গল্প নয়


  • আধুনিক ওডিসি

    লিও তলস্তয় মহৎ শিল্পের স্বরূপ আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তা জ্ঞানী আর সাধারণ মানুষ সবাইকে সমানভাবে পরিতৃপ্ত করতে পারে। তবে তিনি বলেননি, মহৎশিল্পের আরেকটি লক্ষণ এই যে, তার বল্গাহীন অভিযান দেশ আর কালের বেড়াজাল ডিঙিয়ে যায় অনায়াসে। গ্রিকমহাকাব্য ‘ওডিসি’ তেমন মহৎশিল্পের অন্যতম দৃষ্টান্ত। রোমান কবি ভার্জিলের মহাকাব্য ‘ঈনিড’ অন্তরে ওডিসির সুগভীর প্রভাব গ্রহণ করে সম্পদশালী হয়ে […]


  • বাংলা লোকসঙ্গীতের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র

    বাংলা লোক সঙ্গীত সংহত সমাজের সৃষ্টি; শুধু সংহত সমাজের সৃষ্টি নয়, সংহত সমাজের জন্য‍ে সৃষ্ট।তাই বিষয়বস্তু নির্বিশেষে আমাদের লোক সঙ্গীত সংহত সমাদের দ্বারা আদৃতও হয়েছে। আমাদের সমাজের অন্তর্গত হলেন মুখ্যতঃ হিন্দু এবং মুসলমান।তাই সংহত সমাজের সৃষ্ট লোক সঙ্গীত হিন্দু এবং মুসলমান ধর্মসম্প্রদায়ের নিজস্ব কিছু কিছু বিষয় স্থান পেয়েছে সত্য; কিন্তু ততোধিক সত্য হল উভয় সম্প্রদায়ই […]


  • রবীন্দ্রগানের পরম্পরায়

    [রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে সুপরিচিত নাম সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথের গানের গভীরে ডুবে থাকা মানুষটি এই সঙ্গীতের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন জীবনের পথ চলার আনন্দ।রবীন্দ্রগানের আলোকমাখা পথ ধরে হাঁটতে গিয়ে তিনি  কিংবদন্তি শিল্পী সুবিনয় রায়কে  শিক্ষক  হিসাবে অনেক কাছ থেকে পেয়েছেন। সান্নিধ্যে এসেছেন রবীন্দ্রগানের স্বরলিপিকার শৈলজারঞ্জন মজুমদারের। আর এই ২০২১-এ সুবিনয় রায়ের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা ঋদ্ধ হয়েছি তাঁর সেই সংগীতময় […]


  • স্রোতের উল্টো দিকে হাঁটতেন তিনি

    নিজের গদ্যভঙ্গি, শব্দচয়ন, বিষয় নির্বাচনে অমিয়ভূষণ মজুমদার ছিলেন সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক স্রোতের উল্টোদিকে। সারাজীবন তিনি এই গড্ডালিকার বিপরীতে সাঁতার দিয়েছেন। কলকাতাকেন্দ্রিক, বিগ হাউসের সার্টিফিকেট পাওয়া পণ্যসাহিত্যের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আজীবন অবিচল। লেখা, জীবনচর্চা, ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা সমেত নিজস্ব আধুনিকতা, সবার ওপর সমস্ত সময়কে নস্যাৎ ক্করা তীব্র অহংকার  — সব মিলিয়ে তিনি একজন ‘মিথ’-এর মানুষ। নিজস্ব প্রত্যাখানের […]


  • ভারতীয় সাহিত্যঃ ভাষা-বন্ধন

    ভারতবর্ষের নানা ভাষার আধুনিক সাহিত্য গড়ে উঠেছে বিদেশী ও বিভাষী ইংরেজের রাজত্বকালে। সে রাজত্বের দু-দশ বছর ভারতবর্ষের ইতিহাসে অতি আধুনিক কাল। কিন্তু এই কালসাম্যই সে সাহিত্য ও রাজত্বের একমাত্র যোগ নয়। ইংরেজ রাজত্বের আনুষঙ্গিক রাজভাষা ইংরেজির প্রচারেতার মাধ্যমে ভারতবাসীর পরিচয় হল আধুনিক ইউরোপের জ্ঞান ও চিন্তা, সাহিত্য ও ভাবের সঙ্গে। এ আধুনিক ইউরোপকে ইউরোপীয়ের বলে […]


  • হাঁদা,ভোঁদা ও নন্টে,ফন্টে/ফিরে দেখা

    যারা বই পড়তে ভালোবাসে, বইয়ের অনেক চরিত্রই তাদের কাছে রক্তমাংসের মানুষ হয়ে ওঠে। রাস্তায় চলার পথে অনেককে দেখলেই মনে হয় – ” দ্যাখ, একদম অমুক চরিত্রের মত ” ; কিংবা কাউকে উপহাস করে আমরা বলি – ” এই হাঁদা শোন ” বা ” হাঁদা নাকি! মাথায় গোবর পোরা আছে? ” আবার কেউ মোটা হলেই পাড়ায় […]


  • ঐক্য-বাক্য-নাট্য

    প্ল্যাটফরম যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে কিছুটা এগোলেই লেভেল ক্রশিং। লেভেল ক্রশিং পেরিয়ে একটা ধূলো ভরা ঢালু রাস্তা এঁকে বেঁকে এগিয়ে বাজার চত্বর পেরিয়ে কিছুটা উঠে যেখানে বড়ো রাস্তায় পৌঁছোল ঠিক সেখানেই একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের এই চায়ের দোকান। মণিদার চায়ের দোকান নামে এর পরিচয়। মণিদা নেই। তাঁর ছবি আছে দোকানে। দোকান চালায় মণিদার […]


  • শ্যামাপোকা

    অনেক সময় অনেক কারণেই মানুষ তাঁর নাম হারিয়ে ফেলেন। আমার ঠাকুমাকে তো জ্ঞান হওয়া ইস্তক শুনছি সবাই ডাকে – ব্যালার মা । বেলা আমার বড় পিসির নাম। আর এই বেলাই লোকমুখে ব্যালা। গল্পে শোনা, আমার ঠাকুমা তাঁর ছেলেপুলেদের নিয়ে সেই মেঘনা নদীর পার ছেড়ে গোয়ালন্দগামী স্টিমারে চেপে বসেন ১৯৫৮ সালে, তারপর ট্রেনে দর্শনা ও এ […]


  • অংশহর

    প্রথম পর্ব  ওয়েস্ট এন্ড পার্কের যে ৫০ বছরের বাড়িটা থেকে আমরা মাস তিনেক আগে উঠে আসি, সেটা ১৯৬৭ সালের ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে আমার দাদু শ্রী সুবোধ চন্দ্র চক্রবর্তী তৈরি করেছিলেন। আসাম থেকে একপ্রকার পালিয়ে এসে। বংগাল খেদা ‘আন্দোলন’-এর শিকার হয়ে। আমি তারও ১৭ বছর পর ওখানে জন্মাই। সে অর্থে ওয়েস্ট এন্ড পার্ক আমার মাদার পাড়া। ‘বাম’ […]


  • রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকির

     [বর্তমান  প্রবন্ধটি  দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (দে মু)  তৈরি  করেছিলেন  সুধীর চক্রবর্তীর একটি  বক্তৃতাকে ভিত্তি  করে। সমগ্র বক্তৃতাটি  ইন্দুমতী  সভাগৃহে  বসে  রেকর্ড  করেছিলেন  দেবাশিস  বাবু। পরবর্তীতে  এটি নন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত  হয়েছিল  বছর  পনেরো  আগে। সুধীর চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর  দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের অনুমতি ক্রমে  অত্যন্ত  প্রয়োজনীয় সেই বক্তৃতার  সংক্ষিপ্ত রূপ  প্রকাশ করা হল।] রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকির – নাম […]


  • রাজনীতির অনুষঙ্গে বিমল করের গল্প/প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ

    রাজনীতির আলোতে দেখার জন্য বিমল করের চারটি গল্প মুখ্যত গ্রহণ করা হয়েছে। অতি পরিচিত গল্পগুলি এই তালিকায় অনুপস্থিত।তাঁর পঞ্চাশটি স্বনির্বাচিত গল্পে অবশ্য এই চারটি গল্পই আছে।ঐ সংকলনের ভূমিকায় লেখক মন্তব্য করেছেন , “ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, এই পঞ্চাশটি গল্পই লেখকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট।এর বেশি নাই বা থাকল।লেখক তাঁর চয়নে রাখায় এই গল্পগুলি লেখক-মানসে স্বতন্ত্রভাবে বেঁচেছিল […]


  • পান্থজনের সখা

    গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে যখন হঠাৎ করেই জীবনবীমা নিগমে একটা চাকরি পেয়ে গিয়েছিলাম তখন তার নিরাপত্তা ও নানারকম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চেনামহলে একটা ধন্য ধন্য রব উঠেছিল। কিন্তু সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে একটা সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজে মন বসানো বড় কঠিন। ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেই মরুভূমিতে পথ হাঁটার সংকটকালে মরুদ্যান বলতে ছিল জীবনবীমা নিগমের পূর্বাঞ্চলীয় […]


  • প্রেমের গল্প সংখ্যা- লেখা পাঠান

    ‘গল্পের সময়’ প্রেমের গল্প সংখ্যা  গল্প ১৫০০ শব্দের মধ্যে হলে ভাল হয়। গল্প পাঠান ৭ ফেব্রুয়ারি’২০২১-এর মধ্যে। অভ্র বাংলায় টাইপ করে মেল করুন galpersamay@gmail-এ। অবশ্যই ১ লাইনের পরিচিতি সহ প্রকাশযোগ্য ছবি পাঠান। লেখা পাঠানোর জন্য সকলেই গল্প পাঠাতে পারেন। ভাল গল্প প্রকাশ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। লেখা অভ্র তে বাংলা টাইপ করে ওয়ার্ড-এ পাঠান। পিডিএফ করে পাঠাবেন […]


  • দেবেশ রায়ের মুখোমুখি -২য় পর্ব

    [দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর  অধুনা  বাংলাদেশের পাবনার বাগমারা গ্রামে।  তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের সেই বিস্ময়কর লেখকদের একজন বলে মনে করা হয়  যিনি আখ্যানের ফর্ম বা আঙ্গিক নিয়ে  আজীবন সচেতন ভাবে ভেবেছেন। উপন্যাস বা আখ্যানরীতি নিয়ে তিনি ছিলেন একজন  গভীর অন্বেষণকারী । এখানেই তিনি স্বতন্ত্র, সমুজ্জ্বল।  মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২০র ১৪ মে দেবেশ রায়ের […]


  • দেবেশ রায়ের মুখোমুখি

    [দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর  অধুনা  বাংলাদেশের পাবনার বাগমারা গ্রামে।  তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের সেই বিস্ময়কর লেখকদের একজন বলে মনে করা হয়  যিনি আখ্যানের ফর্ম বা আঙ্গিক নিয়ে  আজীবন সচেতন ভাবে ভেবেছেন। উপন্যাস বা আখ্যানরীতি নিয়ে তিনি ছিলেন একজন  গভীর অন্বেষণকারী । এখানেই তিনি স্বতন্ত্র, সমুজ্জ্বল।  মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২০র ১৪ মে দেবেশ রায়ের […]


  • হাসির রচনাকে নির্দিষ্ট সীমারেখায় বাঁধা যায় না

    প্রশ্নঃ সাহিত্যে নির্ভেজাল আনন্দরস বা হাস্যরস যেন দিনে দিনে লুপ্তই হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয় – কেন? উত্তরঃ কখনও কিছু হঠাৎ লুপ্ত হয়ে যায় বলে মনে হয় না। রমরমার কম-বেশি হতে পারে। তবে বাংলা সাহিত্যে হাস্যরসের প্রাধান্য কখনই ছিল না। ত্রৈলোক্যনাথ, ইন্দ্রনাথ, পরশুরাম, শিবরাম এঁরা অবশ্যই স্মরণীয়। কিন্তু বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যের ঠিক কতখানি অংশ […]


  • প্লট ভাঙো, গল্প লেখো

    গল্প লিখতে লিখতে, গল্পের কথা ভাবতে ভাবতে বোর হয়ে যাই। তখন রেকর্ড-প্লেয়ারে শচীন দেববর্মন কি ভীমসেন যোশী চালিয়ে দিই। গান আমাকে বাঁচায়। সঙ্গে যদি দু’এক পাত্তর থাকে, তাহলে আরও জমে। নেশা আমাকে বাঁচায়। প্রায়শই আমি টের পাই, গল্প লেখা কি বোরিং! গল্প-ছোট গল্প কাকে বলে, সেসব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক পড়েছি, থুড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়িনি। তবে […]


  • পুরনো বাংলা প্রকাশনা

    অক্টোবর ১৪, ১৮৫৬, ‘সম্বাদ ভাস্কর’ পত্রিকায় রামনিধি গুপ্ত রচিত ‘গীতরত্ন’ বইয়ের বিজ্ঞাপনঃ ‘এক্ষণে নিধুবাবুর গীতরত্ন বলিয়া মধ্যে ২ যাহারা বিজ্ঞাপন করিতেছে সে প্রতারণা মাত্র। সে গ্রন্থ সটীক নহে, অবিকল ছাপাইতে না পারিয়া বিস্তর ভুল করিয়াছে তাহাতে ভাবের এত অধিক ব্যত্যয় জন্মিয়াছে যে কোন প্রকারে ভাবগ্রহ হয় না অতএব গ্রাহক মহাশয়েরা এমত গ্রন্থ লইতে সাবধান হইবেন।…অতঃপর […]


  • আধুনিক বিদ্যাসাগর

    বর্তমান পৃথিবীর মানুষ ধর্মকেই একমাত্র আশ্রয় করে সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ ও হানাহানিতে মেতে উঠেছে। সারা পৃথিবীর মত এদেশেও ধর্মই যেন একমাত্র সত্য আর বাকি সব মিথ্যা বলে মনে হয়। এখনও মানুষ বান মারা, ওঝাদের ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করে। ডাইনি প্রথার প্রচলন এখনও অনেক গ্রামে দেখতে পাওয়া যায়। বাল্য বিবাহ এখনও বন্ধ করা যায়নি। শিক্ষিত বলে পরিচিত অনেকেই […]


  • বাবার কথা

    চৈত্র মাসে জন্মেছিলেন বলে হিমানীশ গোস্বামী নিজেকে বলতেন চৈত্রদিনের ঝরা পাতা। আমরা ঠাট্টা করে বলতাম ঝরা পাতার রং তো সবুজ হয় না, কিন্তু তুমি তো চিরসবুজ। ছেলেবেলায় তিনি খুব ফরসা ছিলেন। বাড়িতে মেয়েরা সে সময় হিমানী স্নো ব্যবহার করতেন। স্নো-এর রং সাদা। তাই সবাই তাঁকে হিমানী বলে ডাকা শুরু করলেন। সে নাম শুনে ছোটপিসিমা মঞ্জু […]


  • বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি সকাল

    ৭ এপ্রিল, ১৯৮৫। রবিবার। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। এবং একটু ভাল আছেন শুনে সকালবেলা গেলাম তাঁর কাছে। ইচ্ছে ছিল জেনে নেব কিছু কথা। সঙ্গে ছিলেন ‘এসময়’-এর সম্পাদক সুমিত চট্টোপাধ্যায় আর কল্লোল দাশগুপ্ত। কিছু পরে এলেন কবি সমীর রায়। পরিচ্ছন্ন ছোট ঘরটিতে বালিশে ভর দিয়ে বসেছিলেন তিনি। শীর্ণ শরীর — নিশ্চয়ই কষ্টও ছিল কিছু। […]


  • ঋষি টলস্টয়

    ফিনল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি সম্মেলনে’ আমন্ত্রিত হয়ে আমরা কয়েকজন ভারতের প্রতিনিধি হেলসিঙ্কিতে আসি। সেখান থেকে আবার সোভিয়েট প্রতিনিধিগণের দ্বারা‍ আমন্ত্রিত হয়ে লৌহ যবনিকার দেশ সোভিয়েট রাশিয়ায় বেড়াতে এসেছি। দেখছি এখানকার অনেক কিছুই অদ্ভূত কীর্তি। প্রাক বিপ্লব যুগের জার-সাম্রাজ্যের চোখ-ঝলসানো অপরিমেয় ঐশ্বর্য, আর তারই পাশে পাশে বিপ্লবোত্তর সোভিয়েট রাশিয়ার গড়ে তোলা বিপুল গণসম্পদ। কিন্তু ‘মস্কৌ’ এসে পর্যন্ত […]


  • একটি রূপকথা

    (মৃদুল দাশগুপ্তের এই পাঠ-প্রতিক্রিয়াটি ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮, শিশির মঞ্চে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ৭৯-তম জন্মদিনে পঠিত হয়েছিল) আজ এই সন্ধ্যায় কবি  বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঊনবিংশতম জন্মদিনে, কবির স্মরণসভায়, তাঁর কবিতা সম্পর্কে আমাকেও কিছু বলার প্রশ্রয় দিয়েছেন স্মরণ কমিটির উদ্যোক্তারা, এজন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলা কবিতার গতিপ্রকৃতি, কবিতার গভীর নানা তত্ত্ব, তার রূপ, কলা, বিভাব নানান ব্যাখ্যান […]


  • নেয়ারের খাট, মেহগিনি-পালঙ্ক এবং একটি দুটি সন্ধ্যা

    ডিসেম্বর, ২ । ১৯৫৬ খাট থেকে ধরাধরি করে যখন নামানো হল, তখন দুটি চোখই খোলা। কপালের ওপর আর কানের পাশে কয়েকটা শিরা কুঁচকে উঠেছে। ডান হাতটা প্রতিবাদের ভঙ্গীতে একবার নাড়লেন। চাউনিতেও তীব্র প্রতিবাদ ছিল। গলায় অস্ফুট শব্দ, যার কোনো ভাষা নেই কিন্তু যন্ত্রণা আছে। ডাক্তারীশাস্ত্র আমি জানি না, মনোবিজ্ঞানেও পারদর্শী নই। তবু খাট থেকে সেই […]


  • বিসর্জনের চিত্রকলা

    বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশ বাংলাদেশ । বন্যা, খরা, মড়ক, দুর্ভিক্ষ, বর্গীর আক্রমন, মগ, হার্মাদ এই ভয়ঙ্কর সব দুর্যোগ বুকে নিয়েও উৎসবের আনন্দ থেকে বাঙালিকে কেউ বিরত করতে পারে নি । আর সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে যেদিন ইউরোপীয়রা এসে জাহাজ থেকে নামলো এই বঙ্গদেশে, তার কিছুকালের মধ্যেই তারাও মজে গেল বাঙালীর বারো মাসের তেরো […]


  • রবীন্দ্রনাথের রোগভাবনা

    ১৯৪১ সালের জুলাই মাস নাগাদ গুরুদেব খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন, শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন অবস্থায়। প্রস্রাবে জ্বালা, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া, বারে বারে বাথরুমে যাওয়া, সেই সঙ্গে ঘুসঘুসে  জ্বর, ক্ষুধামান্দ, গা-বমি ভাব ইত্যাদি। নিজের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি-বায়োকেমিকে যখন কোন ফল মিলছে না, গুরুদেব বাধ্য হলেন অ্যালোপাথিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে। পারিবারিক চিকিৎসক ডাঃ রাম অধিকারী প্রথমে দেখেন গুরুদেবকে। তাঁর […]


  • দয়াময়ীর কথা

    হঠাৎ একদিন সন্ধ্যার পর উনি বাড়ি ফিরে আমাকে ডেকে বললেন – তোমাকে একটা কথা বলছি, দেখো, আমি সিনিক মেয়েদের ভালোবাসতে পারি না। … তবে আমি বিবাহ করেছি, তোমাকে আমি টাকা দেব  তুমি বাপের বাড়িতে থেকো। – আমিও চলে যাব। সাতপাকে বাঁধা পড়ার সাতদিনের মাথায়একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বামী, রূপসী ও বিদুষী সহধর্মিনীকে দুমদাম অবলীলাক্রমে কথাগুলি বলে […]


  • ইস্কুলের ক্ষুদিরাম বা ক্ষুদিরামের ইস্কুল

    বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে একদা অভিন্নপল্লীনিবাসী ও অধুনা মুম্বাইপ্রবাসী ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু শ্যামল লাহার সঙ্গে বার্তালাপ চলছিল চ্যাটবক্সে…দুজন প্রৌঢ় মানুষের মধ্যে যেমন হয় আর কি…..আমাদের অক্ষর শহর শ্রীরামপুরের নানারকম পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ ! হঠাৎ দেখি শ্যামল মেসেঞ্জারে লিখেছে…..’আশিসদা আপনার কি ক্ষুদিরামকে মনে আছে ? সেই যে ক্ষুদিরাম….আমাদের স্কুলের টিফিনের সময়ে আমরা যার তৈরী ঘুগনি আর আলুরদম লাইন দিয়ে খেতাম […]


  • জীবন সড়কের মোড়

    নদীর ধার দিয়ে  নিত্য আমার আনাগোনা । গ্রীষ্মে দেখি শুকনো বালির বৈশাখী কালো রূপে আলো ঘেরা অভয় বাণী । বর্ষায় পরিপূর্ণ গর্ভবতী নারীরূপ । এই রূপে জলবতী নদীতে অতি বড় সাঁতারু ভুলে যায় কৌশল । আমি তখন নদীর বুকে দুধসাদা ফেনা হয়ে ভাসতে ভাসতে চলি বাক্যহারা হয়ে । এবার শরতে কাশ ফুলের কারসাজি। তার মাথা […]


  • দিব্যেন্দু পালিতের লেখালিখি

    গল্পের সময় ডেস্কঃ তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, আবার কবিও। সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিহারের ভাগলপুরে যে দুর্গাচরণ স্কুলে পড়তেন সেখানেই ছোটবেলায় পড়াশুনো করেছেন তিনি। স্কুল বয়সেই লেখালিখির শুরু হাতে লেখা ম্যাগাজিনে। সেই সময়েই ভাগলপুরের বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ আয়োজিত একটি গল্প প্রতিযোগিতায় গল্প লিখে প্রথম পুরস্কার জিতে নেন বিচারক বনফুলের (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) কাছ থেকে। সেই সাহিত্যপ্রতিভাকে চিনতে ভুল […]


যোগাযোগ


email:galpersamay@gmail.com

Your message has been sent. Thank you!

গল্পের সময় পরিবার
সমীর
অগ্নীশ্বর
দেবাশিস
চিন্ময়
পার্থ
মিতালি
জাগরণ
দেবব্রত

© 2016 - 2021 গল্পের সময়। ডিজাইন করেছেন অগ্নীশ্বর। নামাঙ্কন করেছেন পার্থ