেন। বাজে রাত ২টো। এত রাতে কার কি হল? তড়ি ঘড়ি বিছানা থাকে উঠে ফোনটা ধরলেন ডাঃ মণ্ডল। – হ্যালো? কে বলছেন? – ডাক্তারবাবু! আমি তড়িৎ বলছি। বিবেকানন্দ আশ্রম থেকে। এত রাতে […]


  • যদি এমন হত

    হ্যালো সুমিত্র বলছি। ও আন্টি, বলুন, হ্যাঁ আমি বাসে, হাওড়া জাচ্ছি। না, আত্রেয়ী তো আমার সঙ্গে নেই। হ্যাঁ আমরা সবাই আজ কলেজে গিয়েছিলাম। এস এস ম্যামের কাছে প্র্যাক্টিক্যাল খাতা জমা দিতে, না, আত্রেয়ী তো আজ কলেজে আসে নি। কী বলছেন! কলেজে যাবে বলে ও সেই দুপুরবেলায় বাড়ি থেকে ব্যাগপত্র নিয়ে বেরিয়েছে। না না, আমি তো […]


  • কর্পোরেট

    – তাহলে আপনি আপনার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছেন। আমি কয়েক সেকেণ্ড কোনো কথা বলতে পারলাম না। আবছা আলোয় ভদ্রলোককে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে – বয়স পঞ্চাশের বেশি বলে মনে হচ্ছে না। গলায় অদ্ভূত এক যান্ত্রিক কাঠিন্য। বোধহয় স্যুট পরে আছেন। বোধহয় কেন, নিশ্চিত। এখন বেশ ঠাহর করা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে চোখও সয়ে যাচ্ছে। আমি […]


যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ।