জীবনের গল্প

আজ যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি হিলসে সবচেয়ে দামি বাড়ির মালিক, ছোটবেলায় মেদিনীপুরের অজ পাড়াগাঁয়ে পয়সার অভাবে পায়ে চটি জুটতো না তার। যাঁর গাণিতিক বিশ্লেষনে মহাবিশ্বের গতির পরিমাপ করেন বিজ্ঞানীরা, ছোটবেলায় তাঁকেই অঙ্ক পরীক্ষায় দশ এর বেশী নম্বর দিতে পারেননি স্কুলের মাস্টার। মানুষের জীবনের ঘটনা এইরকমই নানা ছন্দহীনতায় ভরা। নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে ছুটে চলা হাউই বাজির চেয়েও আশ্চর্য উত্থানপতন ঘটে জীবনের নানা গতিপথে। নির্মম দারিদ্র্য, প্রতিকুলতা, প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলা কোনও কোনও সাদাকালো জীবন আমাদের শেখায় রঙিন পাখনা মেলার কাহিনী। আবার রঙিন স্বপ্নের ফানুস ফেটে বাস্তবের মাটিতে গোঁওা খাওয়ার উদাহরণও কম নেই। নামী-থেকে অনামী, ধনী থেকে গরীব, শিল্পী থেকে শ্রমিক – খুব কাছ থেকে দেখা নানা মানুষের জীবনের গল্পটাকে আমরা তুলে আনতে চাই। কারন, সব জীবন নয় সমান।


  • দিব্যেন্দু পালিতের মুখোমুখি

    [ সাক্ষাৎকারটি উত্তরবঙ্গ থেকে প্রকাশিত ‘চিত্রকল্প’ পত্রিকায় ২০১৯ সালে প্রকাশিত।সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর।লেখক,অনুবাদক অনিন্দ্য সৌরভের সৌজন্যে তা ‘গল্পের সময়’-এর পাঠকদের জন্য তা ফের প্রকাশিত হল।] অনিন্দ্য :   লেখার সময় আপনার উপন্যাস কি অতর্কিতে বাঁক নেয়,  নাকি সমস্তটাই আগে থেকে ছকে নেন ? দিব্যেন্দু :  যে কোন লেখাই স্থিরীকৃত পথে না- চলার সম্ভাবনাই […]


  • প্রেম ও প্রকৃতির কথাকার ছিলেন বুদ্ধদেব গুহ

    গল্পের সময়ঃ বাংলা সাহিত্যের দুনিয়া হারাল এক অরণ্যপ্রেমিক,প্রকৃতি ও নারীর প্রেমগাঁথার রূপকারকে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় এক মাসের  চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে   করে ফিরেছিলেন বাড়ি।কিন্তু এই অগাস্টেই ফের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতাসলে।আর ফেরা হল না ‘মাধুকরী’র কথাকারের। ১৯৩৬ সালের ২৯ জুন কলকাতায় জন্ম বুদ্ধদেব গুহর। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের এই প্রাক্তণীর পেশাদার জীবন শুরু […]


  • শতবর্ষ পেরিয়ে অমিয়ভূষণ

    [জুলাই ছিল ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক এবং নাট্যকার অমিয়ভূষণ মজুমদারের  মৃত্যুমাস।ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক এবং নাট্যকার হিসেবে তাঁর কীর্তি তাঁর জীবিতকালে সেভাবে চর্চিতই হয় নি বলে অভিযোগ।সাহিত্যের টানে স্বভূমিচ্যুত না হওয়া এবং সারাজীবন লিটল ম্যাগাজিনে লিখে যাওয়া অমিয়ভূষণ মজুমদারকে নিয়ে নানা কথা শোনালেন গল্পকার সিদ্ধার্থ সান্যাল] অমিয়ভূষণ মজুমদার কোনো প্রথাসিদ্ধ ভাবেই  জনপ্রিয় লেখক ছিলেন না । ওঁর […]


  • রবীন্দ্রগানের পরম্পরায়

    [রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে সুপরিচিত নাম সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথের গানের গভীরে ডুবে থাকা মানুষটি এই সঙ্গীতের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন জীবনের পথ চলার আনন্দ।রবীন্দ্রগানের আলোকমাখা পথ ধরে হাঁটতে গিয়ে তিনি  কিংবদন্তি শিল্পী সুবিনয় রায়কে  শিক্ষক  হিসাবে অনেক কাছ থেকে পেয়েছেন। সান্নিধ্যে এসেছেন রবীন্দ্রগানের স্বরলিপিকার শৈলজারঞ্জন মজুমদারের। আর এই ২০২১-এ সুবিনয় রায়ের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা ঋদ্ধ হয়েছি তাঁর সেই সংগীতময় […]


  • রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকির

     [বর্তমান  প্রবন্ধটি  দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (দে মু)  তৈরি  করেছিলেন  সুধীর চক্রবর্তীর একটি  বক্তৃতাকে ভিত্তি  করে। সমগ্র বক্তৃতাটি  ইন্দুমতী  সভাগৃহে  বসে  রেকর্ড  করেছিলেন  দেবাশিস  বাবু। পরবর্তীতে  এটি নন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত  হয়েছিল  বছর  পনেরো  আগে। সুধীর চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর  দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের অনুমতি ক্রমে  অত্যন্ত  প্রয়োজনীয় সেই বক্তৃতার  সংক্ষিপ্ত রূপ  প্রকাশ করা হল।] রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকির – নাম […]


  • পান্থজনের সখা

    গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে যখন হঠাৎ করেই জীবনবীমা নিগমে একটা চাকরি পেয়ে গিয়েছিলাম তখন তার নিরাপত্তা ও নানারকম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চেনামহলে একটা ধন্য ধন্য রব উঠেছিল। কিন্তু সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে একটা সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজে মন বসানো বড় কঠিন। ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেই মরুভূমিতে পথ হাঁটার সংকটকালে মরুদ্যান বলতে ছিল জীবনবীমা নিগমের পূর্বাঞ্চলীয় […]


  • কলাবতী দেবীর সাক্ষাৎকার

     [মণিপুরি নৃত্যগুরু বিপিন সিং-এর জন্ম ১৯১৮ সালের ২৩ অগস্ট। সেই অর্থে ২০১৮ সাল ছিল তাঁর জন্মশতবর্ষ। সেই উপলক্ষ্যেই ওই বছর বিপিন সিং-এর সহধর্মিনী কলাবতী দেবীর একটি সাক্ষাৎকার নেন নৃত্যশিল্পী প্রতিভা দাস। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মোবাইল ভিত্তিক এই সাক্ষাৎকারের অডিও ক্লিপ নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যায় নি। দীর্ঘ সময় পর সেই অডিও […]


  • দেবেশ রায়ের মুখোমুখি

    [দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর  অধুনা  বাংলাদেশের পাবনার বাগমারা গ্রামে।  তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের সেই বিস্ময়কর লেখকদের একজন বলে মনে করা হয়  যিনি আখ্যানের ফর্ম বা আঙ্গিক নিয়ে  আজীবন সচেতন ভাবে ভেবেছেন। উপন্যাস বা আখ্যানরীতি নিয়ে তিনি ছিলেন একজন  গভীর অন্বেষণকারী । এখানেই তিনি স্বতন্ত্র, সমুজ্জ্বল।  মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২০র ১৪ মে দেবেশ রায়ের […]


  • হাসির রচনাকে নির্দিষ্ট সীমারেখায় বাঁধা যায় না

    প্রশ্নঃ সাহিত্যে নির্ভেজাল আনন্দরস বা হাস্যরস যেন দিনে দিনে লুপ্তই হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয় – কেন? উত্তরঃ কখনও কিছু হঠাৎ লুপ্ত হয়ে যায় বলে মনে হয় না। রমরমার কম-বেশি হতে পারে। তবে বাংলা সাহিত্যে হাস্যরসের প্রাধান্য কখনই ছিল না। ত্রৈলোক্যনাথ, ইন্দ্রনাথ, পরশুরাম, শিবরাম এঁরা অবশ্যই স্মরণীয়। কিন্তু বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যের ঠিক কতখানি অংশ […]


  • আধুনিক বিদ্যাসাগর

    বর্তমান পৃথিবীর মানুষ ধর্মকেই একমাত্র আশ্রয় করে সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ ও হানাহানিতে মেতে উঠেছে। সারা পৃথিবীর মত এদেশেও ধর্মই যেন একমাত্র সত্য আর বাকি সব মিথ্যা বলে মনে হয়। এখনও মানুষ বান মারা, ওঝাদের ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করে। ডাইনি প্রথার প্রচলন এখনও অনেক গ্রামে দেখতে পাওয়া যায়। বাল্য বিবাহ এখনও বন্ধ করা যায়নি। শিক্ষিত বলে পরিচিত অনেকেই […]


  • বাবার কথা

    চৈত্র মাসে জন্মেছিলেন বলে হিমানীশ গোস্বামী নিজেকে বলতেন চৈত্রদিনের ঝরা পাতা। আমরা ঠাট্টা করে বলতাম ঝরা পাতার রং তো সবুজ হয় না, কিন্তু তুমি তো চিরসবুজ। ছেলেবেলায় তিনি খুব ফরসা ছিলেন। বাড়িতে মেয়েরা সে সময় হিমানী স্নো ব্যবহার করতেন। স্নো-এর রং সাদা। তাই সবাই তাঁকে হিমানী বলে ডাকা শুরু করলেন। সে নাম শুনে ছোটপিসিমা মঞ্জু […]


  • বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি সকাল

    ৭ এপ্রিল, ১৯৮৫। রবিবার। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। এবং একটু ভাল আছেন শুনে সকালবেলা গেলাম তাঁর কাছে। ইচ্ছে ছিল জেনে নেব কিছু কথা। সঙ্গে ছিলেন ‘এসময়’-এর সম্পাদক সুমিত চট্টোপাধ্যায় আর কল্লোল দাশগুপ্ত। কিছু পরে এলেন কবি সমীর রায়। পরিচ্ছন্ন ছোট ঘরটিতে বালিশে ভর দিয়ে বসেছিলেন তিনি। শীর্ণ শরীর — নিশ্চয়ই কষ্টও ছিল কিছু। […]


  • ঋষি টলস্টয়

    ফিনল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি সম্মেলনে’ আমন্ত্রিত হয়ে আমরা কয়েকজন ভারতের প্রতিনিধি হেলসিঙ্কিতে আসি। সেখান থেকে আবার সোভিয়েট প্রতিনিধিগণের দ্বারা‍ আমন্ত্রিত হয়ে লৌহ যবনিকার দেশ সোভিয়েট রাশিয়ায় বেড়াতে এসেছি। দেখছি এখানকার অনেক কিছুই অদ্ভূত কীর্তি। প্রাক বিপ্লব যুগের জার-সাম্রাজ্যের চোখ-ঝলসানো অপরিমেয় ঐশ্বর্য, আর তারই পাশে পাশে বিপ্লবোত্তর সোভিয়েট রাশিয়ার গড়ে তোলা বিপুল গণসম্পদ। কিন্তু ‘মস্কৌ’ এসে পর্যন্ত […]


  • একটি রূপকথা

    (মৃদুল দাশগুপ্তের এই পাঠ-প্রতিক্রিয়াটি ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮, শিশির মঞ্চে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ৭৯-তম জন্মদিনে পঠিত হয়েছিল) আজ এই সন্ধ্যায় কবি  বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঊনবিংশতম জন্মদিনে, কবির স্মরণসভায়, তাঁর কবিতা সম্পর্কে আমাকেও কিছু বলার প্রশ্রয় দিয়েছেন স্মরণ কমিটির উদ্যোক্তারা, এজন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলা কবিতার গতিপ্রকৃতি, কবিতার গভীর নানা তত্ত্ব, তার রূপ, কলা, বিভাব নানান ব্যাখ্যান […]


  • নেয়ারের খাট, মেহগিনি-পালঙ্ক এবং একটি দুটি সন্ধ্যা

    ডিসেম্বর, ২ । ১৯৫৬ খাট থেকে ধরাধরি করে যখন নামানো হল, তখন দুটি চোখই খোলা। কপালের ওপর আর কানের পাশে কয়েকটা শিরা কুঁচকে উঠেছে। ডান হাতটা প্রতিবাদের ভঙ্গীতে একবার নাড়লেন। চাউনিতেও তীব্র প্রতিবাদ ছিল। গলায় অস্ফুট শব্দ, যার কোনো ভাষা নেই কিন্তু যন্ত্রণা আছে। ডাক্তারীশাস্ত্র আমি জানি না, মনোবিজ্ঞানেও পারদর্শী নই। তবু খাট থেকে সেই […]


  • রবীন্দ্রনাথের রোগভাবনা

    ১৯৪১ সালের জুলাই মাস নাগাদ গুরুদেব খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন, শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন অবস্থায়। প্রস্রাবে জ্বালা, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া, বারে বারে বাথরুমে যাওয়া, সেই সঙ্গে ঘুসঘুসে  জ্বর, ক্ষুধামান্দ, গা-বমি ভাব ইত্যাদি। নিজের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি-বায়োকেমিকে যখন কোন ফল মিলছে না, গুরুদেব বাধ্য হলেন অ্যালোপাথিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে। পারিবারিক চিকিৎসক ডাঃ রাম অধিকারী প্রথমে দেখেন গুরুদেবকে। তাঁর […]


  • দয়াময়ীর কথা

    হঠাৎ একদিন সন্ধ্যার পর উনি বাড়ি ফিরে আমাকে ডেকে বললেন – তোমাকে একটা কথা বলছি, দেখো, আমি সিনিক মেয়েদের ভালোবাসতে পারি না। … তবে আমি বিবাহ করেছি, তোমাকে আমি টাকা দেব  তুমি বাপের বাড়িতে থেকো। – আমিও চলে যাব। সাতপাকে বাঁধা পড়ার সাতদিনের মাথায়একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বামী, রূপসী ও বিদুষী সহধর্মিনীকে দুমদাম অবলীলাক্রমে কথাগুলি বলে […]


  • ইস্কুলের ক্ষুদিরাম বা ক্ষুদিরামের ইস্কুল

    বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে একদা অভিন্নপল্লীনিবাসী ও অধুনা মুম্বাইপ্রবাসী ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু শ্যামল লাহার সঙ্গে বার্তালাপ চলছিল চ্যাটবক্সে…দুজন প্রৌঢ় মানুষের মধ্যে যেমন হয় আর কি…..আমাদের অক্ষর শহর শ্রীরামপুরের নানারকম পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ ! হঠাৎ দেখি শ্যামল মেসেঞ্জারে লিখেছে…..’আশিসদা আপনার কি ক্ষুদিরামকে মনে আছে ? সেই যে ক্ষুদিরাম….আমাদের স্কুলের টিফিনের সময়ে আমরা যার তৈরী ঘুগনি আর আলুরদম লাইন দিয়ে খেতাম […]


  • দিব্যেন্দু পালিতের লেখালিখি

    গল্পের সময় ডেস্কঃ তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, আবার কবিও। সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিহারের ভাগলপুরে যে দুর্গাচরণ স্কুলে পড়তেন সেখানেই ছোটবেলায় পড়াশুনো করেছেন তিনি। স্কুল বয়সেই লেখালিখির শুরু হাতে লেখা ম্যাগাজিনে। সেই সময়েই ভাগলপুরের বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ আয়োজিত একটি গল্প প্রতিযোগিতায় গল্প লিখে প্রথম পুরস্কার জিতে নেন বিচারক বনফুলের (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) কাছ থেকে। সেই সাহিত্যপ্রতিভাকে চিনতে ভুল […]


  • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে নিয়ে একটি গদ্য

    একদিন নীরেনদার সঙ্গে কী নিয়ে যেন কথা বলছি, হঠাৎ দেখি সংযুক্তা বিড়বিড় করতে করতে এসে নীরেনদার সামনে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে, আচমকা কী মনে পড়তে ও যে দিক দিয়ে এসেছিল সে দিকেই হাঁটা দিল। ওকে যেতে দেখে নীরেনদা বললেন, কী হল, চলে যাচ্ছ যে! সংযুক্তা আমাদের বন্ধু। ওর বাবা একটানা আঠেরো বছর রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন। ওর […]


  • অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার খোঁজে

    গল্পের সময় ডেস্কঃ নিজের ভেতর কোনও দুঃখ না থাকলে কোনও লেখক পরিপূর্ণ লেখক হয়ে উঠতে পারেন না – এমনটাই বিশ্বাস করতেন সাহিত্যিক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।একটি বিখ্যাত সংবাদপত্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একবার বলেছিলেন – দুঃখ আছে বলেই তো লিখি। সত্যিই সারাটা জীবন অনেক রকমের দুঃখের সঙ্গে লড়াই করে কাটিয়ে গেছেন মানুষটা। দেশভাগ হতেই ছিন্নমূল মানুষ হয়ে […]


  • পিতৃতর্পন

                  রোববারের আলসে সকাল ! হালকা শীতের মিঠে রোদটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ! বাঙ্গালীর রোববারের আড্ডা শুরু করার জন্য একেবারে সঠিক সময় ! মুখুজ্যেদের রোয়াকে বসে সবে ল্যেস-এর প্যাকেটটা খুলেছি, আমেরিকান সল্টেড চিপসটা  খেতে শুরু করবো, এমন সময় পাশের গলি থেকে একটা  লোক বেরিয়ে এলো !  দেখলে বছর পঁয়ত্রিশ ছত্রিশ মনে হয়, রগের পাশে […]


  • চেনা লেখক অচেনা কাহিনী

    লেখক শিক্ষক  বাংলা সাহিত্যে খুব বেশি  নেই বললেই চলে । লেখকদের  শিক্ষকের কথা বলছি না, বলছি এমন শিক্ষক মশাইদের কথা যাঁরা লিখতে  এসেছেন আর জগতজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন এমন সংখ্যা কম হওয়ার মূল কারণ শিক্ষক  সত্তার সঙ্গে লেখক সত্তার সহজাত  বিরোধ। এটি  যদিও  বহু  চর্চিত একটি  বিষয়  তবুও বর্তমান  প্রবন্ধের  আলোচিত  সাহিত্যিকের জীবন শিক্ষক সত্তায় বাঁধা  […]


  • আসল টেনিদার গল্প

    ডি লা গ্রান্ডি মেফিস্টোফেলিস… ইয়াক ইয়াক । প্যালা, হাবুল, ক্যাবলা আর গড়ের মাঠে গোরা ঠ্যাঙ্গানো পটলডাঙ্গার অবিসংবাদিত লিডার ভজহরি মুখুজ্জে ওরফে টেনিদাকে কে না চেনে । এক চড়ে তিনি প্যালার নাক নাসিকে অথবা ক্যাবলার কান কানপুরে পাঠাতে পারেন । ডুয়ার্স হোক বা ঝন্টিপাহাড়ী, চন্দ্রকান্ত নাকেশ্বর বা স্বামী ঘুটঘুটানন্দ, চারমূর্তির বীরত্বের সামনে সকলের অবস্থাই যাকে বলে […]


  • রমাপদ চৌধুরীকে আমি যেমন দেখেছি

    [আমাদের আলাদা রেখে সদ্য বাড়িটা বদলে ফেললেন সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরী। লেখালিখির বিষয়ে একটা নিজস্ব দর্শন মেনে চলতেন তিনি। সেখানে কারও অনধিকার প্রবেশের জো ছিল না। তাই যখনই মনে করেছেন অবসর নিয়ে নিয়েছেন লেখালিখির জগত থেকে। বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রসম এই মানুষটিকে তাঁর সম্পাদকীয় সহকারী হিসেবে এবং পরে ব্যক্তিগতস্তরের সখ্যতায় নানাভাবে দেখেছেন কবি ও লেখক সিদ্ধার্থ সিংহ। […]


  • আফসার আমেদ : এক অনন্য কথাকার

    [ নিজেকে জাহির করার প্রচারসর্বস্ব এই লেখক দুনিয়ায় আশ্চর্য রকমের ব্যাতিক্রমী ছিলেন তিনি। তাঁর প্রাপ্য মর্যাদার সামান্যতম না পেয়েও কোনও অভিযোগ ছিল না তাঁর। তিনি  আফসার আমেদ। কিছুদিন আগেই কারো কাছে কোনও দাবি-দাওয়া পেশ না করেই তিনি হয়ে গেলেন ‘সেই নিখোঁজ মানুষটা’। মাটির কাছাকাছি থেকে মানুষের কথাকার হয়ে ওঠা আফসার আমেদের লেখালিখি নিয়েই কলম ধরলেন […]


  • দোস্তি

           [  এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – এই স্পষ্ট উচ্চারণ তাঁর। তিনি বরাবরই ছিলেন সহজে কঠিন কথা বলার মানুষ। তিনি নবারুণ ভট্টাচার্য। আমাদের ফ্যাতাড়ু। শুদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতির নামে ধামাধরা আতুপুতুদের তোয়াক্কা না করা পুরন্দর ভাট। জুলাই মাস ছিল এই ব্যাতিক্রমী সাহিত্যিকের মৃত্যু মাস। দীর্ঘ সময়ের ঘনিষ্টতা থেকে দেখা নবারুণের একটি কোলাজ চিত্র […]


  • বিভূতি স্যারের নোটস

    [প্রকৃতি তাঁকে অন্যরকম ভাবে টানত। তাঁর অনেক গল্প, অনেক উপন্যাসে নানা মায়াময়ী রূপে উপস্থিত হয়েছে প্রকৃতির পাঁচালি। অনেকে তাঁকে ‘প্রকৃতি -পাগল সাহিত্যিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।  সেপ্টেম্বর মাস তাঁর জন্মমাস। বিভূতিভূষণের স্মৃতিবিজড়িত ঘাটশিলায় গিয়ে প্রিয় লেখকের প্রকৃতি পাঠকেই স্মরণ করলেন তরুণ লেখক পূষন।] [এক] ‘ বিকেলের এই শেষ-না-হওয়া কবরখানায় আমরা দু’জন কেমন জীবন […]


  • অভিমানী বিদ্যাসাগর

    [এই সেপ্টেম্বর মাসেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন উনবিংশ শতকের  বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অন্যদিকে বিধবা বিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন, বহুবিবাহ ও বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণে তাঁর অক্লান্ত সংগ্রাম আজও স্মরণ করা হয় যথোচিত শ্রদ্ধার সঙ্গে।প্রকৃতপক্ষে  বিদ্যাসাগর মহাশয় ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক।কিন্তু একজন বিধবার বিবাহ দেওয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে […]


  • আশ্রম ছিল রবীন্দ্র আলোয় আলোকময় – মঞ্জুলা দত্ত

    [তিনি যখন সাত বছর বয়সে শান্তিনিকেতনে পৌঁছোলেন তখন গুরুদেব নেই। তিনি ঠিক সাতমাস আগে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তবে গোটা আশ্রম জুড়ে তিনি বিরাজমান।যেন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যেই রয়েছেন – এমনটাই অভিজ্ঞতা নৃত্যশিল্পী ও  আশ্রমিক মঞ্জুলা দত্তের। কেমন ছিল শান্তিনিকেতনের সেইসব দিন। কেমন করে অভিনয় হত ‘ডাকঘর’ নাটকের? কারা শেখাতেন রবীন্দ্রনৃত্যের নানা আঙ্গিক?  দীর্ঘ আলাপচারিতায় […]


যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 - 2021 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ