জীবনের গল্প

আজ যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি হিলসে সবচেয়ে দামি বাড়ির মালিক, ছোটবেলায় মেদিনীপুরের অজ পাড়াগাঁয়ে পয়সার অভাবে পায়ে চটি জুটতো না তার। যাঁর গাণিতিক বিশ্লেষনে মহাবিশ্বের গতির পরিমাপ করেন বিজ্ঞানীরা, ছোটবেলায় তাঁকেই অঙ্ক পরীক্ষায় দশ এর বেশী নম্বর দিতে পারেননি স্কুলের মাস্টার। মানুষের জীবনের ঘটনা এইরকমই নানা ছন্দহীনতায় ভরা। নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে ছুটে চলা হাউই বাজির চেয়েও আশ্চর্য উত্থানপতন ঘটে জীবনের নানা গতিপথে। নির্মম দারিদ্র্য, প্রতিকুলতা, প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলা কোনও কোনও সাদাকালো জীবন আমাদের শেখায় রঙিন পাখনা মেলার কাহিনী। আবার রঙিন স্বপ্নের ফানুস ফেটে বাস্তবের মাটিতে গোঁওা খাওয়ার উদাহরণও কম নেই। নামী-থেকে অনামী, ধনী থেকে গরীব, শিল্পী থেকে শ্রমিক – খুব কাছ থেকে দেখা নানা মানুষের জীবনের গল্পটাকে আমরা তুলে আনতে চাই। কারন, সব জীবন নয় সমান।


  • নজরুল ইসলাম

    পনের বছর বয়সে আমি ‘প্রবাসী’র গ্রাহক হয়ে দেখি, প্রথম সংখ্যাতেই প্রকাশিত হয়েছে দু’পঙক্তির একটি কবিতা, পৃষ্ঠার একেবারে তলায়। কবির নাম হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম। কবিতার দ্বিতীয় পঙক্তির শেষ অংশ ছিল – ‘পশবে তোর ও নাসায়।’ তারপর কেটে গেছে আশি বছর। যতদূর মনে পড়ছে, কবিতাটি ছিল হাফিজের কোনও প্রেমের কবিতার মর্মানুবাদ। এর আগে কাজী নজরুল ইসলামের […]


  • রবীন্দ্রনাথের চিকিৎসা ভাবনা

    জোড়াসঁকোর ঠাকুর পরিবারের অন্দরমহলের বৈঠকখানায় ঝোলানো একটা পূর্ণাবয়ব মানব স্কেলিটন। গাঢ় অন্ধকারে গা ছমছম করে। এক অজানা ভয়ে হিম হয়ে যায় সারাটা দেহ। তবুও ভয়ডর নেই  সদ্য যুবক রবীন্দ্রনাথের। গৃহশিক্ষক একজন মেডিকেল কলেজে পড়া ছাত্র। তার কাছে জানার অন্ত নেই অল্প বয়সী যুবকের। ওই বয়সেই মুখস্থ মানবদেহের সব হাড়গোড়ের নাম। এমন কি দেহের মধ্যে হাতে […]


  • রাহুল সাংকৃত্যায়ন – একটি বর্ণময় জীবন

    [রাহুল সাংকৃত্যায়ন ছিলেন ভারতের একজন স্বনামধন্য পর্যটক, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত, মার্কসীয় শাস্ত্রে দীক্ষিত । তিনি তাঁর জীবনের ৪৫ বছর ব্যয় করেছেন বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে। তিনি বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাদাতা হিসাবেও প্রসিদ্ধ ছিলেন। বলা হয়েছে তিনি হিন্দি ভ্রমণ সাহিত্যের জনক। ভোলগা থেকে গঙ্গা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ। বৌদ্ধ দর্শনে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসামান্য। কাশীর […]


  • ‘লেখালিখি’ জীবনের গল্প

    [সাহিত্যের সাধক সাধিকাদের জীবন চিরকালই অন্যরকম, কখনও কখনও বিচিত্র। সাহিত্যের কারবারি হবেন বলে অনেকে যেমন কাগজ-কলমকে আপন করে নিয়েছেন আবার অনেকেরই সাহিত্য জীবনে প্রবেশ অকস্মাৎ, নাটকীয়তায় ভরা। এক-একজন লেখকের লেখায় যেমন সমাজ জীবন আলোড়িত হয়েছে তেমনই সামাজিক ঘটনার তীব্র প্রভাবে সাহিত্য শ্রষ্ঠার কলম গতি পেয়েছে এমন ঘটনাও কম নেই। জীবনের এইরকম নানা ঘটনার কথা নানা […]


  • বাংলার বিস্মৃত কথাকার সাবিত্রী রায়

     [সাবিত্রী রায়ের জন্ম ১৯১৮ সালের ২৮ এপ্রিল। চল্লিশের দশকের নানা রাজনৈতিক আন্দোলন, বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট,দুর্ভিক্ষ, কৃষক আন্দোলন, দাঙ্গা, দেশভাগ ইত্যাদির পাশাপাশি পল্লীজীবন ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে লেখিকা পরম মমতায় অঙ্কন করেছেন। বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে সমসাময়িক যুগ ও জীবনের চিত্র। তাঁর সৃষ্ট নারী চরিত্রগুলোও শুধুমাত্র প্রেম, পারিবারিক দাম্পত্য […]


  • অলকানন্দা রায়ের সাক্ষাৎকার

    [ অনেক কিছুকেই প্রথাগত ভাবনা বা সিস্টেমের বাইরে গিয়ে ভেবেছেন তিনি। প্রতিনিয়তই অনুভব করেন নতুন কিছু করার তাগিদ । আর এই রকম ভাবেই একদিন পান পশ্চিমবঙ্গের সংশোধনাগারের বন্দিদের নাচ শেখানোর দায়িত্ব – যা তাঁর নিজের কথায়, তাঁর জীবনে ঘটিয়ে দেয় এক আশ্চর্য উত্তরণ। তিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যচর্চায় নিজস্ব নৃত্যশৈলী গড়ে […]


  • চেনা লেখক অচেনা কাহিনী

    চেনা জানা জগৎটাই আমাদের কাছে ধোঁয়াশা। এই জগতটারই কোন সঠিক চেহারা আমরা বুঝি না যতক্ষণ না অচেনা নানা কাহিনী, চেনার জগতের হাত ধরে আমাদের চেনা মানুষগুলোকে আরও ভালভাবে চিনিয়ে দিয়ে যায়। তাই অচেনা মানুষরা আমাদের পরিচিত জগতের মধ্যে যতটা না প্রভাব ফেলে চেনা লোকের নতুন নতুন না জানা ঘটনা আমাদের বেশি করে ভাবায়। লেখক পাঠকের […]


  • উদয়ের কথা

    [ভারতবর্ষে নৃত্যের আধুনিক ধারার প্রবর্তক হিসেবে উদয়শঙ্করকে মানা হয়।ভারতীয় নৃত্যশিল্পকে   বিশ্বের  দরবারে নিজ দক্ষতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। সৃজনশীল নৃত্যজগতের নটরাজ তিনি।ভারতীয় নৃত্য ধারায় ‘ব্যালে’ পদ্ধতির সর্বশ্রেষ্ঠ প্রয়োগশিল্পী হিসেবে উদয়শঙ্করকে মানা হয়।আজও প্রবহমান  তাঁর সেই নৃত্যধারাকে  বহন করে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব উদয়শঙ্কর নিজ হাতে যার কাঁধে তুলে দিয়েছিলেন তিনি শান্তি বসু।টানা ন’বছর উদয়শঙ্করের দলের ব্যালে মাস্টার […]


  • জমিদার রবীন্দ্রনাথ

    রবীন্দ্রনাথকে জমিদার হওয়ার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন তাঁর পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, যাঁকে রবীন্দ্রনাথ অস্বীকার ও উপেক্ষা করার সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। প্রিন্স দ্বারকানাথ ছিলেন বিরল প্রতিভার মানুষ। তিনি নানা দিকে বিশাল ব্যবসা বাণিজ্যের স্থপতি ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁকে এ বিষয়ে সারা ভারতেই পথিকৃৎ বলা যায়। বিপুল ধন সম্পত্তির মালিক হয়েও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন দ্বারকানাথ বুঝেছিলেন যে তাঁর উত্তরাধিকারীদের […]


  • ছবির রবীন্দ্রনাথ

    সাতষট্টি বছর বয়েসে ছবি আঁকার নেশা পেয়ে বসলো রবীন্দ্রনাথকে। তদ্দিনে কবিতা লিখে নোবেল প্রাইজও পাওয়া হয়ে গেছে তাঁর। আর সত্যিকথা বলতে কি কবিতার ভাষাও গেছে অনেকদূর এগিয়ে। ছবি দেখে ভক্তজন আহা আহা করতে লাগলো। ‘ঠাকুর’ এঁকেছে বলে কথা, খারাপ হতেই পারে না, নৈব নৈব চ। কিন্তু শুধু ভক্তজন বললেই তো আর চলে না, তাত্ত্বিক লোকজনের […]


  • মানিদার গল্প

    একটা গল্প বলছি। ১৯৯৫ সাল। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভারতীয় শিল্পী (নন্দলাল বসু ও বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের ছাত্র এবং বিশ্বভারতীর প্রোফেসর এমারিটাস) পদ্মবিভূষণ শ্রী কে জি সুব্রমানিয়ানের শান্তিনিকেতনের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লো এক বছর বাইশের নবীন ছাত্র। এই ছাত্রটির বগলে কাঁচা হাতে আঁকা এক বান্ডিল ছবি। অনেকের বিদ্রুপ ও নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে শান্তিনিকেতনের ছাত্র না হয়েও সে […]


যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ